নিজের অবহেলা ঢাকতে বা ফাঁকফোকর পূরণে রিমান্ড নয়: ১৫১ ধারার নীতিতে হাইকোর্টের রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক কঠোর ও নীতি-নির্ধারণী দেওয়ানী রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, কোনো পক্ষকে তার নিজের দীর্ঘদিনের অবহেলা, নিষ্ক্রিয়তা এবং মামলার ফাঁকফোকর বা ত্রুটি পূরণের সুযোগ (To fill up the lacuna) দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারার সহজাত ক্ষমতা বা ৪১ আদেশের ২৩/২৫ বিধির অধীন মামলা রিমান্ডে (Remand) পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি। আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত (৩ এডিসি ৩৩২ ও ৫৩ ডিএলআর এডি ১১০) পুনর্ব্যক্ত করে হাইকোর্ট ঘোষণা করেন— “আইন কেবল সচেতনদের সহায়তা করে, অধিকারের ওপর নিদ্রিতদের নয় (Vigilantibus et non dormientibus jura subveniunt)।” পক্ষভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৭ বছর ট্রায়াল কোর্টে কোনো লিখিত জবাব ও সাক্ষ্য না দিয়ে একতরফা ডিক্রির পর উচ্চ আদালতে প্রথমবার কিছু দলিল দাখিল করে পুনর্বিচারের আবেদন আইনত সরাসরি অগ্রহণযোগ্য।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা সহকারী জজ আদালতে ২০১৪ সালে দায়েরকৃত Title Suit No. 124 of 2014 (পরবর্তীতে পুনর্সংখ্যাত Title Suit No. 1128 of 2021) থেকে উদ্ভূত। মামলার মূল বাদী গীতা মজুমদার গং নিকুঞ্জ পাটনীকে সমগ্র নালিশি সম্পত্তির একমাত্র ওয়ারিশ ও মালিক দাবি করে বাটোয়ারা ডিক্রি প্রার্থনা করেন।

মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ঘটনাক্রম নিম্নরূপ:

  • পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন ও দীর্ঘ ৭ বছরের নিষ্ক্রিয়তা: মামলার বিচার চলাকালে বর্তমান রিভিশনকারী বিবাদী আব্দুর রব হাওলাদার গং (মোট ২৪ জন) নালিশি জমিতে স্বত্ব ও স্বার্থ রয়েছে দাবি করে দেওয়ানী কার্যবিধির ১ আদেশ ১০ বিধিতে পক্ষভুক্ত হওয়ার আবেদন করেন। ট্রায়াল কোর্ট তাদের পক্ষভুক্তির দরখাস্ত মঞ্জুর করে বিবাদী হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করে। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, পক্ষভুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৭ বছর (Seven Years) অতিক্রান্ত হলেও এই বিবাদীরা আদালতে কোনো লিখিত জবাব (Written Statement) দাখিল করেননি এবং কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণও উপস্থাপন করেননি।
  • একতরফা ডিক্রি প্রদান: দীর্ঘকাল কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় গলাচিপা সহকারী জজ আদালত ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদীদের ৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে বাদীদের পক্ষে মোকদ্দমাটি একতরফা সূত্রে ডিক্রি (Ex-parte Decree) প্রদান করেন।
  • ৯ আদেশ ১৩ বিধি উপেক্ষা করে সরাসরি আপিল: একতরফা ডিক্রি রদের জন্য নির্ধারিত আইনগত পথ অর্থাৎ দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ১৩ বিধির (Order IX Rule 13 CPC) অধীন আবেদন না করে বিবাদীপক্ষ পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে সরাসরি Title Appeal No. 34 of 2023 দায়ের করেন। তারা অজুহাত তোলেন যে অপর বিবাদী ২৮ ও ২৯ নম্বর তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করায় তারা ট্রায়াল কোর্টে জবাব দিতে পারেননি। তবে আপিল আদালতেও তারা কোনো লিখিত জবাব বা অতিরিক্ত সাক্ষ্য দাখিলের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেননি।
  • আপিল আদালতের রায়: পটুয়াখালীর স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা জজ) ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আপিল খারিজ করে সহকারী জজের একতরফা রায় বহাল রাখেন। আদালত দেখতে পান যে বিবাদীদের বিশ্বাসঘাতকতার দাবি সম্পূর্ণ সাজানো এবং মূল প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের পূর্বসূরীদের কেবল ‘লাইফ ইন্টারেস্ট’ ছিল, পূর্ণ স্বত্ব ছিল না।
  • হাইকোর্টে রিভিশন ও রিমান্ডের আবেদন: আপিল খারিজের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী আব্দুর রব হাওলাদার গং হাইকোর্টে Civil Revision No. 5342 of 2024 দায়ের করেন এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ১৫১ ধারার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা প্রয়োগ করে মামলাটি পুনর্বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে (Remand) পাঠানোর পৃথক দরখাস্ত দাখিল করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🏛️ বাদী গীতা মজুমদার গং-এর আইনি যুক্তি

  1. ৭ বছরের চরম গাফিলতি: বিবাদীরা নিজ দরখাস্তে পক্ষভুক্ত হয়েও দীর্ঘ ৭ বছর কোনো জবাব বা সাক্ষ্য দেয়নি। এই চরম অবহেলা ক্ষমার কোনো সুযোগ নেই।
  2. ত্রুটি পূরণে রিমান্ড নিষিদ্ধ (Lacuna Principle): আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী (৩ এডিসি ৩৩২, ৫৩ ডিএলআর এডি ১১০), গাফিলতি করা পক্ষকে নিজের ভুল সংশোধনের সুযোগ দিতে রিমান্ড দেওয়া যায় না।
  3. রিভিশনে নতুন নথির গ্রহণযোগ্যতা নেই: ট্রায়াল ও আপিল আদালতে যেসব দলিল গোপন রাখা হয়েছিল, রিভিশনে প্রথমবারের মতো সেই অপ্রদর্শিত দলিল বিবেচনা করে রায় দেওয়া যায় না।
  4. বিশ্বাসঘাতকতার অজুহাত সাজানো: অপর বিবাদীদের ওপর দোষ চাপানোর গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি আফটারথট (Afterthought)।

🛡️ দরখাস্তকারী বিবাদী আব্দুর রব হাওলাদারের যুক্তি

  1. সহ-বিবাদীদের বিশ্বাসঘাতকতা: বিবাদী ২৮ ও ২৯ নম্বরের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখার কারণে তারা যোগসাজশ করে বাদীদের একতরফা ডিক্রি পাইয়ে দিয়েছে।
  2. এস.এ রেকর্ডের প্রকৃত হিস্যা: এস.এ ২৪০ ও ২৪১ খতিয়ানে নিকুঞ্জ পাটনী কেবল ১/৪ অংশের মালিক ছিল; বাকি ৩ শরিকের অংশ বিবাদীদের পূর্বসূরীরা ১৯৬০-১৯৮২ সালের দলিলের মাধ্যমে কিনেছেন।
  3. আইনজীবীর ভুল পরামর্শ: উপযুক্ত আইনি পরামর্শের অভাবে তারা ট্রায়াল কোর্ট ও আপিল আদালতে দলিল পেশ করতে পারেননি।
  4. ১৫১ ধারায় রিমান্ডের প্রার্থনা: সুবিচারের স্বার্থে এবং ব্যতিক্রমী ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে হাইকোর্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতায় একতরফা ডিক্রি বাতিল করে পুনর্বিচারের রিমান্ড দেওয়া আবশ্যক (৪৮ ডিএলআর ১৬৪ ও ৭ ডিএলআর ৪৬৬)।

৩. রিমান্ড সংক্রান্ত আইনি বিধান ও সীমানা (Sections 107, 151 & Order XLI Rules 23, 25)

দেওয়ানী কার্যবিধিতে কোনো মামলা কখন ট্রায়াল কোর্টে পুনর্বিচারের জন্য ফেরত পাঠানো (Remand) যায়, সে বিষয়ে আদালত আইনের সাধারণ কাঠামো বিশদভাবে বিশ্লেষণ করেন:

  • ১০৭ ধারা ও ৪১ আদেশ ২৩ বিধি: যদি ট্রায়াল কোর্ট কোনো মামলা প্রাথমিক কোনো প্রশ্নে (Preliminary Point) খারিজ করে দেয় এবং আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে, তবে পূর্ণাঙ্গ বিচারের জন্য মামলা রিমান্ডে পাঠানো যায়। বর্তমান মামলায় এটি প্রযোজ্য নয়, কারণ ট্রায়াল কোর্ট প্রাথমিক প্রশ্নে নয়, সাক্ষ্য নিয়ে চূড়ান্ত রায় দিয়েছে।
  • ৪১ আদেশ ২৫ বিধি: ট্রায়াল কোর্ট যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ইস্যু বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের বিচার করতে বাদ রাখে, তবে আপিল আদালত কেবল সেই ইস্যুর ওপর অনুসন্ধান করে মতামত পাঠানোর জন্য নথি পাঠাতে পারে; পুরো মামলা রিমান্ড নয়।
  • ১৫১ ধারার অন্তর্নিহিত ক্ষমতা ও এর কঠোর সীমা: বিধিমালার বাইরেও সুবিচারের স্বার্থে ১৫১ ধারায় রিমান্ড দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে (৪৮ ডিএলআর ১৬৪, ৪০ ডিএলআর এডি ১০১)। তবে এই ক্ষমতা কখনোই কোনো গাফিলতি করা বা অসচেতন পক্ষকে নিজের তৈরি করা ভুল বা দুর্বলতা ঢাকতে সুযোগ দেওয়ার হাতিয়ার হতে পারে না।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম আইনি পর্যবেক্ষণ ও নীতি নির্ধারণ

মাননীয় বিচারপতি মো: রিয়াজ উদ্দিন খান রিভিশনকারী বিবাদীদের আচরণ ও আপিল বিভাগের নজিরসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন:

ক. গাফিলতি করা পক্ষকে ফাঁকফোকর পূরণের সুযোগ দিতে রিমান্ড নিষিদ্ধ:

হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় 3 ADC 332 (Jagabandhu Sarker vs. Jotish Chandra Sikder) দৃঢ়ভাবে উদ্ধৃত করে বলেন: “The uniform view of the superior Courts is that an order of remand is not legally sustainable while the same tantamount to fresh trial of the subject matter of the suit upon allowing a party in the suit, who was negligent in bringing on record the materials which were relevant… or in other words to allow a party to fill up the lacuna.” অর্থাৎ নিজের অবহেলায় সাক্ষ্য না দিয়ে পরবর্তীতে মামলা নতুন করে প্রমাণের উদ্দেশ্যে রিমান্ড দেওয়ার কোনো বিধান আইনে নেই।

খ. ল্যাটিন ম্যাক্সিম: আইন জাগ্রতদের সাহায্য করে, নিদ্রিতদের নয়:

রায়ে ঐতিহাসিক ল্যাটিন নীতি “Vigilantibus et non dormientibus jura subveniunt” প্রয়োগ করে আদালত উল্লেখ করেন: “The court cannot help those who sleep over their rights. Rights and remedies are available only to those who diligently assert and protect them within prescribed time limits, not to those who ignore or delay enforcing them.” যে বিবাদীরা পক্ষভুক্ত হয়েও টানা ৭ বছর আদালতে না এসে ঘুমিয়ে ছিল, তাদের প্রতি আদালতের কোনো সহমর্মিতা থাকতে পারে না।

গ. ৯ আদেশ ১৩ বিধির আশ্রয় না নিয়ে উচ্চ আদালতে রিমান্ড চাওয়া প্রতারণামূলক:

হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একতরফা ডিক্রি হলে আইনে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে ৯ আদেশ ১৩ বিধিতে গিয়ে ডিক্রি রদ করার। বিবাদীরা সেখানে না গিয়ে সরাসরি আপিলে যায়, এমনকি আপিলেও কোনো জবাব বা সাক্ষ্য দেওয়ার আবেদন করেনি। এখন রিভিশনাল কোর্টে এসে তারা কিছু দলিলের ফটোকপি দেখিয়ে রিভিশন আদালতকে ট্রায়াল কোর্টে রূপান্তর করতে চাইছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।

📚 রিমান্ডের প্রশ্নে আপিল বিভাগের দিকনির্দেশক নজিরসমূহ

  • Jagabandhu Sarker v. Jotish Chandra Sikder, 3 ADC 332: যে পক্ষ সাক্ষ্য দাখিলে অবহেলা করেছে, তাকে পুনরায় সুযোগ দিয়ে মামলার ফাঁকফোকর (Lacuna) পূরণ করানোর উদ্দেশ্যে রিমান্ড সম্পূর্ণ বেআইনি।
  • Abdus Sobahan v. Anwar Rahim, 53 DLR (AD) 110: আপিল বা রিভিশন আদালতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য দেওয়ার কোনো বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ না নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর দায় চাপিয়ে রিমান্ড চাওয়া আইনের অপব্যবহার।
  • Jobeda Khatun v. Hamid Ali, 40 DLR (AD) 101 (পার্থক্য নির্দেশ): শুধুমাত্র অসহায় নারী বা নাবালকদের নথিপত্র নথিতে থাকার পরেও আইনজীবীর ভুলের কারণে সাক্ষ্য না দিতে পারলে বিশেষ ব্যতিক্রম হিসেবে রিমান্ড প্রযোজ্য হতে পারে; কিন্তু বর্তমান মামলার মতো পূর্ণ বয়স্ক সচেতন বিবাদীদের ক্ষেত্রে নয়।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রিভিশন খারিজের আদেশ
  1. রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged): বিবাদী-দরখাস্তকারীগণের দায়েরকৃত দেওয়ানী রিভিশন আবেদনটি কোনো সারবত্তা না থাকায় সরাসরি খারিজ (Discharged) করা হলো।
  2. রিমান্ডের আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান: ১৫১ ধারার অধীন মামলা পুনর্বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে প্রেরণের আবেদন আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে নাকচ করা হলো।
  3. একতরফা ডিক্রি ও আপিলের রায় চূড়ান্ত বহাল: গলাচিপা সহকারী জজ আদালতের একতরফা রায় ও ডিক্রি এবং পটুয়াখালী সিনিয়র জেলা জজ আদালতের আপিল খারিজের আদেশ চূড়ান্তভাবে বহাল রাখা হলো।
  4. স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও নথি প্রেরণের নির্দেশ: ইতিপূর্বে প্রদত্ত সকল স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থার আদেশ প্রত্যাহার করা হলো এবং মূল নথিপত্র অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

৬. রায়ের মৌলিক আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডি (Ratio Decidendi)
১. ফাঁকফোকর পূরণে রিমান্ড নয়

নিজের অবহেলায় সাক্ষ্য না দেওয়ার পর উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলার ত্রুটি বা দুর্বলতা (Lacuna) পূরণের জন্য রিমান্ড প্রার্থনা আইনত বারিত।

২. আইন কেবল জাগ্রতদের সাহায্য করে

Vigilantibus et non dormientibus jura subveniunt— অধিকার রক্ষায় যারা ৭ বছর ঘুমে ছিল, আদালত তাদের জন্য নিয়ম ভেঙে সহায়তা করবে না।

৩. ৯ আদেশ ১৩ বিধির বিকল্প নেই

একতরফা ডিক্রি হলে ট্রায়াল কোর্টে ৯ আদেশ ১৩ বিধিতে না গিয়ে সরাসরি রিভিশনে এসে পুনর্বিচার চাওয়া দেওয়ানী পদ্ধতির মারাত্মক অপব্যবহার।

৪. রিভিশনাল আদালতের সীমাবদ্ধতা

রিভিশন আদালত কোনো ট্রায়াল কোর্ট নয়; পূর্বে অপ্রদর্শিত ও গোপন রাখা কোনো দলিলের ওপর ভিত্তি করে রিভিশনে নতুন সত্য আবিষ্কার করা যায় না।

৭. দেওয়ানী মামলা পরিচালনায় বিবাদী ও আইনজীবীদের জন্য ৫টি সতর্কতা
⏰
১. পক্ষভুক্ত হওয়ার পরই নির্ধারিত সময়ে লিখিত জবাব দাখিল করুন:
১ আদেশ ১০ বিধিতে বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর কালবিলম্ব না করে দেওয়ানী কার্যবিধির ৮ আদেশের সময়সীমার মধ্যে অবশ্যই লিখিত জবাব পেশ করুন।

🤝
২. সহ-বিবাদীদের ওপর অন্ধ নির্ভরতা পরিহার করুন:
মোকদ্দমায় নিজের সম্পত্তি জড়িত থাকলে অন্য আত্মীয় বা সহ-বিবাদীর আশ্বাসে বসে না থেকে নিজে পৃথক ওকালতনামা দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে খোঁজ রাখুন।

⚖️
৩. একতরফা ডিক্রি হলে অবিলম্বে ৯ আদেশ ১৩ বিধির আশ্রয় নিন:
একতরফা ডিক্রির সংবাদ পাওয়ামাত্রই ৩০ দিনের মধ্যে ট্রায়াল কোর্টে ৯ আদেশ ১৩ বিধিতে দরখাস্ত করুন; সরাসরি আপিলে গেলে প্রমাণের ঘাটতি দূর করা প্রায় অসম্ভব।

📜
৪. ট্রায়াল কোর্টেই মূল দলিলের প্রদর্শনী নিশ্চিত করুন:
কেনার দলিল বা খতিয়ান থাকলে তা বিচারিক আদালতেই যথাসময়ে একজিবিট করান; আপিল বা রিভিশনাল পর্যায়ে নতুন প্রমাণ দাখিল করা অত্যন্ত দুরূহ।

🛡️
৫. ১৫১ ধারার রিমান্ডের সুযোগ সীমিত— অবহেলা কখনো আইনি অজুহাত নয়:
মনে রাখবেন, সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা কেবল নিরপরাধ বিচারপ্রার্থীর প্রকৃত সুবিচারের জন্য; নিজের দীর্ঘ গাফিলতি ঢাকার শর্টকাট হিসেবে এটি ব্যবহার করা যায় না।

৮. মামলার সারসংক্ষেপ ও পূর্ণাঙ্গ রেফারেন্স টেবিল
বিষয় / ক্ষেত্র বিবরণ ও আইনি তথ্য
মামলার নাম ও নম্বর Md. Abdur Rob Howlader and others Vs. Dita Majumder and others, Civil Revision No. 5342 of 2024
আদালতের নাম ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ | মাননীয় বিচারপতি মো: রিয়াজ উদ্দিন খান (Mr. Justice Md. Riaz Uddin Khan)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব এস. এম. রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট (Mr. S.M. Rezaul Karim)
প্রতিপক্ষ পক্ষে: সেলিনা আক্তার, উজ্জ্বল ভৌমিক, খন্দকার ফিরোজ আহমেদ ও ফারহানা আবেদীন, অ্যাডভোকেটস
মূল মোকদ্দমা ও অধস্তন আদালত Title Suit No. 1128 of 2021 (সাবেক TS 124/2014), সহকারী জজ আদালত, গলাচিপা, পটুয়াখালী (একতরফা ডিক্রি: ২৮.০২.২০২৩)
আপিল মোকদ্দমা Title Appeal No. 34 of 2023, স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা জজ), পটুয়াখালী (আপিল খারিজ: ০৮.০৯.২০২৪)
প্রাসঙ্গিক আইনি বিধানাবলী Code of Civil Procedure, 1908 (Section 107, Section 115(1), Section 151, Order IX Rule 13, Order XLI Rules 23 & 25).
উদ্ধৃত গুরুত্বপূর্ণ নজিরসমূহ 3 ADC 332 (Jagabandhu Sarker); 53 DLR (AD) 110 (Abdus Sobahan); 40 DLR (AD) 101 (Jobeda Khatun); 48 DLR 164 (Abdul Aziz); 7 DLR 466 (Tripura Charan).
আইনি ম্যাক্সিম Vigilantibus et non dormientibus jura subveniunt (আইন জাগ্রতদের সহায়তা করে, নিদ্রিতদের নয়)।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged), রিমান্ডের আবেদন নাকচ, সহকারী জজ ও জেলা জজ আদালতের একতরফা রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল।
শুনানি ও রায়ের তারিখ চূড়ান্ত রায় প্রদান: ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপলোড: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজমেন্ট পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button