বাটোয়ারা মামলায় সব সম্পত্তি ‘হচপচ’ না করলে ডিক্রি বাতিল: আংশিক বাটোয়ারা ও রিমান্ডে হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দ্বৈত বেঞ্চ (Division Bench) এক তাৎপর্যপূর্ণ প্রথম আপিল রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, ওয়ারিশানদের মধ্যে বণ্টন বা বাটোয়ারা মামলায় (Partition Suit) মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সকল স্থাবর সম্পত্তি মোকদ্দমায় একত্রিত বা ‘হচপচ’ (Hotchpotch) করা বাধ্যতামূলক। সহ-শরিকরা নিজেদের সুবিধামতো অন্যান্য বিশাল সম্পত্তি গোপন রেখে শুধুমাত্র অপর শরিক কর্তৃক তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তরিত নির্দিষ্ট জমির ওপর আংশিক বাটোয়ারা (Partial Partition) মামলা দায়ের করতে পারে না। তবে হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে নীতি নির্ধারণ করেছেন যে— নিয়োজিত আইনজীবীর আইনগত দক্ষতার অভাবের কারণে (Lack of legal skill of the appointed Advocate) সাধারণ বিচারপ্রার্থী ও ওয়ারিশদের অধিকার চিরতরে বিনষ্ট হতে পারে না। যেহেতু সীমানা চিহ্নিত করে বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত বাটোয়ারার মামলার কারণ (Cause of Action) অনির্দিষ্টকাল বহাল থাকে, সেহেতু নিছক প্রক্রিয়াগত ভুলের জন্য মামলা সরাসরি খারিজ না করে আরজি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে পুনর্বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে (Remand) পাঠানোই সুবিচারের মূল নীতি।
মামলাটি সিলেট জেলার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০০৬ সালে দায়েরকৃত বাটোয়ারা মোকদ্দমা Title Suit No. 198 of 2006 থেকে উদ্ভূত। মামলার মূল পক্ষগণ পরস্পর নিকটাত্মীয় ও উত্তরাধিকারী।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের বিচারিক ঘটনাবলী নিম্নরূপ:
- নুরুন্নেছার সম্পত্তি ও উত্তরাধিকার: নুরুন্নেছা ১৯৮৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি রেজিস্ট্রি কোবলা দলিলের মাধ্যমে ১৫ শতক জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি মৃত্যুবরণ করলে তার ওয়ারিশ হিসেবে দুই পুত্র (৪ নম্বর বিবাদী ও ৩ নম্বর বাদী) এবং পাঁচ কন্যা (১-২ এবং ৪-৬ নম্বর বাদীগণ) উত্তরাধিকারী হন। এছাড়াও নুরুন্নেছার স্বামীর রেখে যাওয়া ২২৩ কেদার ধানি জমি এবং কাবিননামা সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য সম্পত্তি ওয়ারিশদের মধ্যে এজমালি অবস্থায় ছিল।
- জ্যেষ্ঠ পুত্রের একক দখল ও তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয়: নুরুন্নেছার জ্যেষ্ঠ পুত্র (৪ নম্বর বিবাদী) আপস-বণ্টনের ভিত্তিতে নালিশি ১৫ শতক জমিতে একক দখলে ছিলেন। তিনি ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর একটি রেজিস্ট্রি কোবলা দলিলের মাধ্যমে উক্ত সম্পূর্ণ ১৫ শতক জমি ১-৩ নম্বর বিবাদীগণের (বশির মিয়া গং) নিকট হস্তান্তর করেন এবং দখল বুঝিয়ে দেন। খরিদ্দার বিবাদীগণ জমিতে দখলে নিয়োজিত থাকেন।
- কন্যা ও নাবালক পুত্রের আংশিক বাটোয়ারা মামলা: নুরুন্নেছার কন্যারা এবং নাবালক পুত্র ২০০৬ সালে ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিলেটে শুধুমাত্র ওই বিক্রিত ১৫ শতক জমির ওপর Title Suit No. 198 of 2006 দায়ের করে ১১.৬৬ শতক জমির পৃথক সাহাম প্রার্থনা করেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারা নুরুন্নেছার অন্যান্য বিশাল সম্পত্তি বা বাবার রেখে যাওয়া ২২৩ কেদার জমির কোনো উল্লেখ আরজিতে আনেননি।
- বিবাদীদের আপত্তি ও হচপচ না করার ত্রুটি: খরিদ্দার বিবাদী ১-৩ নম্বর লিখিত জবাবের ৭ নম্বর অনুচ্ছেদে জোরালো আপত্তি তোলেন যে, এটি একটি আংশিক বাটোয়ারা মামলা। নুরুন্নেছার সমস্ত সম্পত্তি একজোট (Hotchpotch) না করায় আইনত এই মোকদ্দমা অচল ও রক্ষণীয় নয়। অধিকন্তু আপস-বণ্টনে জ্যেষ্ঠ পুত্র একক দখলে থেকে জমি বিক্রি করেছেন।
- যুগ্ম জেলা জজের প্রাথমিক ডিক্রি: যুগ্ম জেলা জজ আদালত বিবাদীদের এই আইনগত আপত্তি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাদীদের পক্ষে ১১.৬৬ শতক এবং বিবাদীগণের পক্ষে ৩.৩৪ শতক জমির প্রাথমিক ডিক্রি প্রদান করেন।
- হাইকোর্টে খরিদ্দার বিবাদীর প্রথম আপিল: বিচারিক আদালতের এই ডিক্রির বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে খরিদ্দার বিবাদী ১ নম্বর (মো: বশির মিয়া) হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 404 of 2013 দায়ের করেন।
🏛️ বাদী আজহারা আক্তার কলি গং-এর যুক্তি
- নাবালক ভাই ও বোনদের সম্পত্তি বিক্রির অধিকার নেই: ৪ নম্বর বিবাদী (জ্যেষ্ঠ পুত্র) একাই সম্পূর্ণ ১৫ শতক জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, অথচ তিনি কেবল ৩.৩৪ শতকের মালিক ছিলেন। নাবালক ভাই ও বোনদের জমি বিক্রির কোনো বৈধ অধিকার তার ছিল না।
- আংশিক বাটোয়ারা আইনত অনুমোদনযোগ্য: আইন অনুযায়ী বাটোয়ারা মামলায় সমস্ত এজমালি সম্পত্তি আনতেই হবে এমন কোনো অনমনীয় বা ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। নির্দিষ্ট দাগের সম্পত্তি উদ্ধারে আংশিক বাটোয়ারা চলতে পারে।
- ট্রায়াল কোর্টের ডিক্রি সঠিক: যুগ্ম জেলা জজ আদালত পক্ষদের সুনির্দিষ্ট হিস্যা অনুযায়ী সঠিক প্রাথমিক ডিক্রি দিয়েছেন, যা বহাল রাখা আবশ্যক।
🛡️ আপিলকারী বিবাদী মো: বশির মিয়ার যুক্তি
- হচপচ না করা আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন: ওয়ারিশদের মধ্যে বাটোয়ারা মামলায় মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তি একজোট (Hotchpotch) করা বাধ্যতামূলক। ২২৩ কেদার ও অন্যান্য সম্পত্তি গোপন রাখা হয়েছে।
- আপস বণ্টনে একক দখল ও বৈধ ক্রয়: বিক্রেতা আপস-বণ্টনের মাধ্যমে উক্ত ১৫ শতক জমিতে একক দখলে ছিলেন এবং দখল হস্তান্তর করেছেন। খরিদ্দার হিসেবে বিবাদীরা সেখানে বৈধ দখলে আছেন।
- খরিদ্দারদের বঞ্চিত করার অসদুপায়: বাদীরা সমস্ত সম্পত্তি থেকে নিজেদের হিস্যা পূরণ না করে অসৎ উদ্দেশ্যে কেবল খরিদ্দারের জমির ওপর মামলা করেছে, যা আইনত সরাসরি বাতিলযোগ্য।
আপিল শুনানিকালে হাইকোর্ট বিভাগ মূল মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জেরা পর্যালোচনা করেন। সেখানে বাদীর নিজের জবানবন্দিতেই সম্পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হয়:
🔍 বাদী ১ নম্বরের (PW-1) জেরার স্বীকারোক্তি:
বাদী ১ নম্বর আজহারা আক্তার জেরার মুখে স্পষ্ট স্বীকার করেন যে— “তাদের পিতা মৃত্যুর পূর্বে ২২৩ কেদার ধানি জমি রেখে গিয়েছিলেন যা তাদের মা নুরুন্নেছা এবং সন্তানরা ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছেন। তাছাড়া তাদের মা কাবিননামা সূত্রেও কিছু সম্পত্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই সমস্ত সম্পত্তি এখনো বণ্টন হয়নি এবং ওই সমস্ত জমি বর্তমান বাটোয়ারা মামলার আরজিতে আনা হয়নি।”
হাইকোর্টে বাদীর বিজ্ঞ আইনজীবীও অকপটে স্বীকার করতে বাধ্য হন যে, নুরুন্নেছার উত্তরাধিকারীদের অন্যান্য সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কেবল ৪ নম্বর বিবাদী কর্তৃক হস্তান্তরিত ১৫ শতক জমির ওপর এই মামলাটি সীমিত রেখেছেন।
মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এবং মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বাটোয়ারা আইনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেন:
১. সহ-শরিকদের মধ্যে আংশিক বাটোয়ারা মামলা সম্পূর্ণ বেআইনি (Partial Partition Barred):
হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে অভিমত দেন যে, কোনো বহিরাগত ক্রেতা যদি একটি নির্দিষ্ট খতিয়ান থেকে নির্দিষ্ট জমি ক্রয় করে, কেবল তখনই সে ওই নির্দিষ্ট জমিতে আংশিক বাটোয়ারা চাইতে পারে। কিন্তু মূল উত্তরাধিকারী বা সহ-শরিকরা (Co-heirs/Co-sharers) কখনোই আংশিক বাটোয়ারা মামলা দায়ের করতে পারে না। ওয়ারিশদের মামলায় পূর্বসূরীর রেখে যাওয়া প্রতিটি খণ্ড সম্পত্তি মামলায় একজোট বা Hotchpotch করা অপরিহার্য আইনি বাধ্যবাধকতা।
২. আপস বণ্টনে দখলদার সহ-শরিকের বিক্রয় ও খরিদ্দারের দখল রক্ষার অধিকার:
বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন: “A Joint property may be possessed by the co-sharers by amicable partition and the co-sharer who is in exclusive possession in a piece of ejmali property can maintain above possession against other co-sharers until partition by meets and bounds is effected. A co-sharer in such exclusive possession by amicable partition may also transfer the same to a non co-sharer for money and the purchaser can protect the possession until partition by meets and bounds.” অর্থাৎ চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি না হওয়া পর্যন্ত আপস বণ্টনে জমিতে থাকা খরিদ্দার তার দখল অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে।
৩. আইনজীবীর অদক্ষতার জন্য বিচারপ্রার্থীকে বঞ্চিত করা যাবে না:
আদালত রায়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবমুখী পর্যবেক্ষণ দেন: “above deficiency was caused due to lack of legal skill of the appointed Advocate of the plaintiffs and the plaintiffs should not be made to suffer for the same.” বাদীদের নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবীর আইনগত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা ও গাফিলতির কারণে আরজিতে সব জমি আনা হয়নি। এই টেকনিক্যাল ভুলের জন্য ওয়ারিশদের পৈতৃক অধিকার চিরতরে বিনষ্ট হতে পারে না।
৪. বাটোয়ারার কজ অব অ্যাকশন চিরস্থায়ী; খারিজের বদলে রিমান্ডই বিধান:
যতক্ষণ না ফিতা টেনে মেপে (Meets and bounds) পৃথক সাহাম বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ বাটোয়ারার মামলার কারণ (Cause of action) জীবিত থাকে। তাই কেবল হটচপচ না করার প্রক্রিয়াগত ত্রুটিতে মামলা সরাসরি খারিজ না করে আরজি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ট্রায়াল কোর্টে ফেরত পাঠানোই আইনের নির্দেশ।
- আপিল মঞ্জুর ও নিম্ন আদালতের ডিক্রি বাতিল: ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, সিলেটের রায় ও প্রাথমিক ডিক্রি সম্পূর্ণ রদ ও বাতিল করা হলো।
- পুনর্বিচারের জন্য রিমান্ড (Remand for Retrial): মামলাটি ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পুনর্বিচারের জন্য রিমান্ডে প্রেরণ করা হলো।
- আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগ: উভয় পক্ষকে তাদের আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন (Amendment of pleadings) করার এবং নতুন প্রমাণ দাখিলের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করতে হবে। বাদীরা নুরুন্নেছার অবশিষ্ট সকল সম্পত্তি আরজিতে অন্তর্ভুক্ত করে হটচপচ নিশ্চিত করবে।
- ৬ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তাগিদ: রায়ের কপি পাওয়ার তারিখ হতে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে আদালতকে দ্রুততার সাথে এই বাটোয়ারা মোকদ্দমাটি নিষ্পত্তি করতে হবে।
১. সহ-শরিকদের আংশিক বাটোয়ারা অচল
উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বাটোয়ারায় সমগ্র সম্পত্তি একজোট (Hotchpotch) করা বাধ্যতামূলক; সুবিধা মতো অংশ বেছে আংশিক মোকদ্দমা চলতে পারে না।
২. আপস বণ্টনে খরিদ্দারের দখল অক্ষুণ্ন
আপস বণ্টনে একক দখলে থাকা শরিক থেকে ক্রয়কৃত ব্যক্তি চূড়ান্ত মেপে সাহাম বণ্টন না হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য শরিকের বিরুদ্ধে দখল বজায় রাখতে পারে।
৩. আইনজীবীর ভুলে পক্ষদের বঞ্চনা নয়
আইনজীবীর ড্রাফটিংয়ের ত্রুটি বা দক্ষতার অভাবের জন্য সাধারণ বিচারপ্রার্থীকে তার বৈধ হিস্যা থেকে চিরতরে বঞ্চিত করা বিচারহীনতা।
৪. বাটোয়ারার অবিরাম অধিকার ও রিমান্ড
বাটোয়ারার কজ অব অ্যাকশন কখনোই নিঃশেষ হয় না। তাই হটচপচের ত্রুটি থাকলে মোকদ্দমা খারিজ না করে আরজি সংশোধনে রিমান্ড দেওয়াই আইনসম্মত।
বাটোয়ারা মামলার আরজি লেখার সময় ওয়ারিশদের নামে থাকা বা পূর্বসূরীর রেখে যাওয়া প্রতিটি খতিয়ান ও দাগের জমি একজোট করুন; অন্যথায় প্রতিপক্ষ আংশিক বাটোয়ারার প্রশ্নে ডিক্রি আটকে দেবে।
কোনো শরিক যদি একক দখলে থেকে জমি বিক্রি করে থাকে, তবে অন্য শরিকদের হিস্যা অন্যান্য অবিক্রিত জমি থেকে পূরণ করে ওই ক্রেতার দখল সুরক্ষা করার আবেদন করুন।
লিখিত জবাবে যদি বিবাদী কোনো সম্পত্তি বাদ পড়ার অভিযোগ তোলে, তবে অবিলম্বে ৬ আদেশ ১৭ বিধিতে দরখাস্ত দিয়ে অবশিষ্ট জমি আরজিভুক্ত করে নিন।
মনে রাখবেন, আংশিক বাটোয়ারার সুবিধা কেবল খতিয়ানভিত্তিক বহিরাগত ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য, মূল উত্তরাধিকারী শরিকদের জন্য নয়।
হটচপচ ত্রুটির কারণে ট্রায়াল কোর্ট মামলা খারিজ করলে আপিল আদালতে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরুন যে আইনজীবীর ভুলের জন্য বিচারপ্রার্থী ভুক্তভোগী হতে পারে না; আরজি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে রিমান্ড প্রদান আবশ্যক।
বাটোয়ারা মামলার অন্যতম জটিল বিষয় হলো— যখন এক সহ-শরিক নিজের হিস্যার চেয়ে বেশি জমি কোনো নিরীহ তৃতীয় পক্ষের (Bona fide Purchaser) নিকট হস্তান্তর করে। এই ক্ষেত্রে ইক্যুইটি (Equity) এবং সুবিচারের সমন্বয়ে আদালত যেভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে:
- সাহাম সমন্বয়ের নীতি (Principle of Adjustment): যদি বিক্রেতা শরিকের অন্যান্য এজমালি সম্পত্তিতে যথেষ্ট হিস্যা অবশিষ্ট থাকে, তবে কমিশনার বাটোয়ারা বন্টনের সময় ওই বিক্রেতার হিস্যা থেকে ক্রেতাকে দখলীয় জমিটুকু বরাদ্দ দেবেন এবং বঞ্চিত অপর শরিকদের অবিক্রিত অংশ থেকে হিস্যা মিটিয়ে দেবেন।
- কেন হটচপচ অপরিহার্য: যদি সব জমি মামলায় না আনা হয়, তবে আদালত জানতেও পারবে না বিক্রেতার অন্য কোথায় কতটুকু জমি রয়েছে। ফলে ক্রেতার দখলকৃত জমির ওপর টান পড়ে এবং সুবিচার বিঘ্নিত হয়। এই কারণেই হাইকোর্ট সমস্ত জমি একত্রিত করাকে পূর্বশর্ত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
- উচ্চ আদালতের ধারাবাহিক নীতি: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারবার স্পষ্ট করেছে যে, দেওয়ানী আদালত হলো ন্যায়ের আদালত। কোনো শরিক যেন নিজের জমি বিক্রি করে টাকা পকেটে পুরে পরবর্তীতে খরিদ্দারের জমি থেকে বোনদের হিস্যা দিতে না পারে, সেই ভারসাম্য রক্ষাই বাটোয়ারা আইনের লক্ষ্য।

