রাজউকের নিয়ম না মেনে আলো-বাতাস বন্ধকারী প্রাচীর অপসারণে আজ্ঞাপক ও চিরতরে নিষেধাজ্ঞার আরজি মুসাবিদা | বার কাউন্সিল লিখিত ২০১২
রাজউকের নিয়ম না মেনে আলো-বাতাস বন্ধকারী প্রাচীর অপসারণে আজ্ঞাপক ও চিরতরে নিষেধাজ্ঞার আরজি মুসাবিদা
১. মূল প্রশ্ন (Examination Question)
৬. আপনার মক্কেলের প্রতিবেশী আপনার মক্কেলের বাড়ীর পূর্ব পার্শ্বে রাজউক এর নিয়ম মাফিক প্রয়োজনীয় জায়গা না ছাড়িয়া প্রাচীর নির্মাণ করে এবং দেওয়াল এত উঁচু করে যে, আপনার মক্কেলের বাড়ীতে আলো প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। আপনার মক্কেল দেওয়ানী আদালত হতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় কি প্রতিকার পাইতে পারেন ? সংক্ষেপে একটি আরজি মুসাবিদা করুন। মুসাবিদার জন্য আপনি বাদী বিবাদীর নাম ঠিকানা ইচ্ছা মত বর্ণনা করিতে পারেন। [মান: ১৬]
২. আইনগত প্রতিকার ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের প্রযোজ্য ধারা
মক্কেলের প্রতিবেশী রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে এবং আলো-বাতাস চলাচলের অধিকার (Easement Right to Light and Air) হরণ করে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন। এ ক্ষেত্রে মক্কেল সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর নিম্নলিখিত ধারাসমূহে প্রতিকার পাবেন:
- ধারা ৫৪ (চিরতরে নিষেধাজ্ঞা – Perpetual Injunction): বিবাদী যাতে ভবিষ্যতে প্রাচীরটি আর বৃদ্ধি করতে না পারে অথবা বাদীর আলো-বাতাস প্রবেশে স্থায়ী কোনো বাধা বা উপদ্রব (Nuisance) সৃষ্টি করতে না পারে।
- ধারা ৫৫ (বাধ্যতামূলক বা আজ্ঞাপক নিষেধাজ্ঞা – Mandatory Injunction): ইতিমধ্যে নির্মিত বেআইনি প্রাচীরটি ভেঙে অপসারণ করার জন্য বিবাদীকে বাধ্য করতে আজ্ঞাপক নিষেধাজ্ঞা।
- The Easements Act, 1882 এর ধারা ৭ ও ১৫: আলো ও বাতাসের অধিকার প্রাকৃতিক ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত ইজমেন্ট অধিকার।
৩. দেওয়ানী আদালতে আরজির পূর্ণাঙ্গ মুসাবিদা (Legal Draft of Plaint)
বিজ্ঞ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা
দেওয়ানী মোকদ্দমা নং… / ২০১২
জনাব রফিকুল ইসলাম, পিতা- মরহুম শফিকুল ইসলাম, সাং- বাড়ি নং- ১২, রোড নং- ৫, ধানমন্ডি, থানা- ধানমন্ডি, জেলা- ঢাকা।
…………………………………………………………………………….. বাদী
— বনাম —
জনাব আনোয়ার হোসেন, পিতা- মরহুম দেলোয়ার হোসেন, সাং- বাড়ি নং- ১৪, রোড নং- ৫, ধানমন্ডি, থানা- ধানমন্ডি, জেলা- ঢাকা।
…………………………………………………………………………….. বিবাদী
মোকদ্দমার বিষয়: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৫ ধারা মতে আজ্ঞাপক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) এবং ৫৪ ধারা মতে চিরতরে নিষেধাজ্ঞার (Perpetual Injunction) আরজি।
মোকদ্দমার মূল্যায়ন: ৩,০০,০০০/- (তিন লক্ষ) টাকা। তদনুযায়ী সর্বোচ্চ কোর্ট ফি প্রদত্ত।
বাদী পক্ষ বিনীত নিবেদন এই যে—
- বাদী তফশিল বর্ণিত ‘ক’ তফশিলভুক্ত ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার জমির ওপর তিনতলা বিশিষ্ট একটি আধুনিক বাসভবন নির্মাণ করে বিগত ২৫ বছর যাবৎ পরিবার-পরিজনসহ শান্তিময়ভাবে বসবাস করে আসছেন। বাদীর উক্ত বাসভবনের পূর্ব দিকের কক্ষসমূহে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস প্রবেশের জন্য অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জানালা বিদ্যমান রয়েছে।
- বিবাদী বাদীর বাড়ির পূর্ব পার্শ্বস্থ ‘খ’ তফশিলভুক্ত প্লটের মালিক। বিবাদী সম্প্রতি তার প্লটে নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন।
- রাজউক (RAJUK) অনুমোদিত ঢাকা মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী বাদীর সীমানা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ বাফার স্পেস (Setback space) খালি রাখার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু বিবাদী উক্ত বিধিমালার তোয়াক্কা না করে বাদীর সীমানা ঘেঁষে কোনো জায়গা না ছেড়ে ২০ ফুট উঁচু একটি দুর্ভেদ্য পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছেন।
- উক্ত সুউচ্চ প্রাচীর নির্মাণের ফলে বাদীর বাড়ির নিচতলা ও দোতলার পূর্ব পাশের কক্ষসমূহে আলো-বাতাস প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাদীর বাড়িটি বসবাসের অযোগ্য এবং স্যাঁতসেঁতে হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও উপদ্রবের (Nuisance) সৃষ্টি হয়েছে।
- বাদী গত ১৫/১০/২০১২ তারিখে বিবাদীকে উক্ত বেআইনি দেওয়াল ভেঙে ফেলতে এবং রাজউকের বিধি অনুযায়ী জায়গা ছেড়ে দেওয়াল নির্মাণ করতে অনুরোধ জানালে বিবাদী তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন।
- মামলাটির কারণ (Cause of Action) গত ০১/১০/২০১২ ইং তারিখে বিবাদী কর্তৃক অবৈধ প্রাচীর নির্মাণকালে এবং ১৫/১০/২০১২ তারিখে বাদীকে আলো-বাতাস দিতে অস্বীকৃতি জানানোর দিনে বিজ্ঞ আদালতের আঞ্চলিক ও আর্থিক এখতিয়ারে ধানমন্ডি থানাধীন নালিশী স্থানে উৎপন্ন হয়েছে।
‘ক’ তফসিল (বাদীর সম্পত্তির বিবরণ):
জেলা- ঢাকা, থানা- ধানমন্ডি, মৌজা- ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা, রোড নং- ৫, প্লট নং- ১২; ভূমির পরিমাণ- ৫ (পাঁচ) কাঠা।
চৌহদ্দি: উত্তরে- রোড নং- ৫, দক্ষিণে- অপরের প্লট, পূর্বে- বিবাদীর প্লট নং- ১৪, পশ্চিমে- প্লট নং- ১০।
‘খ’ তফসিল (অপসারণযোগ্য বেআইনি প্রাচীরের বিবরণ):
বাদীর প্লট নং- ১২ এর পূর্ব সীমানা ঘেঁষে বিবাদী কর্তৃক নির্মিত দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট, প্রস্থ ৫ ইঞ্চি এবং উচ্চতা ২০ ফুট বিশিষ্ট অবৈধ ইট ও সিমেন্টের পাকা প্রাচীর।
প্রার্থনা:
অতএব, বাদীর বিনীত প্রার্থনা এই যে, বিজ্ঞ আদালত সদয় বিচার বিবেচনায়—
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৫৫ ধারার বিধানমতে বাদীর আলো-বাতাস প্রবেশের অধিকার রক্ষার্থে ‘খ’ তফশিল বর্ণিত অবৈধ সীমানা প্রাচীরটি ৩০ দিনের মধ্যে নিজ খরচে ভেঙে অপসারণ করার জন্য বিবাদীর বিরুদ্ধে আজ্ঞাপক নিষেধাজ্ঞার (Mandatory Injunction) ডিক্রী প্রদান করতে; বিবাদী ব্যর্থতায় আদালতের সাহায্যে তা অপসারণপূর্বক খরচ বিবাদীর নিকট হতে আদায়ের আদেশদানে;
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা মতে বিবাদী যাতে রাজউকের বিধি অমান্য করে বাদীর আলো-বাতাস বন্ধ করে ভবিষ্যতে কোনো প্রকার প্রাচীর নির্মাণ করতে না পারে সে মর্মে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরতরে নিষেধাজ্ঞার (Perpetual Injunction) ডিক্রী প্রদান করতে;
- মোকদ্দমার সমুদয় খরচ ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য উপযুক্ত প্রতিকার প্রদানে বিজ্ঞ আদালতের মর্জি হয়।
সত্যপাঠ (Verification):
আমি, জনাব রফিকুল ইসলাম, অত্র মোকদ্দমার বাদী হিসেবে ঘোষণা করছি যে, ১ থেকে ৬ নং অনুচ্ছেদের সকল বর্ণনা আমার চাক্ষুষ জ্ঞান ও নথিপত্র মতে সত্য এবং সঠিক। অদ্য ২০/১০/২০১২ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতের সেরেস্তায় আমি নিজে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর প্রদান করলাম।
(রফিকুল ইসলাম)
বাদীর স্বাক্ষর
৪. আইনি নজির (Precedents)
১. 33 DLR 351: ইজমেন্ট অধিকার হিসেবে আলো ও বাতাসের অবাধ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে বেআইনিভাবে কোনো ইমারত বা প্রাচীর নির্মাণ করা হলে তা ভাঙার জন্য আদালত আজ্ঞাপক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction) মঞ্জুর করবেন।
২. 15 BLD 272: পৌরসভা বা রাজউকের বিধিবদ্ধ আইন ভঙ্গ করে প্রতিবেশীর ক্ষতির কারণ হলে দেওয়ানী আদালত নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পূর্ণ এখতিয়ার রাখেন।
📌 সম্পর্কিত আইনি প্রস্তুতি ও সহায়িকা লিংক:
- ২০১২ সালের বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান দেখুন
- দেওয়ানী কার্যবিধি (CPC) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও আইনি আলোচনা
- বার কাউন্সিল ও জুডিশিয়ারি দেওয়ানী কার্যবিধি (CPC) অনলাইন মডেল টেস্ট দিন
- বার কাউন্সিল বিগত সকল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও ১০০% পূর্ণাঙ্গ সমাধান ব্যাংক

