চুক্তি প্রবলে বকেয়া টাকা দাখিলে ব্যর্থতা ও বায়নার টাকা ফেরত (Restitution): সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়

📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক সুদূরপ্রসারী রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ২১এ(খ) ধারার (Section 21A(b) Specific Relief Act) বিধান একটি বাধ্যতামূলক পূর্বশর্ত (Mandatory condition precedent)। স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি প্রবলের (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমা দায়ের করার ঠিক মুহূর্তে আরজির সঙ্গে চুক্তির বকেয়া সমুদয় পণমূল্য (Balance consideration) আদালতে দাখিল করা বাধ্যতামূলক। মোকদ্দমা দায়েরকালে উক্ত টাকা জমা না দিয়ে মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় এক বছর পর তা জমা দিলে প্রারম্ভিক আইনগত ত্রুটি কোনোভাবেই নিরাময় হয় না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নজির (৬৯ ডিএলআর (এডি) ২৩৯) অনুযায়ী এরূপ ব্যত্যয়ে আরজি খারিজযোগ্য। তবে একইসঙ্গে মহামান্য হাইকোর্ট সাম্য ও ন্যায়ের নীতি (Equity and Restitution) প্রয়োগ করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, আইনের বাধায় চুক্তি কার্যকর না হলেও অপর পক্ষকে অপরের অর্থে অন্যায়ভাবে সমৃদ্ধ (Unjust Enrichment) হতে দেওয়া যায় না। ফলে চুক্তি প্রবলের দাবি খারিজ বহাল রেখেও বিক্রেতা-বিবাদীকে বায়না বাবদ গৃহীত ৭০,০০০/- (সত্তুর হাজার) টাকা সুদসহ অবিলম্বে ক্রেতা-বাদীকে ফেরত প্রদানের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হলো।

১. বিরোধের পটভূমি ও বায়না চুক্তির শর্তাবলি (Background & Bainapatra)

আলোচ্য মামলার সূচনা ঝালকাঠি জেলার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০১০ সালে দায়েরকৃত ১০১ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা (Title Suit No. 101 of 2010) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিলেন মোসাম্মৎ খাদিজা বেগম (বাদী-দরখাস্তকারী) মো: হোসাইন আলী হাওলাদার এবং অন্যান্যদের (বিবাদী-প্রতিপক্ষগণ) বিরুদ্ধে রেজিস্ট্রিকৃত বায়নাপত্রের ভিত্তিতে জমি বিক্রয়ের চুক্তি বাস্তবায়নের ডিক্রি প্রার্থনায়।

বাদিনীর আরজির ভাষ্য মতে, নালিশি ভূমির মালিক ছিলেন ১ ও ২ নং বিবাদী। পারিবারিক আর্থিক প্রয়োজনে তারা জমি বিক্রির প্রস্তাব করলে বাদিনী তা খরিদ করতে সম্মত হন। ফলশ্রুতিতে বিগত ০৮ জুলাই ২০০৯ তারিখে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি রেজিস্ট্রিকৃত বায়নাপত্র (Registered Bainapatra) সম্পাদিত হয়, যার মোট বিক্রয়মূল্য নির্ধারিত হয়েছিল ১,০৭,০০০/- (এক লাখ সাত হাজার) টাকা। চুক্তি সম্পাদনকালে বাদিনী বায়না বাবদ নগদ ৭০,০০০/- (সত্তুর হাজার) টাকা বিবাদীদ্বয়কে পরিশোধ করেন এবং অবশিষ্ট ৩৭,০০০/- (সাইত্রিশ হাজার) টাকা বিগত ০৮ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের মধ্যে পরিশোধ সাপেক্ষে সাফ-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়।

বাদিনী দাবি করেন যে, বিবাদীদের খতিয়ান ও দলিলের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহে বিলম্ব হওয়ায় কবলা সম্পাদনের সময়সীমা উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বাদিনী অবশিষ্ট ৩৭,০০০/- টাকা নিয়ে কবলা সম্পাদনের অনুরোধ জানালেও বিবাদীগণ সাফ-কবলা দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। নিরুপায় হয়ে বাদিনী ২০১০ সালের ১০ জুন তারিখে চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা দায়ের করেন।

২. পক্ষগণের বিপরীতমুখী দাবি ও প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য (Pleadings of the Parties)

বিচারিক আদালতে উভয় পক্ষ স্ব-স্ব দাবির পক্ষে বিস্তারিত বক্তব্য ও যুক্তি উপস্থাপন করেন।

🏛️ ক্রেতা-বাদিনীর বক্তব্য ও আইনি দাবি

  • বৈধ রেজিস্ট্রি বায়না: বিগত ০৮/০৭/২০০৯ তারিখে ১,০৭,০০০/- টাকায় রেজিস্ট্রি বায়না দলিলের মাধ্যমে জমি কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।
  • ৭০ হাজার টাকা বায়না প্রদান: চুক্তি সম্পাদনকালে নগদ ৭০,০০০/- টাকা বিবাদীদের পরিশোধ করা হয়েছে যা দলিলের বয়ানে লিখিতভাবে স্বীকৃত।
  • বকেয়া টাকা আদালতে জমাদান: আরজি দাখিলের সময় তাৎক্ষণিক জমা না হলেও মামলা বিচারাধীন থাকাবস্থায় সমুদয় বকেয়া ৩৭,০০০/- টাকা আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।
  • ধারা ২১এ নির্দেশনামূলক: ২১এ ধারার মূল উদ্দেশ্য হলো ক্রেতার আর্থিক সদিচ্ছা পরীক্ষা করা; চূড়ান্ত রায়ের পূর্বে টাকা জমা পড়ায় আইনগত উদ্দেশ্য সফল হয়েছে।
  • অন্যায্য লাভ ঠেকানো: বিবাদীগণ বাদিনীর ৭০,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করে জমি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানানো চরম অন্যায় ও প্রতারণামূলক।

🛡️ বিক্রেতা-বিবাদীপক্ষের জবাব ও প্রতিরক্ষা যুক্তি

  • ২১এ(খ) ধারার অলঙ্ঘনীয় বিধান: মামলা দায়েরের সময়েই বকেয়া টাকা জমা দেওয়ার বিধান বাধ্যতামূলক; পরে টাকা দিলে মামলা বৈধ হয় না।
  • আপিল বিভাগের নজির (69 DLR (AD) 239): সুপ্রিম কোর্টের নজির মতে মামলা দায়েরের সময় টাকা না দিলে মোকদ্দমা সরাসরি খারিজযোগ্য।
  • প্রকৃত বিক্রয়মূল্যের বিরোধ: জমিটির আসল মূল্য ছিল ১,৭০,০০০/- টাকা এবং বাদিনী প্রকৃতপক্ষে নগদ মাত্র ১০,০০০/- টাকা প্রদান করেছিলেন।
  • জরুরি প্রয়োজনে ক্ষতিসাধন: সন্তানকে বিদেশে পাঠানোর জন্য জমি বিক্রির কথা ছিল; বাদিনী সময়মতো টাকা না দেওয়ায় গরু বিক্রি করে ঋণ নিতে হয়েছে।
  • শালিসে বায়না বাতিল: স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শালিসে ১০,০০০/- টাকা ফেরত দিয়ে বায়না বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

৩. অধস্তন আদালতদ্বয়ের কার্যধারা ও খারিজ রায় (Findings of Subordinate Courts)

সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, ঝালকাঠিতে বিচার চলাকালে একটি মৌলিক আইনি ত্রুটি সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাদিনী ২০১০ সালের ১০ জুন মোকদ্দমা দায়ের করেছিলেন, কিন্তু আরজির সাথে বকেয়া ৩৭,০০০/- টাকা জমা দেননি! মোকদ্দমা দায়েরের এক বছরেরও বেশি সময় পর, বিগত ২০ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে বাদিনী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে উক্ত টাকা আদালতে দাখিল করেন।

বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিগত ৩০ এপ্রিল ২০১২ তারিখে মোকদ্দমাটি সরাসরি খারিজ করে দেন। আদালত অভিমত দেন যে, ২০০৪ সালে সংশোধিত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১এ ধারার প্রারম্ভে একটি সর্বগ্রাসী নন-অবস্ট্যান্ট ক্লজ (Non-obstante clause) রয়েছে। ২১এ(খ) উপ-ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—”at the time of filing the suit”, অর্থাৎ মামলা দায়েরের সময় বকেয়া টাকা জমা না দিলে চুক্তি বলবৎ করা যাবে না। উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বাদিনী জেলা জজ আদালতে স্বত্ব আপিল নং ৪১/২০১২ দায়ের করেন, যা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বদলি হয়। যুগ্ম জেলা জজ আদালত বিগত ১৯ মে ২০১৩ তারিখে সহকারী জজ আদালতের খারিজ রায়কে আইনসম্মত হিসেবে বহাল রাখেন। উক্ত অভিন্ন রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে বাদিনী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন নং ৩০২৫/২০১৩ দায়ের করেন।

৪. মহামান্য হাইকোর্টে পর্যালোচিত আইনি প্রশ্নসমূহ (Core Legal Issues)

হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চের শুনানিতে নিম্নলিখিত মৌলিক আইনি বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির জন্য চিহ্নিত হয়:

  1. ২১এ(খ) ধারার প্রকৃতি—বাধ্যতামূলক নাকি নির্দেশনামূলক: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ২১এ(খ) ধারার বিধানটি কি একটি অলঙ্ঘনীয় শর্ত (Condition precedent), নাকি মোকদ্দমা চলাকালীন যেকোনো সময় বকেয়া টাকা দাখিল করলে তা নিরাময়যোগ্য?
  2. দেরিতে টাকা জমাদানের আইনি প্রভাব: তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর মোকদ্দমা দায়েরের ১ বছর ৩ মাস পর বকেয়া টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক আইনগত প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা সম্ভব কি না?
  3. চুক্তি অচল হলে সাম্যের নীতি ও অর্থ ফেরত (Doctrine of Restitution): চুক্তিটি আইনের বিধানে বলবৎযোগ্য না হলেও বিক্রেতা কর্তৃক স্বীকৃত বায়নার টাকা আত্মসাৎ করে অন্যায্যভাবে লাভবান (Unjust Enrichment) হওয়া আইন ও সাম্য নীতির দৃষ্টিতে সমর্থনযোগ্য কি না?

৫. বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের বক্তব্য ও আইনি নজিরসমূহ (Arguments & Citations)

দরখাস্তকারী বাদিপক্ষে বিজ্ঞ কৌঁসুলি জনাব মো: শাহরিয়ার ভূঁইয়া যুক্তি দেখান যে, অধস্তন আদালতদ্বয় বায়নাপত্রের সম্পাদন ও বৈধতা স্বীকার করে নেওয়ার পরও নিছক কারিগরি কারণে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি নাকচ করেছেন। বাদিনী চূড়ান্ত রায়ের বহু পূর্বেই সমুদয় ৩৭,০০০/- টাকা আদালতে জমা দিয়েছেন। আইনসভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ক্রেতার আর্থিক সক্ষমতা ও সদিচ্ছা নিশ্চিত করা, যা টাকা জমার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে সাম্যের আদালত হিসেবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে চুক্তি বাস্তবায়নের ডিক্রি দেওয়া সমীচীন ছিল।

বিপরীতে প্রতিপক্ষ বিবাদীপক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব ইবনে আজিজ মো: নুরুল হুদা এবং মিস শামীমা ফেরদৌসী তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলেন যে, ২১এ ধারার ভাষা দ্ব্যর্থহীন। আইন প্রণেতাগণ সচেতনভাবেই ‘at the time of filing the suit’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেন। এখানে আদালতকে সময় বৃদ্ধি করার কোনো এখতিয়ার প্রদান করা হয়নি। বিজ্ঞ আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্ট Md. Abdul Kalam Vs. Md. Mohiuddin and others (69 DLR (AD) 239) উপস্থাপন করে বলেন, আপিল বিভাগ চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে মামলা দায়েরের মুহূর্তে বকেয়া টাকা জমা না দিলে মোকদ্দমা কোনোভাবেই টিকবে না এবং ৭ আদেশের ১১ বিধি মোতাবেক আরজি প্রত্যাখ্যাত হবে।

৬. সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনগত অনুসিদ্ধান্ত (Judicial Analysis & Ratio)

মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান উভয় পক্ষের যুক্তি এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করে সুস্পষ্ট আইনগত নীতি বিশ্লেষণ করেন:

(এক) ২১এ(খ) ধারা কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক (Mandatory Precondition):
আইনসভার সুস্পষ্ট অভিপ্রায় হলো—স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের চুক্তি প্রবলের মামলা করতে হলে অবশ্যই চুক্তির বকেয়া অর্থ মামলা দায়েরের সময় আরজির সাথে আদালতে জমা দিতে হবে। আইন আদালতকে এই বিধান শিথিল করার বা পরবর্তীতে জমার অনুমতি দেওয়ার কোনো স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (Discretionary power) প্রদান করেনি। যে মোকদ্দমাটি প্রারম্ভেই আইনগতভাবে অচল (Incompetent at its inception), পরবর্তীতে টাকা জমা দিয়ে তাকে কোনো ভূতাপেক্ষ বৈধতা দেওয়া যায় না।

(দুই) সাম্য আইনকে অনুসরণ করে (Equity follows the law):
চুক্তি প্রবলের প্রতিকার একটি সাম্যভিত্তিক (Equitable) প্রতিকার হলেও সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—Aequitas sequitur legem (Equity follows the law)। আইন যেখানে একটি সুস্পষ্ট সংবিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, সেখানে কোনো সাম্যের দোহাই দিয়ে সেই আইনকে অগ্রাহ্য বা অকার্যকর করা যায় না। সুতরাং বকেয়া টাকা যথাসময়ে না দেওয়ায় চুক্তি প্রবলের ডিক্রি নাকচ করা সম্পূর্ণ নির্ভুল।

(তিন) অন্যায্য সমৃদ্ধি রোধ ও বায়নার টাকা ফেরত (Doctrine of Restitution):
আদালত একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও আইনি বিষয় চিহ্নিত করেন—বিবাদীগণ লিখিত জবাবে এবং কার্যধারার সর্বস্তরে অকপটে স্বীকার করেছেন যে তারা বাদিনীর নিকট থেকে বায়না বাবদ নগদ ৭০,০০০/- টাকা গ্রহণ করেছেন। আইনের মারপ্যাঁচে যখন মূল চুক্তিটি বলবৎ অযোগ্য হয়ে পড়ে, তখন বিবাদীগণকে সেই ৭০,০০০/- টাকা আত্মসাৎ করে রাখতে দেওয়া চরম অবিচার। কাউকে অপরের খরচে অন্যায্যভাবে ধনী হতে দেওয়া যায় না (No one should be unjustly enriched at the expense of another)। মূল চুক্তি বাতিল হলেও চুক্তির অধীনে গৃহীত অর্থ ফেরত প্রদান করাই সাম্য ও সুবিচারের অমোঘ দাবি।

৭. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাবলি (Final Order & Relief)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সার্বিক পর্যালোচনায় অধস্তন আদালতের খারিজ সিদ্ধান্তকে আইনসম্মত বিবেচনা করে রিভিশন রুলটি খারিজ করেন, তবে একইসঙ্গে অর্থ ফেরতের চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন:

  • রিভিশন রুল খারিজ: দেওয়ানী রিভিশন রুল নং ৩০২৫/২০১৩ কোনো খরচা ছাড়াই খারিজ (Discharged without costs) করা হলো এবং চুক্তি প্রবলের দাবি খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হলো।
  • বায়নার ৭০,০০০/- টাকা ফেরতের নির্দেশ: ১ ও ২ নং বিবাদী-প্রতিপক্ষগণকে নির্দেশ দেওয়া হলো যে, তারা বাদিনীর নিকট থেকে প্রাপ্ত বায়নার স্বীকৃত ৭০,০০০/- (সত্তুর হাজার) টাকা রায়ের অনুলিপি বিচারিক আদালতে পৌঁছানোর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বাদিনীকে অবশ্যই ফেরত প্রদান করবেন।
  • ব্যর্থতায় ব্যাংক সুদের দণ্ড: নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে উক্ত ৭০,০০০/- টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে, সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকে পূর্ণ আদায়ের দিন পর্যন্ত উক্ত অর্থের ওপর প্রচলিত তফসিলি ব্যাংক হারে সরল সুদ প্রযোজ্য হবে।
  • আদালতের জমা টাকা উত্তোলনের অনুমতি: বাদিনী খাদিজা বেগম বিচারিক আদালতে বিগত ২০.০৯.২০১১ তারিখে চালানের মাধ্যমে জমাকৃত বকেয়া ৩৭,০০০/- টাকা আদালত থেকে অবিলম্বে উত্তোলন করার পূর্ণ অধিকারী হবেন।
  • নথি অবিলম্বে প্রেরণের নির্দেশ: অধস্তন আদালতের নথিপত্র রায়ের অনুলিপিসহ অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলো।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যাদি (Case Summary Table)

আইনি গবেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সুবিধার্থে এই যুগান্তকারী রায়ের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারিক রেফারেন্স নিচে সন্নিবেশিত হলো:

বিষয়বস্তু মামলার বিস্তারিত তথ্য
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী রিভিশন এখতিয়ার)
মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান (Mr. Justice Abdur Rahman)
মামলা নম্বর ও শ্রেণি দেওয়ানী রিভিশন নং ৩০২৫ / ২০১৩ (Civil Revision No. 3025 of 2013)
পক্ষগণের নাম মোসাম্মৎ খাদিজা বেগম (দরখাস্তকারী/বাদী) বনাম মো: হোসাইন আলী হাওলাদার এবং অন্যান্য (প্রতিপক্ষ/বিবাদী)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মো: শাহরিয়ার ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট
প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব ইবনে আজিজ মো: নুরুল হুদা এবং মিস শামীমা ফেরদৌসী, অ্যাডভোকেট
উৎস ও বিচারিক আদালত ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঝালকাঠি (স্বত্ব আপিল নং ৪১/২০১২, রায়: ১৯.০৫.২০১৩)
সিনিয়র সহকারী জজ সদর আদালত, ঝালকাঠি (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১০১/২০১০, রায়: ৩০.০৪.২০১২)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি: ২৪ ও ২৯ জুন ২০২৬
চূড়ান্ত রায়: ২৯ জুন ২০২৬ (১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)
মূল আইনি আলোচ্য ধারা ও নজির Specific Relief Act, 1877 (Section 21A(b)), Code of Civil Procedure (Section 115(1), Order VII Rule 11), Principles of Equity, Restitution & Unjust Enrichment
নজির: 69 DLR (AD) 239 (Md. Abdul Kalam Vs. Md. Mohiuddin)
অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক 📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড
🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button