যুক্তিতর্ক পর্যায়ে বিবাদীর নাম কর্তন ও ‘ডমিনাস লিটিস’ তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা: সুপ্রিম কোর্টের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত
📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, দেওয়ানী বিচার ব্যবস্থায় বাদী মামলার পরিচালক বা প্রভু (Dominus Litis) হলেও এই নীতি কোনো চরম বা নিরঙ্কুশ অধিকার (Not an absolute doctrine) নয়। যেক্ষেত্রে কোনো মোকদ্দমায় একজন বিবাদী (যেমন: চালনা পৌরসভার মেয়র) আদালতে হাজির হয়ে পৃথক লিখিত জবাব দাখিল করেছেন, বাদীর সাক্ষীদের দীর্ঘ জেরা করেছেন, নিজ পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেছেন এবং মোকদ্দমাটি চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (Final Argument) শুনানির পর্যায়ে পৌঁছেছে—সেক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তে আরজি সংশোধনের (Order VI Rule 17 CPC) আবেদন করে কোনো উপযুক্ত ও অকাট্য কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে উক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীর নাম পক্ষ তালিকা হতে কর্তন (Striking out from array of parties) করার অনুমতি দেওয়া আইনসম্মত নয়। এরূপ বিলম্বে বিবাদীকে বাদ দেওয়া হলে বিবাদীর অর্জিত আইনি অধিকার (Accrued right) চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয় এবং মামলার পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি বিঘ্নিত হয়। হাইকোর্ট জেলা জজের আদেশ বাতিল করে বিচারিক আদালতের আদেশ পুনর্বহাল করেছেন।
১. বিরোধের পটভূমি ও মামলার প্রেক্ষাপট (Background & History)
আলোচ্য দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমাটির উৎপত্তি খুলনা জেলার ফুলতলা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৭ সালে দায়েরকৃত ৫৮৬ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা (Title Suit No. 586 of 2007) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিলেন মোসাম্মৎ রমিছা বেগম এবং অন্যান্য বাদিগণ (প্রতিপক্ষগণ) দলিল সংশোধন, খাস দখল উদ্ধার এবং চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায়।
উক্ত মোকদ্দমায় ১৬ নম্বর বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত করা হয়েছিল খুলনা জেলার চালনা পৌরসভার মেয়রকে। বাদিপক্ষ দাবি করেছিলেন যে, নালিশি ভূমির অংশবিশেষ পৌরসভার সীমানা ও সরকারি স্বার্থের সাথে জড়িত থাকায় পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁদের স্বত্ব ও শান্তিময় দখলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
মোকদ্দমাটি বিচারিক আদালতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পরিচালিত হয়। ১৬ নং বিবাদী চালনা পৌরসভা নিয়মিত ওকালতনামা দাখিল করে আদালতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, পৃথক লিখিত জবাব দেয় এবং বাদিপক্ষের সাক্ষীদের বিস্তারিতভাবে জেরা করে। তদুপরি পৌরসভার পক্ষে নিজস্ব সাক্ষ্য (Defense Evidence) উপস্থাপন করে যাবতীয় বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অবশেষে বিগত ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে উভয় পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়ে মামলাটি চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক (Final Argument) শুনানির জন্য ধার্য করা হয়। ঠিক এই অন্তিম মুহূর্তে বাদিপক্ষ দেওয়ানী কার্যবিধির ৬ আদেশের ১৭ বিধিমতে আরজি সংশোধনের দরখাস্ত দিয়ে অন্যান্য সংশোধনের পাশাপাশি ১৬ নং বিবাদী চালনা পৌরসভার মেয়রের নাম পক্ষ তালিকা থেকে কেটে বাদ দেওয়ার প্রার্থনা জানান!
২. পক্ষগণের বিপরীতমুখী দাবি ও প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য (Pleadings of the Parties)
আরজি সংশোধনের আবেদন ও বিবাদীর নাম কর্তন নিয়ে বিচারিক আদালতে উভয় পক্ষ পরস্পরবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেন।
🏛️ বাদী-প্রতিপক্ষের বক্তব্য ও আইনি দাবি
- বাদীর সার্বভৌম অধিকার (Dominus Litis): বাদী মোকদ্দমার মূল প্রভু; কার বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করবেন বা কাকে বাদ দেবেন তা বাদীর নিজস্ব এখতিয়ার।
- প্রতিকার না চাওয়ার সুযোগ: ১৬ নং বিবাদী পৌরসভার বিরুদ্ধে বাদিপক্ষ বর্তমানে কোনো প্রতিকার দাবি করছেন না, বিধায় তাকে বহাল রাখা অপ্রয়োজনীয়।
- অনাবশ্যক পক্ষ কর্তন: বিবাদীর নাম বাদ দিলে পৌরসভার কোনো ক্ষতি হবে না; বরং আরজি সংশোধন করে মামলা সহজতর করা হয়েছে।
- জেলা জজের সিদ্ধান্ত সঠিক: জেলা জজ আদালত মামলার সুষ্ঠু নিষ্পত্তির স্বার্থে সঠিকভাবেই বিবাদীর নাম কর্তনের সংশোধন মঞ্জুর করেছেন।
- রিভিশন খারিজযোগ্য: দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(৪) ধারায় এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন চালানোর কোনো আইনগত সারবত্তা নেই।
🛡️ ১৬ নং বিবাদী (পৌরসভার) আপত্তি ও যুক্তি
- ১৭ বছর লড়াইয়ের পর বাদ দেওয়া বেআইনি: দীর্ঘ ১৭ বছর লিখিত জবাব, জেরা ও নিজস্ব সাক্ষ্য দেওয়ার পর যুক্তিতর্কের স্তরে এসে নাম কাটা চরম অন্যায়।
- পৌরসভার সরকারি স্বার্থ রক্ষা: নালিশি ভূমিতে সরকারি রাস্তা ও পৌরসভার অধিকার জড়িত থাকায় মেয়র মামলার একজন আবশ্যকীয় পক্ষ (Necessary party)।
- কারণ দর্শাতে ব্যর্থ: আরজি সংশোধনের দরখাস্তে ১৬ নং বিবাদীকে কেন বাদ দিতে হবে তার কোনো যৌক্তিক কারণ বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।
- অর্জিত অধিকার ক্ষুণ্ণ: ট্রায়াল সমাপ্ত হওয়ার পর বিবাদীকে বাদ দিলে বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থনের অর্জিত অধিকার এবং ভবিষ্যৎ প্রতিকার সম্পূর্ণ নষ্ট হবে।
- জেলা জজের রায় ভিত্তিহীন: জেলা জজ কোনো কারণ না দেখিয়ে বিচারিক আদালতের সুচিন্তিত ১৯৬ নং আদেশ খারিজ করে চরম অনিয়ম করেছেন।
৩. বিচারিক ও জেলা জজ আদালতের বিপরীতমুখী সিদ্ধান্ত (Subordinate Courts’ Conflict)
ফুলতলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিগত ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে ১৯৬ নম্বর আদেশে বাদিদের সংশোধনের দরখাস্তটি আংশিক মঞ্জুর করেন। তবে ১৬ নং বিবাদীর নাম কর্তনের বিষয়ে আদালত অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন:
“দরখাস্তে ১৬ নং বিবাদীর নাম কেন কর্তন হবে এই মর্মে সুস্পষ্টভাবে বলা নাই। বাদীর দরখাস্তের ১৬ নং বিবাদীর নাম কর্তন বাদে বাকী অংশ সংশোধন করা হোক। ইতিপূর্বে মোকদ্দমার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়েছে। অত্র মোকদ্দমা যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ধার্য করা হোক।”
সহকারী জজ আদালতের উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে বাদিপক্ষ খুলনার জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী রিভিশন নং ১৬/২০২৪ দায়ের করেন। খুলনার ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ বিগত ২০ মার্চ ২০২৪ তারিখে কোনো সুনির্দিষ্ট যুক্তি বা বিশ্লেষণ ছাড়াই এক সংক্ষিপ্ত আদেশে সহকারী জজ আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ১৬ নং বিবাদীর নাম কর্তন মঞ্জুর করেন। জেলা জজের এহেন স্বেচ্ছাচারী আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে চালনা পৌরসভার মেয়র সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ১১৫(৪) ধারামতে লিভ গ্রহণপূর্বক সিভিল রিভিশন নং ৩৫০০/২০২৪ দায়ের করেন।
৪. মহামান্য হাইকোর্টে পর্যালোচিত আইনি প্রশ্নসমূহ (Core Legal Issues)
হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চের শুনানিতে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নসমূহ পর্যালোচিত হয়:
- ‘ডমিনাস লিটিস’ নীতির পরিধি ও সীমাবদ্ধতা: বাদী কি যে কোনো পর্যায়ে যাকে ইচ্ছা বাদ দিতে পারেন, নাকি কোনো পক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাক্ষ্য প্রদান সম্পন্ন করলে যুক্তিতর্ক পর্যায়ে তাকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে?
- আবশ্যকীয় ও উপযুক্ত পক্ষ (Necessary & Proper Party): দেওয়ানী কার্যবিধির ১ আদেশের ১০ বিধি ও ৬ আদেশের ১৭ বিধির আলোকে যে বিবাদী ১৭ বছর ধরে মামলা লড়েছেন, তাকে মামলার চূড়ান্ত শুনানির মুখে বাদ দিলে ন্যায়ের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় কি না?
- জেলা জজ আদালতের রিভিশনাল এখতিয়ারের অপপ্রয়োগ: বিচারিক আদালত যখন সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে সুবিবেচনাপ্রসূত আদেশ প্রদান করে, তখন কোনো কার্যকারণ উল্লেখ না করে এক লাইনের মন্তব্যে সেই আদেশ বাতিল করা কি আইনগত ভুল?
৫. আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের বক্তব্য ও সওয়াল-জওয়াব (Submissions & Arguments)
দরখাস্তকারী চালনা পৌরসভার মেয়র পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব তপন কুমার ব্যাপারি (Mr. Tapan Kumar Bepary) শুনানিতে যুক্তি দেন যে, ১৬ নং বিবাদী কোনো নামমাত্র পক্ষ ছিলেন না। তিনি পৌরসভার জনস্বার্থ ও সরকারি ভূমি সুরক্ষায় লিখিত জবাব দাখিল করেছিলেন, বাদিপক্ষের সাক্ষীদের জেরা করেছিলেন এবং পৌরসভার কর্মকর্তা হিসেবে সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মামলার বিচার যখন সমাপ্ত এবং মামলাটি কেবল যুক্তিতর্কের জন্য নির্ধারিত, তখন বাদী হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই মেয়রের নাম কর্তন চেয়েছেন। জেলা জজ আদালত বিচারিক আদালতের যৌক্তিক আদেশ খণ্ডন না করে একটি ‘নন-স্পিকিং’ (Non-speaking) আদেশ দিয়ে চরম আইনগত ভুল করেছেন।
অপরপক্ষে প্রতিপক্ষ বাদিপক্ষে বিজ্ঞ কৌঁসুলি জনাব রফিকুল ইসলাম (হিরু) যুক্তি দেখান যে, দেওয়ানী মামলার মূল নীতি হলো বাদী হলেন ‘Dominus Litis’। বাদী যার বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকার চান না, তাকে জোর করে মামলায় রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। বাদী আরজি সংশোধন করে মামলাকে সুনির্দিষ্ট করতে চেয়েছেন এবং জেলা জজ আদালত সঠিকভাবেই তা মঞ্জুর করেছেন।
৬. সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনগত অনুসিদ্ধান্ত (Judicial Analysis & Ratio)
মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক এবং অধস্তন আদালতের কার্যধারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:
(এক) ‘ডমিনাস লিটিস’ তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা (Limits of Dominus Litis Doctrine):
কমন ল বিচার ব্যবস্থার সাধারণ নীতি হলো বাদী মোকদ্দমার মূল নিয়ামক বা প্রভু (Master of the suit)। কাকে বিবাদী করবেন এবং কার বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইবেন তা নির্ধারণের প্রাথমিক অধিকার বাদীর। কিন্তু এই ডমিনাস লিটিস তত্ত্ব কোনো নিরঙ্কুশ বা চূড়ান্ত নিয়ম নয়। যদি কোনো ব্যক্তি মামলার কার্যকর নিষ্পত্তির জন্য আবশ্যকীয় পক্ষ (Necessary party) হন, কিংবা দীর্ঘ শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজের আইনি স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করে থাকেন, তবে বাদী ইচ্ছামাফিক তাকে শেষ মুহূর্তে বাদ দিয়ে তার অধিকার নস্যাৎ করতে পারেন না।
(দুই) চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের স্তরে বিবাদীকে বাদ দেওয়ার অবৈধতা:
আদালত লক্ষ্য করেন যে, ১৬ নং বিবাদী পৌরসভা শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে মোকদ্দমায় অংশগ্রহণ করেছে। সমস্ত সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়ে মামলাটি যখন চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, তখন কোনো আইনসঙ্গত ও অপরিহার্য কারণ ছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীকে পক্ষ তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা যাবে না। এরূপ বাদ দেওয়া বিবাদীর আত্মপক্ষ সমর্থনের সাংবিধানিক ও আইনি অধিকার ক্ষুণ্ণ করে এবং এর ফলে সম্পূর্ণ বিরোধের সুষ্ঠু নিষ্পত্তি অসম্ভব হয়ে পড়ে।
(তিন) অধস্তন রিভিশন আদালতের বিভ্রান্তি ও কারণহীন আদেশ:
বিচারিক আদালত অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছিলেন যে আরজি সংশোধনের আবেদনে বিবাদীকে বাদ দেওয়ার কোনো কারণই বাদী উল্লেখ করেননি। জেলা জজ আদালত বিচারিক আদালতের সেই বাস্তব কারণ খণ্ডন না করে নিছক গদবাঁধা বাক্যে রিভিশন মঞ্জুর করেছেন। কোনো বিচারিক আদালতের সুবিবেচনাপ্রসূত আদেশ বাতিল করতে হলে তার স্পষ্ট আইনি ত্রুটি প্রমাণ করতে হয়, যা জেলা জজ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন।
৭. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশ (Final Decision & Order)
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সার্বিক পর্যালোচনায় চালনা পৌরসভার মেয়রের রিভিশন আবেদন আইনসম্মত বিবেচনা করে নিম্নোক্ত চূড়ান্ত আদেশ ঘোষণা করেন:
- রুল অ্যাবসোলিউট: দেওয়ানী রিভিশন রুল নং ৩৫০০/২০২৪ কোনো প্রকার খরচা ছাড়াই পরম (Absolute without costs) ঘোষণা করা হলো।
- জেলা জজের আদেশ বাতিল: খুলনার ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক দেওয়ানী রিভিশন নং ১৬/২০২৪-এ বিগত ২০.০৩.২০২৪ তারিখে প্রদত্ত রায় ও আদেশ সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও রদ করা হলো।
- সহকারী জজের আদেশ পুনর্বহাল: ফুলতলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, খুলনা কর্তৃক স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৫৮৬/২০০৭-এ বিগত ০৪.০২.২০২৪ তারিখে প্রদত্ত ১৯৬ নম্বর আদেশ বহাল ও কার্যকর রাখা হলো (অর্থাৎ ১৬ নং বিবাদী চালনা পৌরসভার মেয়র মোকদ্দমায় পক্ষ হিসেবে বহাল থাকবেন)।
- দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ: সিনিয়র সহকারী জজ আদালতকে নির্দেশ দেওয়া হলো যে, যেহেতু মামলাটি দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রাচীন এবং যুক্তিতর্ক স্তরে রয়েছে, সেহেতু মামলাটি যেখানে স্থগিত ছিল ঠিক সেখান থেকেই অবিলম্বে কার্যক্রম শুরু করে স্বল্পতম সময়ে আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে।
- স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার ও নথি প্রেরণ: হাইকোর্ট কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত সকল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো এবং অধস্তন আদালতের নথি অনতিবিলম্বে প্রেরণ করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যাদি (Case Summary Table)
আইনি গবেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সুবিধার্থে এই ঐতিহাসিক রায়ের সমস্ত প্রশাসনিক ও বিচারিক রেফারেন্স নিচে সন্নিবেশিত হলো:
| বিষয়বস্তু | মামলার বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী রিভিশন এখতিয়ার) মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান (Mr. Justice Abdur Rahman) |
| মামলা নম্বর ও শ্রেণি | দেওয়ানী রিভিশন নং ৩৫০০ / ২০২৪ (Civil Revision No. 3500 of 2024) |
| পক্ষগণের নাম | মেয়র, চালনা পৌরসভা, খুলনা (১৬ নং বিবাদী/দরখাস্তকারী) বনাম মোছা: রমিছা বেগম এবং অন্যান্য (বাদী/প্রতিপক্ষ) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব তপন কুমার ব্যাপারি, অ্যাডভোকেট প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব রফিকুল ইসলাম (হিরু), অ্যাডভোকেট |
| উৎস ও বিচারিক আদালত | ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ আদালত, খুলনা (দেওয়ানী রিভিশন নং ১৬/২০২৪, আদেশ: ২০.০৩.২০২৪) সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, ফুলতলা, খুলনা (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৫৮৬/২০০৭, আদেশ নং ১৯৬ তারিখ: ০৪.০২.২০২৪) |
| শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ | শুনানি ও চূড়ান্ত রায়: ০৫ জুলাই ২০২৬ (রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) |
| মূল আইনি আলোচ্য ধারা ও নীতি | Code of Civil Procedure, 1908 (Order VI Rule 17, Order I Rule 10, Section 115(4)), Doctrine of Dominus Litis & Necessary Party |
| অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক |
📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড 🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল |

