সমনের অপকৌশল ও বিবাদীর মৃত্যুর পর একতরফা ডিক্রি বাতিল: হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানী মোকদ্দমায় সমন জারি গোপন (Suppression of Summons), চূড়ান্ত ডিক্রির পূর্বে মূল বিবাদীর মৃত্যু সত্ত্বেও ওয়ারিশ স্থলাভিষিক্তকরণে (Substitution of Legal Heirs) ব্যর্থতা এবং ৯ আদেশ ১৩ বিধির আওতায় একতরফা ডিক্রি বাতিলের আইনি মাপকাঠি বিষয়ে অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক এক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) মূল বিবাদীর ওপর কোনো বৈধ সমন জারি না করে এবং বিবাদী কোনো ওকালতনামা দাখিল না করা সত্ত্বেও সমন জারি গোপন করে একতরফা ডিক্রি হাসিল করা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং প্রতারণামূলক; (২) মোকদ্দমায় চূড়ান্ত ডিক্রি প্রচারের পূর্বে যদি কোনো মূল বিবাদী মৃত্যুবরণ করেন, তবে দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ আদেশ অনুযায়ী তার বৈধ ওয়ারিশগণকে মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত না করে কোনো চূড়ান্ত ডিক্রি প্রণয়ন করা যায় না; মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে জারিকৃত বা চূড়ান্তকৃত ডিক্রি আইনত বাতিল ও অকার্যকর (Nullity); (৩) মিস কেসের শুনানিতে যখন বাদিপক্ষের নিজস্ব সাক্ষী (OPW-1) জেরার মুখে স্বীকার করেন যে বিবাদী জমি ক্রয় করেছেন এবং পুনরায় শুনানিতে (Re-trial) তার কোনো আপত্তি নেই, তখন আদালত একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন খারিজ করতে পারে না; এবং (৪) অধস্তন আদালতদ্বয়ের যান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ খারিজ আদেশ বাতিল করে ১৯৮২ সালের সুপ্রাচীন একতরফা ডিক্রি প্রত্যাহারপূর্বক ১৯৭৯ সালের মূল দেওয়ানী মোকদ্দমাটি তার মূল নম্বর ও ফাইলে পুনরুজ্জীবিত (Restored to original file and number) করা হলো এবং ১,০০০ টাকা খরচে বিবাদীর ওয়ারিশগণকে সাক্ষ্য দেওয়ার পূর্ণ সুযোগ দিতে হবে।
মামলাটি নাটোরের সদর সহকারী জজ আদালতে ১৯৭৯ সালে দায়েরকৃত দেওয়ানী মোকদ্দমা Other Class Suit No. 816 of 1979 এবং উক্ত মামলায় প্রদত্ত একতরফা ডিক্রি রদের জন্য দায়েরকৃত Miscellaneous Case No. 90 of 2003 থেকে উদ্ভূত।
মামলার মূল ঘটনা, পক্ষগণের বিবাদ ও চার দশকের বিচারিক পরিক্রমা নিম্নরূপ:
- ১৯৭৯ সালের মূল মামলা ও ১৯৮২ সালের একতরফা ডিক্রি: নাটোর সদর উপজেলার জমি নিয়ে বাদি আজম আলী মিঞা ১৯৭৯ সালে Other Class Suit No. 816 of 1979 দায়ের করেন। উক্ত মামলায় ১ নম্বর বিবাদী ছিলেন দরখাস্তকারীদের পিতা মো: আব্দুল জলিল। বাদিপক্ষ উক্ত বিবাদীর ওপর প্রকৃত সমন জারি না করে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ১৯৮২ সালের ১০ জুন একতরফা রায় ও ডিক্রি (Ex parte judgment and decree) হাসিল করে।
- চূড়ান্ত ডিক্রির আগে বিবাদীর মৃত্যু ও স্থলাভিষিক্ত না করা: মামলার প্রাথমিক ডিক্রির পর চূড়ান্ত ডিক্রি প্রচারের পূর্বেই ১৯৮৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ১ নম্বর বিবাদী আব্দুল জলিল মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু চতুর বাদিপক্ষ বিবাদীর মৃত্যুর বিষয়টি আদালত থেকে গোপন রাখে এবং তার বৈধ ওয়ারিশগণকে (দরখাস্তকারীগণকে) মোকদ্দমায় স্থলাভিষিক্ত (Substitution) না করেই একতরফাভাবে চূড়ান্ত ডিক্রি প্রস্তুত করায়।
- জমি ক্রয় ও ২০০৩ সালে মিস মোকদ্দমা দায়ের: বিবাদীর ওয়ারিশগণ পৈতৃক সূত্রে জানতে পারেন যে তাদের পিতা আব্দুল মজিদের নিকট থেকে নালিশী জোতের ৪.২৫ শতক জমি ক্রয় করে ভোগদখলে ছিলেন। একতরফা ডিক্রির খবর জানতে পেরে তারা ২০০৩ সালে নাটোর সদর সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ১৩ বিধির অধীন Miscellaneous Case No. 90 of 2003 দায়ের করে উক্ত একতরফা ডিক্রি বাতিলের প্রার্থনা জানান।
- সাক্ষ্যগ্রহণ ও বাদিপক্ষের সাক্ষীর জবানবন্দিতে স্বীকৃতি: মিস মোকদ্দমায় দরখাস্তকারী পক্ষে ১ জন সাক্ষী (PW-1) এবং বাদি-প্রতিপক্ষ পক্ষে ২ জন সাক্ষী (OPW-1 ও OPW-2) পরীক্ষা করা হয়। জেরার মুখে বাদিপক্ষের মূল সাক্ষী OPW-1 দ্ব্যর্থহীনভাবে স্বীকার করেন যে বিবাদী আব্দুল জলিল প্রকৃতপক্ষেই ৪.২৫ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন এবং মামলাটি পুনরায় বিচার (Re-trial) অনুষ্ঠিত হলে বাদিপক্ষের কোনো আপত্তি নেই।
- অধস্তন আদালতদ্বয়ের যান্ত্রিক খারিজ আদেশ: উক্ত স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ও সমন জারির কোনো প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও নাটোর সদর সহকারী জজ আদালত ২০০৭ সালের ৫ জুলাই মিস মোকদ্দমাটি খারিজ করে দেন। এর বিরুদ্ধে নাটোর জেলা জজ আদালতে Miscellaneous Appeal No. 47 of 2007 দায়ের করা হলে অতিরিক্ত জেলা জজ ২০১৭ সালের ১৮ মে আপিলটি খারিজ করে বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।
- হাইকোর্টে দেওয়ানী রিভিশন: অধস্তন আদালতদ্বয়ের এই চরম অবিচার ও আইনগত ভুলের প্রতিকার চেয়ে মৃত বিবাদীর ওয়ারিশগণ (মোছা: নাজমা বেগম ও অন্যান্য) হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় Civil Revision No. 1772 of 2021 দায়ের করেন এবং রুল নিশি লাভ করেন।
🛡️ দরখাস্তকারী বিবাদীর যুক্তি (Petitioners)
- সমন গোপন ও ওকালতনামা না থাকা: মূল মামলায় ১ নম্বর বিবাদীর ওপর কখনোই কোনো সমন জারি হয়নি; নথিতে বিবাদীর কোনো ওকালতনামা পর্যন্ত নেই। সমন গোপন করে একতরফা ডিক্রি নেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
- মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিক্রি বাতিলযোগ্য: ১৯৮৫ সালে বিবাদী মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশদের পক্ষভুক্ত না করে চূড়ান্ত ডিক্রি তৈরি করা দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ আদেশের মারাত্মক লঙ্ঘন; মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন ডিক্রি স্বয়ং বাতিল।
- প্রতিপক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত স্বীকারোক্তি: প্রতিপক্ষের ১ নম্বর সাক্ষী নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিবাদীর জমি কেনা সঠিক এবং নতুন করে বিচারে তাদের আপত্তি নেই; এই অবস্থায় একতরফা ডিক্রি বহাল রাখা সুবিচারের পরিপন্থী।
🏛️ প্রতিপক্ষ বাদিপক্ষের যুক্তি ও অবস্থান (Opposite Parties)
- দীর্ঘ ২১ বছর পর মিস মোকদ্দমা: ১৯৮২ সালের ডিক্রির বিরুদ্ধে ২০০৩ সালে দীর্ঘ ২১ বছর পর ৯ আদেশ ১৩ বিধির দরখাস্ত দায়ের তামাদি আইনে বারিত এবং অগ্রহণযোগ্য।
- অধস্তন দুই আদালতের সমরূপ সিদ্ধান্ত: সহকারী জজ ও জেলা জজ আদালত উভয়ই সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে মিস কেস নাকচ করেছেন; রিভিশন এখতিয়ারে তথ্যের পুনর্বিচার চলে না।
- হাইকোর্টে উপস্থিতির অভাব: হাইকোর্ট বিভাগে শুনানিকালে প্রতিপক্ষ পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত হয়ে রুলের বিরোধিতা করেননি।
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ১৩ বিধি এবং ২২ আদেশ ৪ বিধির পারস্পরিক মেলবন্ধন প্রাকৃতিক বিচার এবং মামলার বৈধতার জন্য অপরিহার্য:
দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ১৩ বিধি (Order IX Rule 13 CPC):
বিধান অনুযায়ী, কোনো বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি একতরফা ডিক্রি প্রচার করা হয়, তবে বিবাদী আদালতে প্রমাণ করতে পারে যে— (১) তার ওপর যথাযথভাবে সমন জারি করা হয়নি (Summon was not duly served), অথবা (২) শুনানির দিন আদালতে হাজির না হওয়ার পেছনে তার যথেষ্ট ও সন্তোষজনক কারণ (Sufficient Cause) ছিল। আদালত এই প্রমাণে সন্তুষ্ট হলে যুক্তিসঙ্গত খরচা বা শর্তসাপেক্ষে উক্ত একতরফা ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি মূল নম্বরে পুনর্বহাল করতে আইনত বাধ্য।
দেওয়ানী কার্যবিধির ২২ আদেশ ৪ বিধি (Order XXII Rule 4 CPC):
মোকদ্দমা চলাকালীন কোনো বিবাদী মৃত্যুবরণ করলে এবং মামলা দায়েরের কারণ যদি জীবিত থাকে, তবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মৃত বিবাদীর আইনগত উত্তরাধিকারীদের স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। চূড়ান্ত ডিক্রি হওয়ার পূর্বে বিবাদীর মৃত্যু ঘটলে ওয়ারিশদের পক্ষভুক্ত না করে আদালতের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত চূড়ান্ত ডিক্রি আইনগতভাবে অস্তিত্বহীন (Non-est in the eye of law) এবং অকার্যকর।
মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী নিম্ন আদালতের নথিপত্র এবং সাক্ষ্য পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করে নিম্নোক্ত ত্রুটিসমূহ উদঘাটন করেন:
ক. সমন জারির অনুপস্থিতি ও একতরফা ডিক্রির ত্রুটি:
নথিতে দেখা যায় মূল মোকদ্দমায় ১ নম্বর বিবাদী কোনো ওকালতনামা দাখিল করেননি এবং সমন জারির কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বাদিপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। সমন গোপন করে একতরফা রায় নেওয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক অধিকার হরণ করার শামিল।
খ. ওয়ারিশ স্থলাভিষিক্ত না করে চূড়ান্ত ডিক্রি প্রচারের মারাত্মক ভ্রান্তি:
স্বীকৃত ঘটনা হলো ১ নম্বর বিবাদী আব্দুল জলিল ১৯৮৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। অথচ তার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের মোকদ্দমায় পক্ষভুক্ত না করেই আদালত চূড়ান্ত ডিক্রি প্রচার করে। হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন— মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ডিক্রি আইনসিদ্ধ হতে পারে না।
গ. বাদিপক্ষের সাক্ষীর অকাট্য স্বীকৃতি (Admission of OPW-1):
বাদিপক্ষের নিজস্ব সাক্ষী OPW-1 নিজেই জেরার মুখে স্বীকার করেন যে বিবাদী আব্দুল জলিল ৪.২৫ শতক জমি খরিদ করেছিলেন এবং পুনরায় বিচারে বাদিপক্ষের আপত্তি নেই। এই সুনির্দিষ্ট স্বীকৃতির পরও অধস্তন আদালতদ্বয় যে মিস কেস খারিজ করেছিলেন, তা বিচারিক মনের প্রয়োগহীনতা (Non-application of judicial mind) ছাড়া আর কিছুই নয়।
- রুল অ্যাবসলিউট (Rule Made Absolute): ১,০০০ টাকা খরচে দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমার রুলটি অ্যাবসলিউট করা হলো।
- অধস্তন আদালতের উভয় আদেশ বাতিল: নাটোর অতিরিক্ত জেলা জজের ১৭.০৫.২০১৭ তারিখের আপিল রায় এবং নাটোর সদর সহকারী জজের ০৫.০৭.২০০৭ তারিখের খারিজ আদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করা হলো।
- ১৯৮২ সালের একতরফা ডিক্রি বাতিল: সহকারী জজ আদালত কর্তৃক ১৯৮২ সালের ১০ জুন Other Class Suit No. 816 of 1979-এ প্রদত্ত একতরফা রায় ও ডিক্রি প্রত্যাহার ও বাতিল ঘোষণা করা হলো।
- মূল মামলা পুনরুজ্জীবিত ও সাক্ষ্যগ্রহণের সুযোগ: মূল দেওয়ানী মামলা Other Class Suit No. 816 of 1979 তার মূল ফাইলে ও নম্বরে পুনর্বহাল করা হলো। বিবাদীর ওয়ারিশ দরখাস্তকারীগণ উক্ত মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পূর্ণ অধিকারী হবেন।
- ৩০ দিনে ১,০০০ টাকা জমা ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি: বিচারিক আদালতে রায়ের অনুলিপি পৌঁছার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে দরখাস্তকারীদের ১,০০০ টাকা খরচ আদালতে জমা দিতে হবে এবং বিচারিক আদালতকে মূল মামলাটি দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
এই রায়ের মৌলিক আইনি সিদ্ধান্তসমূহ:
- সমন গোপনের পরিণতি: বিবাদীর ওপর প্রকৃত সমন জারি ছাড়া এবং ওকালতনামা বিহীন একতরফা ডিক্রি ৯ আদেশ ১৩ বিধির আওতায় সরাসরি বাতিলযোগ্য।
- চূড়ান্ত ডিক্রির আগে বিবাদীর মৃত্যু: প্রাথমিক ডিক্রির পর চূড়ান্ত ডিক্রি হওয়ার পূর্বে কোনো বিবাদী মারা গেলে তার ওয়ারিশদের স্থলাভিষিক্ত না করে চূড়ান্ত ডিক্রি তৈরি আইনত বাতিল ও অকার্যকর।
- সাক্ষ্যের স্পষ্ট স্বীকৃতিতে রিরোধিতা অগ্রাহ্য: মিস মোকদ্দমার সাক্ষ্যগ্রহণে যখন বাদিপক্ষের সাক্ষী নিজেই স্বীকার করে যে বিবাদীর জমি ক্রয় সত্য এবং পুনঃবিচারে আপত্তি নেই, তখন আদালত ডিক্রি বহাল রাখতে পারে না।
- সুবিচারের স্বার্থে খরচার শর্তে মামলা পুনর্বহাল: দীর্ঘ বছর অতিক্রান্ত হলেও যখন প্রতারণা ও প্রক্রিয়াগত মারাত্মক ত্রুটি প্রমাণিত হয়, তখন নামমাত্র খরচ আরোপ করে মামলা পুনরুজ্জীবিত করাই আইনের মূল উদ্দেশ্য।
একতরফা ডিক্রি বাতিলের মিস কেস করার পূর্বে মূল মামলার নথি তলব দিয়ে দেখুন জারি প্রক্রিয়াকারকের রিপোর্ট ও ওকালতনামা আছে কিনা; ওকালতনামা না থাকলে সমন গোপন প্রমাণ সহজ হয়।
মক্কেলের পিতা বা পূর্বসূরি চূড়ান্ত ডিক্রির আগে মারা গেলে তার মৃত্যুর সনদ ও ওয়ারিশান সার্টিফিকেট দাখিল করে ২২ আদেশের লংঘন প্রমাণ করুন।
মিস মোকদ্দমার জেরায় প্রতিপক্ষের সাক্ষীকে দিয়ে নালিশী জমিতে দখল, কেনা দলিল এবং পুনঃবিচারে তাদের ক্ষতি না হওয়ার স্বীকৃতি আদায় করুন।
বহু বছর পর একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে দরখাস্ত দিলে সমন গোপনের মাধ্যমে প্রতারণা করার কারণে তামাদি আইনের ১৮ ধারার আওতায় জানার তারিখ থেকে সময় গণনা দাবি করুন।
উচ্চ আদালত যে খরচা (যেমন ১,০০০ টাকা) নির্ধারণ করে দেবে, তা রায়ে উল্লিখিত ৩০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল কোর্টের চালানে জমা দিয়ে রসিদ সংরক্ষণ করুন।
| মামলার শিরোনাম ও নম্বর | দেওয়ানী রিভিশন নং ১৭৭২ / ২০২১ (Civil Revision No. 1772 of 2021) |
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী) |
| পক্ষসমূহ | মো: আব্দুল জলিল (মৃত), ওয়ারিশগণ ১(ক) মোছা: নাজমা বেগম ও অন্যান্য (দরখাস্তকারীগণ) বনাম মো: আজম আলী মিঞা (মৃত), ওয়ারিশগণ ১(ক) মালেক মিঞা ও অন্যান্য (প্রতিপক্ষগণ) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মো: কামরুজ্জামান ভূঁইয়া ও নাসিমা কুমকুম, অ্যাডভোকেটগণ | প্রতিপক্ষ পক্ষে: শুনানিকালে কেউ উপস্থিত ছিলেন না |
| অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় | অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, নাটোর (মিস আপিল নং ৪৭/২০০৭, রায়: ১৮.০৫.২০১৭) বহাল রেখে সহকারী জজ আদালত, সদর, নাটোর (মিস মামলা নং ৯০/২০০৩, আদেশ: ০৫.০৭.২০০৭; মূল মামলা: Other Class Suit No. 816 of 1979, একতরফা ডিক্রি: ১০.০৬.১৯৮২) |
| শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ | শুনানি অনুষ্ঠিত: ২২ জুন ২০২৬ | রায় ঘোষণা: ০২ জুলাই ২০২৬ (আপলোড: ৩০ আগস্ট ২০২৬) |
| আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা | দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৯ আদেশ ১৩ বিধি, ২২ আদেশ ৪ বিধি, ১১৫(১) ধারা; সমন জারি গোপন (Suppression of Summons); মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিক্রির অকার্যকারিতা; তামাদি আইন ১৯০৮-এর ১৮ ধারা |
| অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক |
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড 🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল |
