ওয়াকফ সম্পত্তি হস্তান্তর অযোগ্য ও চিরস্থায়ী: বিএস খতিয়ান বা আদালতের ভুলে ওয়াকফ স্বত্ব নষ্ট হয় না — সুপ্রিম কোর্ট

📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক ও তাত্ত্বিক রায়ে সুদৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেছেন যে, মুসলিম আইন এবং ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২ (Waqfs Ordinance, 1962) অনুযায়ী একবার কোনো সম্পত্তি বৈধভাবে ওয়াকফ ঘোষণা করা হলে তা চিরস্থায়ী (Perpetual), অপ্রত্যাহারযোগ্য (Irrevocable) এবং চিরতরে হস্তান্তর-অযোগ্য (Inalienable) পবিত্র সম্পত্তিতে পরিণত হয়। ওয়াকফ সৃষ্টির সাথে সাথে ওয়াকিফের (উৎসদাতার) ব্যক্তিগত মালিকানা নিঃশেষ হয়ে যায় এবং তার স্বত্ব সরাসরি মহান আল্লাহ তায়ালার অনুকূলে ন্যস্ত হয় (Vests in Almighty Allah)। ওয়াকফ এস্টেটের মোতাওয়াল্লী কেবল একজন তত্ত্বাবধায়ক বা ম্যানেজার মাত্র; তার কোনো ব্যক্তিগত স্বত্ব বা হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকে না। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীনভাবে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৫৬ ধারার সুস্পষ্ট বিধান লঙ্ঘন করে ওয়াকফ প্রশাসকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত ওয়াকফ সম্পত্তির যে কোনো হস্তান্তর, বণ্টন, জরিপ পরিবর্তন বা অন্য কারও নামে বিএস খতিয়ান প্রস্তুতকরণ আইনত বাতিল ও সম্পূর্ণ অকার্যকর (Void ab initio)। অধস্তন উভয় আদালত দেওয়ানী মোকদ্দমার রক্ষণীয়তা ও ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৫০ ধারার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ওয়াকফ এস্টেটের আরজি খারিজ করে চরম আইনি ভুল করেছেন। হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের দ্বৈত খারিজের রায় বাতিল করে মামলাটি নতুন করে বিচারার্থে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন এবং ওয়াকফ এস্টেটের স্বত্ব সুরক্ষায় স্থিতাবস্থা (Status Quo) বহাল রেখেছেন।

১. বিরোধের প্রেক্ষাপট ও ওয়াকফ সৃষ্টির ঐতিহাসিক পটভূমি (Background & Facts)

আলোচ্য মামলার সূচনা চট্টগ্রাম জেলার ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৯ সালে দায়েরকৃত ২৩৬ নম্বর অপর মোকদ্দমা (Other Class Suit No. 236 of 2009) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিল ঐতিহ্যবাহী ‘ছৈয়দুর রহমান সওদাগর ওয়াকফ এস্টেট’ (Soyedur Rahman Shaodagor Waqf Estate) এবং এর বৈধ মোতাওয়াল্লী বাদী হয়ে অপর প্রতিপক্ষ মোসাম্মৎ জেসমিন আক্তার ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে নালিশি ভূমিতে ওয়াকফ এস্টেটের চিরস্থায়ী স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনায়।

বাদীপক্ষে আরজির মূল ভাষ্য মতে, চট্টগ্রাম জেলার নালিশি আর.এস. ৬৮২ নং খতিয়ানের ৪২ নং দাগের মোট ৯২ শতক ভূমির মূল রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন বেগম জান। তিনি বিগত ০৮ এপ্রিল ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের ১০৭০ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত বিক্রয় কোবলা দলিলমূলে উক্ত ৪২ নং দাগের সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছৈয়দুর রহমান সওদাগরের নিকট হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ছৈয়দুর রহমান সওদাগর বিগত ০১ আগস্ট ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে একটি ওয়াকফনামা দলিল সম্পাদন করে উক্ত নালিশি ভূমিসহ অন্যান্য সম্পত্তি নিয়ে ‘ছৈয়দুর রহমান সওদাগর ওয়াকফ এস্টেট’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসনে তা তালিকাভুক্ত (Enlistment No. EC 5575) করান। প্রতিষ্ঠাতা ছৈয়দুর রহমান সওদাগর উক্ত এস্টেটের প্রথম মোতাওয়াল্লী নিযুক্ত হন। তার মৃত্যুর পর একমাত্র পুত্র নূরুল এলাহী ওরফে নূরুল ইসলাম মোতাওয়াল্লী হন এবং তার মৃত্যুর পর ২ নং বাদী বৈধভাবে মোতাওয়াল্লী পদে স্থলাভিষিক্ত হন।

নালিশি ৯২ শতক ভূমিতে ওয়াকফ এস্টেটের নামেই আর.এস. ও পি.এস. খতিয়ান যথারীতি প্রকাশিত ও প্রচারিত ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে বি.এস. জরিপ চলাকালে জরিপ কর্তৃপক্ষের ভুলে বা অসতর্কতায় উক্ত ওয়াকফ এস্টেটের ভূমির একটি অংশ ভুলবশত ২-১৭ নম্বর বিবাদীগণের পূর্বপুরুষের নামে বি.এস. খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে ১ নম্বর বিবাদী (মোসাম্মৎ জেসমিন আক্তার) দাবি করেন যে তিনি জনৈক আব্দুল আজিমের সাথে ২০০০ সালে একটি বায়নানামা সম্পাদন করেছিলেন এবং পরবর্তীতে ২০০৫ সালে অপর ১৬/২০০৫ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা দায়ের করে একটি কথিত আপস ডিক্রি (Solenama Decree) হাসিল করেন এবং আদালতের জারী মামলার মাধ্যমে ০১ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে কোবলা দলিল রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন। যখন ১ নং বিবাদী উক্ত আপস ডিক্রির অজুহাতে ওয়াকফ এস্টেটের সম্পত্তিতে বেদখলের হুমকি দেয় এবং ২০০৯ সালে বাদীপক্ষ জানতে পারে যে বিএস খতিয়ান ১২০ ভুলবশত বিবাদীগণের পূর্বসূরির নামে রেকর্ড হয়েছে, তখনই ওয়াকফ এস্টেটের স্বত্বে কালো মেঘ নেমে আসে এবং মোতাওয়াল্লী দেওয়ানী আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমা দায়ের করতে বাধ্য হন।

২. পক্ষগণের বিপরীতমুখী দাবি ও প্রতিদ্বন্দ্বী বক্তব্য (Pleadings of the Parties)

বিচারিক আদালতে ওয়াকফ এস্টেটের পবিত্র স্বত্ব রক্ষা বনাম ব্যক্তিগত বায়নানামা ও আপস ডিক্রির স্বত্ব দাবির মধ্যে তীব্র আইনি সংঘাত সৃষ্টি হয়।

🏛️ ওয়াকফ এস্টেট ও মোতাওয়াল্লী-বাদীর বক্তব্য

  • ১৯৩৫ সালের প্রাচীন ওয়াকফ: ১৯৩১ সালের দলিলের ভিত্তিতে ১৯৩৫ সালে ওয়াকফনামা দলিলমূলে সম্পত্তি ওয়াকফভুক্ত হয় এবং তা সরকারি ওয়াকফ প্রশাসনের তালিকাভুক্ত (EC 5575)।
  • আল্লাহর সম্পত্তিতে পরিণত: মুসলিম আইনে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি মহান আল্লাহর মালিকানায় ন্যস্ত হয়; কোনো ব্যক্তি বা ওয়ারিশের ব্যক্তিগত হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকে না।
  • আরএস ও পিএস খতিয়ানে স্বীকৃতি: আর.এস. ও পি.এস. জরিপে মোতাওয়াল্লীর নামে ওয়াকফ খতিয়ান চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত হয়েছিল, যা মালিকানার অকাট্য ভিত্তি।
  • বিএস খতিয়ানের মারাত্মক ত্রুটি: জরিপ বিভাগের কর্মচারীদের ভুলে ওয়াকফ এস্টেটের ভূমি ভুলবশত বিএস রেকর্ডে অন্যের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা স্বত্ব নষ্ট করতে পারে না।
  • যোগসাজশী আপস ডিক্রি অকার্যকর: ওয়াকফ এস্টেটকে পক্ষ না করে তৃতীয় পক্ষের মধ্যকার তথাকথিত আপস ডিক্রি ও আদালত মারফত রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ওয়াকফ এস্টেটের ওপর কোনোভাবেই প্রযোজ্য নয়।

🛡️ বিবাদীপক্ষের জবাব ও প্রতিরক্ষা যুক্তি

  • মোকদ্দমা আইনত বারিত: ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৫০ ধারামতে ওয়াকফ সম্পত্তির বিরোধের বিচারিক এখতিয়ার ওয়াকফ প্রশাসকের; দেওয়ানী আদালত সরাসরি মামলা শুনতে পারে না।
  • বিবাদীপক্ষের নিজস্ব মূল মালিকানা: বিএস ১২০ নং দাগের ভূমির মূল মালিক ছিলেন আব্দুল ওয়াদুদ সওদাগর, যার মৃত্যুর পর ওয়ারিশসূত্রে আব্দুল আজিম মালিক হন।
  • আদালতের ডিক্রিমূলে দলিল প্রাপ্তি: বায়নানামার পর চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমায় (অপর ১৬/২০০৫) সোলেনামা ডিক্রি সূত্রে আদালত মারফত ২০০৮ সালে কোবলা দলিল ১৮৪০৮ রেজিস্ট্রি হয়েছে।
  • বিএস রেকর্ড বিবাদীর পক্ষে: সর্বশেষ বি.এস. খতিয়ান বিবাদীপক্ষের নামেই আইনানুগভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং বিবাদীপক্ষ নিয়মিত দখলে রয়েছে।
  • ওয়াকফ এস্টেটের মামলা খারিজযোগ্য: বাদীপক্ষ কোনো প্রমাণ ছাড়াই অহেতুক দেওয়ানী মামলা দায়ের করেছে, যা রক্ষণীয় না হওয়ায় সরাসরি খারিজযোগ্য।

৩. বিচারিক ও আপিল আদালতের ভুল সিদ্ধান্ত (Subordinate Courts’ Findings)

চট্টগ্রামের ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত বিগত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মামলার মূল সারবত্তা ও ওয়াকফের দালিলিক প্রমাণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ না করেই মূলত ‘মোকদ্দমা রক্ষণীয় নয়’ এই অজুহাতে ওয়াকফ এস্টেটের আরজি খারিজ করে দেন। বিচারিক আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল যে, ওয়াকফ সংক্রান্ত বিষয় ওয়াকফ অধ্যাদেশের আওতায় সমাধান হওয়া উচিত।

উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতে ৮৫/২০১৮ নম্বর অপর আপিল দায়ের করলে তা শুনানির জন্য অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত, চট্টগ্রামে প্রেরিত হয়। বিগত ২৮ অক্টোবর ২০২১ তারিখে অতিরিক্ত জেলা জজ মহোদয় বিচারিক আদালতের বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত অন্ধভাবে বহাল রেখে আপিল সরাসরি নামঞ্জুর করেন। উভয় আদালতই ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৫০ ধারাকে ভুলভাবে প্রয়োগ করে মনে করেছিলেন যে ওয়াকফের সম্পত্তি নিয়ে দেওয়ানী আদালত কোনো রায় দিতে পারে না। উভয় আদালতের এরূপ ভ্রান্ত রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওয়াকফ এস্টেট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী রিভিশন নং ২৫২/২০২২ দায়ের করে।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের গভীর আইনি পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা (High Court Legal Analysis)

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে মাননীয় বিচারপতি মো: আব্দুর রহমান দীর্ঘ শুনানান্তে ৩৯ পৃষ্ঠার এক যুগান্তকারী ও তত্ত্বসমৃদ্ধ রায়ে মুসলিম আইন, ওয়াকফ আইন এবং দেওয়ানী কার্যবিধির সমন্বয় ঘটিয়ে নিম্নোক্ত মৌলিক সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেন:

⚖️ ওয়াকফ আইনের মৌলিক নীতিমালা ও হাইকোর্টের ৫টি প্রধান দিকনির্দেশনা

  1. মালিকানার চিরস্থায়ী হস্তান্তর (Divestment of Ownership): মুসলিম আইন অনুসারে একটি বৈধ ওয়াকফ সৃষ্টির মুহূর্তেই উৎসদাতার মালিকানা চিরতরে বিলুপ্ত হয় এবং তা মহান আল্লাহ তায়ালার অনুকূলে ন্যস্ত হয়। ওয়াকিফ নিজেও পরে তা প্রত্যাহার করতে পারেন না।
  2. মোতাওয়াল্লীর আইনি মর্যাদা (Mutawalli is a Trustee, not Owner): মোতাওয়াল্লী কোনো অবস্থাতেই ওয়াকফ সম্পত্তির মালিক নন; তিনি কেবল একজন সেবক বা ম্যানেজার। তিনি ওয়াকফ সম্পত্তি বিক্রি, বন্ধক বা হস্তান্তর করার কোনো অন্তর্নিহিত অধিকার রাখেন না।
  3. ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৫৬ ধারার অলঙ্ঘনীয় নিষেধাজ্ঞা: ওয়াকফ অধ্যাদেশ, ১৯৬২-এর ৫৬ ধারা অনুযায়ী ওয়াকফ প্রশাসকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত ওয়াকফ সম্পত্তির যে কোনো হস্তান্তর আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রশাসক ব্যতিরেকে অন্য কোনো ব্যক্তির দ্বারা সম্পাদিত হস্তান্তর বা আপস ডিক্রি আইনত অস্তিত্বহীন ও বাতিল (Void ab initio)।
  4. ভুল বিএস খতিয়ান স্বত্ব নষ্ট করে না: কেবল ভুল জরিপ বা বিএস রেকর্ডে অন্য কারও নাম ওঠায় ওয়াকফ এস্টেটের শত বছরের পবিত্র স্বত্ব বিলুপ্ত হতে পারে না। খতিয়ান কেবল রাজস্ব আদায়ের প্রমাণ, তা কোনো মূল স্বত্ব সৃষ্টি বা ধ্বংস করে না।
  5. দেওয়ানী আদালতের পূর্ণ এখতিয়ার: ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৫০ ধারার বিধান কোনোভাবেই দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ ধারা অনুযায়ী দেওয়ানী আদালতের সাধারণ এখতিয়ার কেড়ে নেয় না। ভুল খতিয়ানের কারণে ওয়াকফের স্বত্ব মেঘাচ্ছন্ন হলে মোতাওয়াল্লীর দেওয়ানী মামলা দায়েরের পূর্ণ আইনি অধিকার রয়েছে (ধারা ৬ক(৪) ও ৮৩)।

মাননীয় আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, অধস্তন আদালতসমূহ আরজির প্রার্থনার মর্মার্থ বুঝতে নিদারুণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বাদীপক্ষ কোনো ওয়াকফ এস্টেটের চরিত্র অস্বীকার করেননি; বরং ওয়াকফ এস্টেটের ভূমি ভুলবশত বিএস রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় দেওয়ানী আদালতে স্বত্বের ঘোষণা চেয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অধস্তন আদালত কর্তৃক সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচার না করে রক্ষণীয়তার অজুহাতে মামলা খারিজ করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ও কার্যকরী আদেশ (Operative Judgment)

হাইকোর্ট বিভাগ আবেদনকারী ওয়াকফ এস্টেটের পক্ষে ইস্যুকৃত রুল অ্যাবসোলিউট (Absolute) ঘোষণা করেন।

  • অধস্তন আদালতের উভয় রায় বাতিল: অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত, চট্টগ্রামের ২৮.১০.২০২১ তারিখের আপিল রায় এবং সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ১৭.০৯.২০১৭ তারিখের খারিজের রায় ও ডিক্রি সম্পূর্ণভাবে বাতিল (Set Aside) করা হলো।
  • পুনর্বিচারের জন্য রিমান্ড (Remand for Fresh Trial): মামলাটি গুণাগুণের ভিত্তিতে নতুন করে বিচারার্থে চট্টগ্রামের ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ফেরত পাঠানো হলো।
  • সংশোধন ও অতিরিক্ত সাক্ষ্যের সুযোগ: উভয় পক্ষকে তাদের আরজি ও লিখিত জবাব সংশোধন এবং প্রয়োজনবোধে অতিরিক্ত সাক্ষ্য ও দলিল উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হলো।
  • স্থিতাবস্থা বহাল (Status Quo Continued): বিচারিক আদালতে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশি ভূমির দখল ও অবস্থান সম্পর্কে হাইকোর্ট কর্তৃক ইতিপূর্বে জারীকৃত স্থিতাবস্থার অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ কার্যকর থাকবে।
  • দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ: বিচারিক আদালতকে কোনো অপ্রয়োজনীয় মুলতবি ব্যতিরেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

৬. ওয়াকফ সম্পত্তি সুরক্ষায় নাগরিক ও মোতাওয়াল্লীগণের জন্য ৫টি সতর্কবার্তা

  1. ওয়াকফ প্রশাসক হতে এনলিস্টমেন্ট বাধ্যতামূলক: যে কোনো ওয়াকফ সৃষ্টি হলে তা অবিলম্বে ওয়াকফ প্রশাসকের কার্যালয়ে তালিকাভুক্ত করিয়ে ইসি (EC) নম্বর গ্রহণ নিশ্চিত করুন।
  2. খতিয়ানে মোতাওয়াল্লীর পদবী ব্যবহার: ওয়াকফ অধ্যাদেশের ৬ক ধারামতে রেকর্ড অব রাইটসে মোতাওয়াল্লীর ব্যক্তিগত নামের পরিবর্তে ওয়াকফ এস্টেটের নাম ও পদবী লিপিবদ্ধ করাতে হবে।
  3. ৫৬ ধারার পূর্বানুমোদন ছাড়া বায়না বা বিক্রয় সম্পূর্ণ বাতিল: ওয়াকফ প্রশাসকের লিখিত অনুমতি ছাড়া ওয়াকফ সম্পত্তি কেনা বা বায়না করা মারাত্মক অপরাধ এবং তা আদালতে শুরু থেকেই অবৈধ সাব্যস্ত হবে।
  4. ভুল বিএস রেকর্ড দেখলে দ্রুত দেওয়ানী প্রতিকার: জরিপের সময় ওয়াকফ ভূমি ব্যক্তিবিশেষের নামে চলে গেলে কালক্ষেপণ না করে ঘোষণামূলক দেওয়ানী মামলা দায়ের করুন।
  5. গোপন আপস ডিক্রির ফাঁদ থেকে সাবধান: ওয়াকফ এস্টেটকে অন্ধকারে রেখে ওয়ারিশদের সাথে গোপনে সোলেনামা ডিক্রি করে জমি দখলের অপচেষ্টা সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অচল ও বাতিলযোগ্য।

📋 মামলার প্রাথমিক পরিচিতি ও বিচারিক তথ্য

উচ্চ আদালত ও এখতিয়ার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী রিভিশন এখতিয়ার)
একক বেঞ্চের বিচারপতি মাননীয় বিচারপতি মো: আব্দুর রহমান (Mr. Justice Abdur Rahman)
মামলার নম্বর দেওয়ানী রিভিশন নং ২৫২ / ২০২২ (Civil Revision No. 252 of 2022)
পক্ষগণ ছৈয়দুর রহমান সওদাগর ওয়াকফ এস্টেট ও অন্যান্য (বাদী-আপিলকারী-দরখাস্তকারী) বনাম মোসাম্মৎ জেসমিন আক্তার ও অন্যান্য (বিবাদী-রেসপনডেন্ট-প্রতিপক্ষ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মকবুল আহমেদ, জ্যেষ্ঠ অ্যাডভোকেট এবং জনাব সাইফুল কাদের চৌধুরী, অ্যাডভোকেট
প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব লিটন রঞ্জন দাস, অ্যাডভোকেট
উৎস ও বিচারিক আদালতসমূহ ১ম সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, চট্টগ্রাম (অপর মোকদ্দমা নং ২৩৬/২০০৯, খারিজের তারিখ: ১৭.০৯.২০১৭)
অতিরিক্ত জেলা জজ, ৫ম আদালত, চট্টগ্রাম (অপর আপিল নং ৮৫/২০১৮, খারিজের তারিখ: ২৮.১০.২০২১)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি: ০৭, ১৫ ও ২০ জুলাই ২০২৬
চূড়ান্ত রায়: ২৬ জুলাই ২০২৬ (আপলোড: ২০ আগস্ট ২০২৬)
মূল আইনি আলোচ্য বিষয় ও ধারা Waqfs Ordinance, 1962 (Sections 6A, 50, 56, 79, 80, 83); Code of Civil Procedure (Section 115(1), Order 41 Rule 23); Inalienability of Waqf Property, Divestment of Title to Almighty Allah, Correction of erroneous B.S. Khatian
অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক 📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড
🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button