স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ৩১০ শতক জমিতে নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা: শ্রীপুরের স্বত্ব মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়

📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক তাৎপর্যপূর্ণ আদেশে ঘোষণা করেছেন যে, যেক্ষেত্রে কোনো স্বত্ব মোকদ্দমায় উভয় পক্ষই রেজিস্ট্রিকৃত দলিল এবং পূর্ববর্তী ডিক্রির ভিত্তিতে নালিশি মূল্যবান ভূমিতে পাল্টাপাল্টি বাস্তব দখল (Possession and Counter-possession) দাবি করে, সেক্ষেত্রে বিচারিক আদালত কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া ন্যায়সংগত নয়। আদালত সুপ্রতিষ্ঠিত আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ বিধি এবং ১৫১ ধারার (Order XXXIX Rules 1-2 & Section 151 CPC) মূল উদ্দেশ্য হলো মূল মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় নালিশি সম্পত্তির চরিত্র, স্বরূপ ও দখল অক্ষুণ্ণ রাখা যাতে কোনো পক্ষ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার না হয় বা মামলার বিষয়বস্তু বিনষ্ট না হয়। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কর্তৃক ক্রয়কৃত গাজীপুরের শ্রীপুরস্থ ৩.১০ একর (৩১০ শতক) ভূমির ওপর উভয় আদালতের খারিজ আদেশ সত্ত্বেও হাইকোর্ট মূল মোকদ্দমা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি জমির অবস্থান ও দখলে পক্ষগণকে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেছেন।

১. বিরোধের পটভূমি ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্বত্ব দাবি (Background & Purchase)

আলোচ্য দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমাটির সূচনা গাজীপুর জেলার শ্রীপুর সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালতে ২০১৮ সালে দায়েরকৃত ১৭৩ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা (Title Suit No. 173 of 2018) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং অন্যান্যরা (বাদী-দরখাস্তকারীগণ) মো: তাইজুদ্দিন এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষগণের বিরুদ্ধে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর থানাধীন ৩.১০ একর (৩১০ শতক) মূল্যবান জমিতে স্বত্ব ঘোষণা ও নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায়।

বাদিগণের আরজির বক্তব্য অনুযায়ী, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড তাদের শিল্প সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিগত ২০০৮ ও ২০০৯ সালে চারটি পৃথক রেজিস্ট্রিকৃত সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৩.১০ একর জমি বৈধ মূল্যে খরিদ করে:

  • প্রথম দলিল: বিগত ১১ মার্চ ২০০৮ তারিখের ২৭৫৫ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিল।
  • দ্বিতীয় দলিল: বিগত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারিখের ১০২০৯ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিল।
  • তৃতীয় দলিল: বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখের ১৫৫৭ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিল।
  • চতুর্থ দলিল: বিগত ২৯ জুলাই ২০০৯ তারিখের ৮৫৪০ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিল।

উক্ত চারটি রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি খরিদ করার পর প্রতিষ্ঠানটি সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রীপুর কার্যালয়ে বিধিমোতাবেক জমাভাগ ও নামজারি (Mutation) সম্পন্ন করে এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করে জমিতে প্রাচীর নির্মাণপূর্বক শান্তিময় ভোগদখলে বহাল থাকে। কিন্তু পরবর্তীতে বিবাদীপক্ষ ১৯৯৩ সালের পুরনো একটি স্বত্ব মোকদ্দমার (Title Suit No. 66 of 1993) একতরফা ডিক্রি দেখিয়ে উক্ত জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশের এবং স্থাপনা নির্মাণের অপচেষ্টা চালায়। ফলে বাদিপক্ষ স্বত্ব ঘোষণার পাশাপাশি ১৯৯৩ সালের ডিক্রি বাদিদের ওপর অকার্যকর ঘোষণার দাবিতে মামলা দায়ের করেন।

২. পক্ষগণের বিপরীতমুখী দাবি ও প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য (Pleadings of the Parties)

মামলা চলাকালীন বাদিপক্ষ দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ বিধি এবং ১৫১ ধারামতে ২-৮ নম্বর বিবাদীগণের বিরুদ্ধে জমিতে অনধিকার প্রবেশ, স্থাপনা নির্মাণ ও জমি হস্তান্তরের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন দাখিল করেন। উভয় পক্ষ তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী আইনি অবস্থান গ্রহণ করেন।

🏛️ স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বক্তব্য ও যুক্তি

  • সরল বিশ্বাসের ক্রেতা (Bona fide Purchaser): চারটি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে কোটি টাকা মূল্যে ৩১০ শতক জমি কিনে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণ স্বত্ববান হয়েছে।
  • নামজারি ও খাজনা দাখিলা: সরকারি ভূমি অফিসে নিয়মিত নামজারি করিয়ে হালনাগাদ খাজনা পরিশোধপূর্বক শিল্প কারখানা স্থাপনের জন্য জমিতে দখলে রয়েছে।
  • পুরাতন ডিক্রির অকার্যকারিতা: ১৯৯৩ সালের ৬৬ নম্বর মামলার কথিত ডিক্রি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস বা তাদের বিক্রেতাদের অনুপস্থিতিতে হওয়ায় তা তাদের ওপর অকার্যকর।
  • অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা: বিবাদীগণ জমিতে অবৈধ প্রবেশ ও ঘরবাড়ি নির্মাণ করলে বাদিদের শিল্প প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে।
  • স্থিতাবস্থার আবশ্যকতা: মূল স্বত্ব মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় জমির শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ন্যায়বিচারের অপরিহার্য দাবি।

🛡️ বিবাদী-প্রতিপক্ষগণের জবাব ও প্রতিরক্ষা যুক্তি

  • ১৯৯৩ সালের মূল স্বত্বের ডিক্রি: সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৬৬/১৯৯৩-এ ডিক্রি পেয়ে বিবাদীগণ বৈধ স্বত্বাধিকারী সাব্যস্ত হয়েছেন।
  • আদালতের জারিতে দখল গ্রহণ: উক্ত ডিক্রি জারির মাধ্যমে উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতের জারিকারক কর্তৃক বিবাদীগণকে জমির বাস্তব দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • পরবর্তী দলিলের অসারতা: বিবাদীদের ডিক্রিভুক্ত জমিতে পরবর্তীতে ২০০৮ বা ২০০৯ সালে দলিল রেজিস্ট্রি করে কোনো স্বত্ব অর্জন করা যায় না (Nemo dat quod non habet)।
  • অধস্তন আদালতের যৌথ খারিজ আদেশ: সহকারী জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ উভয় আদালতই সরেজমিন বিবাদীদের দখল বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুর করেছেন।
  • নিষেধাজ্ঞার অযোগ্যতা: ডিক্রিদার বিবাদীদের নিজস্ব দখলি জমিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।

৩. অধস্তন আদালতদ্বয়ের কার্যধারা ও খারিজ আদেশ (Findings of Subordinate Courts)

শ্রীপুরের সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিগত ০৪ নভেম্বর ২০১৮ তারিখে বাদিপক্ষের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত সরাসরি নাকচ করে দেন। আদালত যুক্তি দেখান যে, বিবাদীপক্ষ ১৯৯৩ সালের ৬৬ নম্বর মামলার ডিক্রি জারিমূলে দখল পাওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করায় বাদিপক্ষের অনুকূলে আপাতদৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য মামলা বা অপূরণীয় ক্ষতি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে বাদিপক্ষ গাজীপুরের জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী বিবিধ আপিল নং ৪৫/২০১৮ দায়ের করেন, যা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে নিষ্পত্তির জন্য বদলি হয়। বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ বিগত ১৮ অক্টোবর ২০২১ তারিখে আপিলটি খারিজ করে বিচারিক আদালতের আদেশ বহাল রাখেন। যুগ্ম জেলা জজ অভিমত দেন যে, আদালতের জারি প্রক্রিয়ায় দখল হস্তান্তরের তথ্য থাকায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সমীচীন নয়। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন নং ১২১৯/২০২২ দায়ের করে রুল ও প্রাথমিক স্থগিতাদেশ লাভ করে।

৪. মহামান্য হাইকোর্টে পর্যালোচিত আইনি প্রশ্নসমূহ (Core Legal Issues)

হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চের শুনানিতে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্নসমূহ পর্যালোচিত হয়:

  1. পাল্টাপাল্টি দখলের দাবিতে স্থিতাবস্থার আবশ্যকতা: যেখানে এক পক্ষ চারটি সাম্প্রতিক রেজিস্ট্রি দলিল, নামজারি ও খাজনা দিয়ে দখল দাবি করে এবং অন্য পক্ষ ৩০ বছরের পুরাতন ডিক্রির জারি নথিতে দখল দাবি করে—সেখানে মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির অবস্থা ও দখল সংরক্ষণ (Preservation of status quo) করা কতটা অপরিহার্য?
  2. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা বনাম স্থিতাবস্থা: বিচারিক আদালত যদি একতরফা নিষেধাজ্ঞা নাকচও করে, তবে আইন ও সাম্যের নীতিতে পক্ষগণের সংঘাত ও শান্তিভঙ্গ এড়াতে আদালতের কি স্থিতাবস্থা জারির অন্তর্নিহিত এখতিয়ার (Inherent Power under Section 151 CPC) রয়েছে?
  3. শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতি: একটি চলমান শিল্প কারখানার জমিতে বহিরাগত ব্যক্তি কর্তৃক আকস্মিক ঘরবাড়ি নির্মাণ বা জমি হস্তান্তরের হুমকি তৈরি হলে দেওয়ানী আদালতের দায়িত্ব কী হওয়া উচিত?

৫. আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের বক্তব্য ও যুক্তি (Submissions & Arguments)

দরখাস্তকারী স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে বিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জনাব খায়রুল এজাজ মাসউদ (Mr. Khair Ezaz Maswood) এবং জনাব এস.এম. ইকবাল বাহার ভূঁইয়া নিবেদন করেন যে, বাদিপক্ষ হলো একজন সরল বিশ্বাসের ক্রেতা (Bona fide purchaser for value without notice)। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে জমি কিনেছে, সরকারি এসিল্যান্ড অফিসে নামজারি করিয়েছে এবং নিয়মিত খাজনা প্রদান করে আসছে। ১৯৯৩ সালের একটি পুরাতন মোকদ্দমায় কী ডিক্রি হয়েছিল সে বিষয়ে বাদিদের কোনো অবগতি ছিল না এবং সেই ডিক্রি বাদিদের ওপর কোনোভাবেই কার্যকর বা বাধ্যতামূলক নয়। বিবাদীগণ যদি মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় জোরপূর্বক জমিতে ঢুকে স্থাপনা নির্মাণ করে বা জমি তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রি করে দেয়, তবে কোটি কোটি টাকার শিল্প প্রকল্প চিরতরে বিনষ্ট হবে। সুতরাং সুবিচারের স্বার্থে নিষেধাজ্ঞা বা অন্তত স্থিতাবস্থার আদেশ দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।

বিপরীতে প্রতিপক্ষ পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব কিংশুক দাস (Mr. Kingshuk Das) যুক্তি দেখান যে, সহকারী জজ এবং যুগ্ম জেলা জজ উভয় আদালতই বস্তুনিষ্ঠভাবে সাক্ষ্য পরীক্ষা করে দেখেছেন যে বিবাদীগণ আদালতের ডিক্রি জারিমূলে জমির বাস্তব দখল পেয়েছেন। সুতরাং বিবাদীগণ বর্তমানে জমিতে বৈধ দখলে রয়েছেন। যেক্ষেত্রে অধস্তন উভয় আদালত অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে, সেখানে উচ্চ আদালতের রিভিশন স্তরে হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই। তিনি রুলটি খারিজের প্রার্থনা জানান।

৬. সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনগত অনুসিদ্ধান্ত (Judicial Analysis & Ratio)

মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী উভয় পক্ষের দাখিলকৃত কাগজপত্র, রেজিস্ট্রি দলিলসমূহ এবং অধস্তন আদালতের কার্যধারা পর্যালোচনা করে সুস্পষ্ট আইনগত অনুসিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেন:

(এক) পাল্টাপাল্টি দখলের দাবি ও আদালতের দায়িত্ব:
নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বাদিপক্ষ ২০০৮ ও ২০০৯ সালের চারটি রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৩.১০ একর জমি কিনে নামজারি ও খাজনা দিয়ে দখল দাবি করছে। অপরদিকে বিবাদীপক্ষ ১৯৯৩ সালের ৬৬ নম্বর মামলার জারি মূলে দখল দাবি করছে। অর্থাৎ এটি এমন একটি মামলা যেখানে উভয় পক্ষই জমিতে দখল ও পাল্টা-দখল (Possession and counter-possession) দাবি করছে। এরূপ ক্ষেত্রে আদালতের প্রধানতম কর্তব্য হলো মামলার চূড়ান্ত বিচার না হওয়া পর্যন্ত জমির অবস্থান ও দখলের যাতে কোনো পরিবর্তন না ঘটে তা নিশ্চিত করা।

(দুই) মূল মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় স্থিতাবস্থার কার্যকারিতা:
হাইকোর্ট রুল জারির সময় ০৪.০৪.২০২২ তারিখে নালিশি জমিতে উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার অন্তর্বর্তী আদেশ প্রদান করেছিলেন, যা দীর্ঘদিন বহাল রয়েছে। যেহেতু মূল ১৭৩/২০১৮ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমাটি বিচারিক আদালতে এখনো বিচারাধীন রয়েছে, সেহেতু ন্যায়ের স্বার্থে (Ends of justice) মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই স্থিতাবস্থা বহাল রাখাই বিরোধের সর্বোত্তম ও শান্তিপূর্ণ সমাধান।

(তিন) শান্তিভঙ্গ ও অপূরণীয় ক্ষতি রোধ:
স্থিতাবস্থা বলবৎ থাকলে কোনো পক্ষই নতুন করে জমি হস্তান্তর করতে পারবে না, সীমানা পরিবর্তন করতে পারবে না কিংবা নতুন স্থাপনা তৈরি করে শান্তিভঙ্গ ঘটাতে পারবে না। এর ফলে মূল মামলার কার্যকারিতা সংরক্ষিত থাকবে এবং বিচারিক আদালত স্বাধীনভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ করে স্বত্বের চূড়ান্ত ফয়সালা করতে পারবে।

৭. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত আদেশ ও নিষ্পত্তি (Final Order & Disposal)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সার্বিক পর্যালোচনায় অধস্তন আদালতের আদেশ সংশোধন করে নিম্নোক্ত চূড়ান্ত দিকনির্দেশনাসহ রিভিশন রুলটি নিষ্পত্তি (Disposed of) ঘোষণা করেন:

  • রিভিশন রুল নিষ্পত্তি: দেওয়ানী রিভিশন রুল নং ১২১৯/২০২২ স্থিতাবস্থার নির্দেশনা সাপেক্ষে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি (Disposed of) করা হলো।
  • স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ: উভয় পক্ষকে (স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিবাদীগণ) নির্দেশ দেওয়া হলো যে, শ্রীপুর সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালতে বিচারাধীন মূল ১৭৩/২০১৮ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা নালিশি ৩১০ শতক ভূমির বাস্তব অবস্থান ও দখলে পূর্ণাঙ্গ স্থিতাবস্থা (Status Quo in respect of possession and position) কঠোরভাবে বজায় রাখবেন।
  • কোনো নতুন হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা: মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় নালিশি জমিতে কোনো প্রকার নতুন স্থাপনা নির্মাণ, গাছপালা কর্তন বা তৃতীয় পক্ষের নিকট স্বত্ব হস্তান্তর করা যাবে না।
  • দ্রুত নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা: বিচারিক আদালতকে কোনো পক্ষের অযৌক্তিক মুলতবি ছাড়া মূল স্বত্ব মামলাটি মেধার ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যাদি (Case Summary Table)

আইনি গবেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সুবিধার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ রায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারিক রেফারেন্স নিম্নের টেবিলে সন্নিবেশিত হলো:

বিষয়বস্তু মামলার বিস্তারিত তথ্য
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী রিভিশন এখতিয়ার)
মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী (Mr. Justice Md. Shohrowardi)
মামলা নম্বর ও শ্রেণি দেওয়ানী রিভিশন নং ১২১৯ / ২০২২ (Civil Revision No. 1219 of 2022)
পক্ষগণের নাম স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং অন্যান্য (দরখাস্তকারী/বাদী) বনাম মো: তাইজুদ্দিন এবং অন্যান্য (প্রতিপক্ষ/বিবাদী)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব খায়রুল এজাজ মাসউদ এবং জনাব এস.এম. ইকবাল বাহার ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট
প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব কিংশুক দাস, অ্যাডভোকেট
উৎস ও বিচারিক আদালত ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, গাজীপুর (দেওয়ানী বিবিধ আপিল নং ৪৫/২০১৮, রায়: ১৮.১০.২০২১)
সিনিয়র সহকারী জজ ২য় আদালত (শ্রীপুর), গাজীপুর (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১৭৩/২০১৮, আদেশ: ০৪.১১.২০১৮)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি: ০১ জুলাই ২০২৬
চূড়ান্ত রায়: ২১ জুলাই ২০২৬
মূল আইনি আলোচ্য ধারা ও বিষয় Code of Civil Procedure, 1908 (Order XXXIX Rule 1, Section 151, Section 115(1)), Preservation of Status Quo in Industrial Land Dispute
অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক 📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড
🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button