আরএস রেকর্ডে নাম না থাকলে নিছক বাটোয়ারা মামলা অচল, স্বত্ব ঘোষণা বাধ্যতামূলক: হাইকোর্ট

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বাটোয়ারা মোকদ্দমা (Suit for Partition), সর্বশেষ খতিয়ানের সংবিধিবদ্ধ অনুমান এবং স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest) প্রসঙ্গে এক অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট আপিল বিভাগের কর্তৃত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ (৪৯ ডিএলআর (এডি) ৬৮ এবং ৫৬ ডিএলআর (এডি) ৫৩) বিশ্লেষণ করে ঘোষণা করেছেন যে, ১৯৫০ সালের রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক (Section 144A SAT Act) ধারা অনুযায়ী পুরনো সি.এস. খতিয়ানের চেয়ে সর্বশেষ প্রকাশিত আর.এস. খতিয়ানের বিশুদ্ধতার অনুমান প্রাধান্য পাবে। সর্বশেষ আর.এস. রেকর্ডে যদি বাদীর নাম সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে এবং বিবাদীগণ বাদীর মূল স্বত্ব অস্বীকার করে প্রতিকূল স্বত্ব দাবি করে, তবে নিছক বাটোয়ারা (Partition Simpliciter) মোকদ্দমা আইনত অচল। বাটোয়ারাকে ‘মাদার স্যুট’ (Mother Suit) বলা হলেও তা যথাযথ আরজি ছাড়া স্বত্বহীন বা দখলহীন পক্ষকে খাস দখল দিতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে প্রজাস্বত্ব আইনের ৫৪ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৩সি ধারা মতে বাদীকে অবশ্যই যথাযথ কোর্ট ফি দিয়ে স্বত্ব ঘোষণা (Declaration of Title) ও দখল উদ্ধারের প্রতিকার চাইতে হবে। ট্রায়াল কোর্টের বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল করে হাইকোর্ট বাদীকে আরজি সংশোধন ও স্বত্ব ঘোষণার সুযোগ দিয়ে মামলাটি রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি নারায়ণগঞ্জ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০০৩ সালে দায়েরকৃত বাটোয়ারা মোকদ্দমা Title Suit No. 102 of 2003 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা ও বিচারিক পরিক্রমা নিম্নরূপ:

  • সিএস রেকর্ডের ভিত্তিতে বাটোয়ারার দাবি: বাদিনী সুফিয়া বেগম (পরবর্তীতে মৃত, তার ওয়ারিশানগণ) নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার কুশিয়ারা মৌজার সি.এস. ৩০৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৬টি দাগের মোট ২.৭৯ একর জমির মধ্যে সিএস রেকর্ডীয় প্রজা রহিম আলী শেখের ওয়ারিশ হিসেবে অর্ধেক অংশ (১৩৯.৫০ শতাংশ) বাটোয়ারার দাবি করেন এবং এস.এ. ও আর.এস. রেকর্ড ভুল ঘোষণার প্রার্থনা জানান।
  • বিবাদীদের বহুমুখী লিখিত জবাব ও দীর্ঘ দখল: বিবাদীগণ ৩টি পৃথক গ্রুপে লিখিত জবাব দাখিল করে জানান— সিএস প্রজা রহিম আলী শেখ ১৯৩৫ সালেই অরেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে এবং ১৯১০-১৯২২ সালের মধ্যে একাধিক রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে জমি বিক্রয় করে দখল ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এস.এ. এবং আর.এস. খতিয়ান যথানিয়মে বিবাদী ও তাদের পূর্বসূরিদের নামে প্রস্তুত ও প্রকাশিত হয়। বিবাদীগণ ঘরবাড়ি নির্মাণ করে ৫০-৬০ বছর ধরে ভোগদখলে আছেন এবং সরকারের অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণও গ্রহণ করেছেন।
  • পূর্বে স্বত্বের মামলা প্রত্যাহার ও বাটোয়ারা মামলা দায়ের: মামলার পূর্বে বাদিনী সহকারী জজ আদালতে Title Suit No. 36 of 2003 শিরোনামে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করেছিলেন। সেখানে বিবাদীগণ ৭ আদেশ ১১ বিধিতে আরজি খারিজের আবেদন দিলে বাদিনী মামলাটি প্রত্যাহার করে কৌশলে নিছক বাটোয়ারা (Partition Simpliciter) মামলা দায়ের করেন।
  • যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক বাটোয়ারা ডিক্রি: ২০১১ সালের ২৬ অক্টোবর ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত বাটোয়ারা মোকদ্দমাটি ডিক্রি করেন। জজ আদালতের যুক্তি ছিল যে বিবাদীগণ সিএস প্রজার হাত থেকে হস্তান্তরের মূল দলিল দেখাতে পারেনি, তাই সিএস প্রজার ওয়ারিশ হিসেবে বাদিনী বাটোয়ারা পাওয়ার অধিকারী।
  • হাইকোর্টে প্রথম আপিল (First Appeal): যুগ্ম জেলা জজের এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী আবুল কাশেম ও অন্যান্যরা হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 17 of 2012 দায়ের করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🛡️ আপিলকারী বিবাদীগণের যুক্তি (Appellants)

  1. আরএস রেকর্ডের অগ্রাধিকার: প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারা মতে সাম্প্রতিক আর.এস. রেকর্ড পুরনো সি.এস.-এর ওপর প্রাধান্য পাবে; আরএস রেকর্ডে বাদীর কোনো নাম নেই।
  2. স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest) নেই: বিবাদীগণ বাদীর সহ-শরিক নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন সূত্রে স্বত্ববান এবং ৫০ বছর ধরে ঘরবাড়ি তুলে দখলে আছে; তাই নিছক বাটোয়ারা অচল (৪৯ ডিএলআর (এডি) ৬৮)।
  3. স্বত্ব ঘোষণা ছাড়া মামলা অচল: বাদিনী চট্টগ্রামে থাকেন এবং জমিতে দখলহীন; পূর্বে স্বত্বের মামলা প্রত্যাহার করে কোর্ট ফি ফাঁকি দিতে বাটোয়ারা মামলা করা বেআইনি।

🏛️ রেসপনডেন্ট বাদিনীপক্ষের যুক্তি (Respondents)

  1. সিএস প্রজার স্বত্ব হস্তান্তর হয়নি: সিএস রেকর্ডীয় প্রজা রহিম আলী শেখ থেকে বিবাদীগণ কোনো বৈধ রেজিস্ট্রি হস্তান্তরের প্রমাণ দিতে পারেনি; তাই ওয়ারিশ হিসেবে বাদিনী স্বত্ববান।
  2. বাটোয়ারা হলো ‘মাদার স্যুট’: বাটোয়ারা মামলায় স্বত্ব ও রেকর্ডের ভুলসহ যাবতীয় বিরোধ একই সাথে নিষ্পত্তি করার অবাধ এখতিয়ার দেওয়ানী আদালতের রয়েছে।
  3. সহ-শরিকের এজমালী দখল: এক সহ-শরিকের দখল সকলের দখল হিসেবে গণ্য হয়; বাদিনী এজমালী দখলেই ছিলেন এবং ট্রায়াল কোর্টের ডিক্রি আইনসম্মত।

৩. বাটোয়ারার আইনি দর্শন ও প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারা

বাটোয়ারা মামলার মূল উদ্দেশ্য হলো সহ-মালিকদের যৌথ অধিকারকে পৃথক অধিকারে রূপান্তর করা। কিন্তু যেখানে সহ-মালিকানাই অস্বীকার করা হয়, সেখানে আইনের প্রয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারা বনাম বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইনের ১০৩বি(৫) ধারা:

১৮৮৫ সালের বিটি অ্যাক্টের ১০৩বি(৫) ধারায় সিএস রেকর্ডের যে শুদ্ধতার অনুমান ছিল, ১৯৫০ সালের প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারায় আরএস রেকর্ডের ক্ষেত্রে হুবহু একই সংবিধিবদ্ধ অনুমান রাখা হয়েছে। তবে প্রজাস্বত্ব আইনের কার্যকারিতার কারণে সাম্প্রতিক খতিয়ান পুরনো খতিয়ানকে বাতিল ও প্রতিস্থাপিত করে। সুতরাং শুধুমাত্র পুরনো সিএস রেকর্ড দেখিয়ে সাম্প্রতিক আরএস রেকর্ডের শুদ্ধতার অনুমান স্বয়ংক্রিয়ভাবে খণ্ডন করা যায় না; ইতিবাচক দালিলিক সাক্ষ্যে তা অপ্রমাণ করতে হবে।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম আইনি বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি মো: রিয়াজ উদ্দিন খান ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের ডিভিশন বেঞ্চ আপিল মেমোরেন্ডাম ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশদ পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত মৌলিক নীতি নির্ধারণ করেন:

ক. আপিল বিভাগের নজির: রেজাউল করিম বনাম শামসুজ্জোহা (৪৯ ডিএলআর এডি ৬৮):

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত উদ্ধৃত করেন— বাটোয়ারা মামলায় আদালত স্বত্বের প্রশ্ন সাময়িকভাবে খতিয়ে দেখতে পারে, কিন্তু পক্ষগণের মধ্যে যদি স্বত্বের গুরুতর ও জটিল বিরোধ দেখা দেয় এবং একপক্ষ অপরপক্ষের স্বত্বকে সমূলে অস্বীকার করে, তবে আদালত নিজেকে স্বত্ব নির্ধারণের আদালতে রূপান্তরিত করতে পারে না। এমন ক্ষেত্রে বাটোয়ারা ডিক্রি দেওয়ার পূর্বে স্বত্ব ঘোষণার আনুষ্ঠানিক মোকদ্দমা নিষ্পত্তি হওয়া অপরিহার্য।

খ. স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest) অনুপস্থিত:

বাটোয়ারা মোকদ্দমার প্রধান শর্ত হলো পক্ষগণের মধ্যে ‘স্বার্থের সম্মিলন’ থাকতে হবে— অর্থাৎ তারা একই অভিন্ন উৎস বা সাধারণ পূর্বসূরি থেকে স্বত্ব দাবি করবেন। কিন্তু এই মামলায় বাদিনী দাবি করছেন সিএস প্রজার ওয়ারিশ হিসেবে, আর বিবাদীগণ দাবি করছেন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও বিপরীত খরিদা সূত্রে। ফলে পক্ষগণের মধ্যে কোনো যৌথ মালিকানা বা স্বার্থের ঐক্য নেই। নিছক বাটোয়ারা দিয়ে এই বৈরী স্বত্ব মীমাংসা করা যায় না।

গ. বাটোয়ারা হলো ‘মাদার স্যুট’— কিন্তু তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে:

হাইকোর্ট পরিষ্কার করেন যে ‘মাদার স্যুট’ কথাটির অর্থ এই নয় যে আদালত যথাযথ আরজি ও কোর্ট ফি ছাড়া সব ধরনের প্রতিকার একতরফা দিয়ে দেবে। বাদিনীর নাম ১৯৬২ সালের এস.এ. এবং ১৯৭০ সালের আর.এস. কোনো খতিয়ানেই নেই। তিনি গত ৫০-৬০ বছর ধরে কোনো খাজনার দাখিলা দাখিল করতে পারেননি এবং সশরীরে চট্টগ্রামে বসবাস করেন। এমন দখলহীন ও রেকর্ডহীন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণা ও ৮ ধারায় খাস দখল ব্যতিরেকে নিছক নামমাত্র কোর্ট ফিতে বাটোয়ারা ডিক্রি পাওয়া আইনের চোখে অসম্ভব।

ঘ. ন্যায়বিচারের স্বার্থে আরজি সংশোধনের সুযোগ দিয়ে রিমান্ড:

যেহেতু বিবাদীগণও সিএস প্রজার হস্তান্তরের মূল প্রাচীন দলিল দাখিলে কিছুটা ঘাটতি দেখিয়েছেন, সেহেতু বাদিনীর মামলাটি সরাসরি খারিজ না করে তাকে উপযুক্ত কোর্ট ফি প্রদানপূর্বক আরজি সংশোধন করে স্বত্ব ঘোষণার দাবি যুক্ত করার সুযোগ দিয়ে মামলাটি ট্রায়াল কোর্টে পুনঃবিচারের জন্য রিমান্ডে পাঠানোই ন্যায়সঙ্গত।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ ও বিচারিক নির্দেশনা (Final Decision & Directions)
  • প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed): বিবাদী আবুল কাশেম গং-এর দায়েরকৃত প্রথম আপিলটি সম্পূর্ণ মঞ্জুর করা হলো।
  • যুগ্ম জেলা জজের বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল: নারায়ণগঞ্জ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ২৬.১০.২০১১ তারিখে Title Suit No. 102 of 2003-এ প্রদত্ত বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল ও রদ করা হলো।
  • আরজি সংশোধনের সুযোগসহ রিমান্ড: মামলাটি ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে প্রেরণ করা হলো। বাদীপক্ষকে উপযুক্ত কোর্ট ফি দিয়ে আরজি সংশোধন করে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা যোগ করার স্বাধীনতা প্রদান করা হলো এবং বিবাদীপক্ষকেও অতিরিক্ত জবাব ও সাক্ষ্য দাখিলের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হলো।
  • দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ: যেহেতু মোকদ্দমাটি ২০০৩ সালের পুরনো, সেহেতু বিচারিক আদালতকে কোনো অপ্রয়োজনীয় মুলতবি ব্যতিরেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত মামলাটির পুনর্বিচার সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

৬. আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):

  1. সাম্প্রতিক খতিয়ানের শ্রেষ্ঠত্ব: প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারায় আর.এস. রেকর্ড চূড়ান্ত শুদ্ধতার অনুমানে ভূষিত। সাম্প্রতিক খতিয়ান থেকে কোনো পক্ষের নাম সম্পূর্ণ বাদ থাকলে নিছক প্রাচীন সিএস খতিয়ান দেখিয়ে সরাসরি বাটোয়ারা পাওয়া যায় না।
  2. কমিউনিটি অব ইন্টারেস্টের আবশ্যকতা: যে মামলায় পক্ষগণ একই পূর্বসূরি থেকে স্বত্ব দাবি না করে পরস্পরবিরোধী উৎসে প্রতিকূল স্বত্ব দাবি করে, সেখানে নিছক বাটোয়ারা মোকদ্দমা আইনত অচল।
  3. স্বত্ব ঘোষণা ও দখল উদ্ধার আবশ্যক: আরএস খতিয়ান ও জমিনের দখল বিবাদীদের অনুকূলে থাকলে বাদীকে তামাদি আইনের বিধান মেনে অবশ্যই ৬ বছরের মধ্যে স্বত্ব ঘোষণা ও ১২ বছরের মধ্যে দখল উদ্ধারের মামলা যুক্ত করতে হবে।
  4. বিবাদীর দুর্বলতায় বাদীর জয় নয়: বাটোয়ারা ডিক্রি পেতে হলে বাদীকে নিজের শক্তিতে স্বত্ব প্রমাণ করতে হবে; বিবাদী পুরোনো দলিলের উৎস দেখাতে পারেনি— এই যুক্তিতে স্বত্বহীন বাদীকে বাটোয়ারা দেওয়া বিচারিক ভুল।

৭. প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সতর্কতা
১. আরএস খতিয়ানে নাম না থাকলে বাটোয়ারার সাথে স্বত্ব ঘোষণা চান:

মক্কেলের নাম যদি সর্বশেষ আর.এস. বা বি.এস. খতিয়ানে না থাকে, তবে শুধু বাটোয়ারা না চেয়ে উপযুক্ত কোর্ট ফি দিয়ে অবশ্যই ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণা ও রেকর্ড সংশোধনের প্রার্থনা যুক্ত করুন।

২. কোর্ট ফি ফাঁকি দিতে বাটোয়ারা ড্রাফট করবেন না:

স্বত্ব ও দখল বিরোধ থাকা সত্ত্বেও সামান্য ফিক্সড কোর্ট ফিতে বাটোয়ারা ড্রাফট করলে আপিলে গিয়ে ডিক্রি বাতিল হয়ে মামলা রিমান্ডে চলে যাবে এবং মক্কেলের ২০ বছর অপচয় হবে।

৩. খাজনা দাখিলা ও মিউটেশন রেকর্ড আদালতে প্রদর্শন করুন:

দখল প্রমাণে শুধু মৌখিক সাক্ষী যথেষ্ট নয়; সরকারি খাজনা রসিদ, মিউটেশন ডিসিআর ও স্থানীয় ট্যাক্সের রশিদ প্রদর্শনী (Exhibit) করান।

৪. আপিল বিভাগে ৪৯ ডিএলআর (এডি) ৬৮ নজির ব্যবহার করুন:

বিবাদী হিসেবে যদি দেখেন বাদী নিছক সিএস রেকর্ডের জোরে বাটোয়ারা চাচ্ছে, তবে এই ঐতিহাসিক নজির দিয়ে প্রমাণ করুন যে বৈরী স্বত্বে বাটোয়ারা চলে না।

৫. তামাদি সচেতনতা (Article 144 Limitation Act):

আরএস রেকর্ড প্রকাশের পর ১২ বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলে এবং অন্যপক্ষ দখলে থাকলে প্রতিকূল দখল ও বেদখলের তামাদি ঝুঁকি মাথায় রাখুন।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর প্রথম আপিল নং ১৭ / ২০১২ (First Appeal No. 17 of 2012)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (ডিভিশন বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি মো: রিয়াজ উদ্দিন খান ও মাননীয় বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদ)
পক্ষসমূহ আবুল কাশেম ও অন্যান্য (বিবাদী-আপিলকারীগণ) বনাম সুফিয়া বেগম (মৃত), ওয়ারিশ ১(১) আবুল হোসেন ও অন্যান্য (বাদী-রেসপনডেন্টগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ আপিলকারী পক্ষে: জনাব জুলফিকার আহমেদ, অ্যাডভোকেট | রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব এস.আর.এম. লুৎফর রহমান আকন্দ, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, নারায়ণগঞ্জ (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১০২/২০০৩, রায়: ২৬.১০.২০১১, ডিক্রি সই: ০২.১১.২০১১ – বাটোয়ারা ডিক্রি)
মূল আইনি বিষয়বস্তু ও নজির নিছক বাটোয়ারা (Partition Simpliciter); প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৪ক ধারা ও সাম্প্রতিক আরএস রেকর্ডের অগ্রাধিকার; স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest) অনুপস্থিতি (49 DLR (AD) 68, 56 DLR (AD) 53); বাটোয়ারার সাথে স্বত্ব ঘোষণার অনিবার্যতা।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed); যুগ্ম জেলা জজের বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল; আরজি সংশোধন ও স্বত্ব ঘোষণার সুযোগ প্রদানপূর্বক ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড।
শুনানি ও রায়ের তারিখ চূড়ান্ত রায় প্রদান: ১২ মে ২০২৬ | আপলোড: ৩০ আগস্ট ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজমেন্ট পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button