বাটোয়ারা মামলায় সহ-শরিকের দখলে রিসিভার নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা: হাইকোর্টের রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বাটোয়ারা মোকদ্দমায় (Partition Suit) রিসিভার বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (Appointment of Receiver) এবং দখলদার সহ-শরিকের আইনি অধিকার প্রসঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট আপিল বিভাগের ল্যান্ডমার্ক নজির ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী বনাম বখতিয়ার আহমেদ চৌধুরী (৩৬ ডিএলআর (এডি) ৯৭) উদ্ধৃত করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী বাটোয়ারা মোকদ্দমায় পক্ষগণের সম্মতি ছাড়া রিসিভার নিয়োগ আদালতের অনুমোদন পায় না; পক্ষগণের মধ্যে নিছক বিরোধ বা মতপার্থক্য রিসিভার নিয়োগের কোনো আইনি ভিত্তি হতে পারে না; (২) রিসিভার নিয়োগ হলো দেওয়ানী আইনের অন্যতম কঠোরতম প্রতিকার (One of the harshest remedies), যা কেবল তখনই প্রয়োগ করা যায় যখন সম্পত্তি ধ্বংস, বিনাশ বা মারাত্মক অপচয়ের প্রত্যক্ষ ও আসন্ন ঝুঁকি (Great and imminent peril) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়; (৩) দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১(২) বিধির অলঙ্ঘনীয় বিধান অনুযায়ী, চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি না হওয়া পর্যন্ত কোনো বৈধ দখলদার সহ-শরিককে তার ব্যবস্থাপনা বা দখল থেকে উচ্ছেদ করে কোনো বহিরাগত রিসিভারের হাতে সম্পত্তি সমর্পণ করা সম্পূর্ণ বেআইনি; এবং (৪) ভাড়ার টাকা কম দেওয়ার অভিযোগে রিসিভার চাওয়া যায় না, কারণ সহ-শরিকদের বৈধ হিস্যা নির্ধারণ আদালতের কাজ, রিসিভারের নয়।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি ঢাকা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০১৭ সালে দায়েরকৃত বাটোয়ারা মোকদ্দমা Civil Suit No. 761 of 2017 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা ও বিচারিক পরিক্রমা নিম্নরূপ:

  • পারিবারিক সম্পত্তি ও ৬ তলা ভবন: মরহুম সুজা মো: খালেক দাদ ঢাকার ২.৫ কাঠা জমিসহ ৬ তলা আবাসিক-বাণিজ্যিক ভবনের মূল মালিক ছিলেন। তিনি মৃত্যুবরণকালে দুই কন্যা (বাদিনীগণ) এবং তার বিধবা স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসকে (১ নম্বর বিবাদী) উত্তরাধিকারী রেখে যান।
  • ভাড়া বণ্টন বিরোধ ও রিসিভারের আবেদন: বাদিনীগণ পৃথক সাহাম চেয়ে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১ বিধির অধীন আদালতে একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। তারা দাবি করেন যে ভবন থেকে প্রতি মাসে ১,৭৬,৭৯৩ টাকা ভাড়া আদায় হয় কিন্তু বিবাদী সৎ মা তাদের মাত্র ২৬,০০০ টাকা প্রদান করেন। ফলে ভাড়া আদায় ও বণ্টনের জন্য একজন রিসিভার নিয়োগ করা আবশ্যক।
  • বিবাদীর আপত্তি ও মৌখিক হেবার দাবি: ১ নম্বর বিবাদী জান্নাতুল ফেরদৌস লিখিত আপত্তি দিয়ে জানান যে তার স্বামী ২০০৪ সালে মৌখিক হেবা এবং ২০০৫ সালের নোটারাইজড হলফনামার মাধ্যমে পুরো সম্পত্তি তাকে হস্তান্তর করেছেন। তিনি নিয়মিত গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ বিল ও সরকারি খাজনা-ট্যাক্স পরিশোধ করে ভবন রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। তাছাড়া বাদিনীগণের মা তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন।
  • যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক রিসিভার নিয়োগ: ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত বাদিনীদের দরখাস্ত মঞ্জুর করে ভবনের সমস্ত ভাড়া আদায়ের জন্য একজন রিসিভার নিয়োগের আদেশ দেন।
  • হাইকোর্টে প্রথম বিবিধ আপিল (FMA): যুগ্ম জেলা জজের এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিধবা স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস হাইকোর্ট বিভাগে First Miscellaneous Appeal No. 283 of 2019 এবং স্থগিতাদেশ চেয়ে Civil Rule No. 18(FM) of 2019 দায়ের করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🛡️ আপিলকারী বিবাদীর যুক্তি (Appellant)

  1. সম্পত্তি বিনাশ বা অপচয়ের অভিযোগ নেই: ভবনের কোনো ক্ষতি, ধ্বংস বা অপচয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আরজিতে নেই; নিয়মিত সমস্ত বিল ও ট্যাক্স পরিশোধিত হচ্ছে।
  2. ৪০ আদেশ ১(২) বিধির আইনি সুরক্ষা: আইনের বিধান মতে বৈধ দখলদারকে চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি ছাড়া বেদখল করে রিসিভার বসানো যায় না (৩৬ ডিএলআর (এডি) ৯৭)।
  3. নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন: আবাসিক ভবনে বহিরাগত পুরুষ রিসিভার নিয়োগের ফলে সেখানে বসবাসরত নারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হবে।

🏛️ রেসপনডেন্ট বাদিনীদের যুক্তি (Respondents)

  1. ভাড়ার কোটি টাকা আত্মসাৎ: প্রতি মাসে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করে সৎ মা বাদিনীদের মাত্র ২৬ হাজার টাকা দেয়; ন্যায্য হিস্যা অস্বীকার করায় রিসিভার আবশ্যক।
  2. মৌখিক হেবার দাবি ভিত্তিহীন: স্বামীর মৃত্যুর পর কাল্পনিক মৌখিক হেবার দাবি তুলে বাদিনীদের ন্যায্য পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে।
  3. ফৌজদারি বিরোধ ও জীবনের হুমকি: ভাড়া চাওয়া নিয়ে একাধিক দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলা চলছে এবং বাদিনীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে; তাই রিসিভার জরুরি।

৩. রিসিভারের আইনি কাঠামো: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১ ও ২ বিধি

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশে আদালতকে রিসিভার নিয়োগের যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা চূড়ান্তভাবে শর্তাধীন এবং ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১(২) বিধি (Order XL Rule 1(2) CPC):

“Nothing in this rule shall authorize the Court to remove from the possession or custody of property any person whom any party to the suit has not a present right so to remove.”

আইনি তাৎপর্য: আইনপ্রণেতাগণ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন— মোকদ্দমার কোনো পক্ষের যদি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যক্তিকে জমি বা ঘর থেকে উচ্ছেদ করার আইনগত অধিকার না থাকে, তবে আদালতও রিসিভার নিয়োগ করে সেই ব্যক্তিকে দখলচ্যুত করতে পারবে না। বাটোয়ারা মামলায় সকল সহ-শরিকই যৌথ মালিক; চূড়ান্ত ডিক্রি ছাড়া কোনো সহ-শরিককে অপর সহ-শরিক উচ্ছেদ করতে পারে না। সুতরাং অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ে রিসিভার বসিয়ে তাকে সরানো আইনসিদ্ধ নয়।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম আইনি বিশ্লেষণ ও বিচারিক পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর ডিভিশন বেঞ্চ আপিল মেমোরেন্ডাম ও আপিল বিভাগের নজির পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ অভিমত লিপিবদ্ধ করেন:

ক. আপিল বিভাগের নজির: ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী বনাম বখতিয়ার আহমেদ চৌধুরী (৩৬ ডিএলআর এডি ৯৭):

হাইকোর্ট আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত হুবহু উদ্ধৃত করেন— বাটোয়ারা মামলায় সাধারণ নীতি হলো রিসিভার নিয়োগ আদালত কখনোই অনুমোদন করে না। পক্ষগণের মধ্যে তীব্র বিরোধ থাকলেই রিসিভার নিয়োগের কারণ ঘটে না। বম্বে হাইকোর্টের ঐতিহাসিক Govinda N R Desai v V N Desai (AIR 1920 Bom 321) মামলার সূত্র টেনে আপিল বিভাগ ঘোষণা করেন: যৌথ পরিবারের বাটোয়ারা মামলায় সম্মতি ছাড়া আদালত রিসিভার দেবে না। বাদীর স্বার্থ ছাড়াও সমগ্র সম্পত্তির ধ্বংস রোধে অন্য কোনো উপায় না থাকলে তবেই কেবল চরম পদক্ষেপ হিসেবে রিসিভার বিবেচনা করা যায়।

খ. অপচয় বা বিনাশের কোনো অভিযোগ ছিল না (Absence of Wastage):

হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন যে বাদিনীদের রিসিভারের দরখাস্তে ভবনের কোনো ক্ষতিসাধন, ধ্বংস বা অপচয়ের ন্যূনতম কোনো দাবি বা প্রমাণ ছিল না। বিবাদী নিয়মিত সব ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করছেন এবং ভবনটি ভালোভাবে সচল রেখেছেন। নিছক ভাড়ার টাকার বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্য কখনোই সম্পত্তি বিনষ্টের সমতুল্য নয়।

গ. সহ-শরিকের হিস্যা নির্ধারণ আদালতের কাজ, রিসিভারের নয়:

বাদিনীরা রিসিভার চেয়েছিলেন যেন রিসিভার ভাড়া তুলে তাদের ন্যায্য অংশ বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেন— কার কতটুকু অংশ প্রাপ্য এবং হেবা বৈধ কি না, এই স্বত্ব নির্ধারণের একমাত্র এখতিয়ার বিচারিক দেওয়ানী আদালতের। দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১ বিধি অনুযায়ী কোনো রিসিভারকে দিয়ে এই বিচারিক হিস্যা নির্ধারণ করানো যায় না।

ঘ. ট্রায়াল জজের আইনি ভুলের অবসান:

ঢাকার ২য় যুগ্ম জেলা জজ ৪০ আদেশের অন্তর্নিহিত দর্শন এবং আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত নজিরসমূহ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে যান্ত্রিকভাবে রিসিভার নিয়োগ করেছিলেন, যা আইনের চরম ব্যত্যয়। হাইকোর্ট উক্ত আদেশ বাতিল করে মামলাটি দ্রুত মূল ট্রায়ালে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ ও দিকনির্দেশনা (Final Decision & Directions)
  • প্রথম বিবিধ আপিল মঞ্জুর (FMA Allowed): বিধবা স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের First Miscellaneous Appeal No. 283 of 2019 সম্পূর্ণরূপে মঞ্জুর করা হলো।
  • রিসিভার নিয়োগের আদেশ সম্পূর্ণ বাতিল: ঢাকা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ২৮.১১.২০১৮ তারিখে Civil Suit No. 761 of 2017-এ প্রদত্ত রিসিভার নিয়োগের আদেশ বাতিল ও বাদিনীদের দরখাস্ত সরাসরি খারিজ করা হলো।
  • রুল অ্যাবসলিউট: সংশ্লিষ্ট Civil Rule No. 18(FM) of 2019 অ্যাবসলিউট ঘোষণা করা হলো।
  • ৬ মাসের মধ্যে মূল মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ: বিচারিক আদালতকে এই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে মূল বাটোয়ারা মোকদ্দমাটির বিচার নিষ্পত্তি করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।

৬. আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):

  1. বাটোয়ারায় রিসিভারের অগ্রহণযোগ্যতা: পারিবারিক বাটোয়ারা মোকদ্দমায় পক্ষগণের পারস্পরিক সম্মতি ছাড়া আদালত রিসিভার দেবে না; নিছক পারিবারিক কলহ রিসিভারের ভিত্তি হতে পারে না।
  2. ৪০ আদেশ ১(২) বিধির প্রতিবন্ধকতা: চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রির পূর্বে বৈধ দখলদার সহ-শরিককে তার শান্তিপূর্ণ দখল ও নিয়ন্ত্রণ থেকে কোনো অবস্থাতেই রিসিভারের মাধ্যমে উচ্ছেদ করা যায় না।
  3. আসন্ন ধ্বংস ও বিনাশের প্রমাণের আবশ্যকতা: রিসিভার নিয়োগের জন্য প্রমাণ করতে হবে যে সম্পত্তি চরম অবহেলা বা অপচয়ে ধ্বংস হতে চলেছে; নিয়মিত বিল-ট্যাক্স পরিশোধিত ভবন এই ক্যাটাগরিতে পড়ে না।
  4. ভাড়া বণ্টন আদালতের বিষয়: হিস্যা অনুযায়ী ভাড়া বণ্টনের বিষয়টি বিচারিক ডিক্রির বিষয়; অন্তর্বর্তীকালীন রিসিভারকে কোনো বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া যায় না।

৭. প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সতর্কতা
১. বাটোয়ারা মোকদ্দমায় রিসিভার প্রার্থনায় বিরত থাকুন:

দখলদার সহ-শরিকের বিরুদ্ধে রিসিভার না চেয়ে বরং ৩৯ আদেশের অধীন অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রূপান্তর বা হস্তান্তরে বাধা দিন।

২. আপিল বিভাগে ৩৬ ডিএলআর (এডি) ৯৭ নজির উদ্ধৃত করুন:

বিবাদী হিসেবে রিসিভারের দরখাস্তের বিরোধিতায় এই ক্লাসিক রায় পেশ করলে আদালত যেকোনো অযৌক্তিক রিসিভার আবেদন সরাসরি খারিজ করতে বাধ্য।

৩. ইউটিলিটি বিল ও ট্যাক্স রসিদ সংরক্ষণ করুন:

দখলদার মক্কেলকে বলুন বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা ও হোল্ডিং ট্যাক্সের নিয়মিত পরিশোধ রশিদ সংরক্ষণ করতে; এতে অপচয় ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ নস্যাৎ হয়।

৪. ৪০ আদেশ ১(২) বিধির আইনি বাধা তুলে ধরুন:

আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন যে বাটোয়ারার চূড়ান্ত ডিক্রি ছাড়া এক সহ-শরিকের অপর সহ-শরিককে সরানোর কোনো তাৎক্ষণিক অধিকার (Present Right) আইনে নেই।

৫. রিসিভার আদেশের বিরুদ্ধে প্রথম বিবিধ আপিল (FMA) করুন:

যুগ্ম জেলা জজ রিসিভার দিলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪৩ আদেশ ১(স) বিধি অনুযায়ী রিভিশন নয়, সরাসরি হাইকোর্টে First Miscellaneous Appeal দায়ের করুন।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর প্রথম বিবিধ আপিল নং ২৮৩ / ২০১৯ সহ দেওয়ানী রুল নং ১৮(এফএম) / ২০১৯ (FMA No. 283 of 2019 with Civil Rule No. 18(FM) of 2019)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (ডিভিশন বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী)
পক্ষসমূহ জান্নাতুল ফেরদৌস (১ নম্বর বিবাদী-আপিলকারী) বনাম সামিনা সাবিহা (রিয়া) ও অন্যান্য (বাদী-রেসপনডেন্টগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ আপিলকারী পক্ষে: জনাব শাহাবুল আলম চৌধুরী, জনাব মো: সাইফুল বারী ও জনাব মো: মতিন, অ্যাডভোকেট | রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব এম.এ. কুদ্দুস শেখ, জনাব কামরুজ্জামান ও ড. শাহে আলম দেওয়ান, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও আদেশ ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা (দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৭৬১/২০১৭, আদেশ: ২৮.১১.২০১৮ – বাটোয়ারা মামলায় ৬ তলা ভবনে রিসিভার নিয়োগের আদেশ)
মূল আইনি বিষয়বস্তু ও নজির দেওয়ানী কার্যবিধির ৪০ আদেশ ১ ও ২ বিধি; বাটোয়ারা মোকদ্দমায় রিসিভার নিয়োগের সীমাবদ্ধতা (36 DLR (AD) 97, AIR 1920 Bom 321); দখলদার সহ-শরিককে বেদখলের নিষেধাজ্ঞা; চরম ধ্বংস বা অপচয়ের অভাব।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রথম বিবিধ আপিল মঞ্জুর (FMA Allowed); ট্রায়াল কোর্টের রিসিভার নিয়োগের আদেশ বাতিল; বাদিনীদের রিসিভার আবেদন সরাসরি খারিজ এবং ৬ মাসের মধ্যে মূল মোকদ্দমা নিষ্পত্তির নির্দেশ।
শুনানি ও রায়ের তারিখ শুনানি ও চূড়ান্ত রায় প্রদান: ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপলোড: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজমেন্ট পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button