মার্কেটের দোকান বরাদ্দ ও পজেশন হস্তান্তর স্বত্ব: হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ সিটি কর্পোরেশনের বাণিজ্যিক মার্কেটের দোকান/আড়ত ঘরের সরকারি বরাদ্দ, দখলস্বত্ব (Possession Rights) হস্তান্তর এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মোকদ্দমায় দালিলিক প্রমাণের প্রাধান্য প্রসঙ্গে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও ব্যবহারিক এক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) সরকারি বা পৌর কর্তৃপক্ষ (যেমন সিটি কর্পোরেশন বা রাজউক) কর্তৃক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির একক নামে সেলামী ও উন্নয়ন ফি গ্রহণ সাপেক্ষে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে এবং নিয়মিত ভাড়ার রসিদ তার নামে জারি থাকলে তিনিই উক্ত দোকানের একমাত্র আইনসম্মত বরাদ্দপ্রাপক ও দখলদার; (২) কোনো পক্ষ যদি দাবি করে যে বরাদ্দগ্রহীতা তিন ভাইয়ের যৌথ অর্থে বা যৌথ পরিবারে দোকানটি নিয়েছিলেন, তবে সেই যৌথ দাবির স্বপক্ষে ভাড়ার রসিদ, ব্যাংকিং লেনদেন বা কর্পোরেশনের রেকর্ডীয় দালিলিক প্রমাণ পেশ করতে হবে; কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়া নিছক মৌখিক দাবি বা পারিবারিক সম্পর্ক যৌথ স্বত্ব সৃষ্টি করতে পারে না; (৩) মূল বরাদ্দপ্রাপক কর্তৃক হস্তান্তরিত দখলস্বত্ব বিক্রয়ের চুক্তিপত্র, অঙ্গীকারনামা এবং হলফনামার বিপরীতে মূল বরাদ্দপ্রাপকের বৈধ ওয়ারিশগণ যখন নোটারাইজড হলফনামা দিয়ে বাদীর দখল ও হস্তান্তরকে সমর্থন করে, তখন তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপে বাদীর বৈধ দখল বিঘ্নিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি; এবং (৪) নিম্ন আদালত ও প্রথম আপিল আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে বাদীর অনুকূলে যে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ডিক্রি প্রদান করেছে, তাতে কোনো আইনগত ভুল না থাকায় দেওয়ানী রিভিশন সরাসরি না-মঞ্জুর করে অধস্তন আদালতের ডিক্রি বহাল রাখা হলো।
মামলাটি ঢাকার সহকারী জজ, ২য় আদালতে ২০০৭ সালে দায়েরকৃত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও নামজারির দেওয়ানী মোকদ্দমা Title Suit No. 479 of 2007 থেকে উদ্ভূত।
মামলার মূল ঘটনা, পক্ষগণের বিবাদ ও বিচারিক গতিপ্রকৃতি নিম্নরূপ:
- কাওরান বাজার কাঁচামাল আড়তের ৩৮ নং দোকান: রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র কাওরান বাজার কাঁচামালের আড়ত ভবন মার্কেটের নিচতলার ৩৮ নং দোকান/আড়ত ঘরের মূল মালিক ছিল তৎকালীন ডি.আই.টি (বর্তমান রাজউক), যা পরবর্তীতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
- পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ও শাহ আলমের নামে একক বরাদ্দ: ১৯৮৪-৮৫ সনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রচারের মাধ্যমে ৩৮ নং দোকানটি সেলামী বাবদ ২,৫০,০০০ টাকা এবং উন্নয়ন ফি বাবদ ৫০,০০০ টাকা (মোট ৩,০০,০০০ টাকা) সোনালী ব্যাংকে জমার মাধ্যমে মোঃ শাহ আলমের একক নামে বরাদ্দপত্র ইস্যু করে। তিনি নিয়মিত মাসিক ভাড়া ৩০০ টাকা ও ট্রেড লাইসেন্স ফি প্রদান করে ব্যবসা পরিচালনা করেন।
- বাদীর নিকট পজেশন স্বত্ব বিক্রয়: ১৯৯৫ সালের ২২ আগস্ট মোঃ শাহ আলম নগদ টাকার প্রয়োজনে নালিশী আড়তটির দখলস্বত্ব ৬,০০,০০০ (ছয় লক্ষ) টাকায় বর্তমান বাদী মোঃ মামুনের নিকট বিক্রয় করে দখল বুঝিয়ে দেন। হস্তান্তরের সমর্থনে মূল বরাদ্দপত্র, ভাড়ার রসিদ হস্তান্তর ছাড়াও বিক্রয় দলিল (প্রদর্শনী ৮), হলফনামা (প্রদর্শনী ৯) এবং অঙ্গীকারনামা (প্রদর্শনী ১০) সম্পাদন করে দেন।
- শাহ আলমের মৃত্যু ও ওয়ারিশগণের সমর্থন: শাহ আলমের মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী রোকছানা খানম, একমাত্র পুত্র রাজিব আলম এবং কন্যাগণ ২০০৭ সালের ২০ নভেম্বর নোটারী পাবলিকের সম্মুখে ১০৮ নং হলফনামা সম্পাদন করে বাদী মামুনের অনুকূলে তাদের পিতার পজেশন স্বত্ব বিক্রির বিষয়টি নিঃশর্তভাবে স্বীকার ও সমর্থন করেন (প্রদর্শনী ১৩)।
- নামজারিতে বিবাদীর বাধা ও দেওয়ানী মামলা: বাদী সিটি কর্পোরেশনে নিজ নামে দোকানটির নামজারির আবেদন করলে শাহ আলমের ভাই ৩ নম্বর বিবাদী মোঃ নূরে আলম (দরখাস্তকারী) বাধা প্রদান করেন এবং বাদীকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাদী ২০০৭ সালে ঢাকার ২য় সহকারী জজ আদালতে Title Suit No. 479 of 2007 দায়ের করেন।
- অধস্তন আদালতদ্বয়ের ডিক্রি ও হাইকোর্টে রিভিশন: ঢাকার ২য় সহকারী জজ আদালত ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বাদীর পক্ষে দোতরফাসূত্রে ডিক্রি প্রদান করেন। এর বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হলে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল Title Appeal No. 76 of 2013 খারিজ করে বিচারিক আদালতের ডিক্রি বহাল রাখেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী নূরে আলম হাইকোর্টে Civil Revision No. 2022 of 2016 দায়ের করেন।
🛡️ দরখাস্তকারী বিবাদীর যুক্তি (Petitioner)
- তিন ভাইয়ের যৌথ কেনা দোকান: ১৯৮০ সালে তিন ভাই (শাহ আলম, শাহজাহান ও নূরে আলম) যৌথভাবে বকশোদ আলী দেওয়ানের নিকট থেকে দোকানটি কেনেন; শাহ আলম একা এর মালিক ছিলেন না।
- বিদেশে থাকার সুযোগে প্রতারণা: বিবাদী নূরে আলম দীর্ঘদিন জাপানে চাকরিরত থাকায় এবং অপর ভাই পক্ষাঘাতগ্রস্ত হওয়ায় সমিতির সেক্রেটারি বাদীর পিতা যোগসাজশ করে শাহ আলমের একক নামে কাগজপত্র সৃজন করেছিলেন।
- সিটি কর্পোরেশনের তদন্ত রিপোর্ট: সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে মন্তব্য করেছিলেন যে তিন ভাই মিলে দোকানটি কিনেছিলেন এবং বাদী অবৈধ দখলদার; সুতরাং নামজারি ও নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার অযোগ্য।
🏛️ প্রতিপক্ষ বাদিপক্ষের যুক্তি (Opposite Party)
- একক নামে বৈধ সরকারি বরাদ্দ: ১৯৮৪/৮৫ সনে সিটি কর্পোরেশন উন্মুক্ত বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলমের নামে একক বরাদ্দ দেয়; বিবাদীদের যৌথ দাবির কোনো ভাড়ার রসিদ বা দালিলিক অস্তিত্ব নেই।
- ৬ লক্ষ টাকায় দখল ক্রয় ও দলিলপত্র: ১৯৯৫ সালে বাদী শাহ আলমের নিকট থেকে দখলস্বত্ব কিনেছেন; প্রদর্শনী ৮, ৯ ও ১০ দ্বারা হস্তান্তর প্রমাণিত এবং ১৯৯৫ সাল থেকে বাদী নিয়মিত ভোগদখলে আছেন।
- শাহ আলমের পরিবারের স্বীকৃতি: শাহ আলমের স্ত্রী ও সন্তানগণ (৬-১০ নম্বর পক্ষ) আদালতে হলফনামা (প্রদর্শনী ১৩) দাখিল করে বাদীর স্বত্ব স্বীকার করেছেন; ভাই নূরে আলমের কোনো আইনি অধিকার নেই।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭ এবং দেওয়ানী আইনের আলোকে পৌর দোকানের দখলস্বত্ব সুরক্ষার মৌলিক নীতিসমূহ:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫৪ ধারা (Section 54 Specific Relief Act 1877):
বিধান অনুযায়ী, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো স্থাবর সম্পত্তিতে বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বৈধ সূত্রে শান্তিপূর্ণ বাস্তব দখলে (Peaceful Physical Possession) অধিষ্ঠিত থাকেন এবং সেই দখলের স্বপক্ষে প্রাথমিক বরাদ্দপ্রাপক থেকে প্রাপ্ত বৈধ হস্তান্তর দলিল ও হলফনামা বিদ্যমান থাকে, তখন আদালত তার শান্তিপূর্ণ দখলে অবৈধ হস্তক্ষেপ রোধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে বাধ্য। পৌর বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দোকান হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নোটারাইজড অঙ্গীকারনামা ও হলফনামা দখল হস্তান্তরের অন্যতম নির্ভরযোগ্য প্রমাণ।
মাননীয় বিচারপতি জনাব মোঃ খসরুজ্জামান নথিপত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিম্নোক্ত অকাট্য পর্যবেক্ষণসমূহ প্রদান করেন:
ক. দালিলিক প্রমাণের অনুপস্থিতিতে যৌথ মালিকানার দাবি অসার:
হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন যে দরখাস্তকারী নূরে আলম দাবি করেছেন দোকানটি তিন ভাইয়ের যৌথ অর্থে কেনা হয়েছিল। কিন্তু আদালতে তিনি কোনো ভাড়ার রসিদ, লীজ দলিল, বা ব্যাংকিং জমার একটি কাগজও প্রদর্শনী হিসেবে দাখিল করতে পারেননি। সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দপত্র (প্রদর্শনী ৬) সম্পূর্ণভাবে মোঃ শাহ আলমের একক নামে। সুতরাং মৌখিক কথায় সরকারি রেকর্ড খণ্ডন করা যায় না।
খ. বরাদ্দপ্রাপকের ওয়ারিশগণের হলফনামা ও মামলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা:
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মূল বরাদ্দপ্রাপক শাহ আলমের বৈধ ওয়ারিশগণ (বিধবা স্ত্রী ও সন্তানগণ) মোকদ্দমায় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি; বরং তারা নোটারাইজড হলফনামা (প্রদর্শনী ১৩) দাখিল করে স্বীকার করেছেন যে তাদের পিতা জীবিতাবস্থায় বাদীর কাছে দোকানটির দখলস্বত্ব বিক্রি করে মূল্য গ্রহণ করেছিলেন। যেখানে স্বয়ং বিক্রেতার পরিবার বাদীর স্বত্ব স্বীকার করছে, সেখানে ভাইয়ের হস্তক্ষেপের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
গ. দীর্ঘ ১২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বাস্তব দখল:
বাদী ১৯৯৫ সালে পজেশন ক্রয়ের পর থেকে ২০০৭ সালে মোকদ্দমা দায়ের পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১২ বছর ধরে অবাধে ও শান্তিপূর্ণভাবে আড়ত ঘরটিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করে আসছেন। বিবাদী বা সিটি কর্পোরেশন কখনই তার বৈধ দখল খণ্ডন করতে পারেনি।
ঘ. অধস্তন দুই আদালতের সমরূপ রায়ে হস্তক্ষেপের অযোগ্যতা:
সহকারী জজ আদালত এবং জেলা জজ আদালত উভয়েই ঘটনা ও আইনের যথাযথ বিশ্লেষণ করে ডিক্রি দিয়েছেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীন রিভিশনাল এখতিয়ার কোনো তথ্যের দ্বিতীয় আপিল নয়। যখন উভয় আদালতের সিদ্ধান্তে কোনো বিচারিক ভুল বা এখতিয়ারগত ব্যত্যয় নেই, তখন হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত ডিক্রিতে হস্তক্ষেপ করবে না।
- দেওয়ানী রিভিশন না-মঞ্জুর (Revision Dismissed): ৩ নম্বর বিবাদী-দরখাস্তকারী মোঃ নূরে আলমের দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমাটি দোতরফাসূত্রে বিনা খরচে সরাসরি না-মঞ্জুর করা হলো।
- অধস্তন উভয় আদালতের ডিক্রি বহাল: ঢাকার অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত কর্তৃক দেওয়ানী আপিল নং ৭৬/২০১৩-এ ০৩.০৪.২০১৬ তারিখে প্রদত্ত রায় ও ১০.০৪.২০১৬ তারিখের আপিল ডিক্রি সম্পূর্ণ বহাল রাখা হলো।
- স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্ত: ঢাকার ২য় সহকারী জজ আদালত কর্তৃক Title Suit No. 479 of 2007-এ বাদীর অনুকূলে প্রদত্ত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও স্বত্বের ডিক্রি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হলো।
- নথিপত্র দ্রুত প্রেরণের নির্দেশ: এই রায়ের অনুলিপিসহ সংশ্লিষ্ট উভয় অধস্তন আদালতের যাবতীয় মূল নথিপত্র অবিলম্বে প্রেরণ করার জন্য হাইকোর্ট অফিসকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এই রায়ের প্রধান আইনি মূলনীতিসমূহ:
- পৌর বরাদ্দের প্রাধান্য: সরকারি বা পৌর সংস্থার রেকর্ডীয় একক বরাদ্দপত্র মৌখিক যৌথ দাবির চেয়ে চূড়ান্ত সাক্ষ্যগত শ্রেষ্ঠত্ব বহন করে।
- পজেশন হস্তান্তরে হলফনামার মূল্য: পৌর দোকানের পজেশন স্বত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রেতা ও তার ওয়ারিশগণের নোটারাইজড হলফনামা ও অঙ্গীকারনামা হস্তান্তরের অকাট্য আইনি প্রমাণ।
- দালিলিক প্রমাণের আবশ্যকতা: যে পক্ষ যৌথ ক্রয় বা মালিকানা দাবি করবে, সাক্ষ্য আইনের ১০১ ও ১০২ ধারা মতে তাকেই ব্যাংকিং লেনদেন ও ভাড়ার রসিদের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে।
- সমরূপ রায়ে রিভিশনের সীমাবদ্ধতা: ট্রায়াল ও আপিল আদালতের সমরূপ সিদ্ধান্তে (Concurrent Findings) আইনগত কোনো সুস্পষ্ট ভ্রান্তি না থাকলে ১১৫(১) ধারায় রিভিশন আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
সিটি কর্পোরেশন বা রাজউকের দোকান পজেশন কেনার পর মূল বরাদ্দগ্রহীতার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তার স্ত্রী ও সকল সন্তানের নোটারাইজড নো-অবজেকশন হলফনামা সংগ্রহে রাখুন।
প্রতিপক্ষ ভাই বা অংশীদার দাবি করলে জেরায় বের করে আনুন যে তারা কোনোদিন সিটি কর্পোরেশনে এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ করেনি।
দোকানের নিরবচ্ছিন্ন দখল প্রমাণের জন্য বাজার সমিতির সদস্য ফি, বিদ্যুৎ বিল ও ট্রেড লাইসেন্সের ধারাবাহিক কপি প্রদর্শনী করুন।
বিবাদী যদি বিক্রেতার স্বাক্ষর জাল বলে দাবি করে কিন্তু হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট ডাকার পদক্ষেপ না নেয়, তবে সাক্ষ্য আইনে তার দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল প্রমাণ করুন।
হাইকোর্টে রেসপনডেন্ট পক্ষে শুনানিকালে তুলে ধরুন যে সহকারী জজ ও অতিরিক্ত জেলা জজ তথ্যের ভিত্তিতে একমত হয়েছেন; ফলে ১১৫(১) ধারায় রিভিশন অচল।
| মামলার শিরোনাম ও নম্বর | দেওয়ানী রিভিশন নং ২০২২ / ২০১৬ (Civil Revision No. 2022 of 2016) |
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি জনাব মোঃ খসরুজ্জামান) |
| পক্ষসমূহ | মোঃ নূরে আলম (আলম) (৩ নম্বর বিবাদী-দরখাস্তকারী) বনাম মোঃ মামুন এবং অন্যান্য (১ নম্বর বাদী-অপরপক্ষগণ; ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, শাহ আলমের ওয়ারিশগণ) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব কাজী রেজাউল হোসেন, অ্যাডভোকেট | ১ নম্বর অপরপক্ষ পক্ষে: জনাব মোঃ জাকির হোসেন, অ্যাডভোকেট |
| অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় | অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত, ঢাকা (স্বত্ব আপিল নং ৭৬/২০১৩, রায়: ০৩.০৪.২০১৬, ডিক্রি: ১০.০৪.২০১৬) বহাল রেখে সহকারী জজ, ২য় আদালত, ঢাকা (স্বত্ব মামলা নং ৪৭৯/২০০৭, রায়: ২৭.০৯.২০১২, ডিক্রি: ১০.১০.২০১২) |
| শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ | রায় ঘোষণার তারিখ: ২২ নভেম্বর ২০১৮ (আপলোড: ২৫ আগস্ট ২০২৬) |
| আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা | দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ১১৫(১) ধারা; সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৫৪ ধারা (স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা); ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মার্কেট দোকান বরাদ্দ ও পজেশন হস্তান্তর; নোটারাইজড অঙ্গীকারনামা ও হলফনামা; কনকারেন্ট ফাইন্ডিংস (Concurrent Findings) |
| অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক |
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড 🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল |

