স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি অমান্য ও দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণের শর্ত: হাইকোর্টের রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশ ৩২ বিধি অনুযায়ী চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি কার্যকরীকরণ (Execution of Decree for Injunction), ডিক্রি অমান্যের দায়ে দেওয়ানী কারাগারে আটক (Detention in Civil Prison) এবং ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ আপিল বিভাগের নজির কাদ বানু বনাম হাজেরা খাতুন (৩৬ ডিএলআর (এডি) ১৮৩) এবং শশী মোহন সেন বনাম আইন উল্লাহ (১৯৯২ বিএলডি (এডি) ০৮) পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশ ৩২(১) বিধির বিধান একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী প্রতিকার হলেও, ডিক্রিদারকে অকাট্য প্রমাণের মাধ্যমে দেখাতে হবে যে দায়িক বা বিবাদী আদালতের ডিক্রি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা ‘ইচ্ছাকৃতভাবে ও জেনেবুঝে অমান্য’ (Willingly disobeyed) করেছে; (২) ভাড়াটিয়া হোটেল ব্যবসায়ীর অনুকূলে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি থাকা অবস্থায় নালিশী দোকানের সামনে দুই ট্রলি বালি ফেলা দ্বারা ডিক্রি ভঙ্গ বা হোটেল থেকে বলপূর্বক উচ্ছেদ বোঝায় না; এখানে ডিক্রি ভায়োলেশন বলতে ডিক্রির সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ সরাসরি উচ্ছেদ কার্য সম্পন্ন করাকে বোঝায়; (৩) বাড়ির মালিক যেখানে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২-এর ১০৬ ধারায় উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করে নিয়মিত দেওয়ানী আদালতে স্মল কজেস স্যুট (SCC Suit) দায়ের করে আইনের আশ্রয় গ্রহণ করেছে, সেখানে বালি ফেলার অভিযোগে ডিক্রি ভঙ্গের মিথ্যা মামলা দায়ের করা সম্পূর্ণ অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত; এবং (৪) অধস্তন আদালতদ্বয় সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার করে বিবাদীগণকে ডিক্রি ভঙ্গের অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে যে আদেশ দিয়েছে তা সম্পূর্ণ সঠিক হওয়ায় দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমার রুলটি খারিজ (Rule Discharged) করা হলো।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও বিচারিক কার্যবিবরণী (Facts & Procedural History)

মামলাটি দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০১৩ সালে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ভঙ্গের অভিযোগে দায়েরকৃত বিবিধ মোকদ্দমা Miscellaneous (Violation) Case No. 03 of 2013 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা, পক্ষগণের অবস্থান ও দীর্ঘ বিচারিক পরিক্রমা নিম্নরূপ:

  • হোটেল ভাড়া ও ২০১২ সালের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি: বাদি-দরখাস্তকারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ নালিশী দোকান ঘরে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ ও মাটি ভরাট করে একটি রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরু করেন। তিনি প্রতিপক্ষের পিতার নিকট থেকে ভাড়াচুক্তির মাধ্যমে উক্ত দোকান গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রতিপক্ষগণ দোকানটি তৃতীয় পক্ষের নিকট হস্তান্তরের চেষ্টা করলে বাদি চিরিরবন্দর সহকারী জজ আদালতে Other Suit No. 52 of 2010 দায়ের করেন। ২০১২ সালের ১৭ জুলাই আদালত বাদীর অনুকূলে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি (Decree of Permanent Injunction) প্রদান করেন।
  • বালি ফেলা ও ডিক্রি ভঙ্গের অভিযোগ: বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, ডিক্রি পাওয়ার পর তিনি নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে হোটেল চালাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ ২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টায় প্রতিপক্ষগণ আদালতের ডিক্রি অমান্য করে হোটেলের সামনে দুই ট্রলি বালি ফেলে দোকান ছাড়ার হুমকি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদি দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশ ৩২ বিধি এবং ৩৯ আদেশ ২(৩) বিধির অধীন প্রতিপক্ষগণকে দেওয়ানী কারাগারে পাঠানো ও সম্পত্তি ক্রোকের প্রার্থনায় Miscellaneous Case No. 03 of 2013 দায়ের করেন।
  • বিবাদীপক্ষের জবাব ও নিয়মিত উচ্ছেদ মামলা: প্রতিপক্ষগণ লিখিত আপত্তি দাখিল করে জানান যে ভাড়াচুক্তির ৬ নম্বর শর্ত মোতাবেক মালিকের প্রয়োজনে দোকান ছেড়ে দেওয়ার চুক্তি ছিল। নিজেদের প্রয়োজনে দোকানটি আবশ্যক হওয়ায় তারা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৬ ধারায় উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান করেন এবং বাদি দোকান না ছাড়ায় নিয়মিতভাবে আদালতে উচ্ছেদ মোকদ্দমা SCC Suit No. 03 of 2013 দায়ের করেছেন। তারা কখনো কোনো বলপ্রয়োগ বা বেআইনি উচ্ছেদের চেষ্টা করেননি।
  • সহকারী জজ আদালত কর্তৃক খালাস ও খারিজ: মিস মামলায় বাদিপক্ষে ৩ জন সাক্ষী (PW 1 to 3) পরীক্ষা করা হয়। বিবাদীগণ কোনো জেরা না করলেও বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ ২০১৯ সালের ২৯ এপ্রিল এক রায়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেন যে বালি ফেলা কোনো ডিক্রি লঙ্ঘন নয় এবং প্রতিপক্ষগণকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি ও খালাস দিয়ে মিস মামলাটি খারিজ করেন।
  • যুগ্ম জেলা জজ আদালতে আপিল খারিজ: বাদীর দায়েরকৃত Miscellaneous Appeal No. 28 of 2019 দিনাজপুর ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর খারিজ করে বিচারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। আদালত স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ দেন যে— “দোকানের সামনে বালি ঢালা দ্বারা নালিশী হোটেল হতে উচ্ছেদ করা বোঝায় না; এখানে ডিক্রি ভায়োলেশন বলতে ডিক্রির মূল নিষেধাজ্ঞা অর্থাৎ বলপূর্বক উচ্ছেদ কার্য সম্পন্ন করাকে বোঝায়।”
  • হাইকোর্টে দেওয়ানী রিভিশন: অধস্তন আদালতের এই সমরূপ আদেশের বিরুদ্ধে দরখাস্তকারী হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় Civil Revision No. 955 of 2025 দায়ের করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🛡️ দরখাস্তকারী বাদীর যুক্তি (Petitioner)

  1. জেরাবিহীন সাক্ষ্যের পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা: বাদিপক্ষের ৩ জন সাক্ষীকে প্রতিপক্ষ জেরা করেনি; ফলে বালি ফেলার মাধ্যমে ব্যবসায়ে বাধা ও হুমকির ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।
  2. স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন: আদালত প্রতিপক্ষকে বাদীর দখলে হস্তক্ষেপ না করার আদেশ দিয়েছিল; দোকানের প্রবেশমুখে বালি ফেলে গ্রাহক প্রবেশ বন্ধ করা প্রত্যক্ষভাবে নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন।
  3. ২১ আদেশ ৩১ বিধির লঙ্ঘন: আপিল আদালত আপিলের বিচার্য বিষয় (Points for Determination) নির্ধারণ না করেই যান্ত্রিকভাবে খারিজ করেছে, যা বিচারিক ভুল।

🏛️ প্রতিপক্ষ বিবাদীপক্ষের যুক্তি (Opposite Parties)

  1. নিয়মিত উচ্ছেদ মামলা বিচারাধীন: প্রতিপক্ষ আইন নিজের হাতে না তুলে ১০৬ ধারার নোটিশ দিয়ে নিয়মিত SCC Suit No. 03 of 2013 দায়ের করেছে; ফলে বলপূর্বক উচ্ছেদের প্রশ্নই আসে না।
  2. ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার অভাব (৩৬ ডিএলআর এডি ১৮৩): নিজস্ব পতিত জমিতে বালি রাখা কোনো উচ্ছেদ নয়; দায়িক ইচ্ছাকৃতভাবে আদালত অমান্য করেছে এমন কোনো প্রমাণ নথিতে নেই।
  3. ভাড়া খেলাপির অপকৌশল: বাদি দীর্ঘদিন যাবত ভাড়া পরিশোধ বন্ধ করে বালি ফেলার কাল্পনিক অজুহাতে এই হয়রানিমূলক মিস কেস সাজিয়েছে, যা আদালত যথার্থই নাকচ করেছে।

৩. দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশ ৩২ বিধির কঠোর আইনি মানদণ্ড

স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি কার্যকরীকরণ এবং দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে প্রেরণের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা:

২১ আদেশ ৩২(১) বিধির বিধান (Order XXI Rule 32(1) CPC):

দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ আদেশ ৩২(১) বিধি অনুযায়ী— যেখানে কোনো ব্যক্তি নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি অমান্য করে, সেখানে আদালত ডিক্রিদারের দরখাস্তের ভিত্তিতে দায়িককে দেওয়ানী কারাগারে আটক রেখে অথবা তার সম্পত্তি ক্রোক করে ডিক্রি জারি করতে পারে। তবে এটি একটি আধা-ফৌজদারি (Quasi-criminal) প্রকৃতির অত্যন্ত কঠোর প্রতিকার। আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত ৩৬ ডিএলআর (এডি) ১৮৩ এবং ১৯৯২ বিএলডি (এডি) ০৮ অনুযায়ী, এই প্রতিকার পেতে হলে ডিক্রিদারকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে যে বিবাদী আদালতের আদেশ জেনেবুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে পদদলিত করেছে (Willful Disobedience)। সামান্য বা পরোক্ষ কোনো অসুবিধার সৃষ্টিকে ডিক্রি ভঙ্গ হিসেবে গণ্য করে কাউকে কারাগারে পাঠানো যায় না।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম বিচারিক যুক্তি ও পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান নথিপত্র এবং উভয় আদালতের রায় পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেন:

ক. বালি ফেলা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি ভঙ্গ নয়:

হাইকোর্ট রায় দেন যে, বিবাদীগণ নালিশী দোকানের মূল ভূমির মালিক। তারা তাদের নিজস্ব উন্মুক্ত জায়গায় বা দোকানের সামনে কনস্ট্রাকশনের জন্য বালি রেখেছিল। এই বালি রাখার ঘটনা সত্য হলেও তা দ্বারা ডিক্রির নির্দেশ ভঙ্গ করে বাদীর হোটেল জবরদখল বা বলপূর্বক উচ্ছেদ করা প্রমাণিত হয় না। আপিল আদালত সঠিকভাবেই ধরেছে যে ডিক্রি লঙ্ঘন বলতে ডিক্রির প্রত্যক্ষ উদ্দেশ্য অর্থাৎ দখলচ্যুতি ঘটানোকে বোঝায়।

খ. বাড়ির মালিকের আইনসম্মত মামলার প্রাধান্য:

নথিতে প্রমাণিত যে প্রতিপক্ষ বাড়ির মালিকগণ আইন নিজের হাতে তুলে নেননি; বরং তারা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১০৬ ধারায় বৈধ নোটিশ জারি করে নিয়মিত এসসিসি উচ্ছেদ মোকদ্দমা দায়ের করেছেন। যে মালিক আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে উচ্ছেদ মামলা পরিচালনা করছে, সে গায়ের জোরে বালি ফেলে উচ্ছেদ করতে যাবে—বাদীর এমন কাল্পনিক দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গ. অধস্তন আদালতের সমরূপ খালাস আদেশে হস্তক্ষেপের অযোগ্যতা:

সহকারী জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ আদালত উভয়েই ঘটনা ও সাক্ষ্য মূল্যায়ন করে একমত হয়েছেন যে বিবাদীগণ ডিক্রি ভঙ্গ করেনি। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীন রিভিশনাল এখতিয়ারে সমরূপ খালাস আদেশে হস্তক্ষেপের কোনো আইনগত অবকাশ নেই।

৫. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশ (Final Order)
  • রুল খারিজ (Rule Discharged): দরখাস্তকারী বাদীর দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমার রুলটি গুণাগুণহীন হওয়ায় সরাসরি খারিজ করা হলো।
  • অধস্তন উভয় আদালতের খালাস আদেশ বহাল: দিনাজপুর ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের ২৬.১০.২০২৩ তারিখের রায় এবং চিরিরবন্দর সিনিয়র সহকারী জজের ২৯.০৪.২০১৯ তারিখের খালাস আদেশ সম্পূর্ণরূপে বহাল রাখা হলো।
  • বিনা খরচে নিষ্পত্তি: মোকদ্দমায় কোনো পক্ষের ওপর কোনো খরচার আদেশ দেওয়া হলো না।
  • নথিপত্র দ্রুত ফেরত: অধস্তন আদালতের মূল নথিপত্র অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।

৬. আইনি মূলনীতি ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের প্রধান আইনি মূলনীতিসমূহ:

  1. ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার আবশ্যকতা: ২১ আদেশ ৩২ বিধিতে দায়িককে দেওয়ানী জেলে পাঠাতে হলে আদেশের প্রতি সুনির্দিষ্ট ও ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা (Willful Disobedience) সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।
  2. সামান্য বাধা উচ্ছেদ নয়: দোকানের প্রবেশমুখে নির্মাণসামগ্রী বা বালি রাখা বলপূর্বক উচ্ছেদের সমতুল্য নয়; ডিক্রি ভায়োলেশন বলতে অবৈধভাবে দখলচ্যুত করাকে বোঝায়।
  3. আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণকারীর সদিচ্ছা: যে মালিক ১০৬ ধারার নোটিশ দিয়ে আদালতে নিয়মিত উচ্ছেদ মামলা দায়ের করেছে, তার বিরুদ্ধে ডিক্রি ভঙ্গের অভিযোগ সাধারণ দৃষ্টিতেই ভিত্তিহীন।
  4. রিভিশনের এখতিয়ারগত সীমা: তথ্যগত বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার করে অধস্তন দুই আদালত খালাস দিলে ১১৫(১) ধারায় রিভিশন আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

৭. দেওয়ানী প্র্যাকটিসে আইনজীবীদের জন্য ৫টি বাস্তব পরামর্শ
১. ২১ আদেশ ৩২ বিধির দরখাস্তে প্রত্যক্ষ বলপ্রয়োগের প্রমাণ দিন:

ডিক্রি ভঙ্গের দরখাস্ত দাখিলকালে কেবল বালি বা মালামাল রাখা নয়, বরং তালা ভাঙা, মারধর বা ঘরে প্রবেশের সুস্পষ্ট ভিডিও বা প্রত্যক্ষদর্শী প্রমাণ রাখুন।

২. আপিল বিভাগের ৩৬ ডিএলআর (এডি) ১৮৩ নজির উদ্ধৃত করুন:

বিবাদী হিসেবে ২১ আদেশ ৩২ বিধির শুনানিতে আপিল বিভাগের এই ক্লাসিক নজির দেখিয়ে প্রমাণ করুন যে ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা ছাড়া কোনো শাস্তি দেওয়া যায় না।

৩. বাড়ির মালিককে আইনের পথে মামলা করতে বলুন:

ভাড়াটিয়া ডিক্রি পেলেও মালিককে বলুন বলপ্রয়োগ না করে ১০৬ ধারার নোটিশ দিয়ে নিয়মিত উচ্ছেদ মামলা দায়ের করতে; এতে ফৌজদারি বা ভায়োলেশনের ঝুঁকি থাকে না।

৪. ৩৯ আদেশ ২(৩) বনাম ২১ আদেশ ৩২ বিধির শিরোনামে সতর্কতা:

অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশের ক্ষেত্রে ৩৯ আদেশ ২(৩) বিধি কিন্তু চূড়ান্ত ডিক্রি হয়ে গেলে অবশ্যই ২১ আদেশ ৩২ বিধিতে মামলা পরিচালনা করুন।

৫. সমরূপ খালাস আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনে বিরত থাকুন:

বিচারিক ও আপিল আদালত ঘটনা মূল্যায়ন করে ডিক্রি ভঙ্গ হয়নি মর্মে খালাস দিলে উচ্চ আদালতে রিভিশন সাধারণ নিয়মে সফল হয় না।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর দেওয়ানী রিভিশন নং ৯৫৫ / ২০২৫ (Civil Revision No. 955 of 2025)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান)
পক্ষসমূহ মো: আবুল কালাম আজাদ (দরখাস্তকারী-বাদী) বনাম মহসিন আলী এবং অন্যান্য (বিবাদী-প্রতিপক্ষগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু, অ্যাডভোকেট | প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব মো: বাকী বিল্লাহ ও শিবলী নোমানী, অ্যাডভোকেটগণ
অধস্তন আদালতের মামলা ও আদেশ ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, দিনাজপুর (মিস আপিল নং ২৮/২০১৯, রায়: ২৬.১০.২০২৩) বহাল রেখে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, চিরিরবন্দর, দিনাজপুর (মিস ভায়োলেশন কেস নং ০৩/২০১৩, আদেশ: ২৯.০৪.২০১৯; খালাস আদেশ)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ রায় ঘোষণার তারিখ: ২১ জুলাই ২০২৬ (আপলোড: ২৩ আগস্ট ২০২৬)
আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ২১ আদেশ ৩২ বিধি, ৩৯ আদেশ ২(৩) বিধি, ১১৫(১) ধারা; চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি কার্যকরীকরণ; দেওয়ানী কারাগারে আটক (Civil Imprisonment); সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২-এর ১০৬ ধারা; ভাড়াচুক্তি ও উচ্ছেদ মোকদ্দমা
অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড


🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button