উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিকের অগ্রক্রয় (Pre-emption) ও বহিরাগত ক্রেতার নোটিশের দায়ভার: সুপ্রিম কোর্টের নজির

📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৯৬ ধারা (Section 96 State Acquisition and Tenancy Act, 1950) অনুযায়ী কোনো জোতে উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিকের (Co-sharer by inheritance) অগ্রক্রয়ের অধিকার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার। কোনো সহ-শরিক যদি সংবিধিবদ্ধ নোটিশ ব্যতিরেকে জোতের জমি কোনো বহিরাগত অচেনা ক্রেতার (Stranger purchaser) নিকট বিক্রয় করেন, তবে সেই হস্তান্তর অগ্রক্রয়যোগ্য। কোনো ক্রেতা যদি দাবি করেন যে অগ্রক্রয়কারী হস্তান্তর সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত ছিলেন কিংবা তিনি ক্রয় করতে অস্বীকার করে অধিকার ত্যাগ (Waiver and Acquiescence) করেছেন, তবে সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারার (Section 103 Evidence Act) সুবর্ণ নীতি অনুযায়ী সেই দাবি প্রমাণের সম্পূর্ণ দায়ভার (Burden of proof) সংশ্লিষ্ট ক্রেতার ওপর বর্তায়। কবে, কোথায় এবং কার উপস্থিতিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তা সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণে ব্যর্থ হলে মৌখিক অজুহাত সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য হবে। অধস্তন উভয় আদালতের অভিন্ন সিদ্ধান্ত বহাল রেখে হাইকোর্ট ক্রেতার রিভিশন আবেদন খারিজ করেছেন।

১. বিরোধের পটভূমি ও অগ্রক্রয় মোকদ্দমার সূচনা (Background of Dispute)

আলোচ্য দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমাটির উৎপত্তি রাজশাহী জেলার বাগমারা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০১৪ সালে দায়েরকৃত ১২ নম্বর বিবিধ মোকদ্দমা (Miscellaneous Case No. 12 of 2014 – অগ্রক্রয় মোকদ্দমা) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিলেন মোসাম্মৎ সুরতজান বিবি (অগ্রক্রয়কারী-প্রতিপক্ষ) বহিরাগত ক্রেতা মো: মজনু মৃধার (ক্রেতা-দরখাস্তকারী) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারার অধীনে অগ্রক্রয়ের ডিক্রি প্রার্থনায়।

নালিশি জোতের সম্পত্তি মূলত মোহর সোনার, জিঞ্জিরি বিবি এবং গুঞ্জুরী বিবির এজমালি সম্পত্তি ছিল। মোহর সোনার মৃত্যুবরণ করলে তাঁর ওয়ারিশ হিসেবে তাঁর বিধবা স্ত্রী গুঞ্জুরী বিবি, একমাত্র কন্যা সুরতজান বিবি এবং বোন জিঞ্জিরি বিবি স্বত্ববান হন। পরবর্তীতে গুঞ্জুরী বিবি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর অংশের একমাত্র ওয়ারিশ হন কন্যা সুরতজান বিবি। অপর অংশীদার জিঞ্জিরি বিবি মারা গেলে তাঁর অংশে দুই পুত্র—মো: আফসার আলী পিয়াদা এবং লাগির আলী পিয়াদা ওয়ারিশ হন।

মোকদ্দমার মূল ঘটনা হলো, সহ-শরিক ২ নং বিবাদী আফসার আলী পিয়াদা জোতের অংশীদার সুরতজান বিবিকে কোনো প্রকার সংবিধিবদ্ধ নোটিশ (Section 89 Notice) প্রদান না করে সম্পূর্ণ গোপনে বিগত ০৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে ২৩৩২ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় দলিলের মাধ্যমে বিরোধীয় জমি বহিরাগত ব্যক্তি মো: মজনু মৃধার নিকট বিক্রয় করে দেন। উক্ত দলিলের সংবাদ অবগত হয়ে কোনো কালবিলম্ব না করে সুরতজান বিবি বিগত ৩১ মার্চ ২০১৪ তারিখে (দলিল রেজিস্ট্রি হওয়ার মাত্র ২৬ দিনের মাথায়) বিধিবদ্ধ পণমূল্য ও ক্ষতিপূরণ আদালতে জমা দিয়ে অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমাটি দায়ের করেন।

২. পক্ষগণের বিপরীতমুখী দাবি ও প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য (Pleadings of the Parties)

বিচারিক আদালতে উভয় পক্ষ স্ব-স্ব দাবির পক্ষে বিস্তারিত লিখিত আপত্তি ও সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন।

🏛️ অগ্রক্রয়কারী-সুরতজান বিবির বক্তব্য

  • উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিক: সুরতজান বিবি মূল মালিক মোহর সোনারের একমাত্র ওয়ারিশ কন্যা হিসেবে জোতের অবিসংবাদিত সহ-শরিক।
  • বহিরাগত ক্রেতা: ক্রেতা মজনু মৃধা জোতের সম্পূর্ণ বহিরাগত অচেনা ব্যক্তি; জোতে তাঁর পূর্বে কোনো স্বত্ব বা দখল ছিল না।
  • আইনসংগত নোটিশের অভাব: জমি হস্তান্তরের পূর্বে অগ্রক্রয়কারীকে কোনো লিখিত বা রেজিস্ট্রি নোটিশ দেওয়া হয়নি।
  • তামাদির মধ্যে মামলা: দলিল সম্পাদন হয়েছিল ০৫/০৩/২০১৪ তারিখে এবং মামলা হয়েছে ৩১/০৩/২০১৪ তারিখে, অর্থাৎ মাত্র ২৬ দিনের মাথায়।
  • বিধিবদ্ধ অর্থ জমাদান: অগ্রক্রয়কারী আইনের বিধান মোতাবেক দলিলের পণমূল্য ও শতকরা ক্ষতিপূরণ যথাসময়ে আদালতে দাখিল করেছেন।

🛡️ বহিরাগত ক্রেতা-মজনু মৃধার আপত্তি ও যুক্তি

  • সহ-শরিকানা বিলুপ্তির দাবি: অগ্রক্রয়কারী আর.এস. ৩৮০ নং খতিয়ানের সমুদয় জমি পূর্বেই বিক্রি করে দিয়েছেন, ফলে তিনি আর সহ-শরিক নন।
  • পূর্ব জ্ঞাততা ও ত্যাগ (Waiver): সুরতজান বিবি জমি বিক্রির কথা জানতেন কিন্তু নিজে কিনতে অস্বীকৃতি জানানোর পরেই ক্রেতা জমি কিনেছেন।
  • বাড়ি নির্মাণ ও বাস্তব দখল: জমি ক্রয়ের পর ক্রেতা সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করে সপরিবারে শান্তিপূর্ণ বসবাস শুরু করেছেন।
  • পক্ষদোষের আপত্তি: মামলার অন্যান্য অংশীদারগণকে যথাযথভাবে পক্ষভুক্ত না করায় অগ্রক্রয় মামলাটি পক্ষদোষে দুষ্ট।
  • আদালতের সিদ্ধান্তে অবিচার: অধস্তন আদালত ক্রেতার বাড়ি নির্মাণের বাস্তব ক্ষতি বিবেচনা না করে একতরফা অগ্রক্রয় মঞ্জুর করেছে।

৩. অধস্তন আদালতদ্বয়ের কার্যধারা ও অগ্রক্রয় মঞ্জুর (Subordinate Courts’ Findings)

বাগমারা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে উভয় পক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেন। বিচারিক আদালত সাক্ষ্য পর্যালোচনায় দেখতে পান যে, সুরতজান বিবি যে মোহর সোনারের ওয়ারিশ এবং জোতের অংশীদার তা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অপরদিকে ক্রেতা মজনু মৃধা দাবি করেছিলেন যে তিনি জমি কেনার আগে সুরতজান বিবিকে জানিয়েছিলেন; কিন্তু জেরার মুখে তিনি প্রকাশ করতে পারেননি যে—কবে, কোথায় এবং কোন সাক্ষীর উপস্থিতিতে তিনি সুরতজান বিবিকে জমি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন! কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী বা লিখিত প্রত্যাখ্যানের প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি।

বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিগত ২৭ আগস্ট ২০১৯ তারিখে অগ্রক্রয় মোকদ্দমাটি মঞ্জুর করে সুরতজান বিবির অনুকূলে অগ্রক্রয়ের আদেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে ক্রেতা রাজশাহীর জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী বিবিধ আপিল নং ৬৬/২০১৯ দায়ের করেন, যা অতিরিক্ত জেলা জজ ৩য় আদালতে প্রেরিত হয়। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ বিগত ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে এক পুঙ্খানুপুঙ্খ রায়ে বিচারিক আদালতের আদেশকে পূর্ণ সমর্থন করে আপিল খারিজ করেন। উভয় আদালতের এই অভিন্ন আদেশের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্রেতা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সিভিল রিভিশন নং ১০৪২/২০২৩ দায়ের করেন।

৪. মহামান্য হাইকোর্টে পর্যালোচিত আইনি প্রশ্নসমূহ (Core Legal Issues)

হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চের শুনানিতে নিম্নলিখিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির জন্য চিহ্নিত হয়:

  1. অগ্রক্রয়ে পূর্ব জ্ঞাততা ও অধিকার ত্যাগের প্রমাণের দায়ভার: অগ্রক্রয় মামলায় ক্রেতা যখন মৌখিক নোটিশ বা অধিকার ত্যাগের (Waiver and Acquiescence) দাবি করেন, তখন সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারামতে সেই প্রমাণের দায় কার ওপর বর্তায়?
  2. উত্তরাধিকার সূত্রে সহ-শরিকের অগ্রাধিকার: জোতে একাধিক খতিয়ান সৃষ্টি বা পৃথক ভোগদখল থাকলেও উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত অবিভক্ত স্বত্বাধিকারীর অগ্রক্রয় করার সংবিধিবদ্ধ অধিকার খর্ব হয় কি না?
  3. দখল বা বাড়ি নির্মাণের অজুহাতে অগ্রক্রয় প্রতিহত করার সুযোগ: নথিতে কোনো উপযুক্ত প্রমাণ বা কমিশন তদন্ত ছাড়া নিছক মুখে বাড়ি নির্মাণের দাবি তুলে কি বিধিবদ্ধ অগ্রক্রয় নস্যাৎ করা সম্ভব?
  4. ১১৫(১) ধারার রিভিশনাল সীমা: অধস্তন উভয় আদালত সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হলে উচ্চ আদালত রিভিশন স্তরে তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে কি না?

৫. বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের বক্তব্য ও আইনি সওয়াল-জওয়াব (Submissions & Arguments)

দরখাস্তকারী ক্রেতাপক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব কে.এম. জাবির যুক্তি দেখান যে, সুরতজান বিবি আর.এস. ৩৮০ নং খতিয়ানের সমস্ত জমি ইতিপূর্বে হস্তান্তর করে ফেলেছেন। সুতরাং তিনি আর জোতের সহ-শরিক নন। তাছাড়া সুরতজান বিবি জেনেশুনে জমি কেনেননি এবং ক্রেতা সেখানে বাড়ি বানিয়ে বসবাস করছেন। অধস্তন আদালতদ্বয় সাক্ষ্যের সঠিক মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়ে ক্রেতার চরম ক্ষতিসাধন করেছেন।

বিপরীতে প্রতিপক্ষ সুরতজান বিবির পক্ষে বিজ্ঞ কৌঁসুলি জনাব মো: মেসবাহুল ইসলাম আসিফ শুনানিতে তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, সুরতজান বিবি মোহর সোনারের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তির অবিসংবাদিত সহ-শরিক। ক্রেতা একজন সম্পূর্ণ বহিরাগত ব্যক্তি। হস্তান্তর হয়েছিল ০৫ মার্চ ২০১৪ তারিখে এবং সুরতজান বিবি মাত্র ২৬ দিনের মাথায় ৩১ মার্চ ২০১৪ তারিখে অগ্রক্রয়ের মোকদ্দমা দাখিল করেছেন। ক্রেতা কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি যে তিনি নোটিশ দিয়েছিলেন। সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা অনুযায়ী প্রমাণের দায়ভার ছিল ক্রেতার ওপর যা তিনি পূরণ করতে পারেননি। তদুপরি নথিতে বাড়ি নির্মাণের কোনো প্রমাণ বা এডভোকেট কমিশনারের রিপোর্ট নেই। ফলে অধস্তন আদালতের রায় সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত।

৬. সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনগত অনুসিদ্ধান্ত (Judicial Analysis & Ratio)

মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক এবং অধস্তন আদালতের নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেন:

(এক) সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা ও প্রমাণের সুনির্দিষ্ট দায়ভার:
আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে সিদ্ধান্ত দেন যে, অগ্রক্রয় মামলায় ক্রেতা যখন দাবি করেন যে অগ্রক্রয়কারী বিক্রয়ের বিষয় পূর্বে জানতেন বা কিনতে অসম্মতি প্রকাশ করেছিলেন, তখন সাক্ষ্য আইনের ১০৩ ধারা অনুযায়ী সেই বিশেষ ঘটনাটি প্রমাণের ভার এককভাবে ক্রেতার ওপরই ন্যস্ত। মৌখিকভাবে কোনো তথ্য দেওয়ার দাবি করলে সময়, স্থান এবং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের সুস্পষ্ট বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করতে হবে। বর্তমান মামলায় ক্রেতা কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী পরীক্ষা করতে পারেননি এবং কোনো লিখিত প্রমাণও দেননি। সুতরাং অধিকার ত্যাগের (Waiver) কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

(দুই) সহ-শরিকানা ও তামাদির কঠোর হিসাব:
নথিপত্র সাক্ষ্য দেয় যে প্রতিপক্ষ সুরতজান বিবি উত্তরাধিকার সূত্রে মোহর সোনারের অংশীদার এবং তিনি বহাল আছেন। দলিলের তারিখ ছিল ০৫.০৩.২০১৪ এবং মোকদ্দমা রুজু করা হয়েছে ৩১.০৩.২০১৪ তারিখে। মাত্র ২৬ দিনের মাথায় মামলা দায়ের হওয়ায় অগ্রক্রয়কারী কোনো কালক্ষেপণ করেননি এবং মামলাটি আইনগত তামাদির পূর্ণ সীমার মধ্যে দায়ের করা হয়েছে।

(তিন) অধস্তন আদালতের যৌথ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের সীমা:
দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার আওতায় সুপ্রিম কোর্টের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো—রিভিশনাল আদালত তথ্যের দ্বিতীয় আপিল আদালত হিসেবে কাজ করে না। সহকারী জজ এবং অতিরিক্ত জেলা জজ উভয় আদালত যখন সাক্ষ্য-প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে অভিন্ন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনো সাক্ষ্যের অপপ্রয়োগ বা এখতিয়ারগত বিকৃতি ঘটেনি, তখন নিছক ভিন্নতর মত সম্ভব এই কারণে উচ্চ আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

৭. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত রায় ও সিদ্ধান্ত (Final Decision & Order)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সার্বিক পর্যালোচনায় অধস্তন উভয় আদালতের আদেশে কোনো আইনগত বিচ্যুতি বা অনিয়ম খুঁজে পাননি এবং নিম্নোক্ত চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন:

  • রিভিশন রুল খারিজ: দেওয়ানী রিভিশন রুল নং ১০৪২/২০২৩ কোনো প্রকার খরচা ছাড়াই সরাসরি খারিজ (Discharged without costs) করা হলো।
  • অগ্রক্রয়ের ডিক্রি বহাল: রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা জজ ৩য় আদালতের দেওয়ানী বিবিধ আপিল নং ৬৬/২০১৯-এর রায় এবং বাগমারা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিবিধ মোকদ্দমা নং ১২/২০১৪-এর অগ্রক্রয়ের আদেশ সম্পূর্ণরূপে বহাল রাখা হলো। সুরতজান বিবির অনুকূলে জমিটির মালিকানা বর্তাবে।
  • জমা টাকা উত্তোলনের অনুমতি: দরখাস্তকারী ক্রেতা মজনু মৃধাকে অনুমতি দেওয়া হলো যে, অগ্রক্রয় মামলার ডিক্রি অনুযায়ী আদালতে জমাকৃত ক্রয়মূল্য ও ক্ষতিপূরণের সমুদয় অর্থ তিনি বিচারিক আদালত থেকে বিধি মোতাবেক অবিলম্বে উত্তোলন করতে পারবেন।
  • স্থিতাবস্থা প্রত্যাহার ও নথি প্রেরণ: হাইকোর্ট কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো এবং অধস্তন আদালতের নথিপত্র অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যাদি (Case Summary Table)

আইনি গবেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সুবিধার্থে এই ঐতিহাসিক রায়ের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারিক রেফারেন্স নিচে সন্নিবেশিত হলো:

বিষয়বস্তু মামলার বিস্তারিত তথ্য
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী রিভিশন এখতিয়ার)
মাননীয় বিচারপতি আবদুর রহমান (Mr. Justice Abdur Rahman)
মামলা নম্বর ও শ্রেণি দেওয়ানী রিভিশন নং ১০৪২ / ২০২৩ (Civil Revision No. 1042 of 2023)
পক্ষগণের নাম মো: মজনু মৃধা (ক্রেতা-আপিলকারী/দরখাস্তকারী) বনাম মোসাম্মৎ সুরতজান বিবি এবং অন্যান্য (অগ্রক্রয়কারী-রেসপনডেন্ট/প্রতিপক্ষ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব কে.এম. জাবির, অ্যাডভোকেট
প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব মো: মেসবাহুল ইসলাম আসিফ, অ্যাডভোকেট
উৎস ও বিচারিক আদালত অতিরিক্ত জেলা জজ ৩য় আদালত, রাজশাহী (দেওয়ানী বিবিধ আপিল নং ৬৬/২০১৯, রায়: ০৮.০৯.২০২২)
সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, বাগমারা, রাজশাহী (বিবিধ মামলা নং ১২/২০১৪, আদেশ: ২৭.০৮.২০১৯)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি: ২৮ জুন ও ০২ জুলাই ২০২৬
চূড়ান্ত রায়: ০৫ জুলাই ২০২৬ (রবিবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ)
মূল আইনি আলোচ্য ধারা ও বিষয় State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (Section 96 & 89), Evidence Act, 1872 (Section 103 – Burden of Proof), Doctrines of Waiver, Acquiescence & Estoppel
অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক 📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড
🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button