সকাল ১০:১০ মিনিটে মামলা খারিজ স্বেচ্ছাচারিতা ও বেআইনি: ৯ আদেশ ৯ বিধিতে হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক যুগান্তকারী রায়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেছেন যে, আদালত বসার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে (সকাল ১০:১০ মিনিটে) হাজিরা না পাওয়ার অজুহাতে মূল দেওয়ানী মামলা সরাসরি খারিজ (Dismissal for default) করে দেওয়া চরম “স্বেচ্ছাচারিতা, বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মারাত্মক বিচারিক বিকৃতি (Arbitrary, capricious exercise of power and miscarriage of justice)”। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে বিচারপ্রার্থীদের পক্ষে কাঁটায় কাঁটায় ১০ ঘটিকায় আদালতে পৌঁছানো প্রায়শই অসম্ভব হয়ে পড়ে। যদি কোনো পক্ষ অযথা মামলা ঝুলিয়ে রাখার প্রবণতায় লিপ্ত না থাকে, তবে যান্ত্রিক কারণে সামান্য বিলম্বে হাজিরার দরুন আদালতের দরজা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যায় না। এমতাবস্থায় দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ৯ বিধি (Order IX Rule 9 CPC) অনুযায়ী উপযুক্ত খরচ (Cost) ধার্য করে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত (Restore) করাই বিধিসম্মত নীতি। একইসঙ্গে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, আপিল আদালত হলো তথ্যের চূড়ান্ত আদালত (Final court of fact); সুতরাং দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করে আপিল আদালতের সঠিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায় না (৫১ ডিএলআর এডি ৫৭)।
আলোচ্য মামলাটির সূচনা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া সহকারী জজ আদালতে। ডুমুরিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার নালিশি জমি নিয়ে স্বত্ব ঘোষণা ও দখল বহালের প্রার্থনা করে বাদী সঞ্জয় মণ্ডল ওরফে মল্লিক Title Suit No. 07 of 1994 দায়ের করেন।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের ঘটনাক্রম নিম্নরূপ:
- মূল মামলার শুনানির তারিখ ও সকাল ১০:১০ মিনিটে খারিজ: মূল স্বত্ব মামলায় বিবাদী সুবীর মণ্ডল গং লিখিত জবাব দাখিল করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ১৯৯৯ সালের ২১ জুন মোকদ্দমাটি চূড়ান্ত শুনানির জন্য ধার্য ছিল। ওই দিন ডুমুরিয়া সহকারী জজ আদালত এজলাসে বসার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ সকাল ১০:১০ মিনিটে দেখতে পান যে বাদী বা তার নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী কেউই হাজিরা দাখিল করেননি। সহকারী জজ নথি পর্যালোচনা করেই তৎক্ষণাৎ সকাল ১০:১০ মিনিটে মোকদ্দমাটি খারিজ (Dismissed for default) করে আদেশ দেন।
- ভ্যানের চাকা পাংচার ও ৯ আদেশ ৯ বিধিতে মিস কেস: বাদী সঞ্জয় মণ্ডল ও তার সাক্ষীরা গ্রাম থেকে ডুমুরিয়া আদালতে আসার উদ্দেশ্যে সকাল সকাল রওনা হলেও পথিমধ্যে তাদের যাত্রীবাহী ভ্যানগাড়ির চাকা পাংচার হয়ে বিকল হয়ে পড়ে। যানবাহন না পেয়ে তারা আদালতে পৌঁছাতে সামান্য বিলম্ব করেন। পৌঁছামাত্রই বাদীর আইনজীবী আদালতে সময় প্রার্থনার দরখাস্ত দিতে গেলে জানতে পারেন মামলাটি ইতিমধ্যে খারিজ হয়ে গেছে। এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদী দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ৯ বিধির অধীন সহকারী জজ আদালতে Miscellaneous Case No. 25 of 1999 দায়ের করে খারিজাদেশ প্রত্যাহার ও মামলাটি স্বনম্বরে পুনরুজ্জীবনের (Restoration) প্রার্থনা জানান।
- সহকারী জজের অনমনীয় মনোভাব ও মিস কেস খারিজ: সহকারী জজ আদালত ১৯৯৯ সালের ১০ নভেম্বর বাদীর উপস্থাপিত ভ্যানগাড়ির চাকা নষ্ট হওয়ার কারণকে কাল্পনিক ও অবিশ্বাস্য বলে রায় দেন এবং মিস কেসটি খারিজ করে দেন।
- আপিল আদালতের ন্যায়সঙ্গত হস্তক্ষেপ: উক্ত খারিজাদেশের বিরুদ্ধে বাদী খুলনা জেলা জজ আদালতে Miscellaneous Appeal No. 07 of 2000 দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। বিজ্ঞ ২য় যুগ্ম জেলা জজ উভয় পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিলটি মঞ্জুর করেন এবং সহকারী জজের আদেশ রদ ও রহিত করে মূল মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করার নির্দেশ দেন।
- হাইকোর্টে বিবাদীর রিভিশন ও স্থগিতাদেশ: আপিল আদালতের এই আদেশে ক্ষুব্ধ হয়ে বিবাদী সুবীর মণ্ডল গং হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় Civil Revision No. 2261 of 2010 দায়ের করেন। হাইকোর্ট ২০১০ সালে রুল জারি করেন এবং আপিল আদালতের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন, যা দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মুলতবি ছিল।
🏛️ বাদী সঞ্জয় মণ্ডলের আইনি যুক্তি
- সকাল ১০:১০ মিনিটে খারিজ বেআইনি: আদালত বসার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মোকদ্দমা খারিজ করা অযৌক্তিক। আদালত খোলার শুরুতে এত দ্রুত কোনো বিচারপ্রার্থীর অধিকার খর্ব করা যায় না।
- উপযুক্ত কারণ (Sufficient Cause): গ্রাম থেকে আসার পথে ভ্যানগাড়ির চাকা নষ্ট হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা। বাদী বা সাক্ষীদের কোনো ইচ্ছাকৃত অবহেলা ছিল না।
- খরচ সাপেক্ষে প্রতিকার: সহকারী জজ যদি সামান্য অসন্তুষ্ট হতেন, তবে তিনি অনায়াসে খরচ ধার্য করে মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে পারতেন; কিন্তু পুরো মামলা ধ্বংস করে দেওয়া সুবিচারের পরিপন্থী।
- আপিল আদালতের চূড়ান্ত কর্তৃত্ব: ২য় যুগ্ম জেলা জজ তথ্য ও প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়নে আপিল মঞ্জুর করেছেন। রিভিশনে তথ্যের সেই সিদ্ধান্ত নাকচ করার কোনো এখতিয়ার নেই।
🛡️ দরখাস্তকারী বিবাদী সুবীর মণ্ডলের যুক্তি
- বাদী ও আইনজীবীর অনুপস্থিতি: চূড়ান্ত শুনানির তারিখে নির্ধারিত সময়ে বাদী ও তার নিযুক্ত আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো পদক্ষেপও নেননি।
- ভ্যানের অজুহাত বানোয়াট: ভ্যান নষ্ট হওয়ার দাবি সম্পূর্ণ সাজানো ও অপ্রমাণিত। ট্রায়াল কোর্ট যথাযথভাবেই এই মিথ্যা অজুহাত প্রত্যাখ্যান করেছে।
- হয়রানিমূলক মামলা বিলম্বিতকরণ: বিবাদীদের হয়রানি করার লক্ষ্যেই বাদী সময়ক্ষেপণ করছিলেন, তাই সহকারী জজের খারিজাদেশ সম্পূর্ণ আইনানুগ ছিল।
- আপিল আদালতের আইনগত ভুল: আপিল আদালত বাদীর চরম গাফিলতি উপেক্ষা করে কোনো শক্তিশালী কারণ ছাড়াই সহকারী জজের রায় উল্টে দিয়ে আইনগত ভুল করেছে।
এই মামলায় বিচারিক দ্বন্দ্বের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল— দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ৯ বিধির অধীন ‘যথেষ্ট কারণ’ (Sufficient Cause) প্রমাণের মানদণ্ড কেমন হবে এবং আদালত বসার প্রারম্ভেই মামলা খারিজ করার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত।
⚖️ সহকারী জজ আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি:
সহকারী জজ আদালত যান্ত্রিক ও অত্যন্ত কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি মনে করেন, আদালতের ধার্য দিনে সঠিক সময়ে উপস্থিত না থাকা বাদীর চরম গাফিলতি। ভ্যান নষ্ট হওয়ার স্বপক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক মেকানিকের রসিদ বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকায় আদালত বিষয়টিকে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে সাজানো গল্প আখ্যা দেন এবং মিস কেস খারিজ করেন।
⚖️ যুগ্ম জেলা জজ (আপিল আদালত) আদালতের বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি:
বিপরীতে, আপিল আদালত সামগ্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেন। তিনি লক্ষ্য করেন যে, আদালত বসার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় অর্থাৎ ১০:১০ মিনিটে মামলা খারিজ করা হয়েছে। একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিচারপ্রার্থী পথিমধ্যে যানবাহন বিভ্রাটে পড়লে ১০-১৫ মিনিট দেরি হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক মানবিক ঘটনা। যেখানে বাদী বারবার সময় চেয়ে মামলা পেছাচ্ছিলেন না, সেখানে প্রথম ধাক্কাতেই মামলা খারিজ করে দেওয়া ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। তাই আপিল আদালত মিস আপিল মঞ্জুর করেন।
মাননীয় বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরী নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে অধস্তন আদালতের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন:
ক. সকাল ১০:১০ মিনিটে মামলা খারিজ আদালতের চরম স্বেচ্ছাচারিতা:
হাইকোর্ট রায়ে সরাসরি উল্লেখ করেন: “Record reveals that the original suit was dismissed at 10.10 a.m. At that time it is a bit difficult on the part of the litigant people to appear before the court from the remote area.” আদালত শুরু হওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মামলা খারিজ করে দেওয়াকে হাইকোর্ট “Arbitrary and capricious exercise of power and highly perverted and committed miscarriage of justice” হিসেবে আখ্যা দেন এবং নিম্ন আদালতের এই ধরনের মানসিকতার তীব্র নিন্দা (Highly deprecated) জানান।
খ. সামান্য বিলম্বে আদালতের দরজা বন্ধ করা যায় না (Order 9 Rule 9 CPC):
হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন, মূল মামলায় বাদী দীর্ঘদিন ধরে অযথা সময় নিচ্ছেন বা মামলা ঝুলিয়ে রেখেছেন এমন কোনো প্রমাণ নথিতে নেই। আদালত যদি বিলম্বে পৌঁছানোর কারণে সামান্য অসন্তুষ্টও হতেন, তবুও দেওয়ানী কার্যবিধির ৯ আদেশ ৯ বিধির অধীন বাদীকে কিছু ক্ষতিপূরণ বা খরচ (Cost) প্রদানের শর্তে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করা উচিত ছিল। মাত্র ১০ মিনিট দেরির কারণে বাদীর মূল স্বত্ব মামলার বিচারের পথ চিরতরে রুদ্ধ করে দেওয়া আদালতের ক্ষমতার বিকৃতি।
গ. আপিল আদালতই তথ্যের চূড়ান্ত আদালত (Final Court of Fact):
হাইকোর্ট বিভাগ পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ১ম আপিল আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে বাদীর বিলম্বে পৌঁছানোর কারণ যুক্তিসঙ্গত ও বিশ্বাসযোগ্য ছিল। আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, আপিল আদালত হলো বাস্তব ঘটনার চূড়ান্ত আদালত (Final court of fact)। যতক্ষণ না আপিল আদালতের রায়ে কোনো মারাত্মক আইনগত ভুল, প্রমাণের চরম অপব্যাখ্যা বা স্পষ্ট স্বেচ্ছাচারিতা (Manifest perversity) প্রমাণিত হয়, ততক্ষণ রিভিশনাল আদালত আপিল আদালতের রায়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
📚 হাইকোর্ট কর্তৃক অনুসৃত সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজিরসমূহ
আপিল আদালতের বাস্তব সিদ্ধান্তের ওপর রিভিশনাল আদালতের অনধিকার হস্তক্ষেপ বন্ধে মাননীয় বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একগুচ্ছ ঐতিহাসিক রায় উদ্ধৃত করেন:
- Kochi Mia v. Suruj Mia, 51 DLR (AD) 57: আপিল আদালত ঘটনার শেষ আদালত; রিভিশনে তাদের তথ্যের অনুসন্ধানে হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।
- Bangladesh v. Chand Mia, 1992 BLD (AD) 48: “It is no function of the revisional court to sit in appeal over the findings of the appellate court.” অর্থাৎ আপিল আদালতের তথ্যের সিদ্ধান্তের ওপর রিভিশনাল কোর্ট দ্বিতীয় আপিল আদালত হিসেবে বসতে পারে না।
- Shahjahan v. Mir Hossain, 1997 BLD (AD) 218: সাক্ষ্য পর্যালোচনায় আপিল আদালত কোনো স্পষ্ট বিকৃতি না ঘটালে রিভিশনাল এখতিয়ার নিষ্ক্রিয় থাকবে।
- Hazrat v. Santosh, 5 BLC (AD) 11 এবং Sona Mia v. Abdul Khaleque, 1990 BLD (AD) 209: তথ্যের ব্যাপারে আপিল আদালতের রায় চূড়ান্ত ও অলঙ্ঘনীয়।
সার্বিক আইনি ও পারিপার্শ্বিক পর্যালোচনার ভিত্তিতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ নিম্নোক্ত চূড়ান্ত আদেশ প্রদান করেন:
- রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged): বিবাদী পক্ষের দায়েরকৃত দেওয়ানী রিভিশন আবেদনটি সরাসরি গুণাগুণের ভিত্তিতে খারিজ (Discharged) করা হলো।
- আপিল আদালতের আদেশ বহাল ও মামলা পুনরুজ্জীবিত: খুলনা ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক মিস আপিল নং ০৭/২০০০ মঞ্জুরের আদেশ চূড়ান্তভাবে বহাল রাখা হলো এবং মূল Title Suit No. 07 of 1994 পুনরুজ্জীবিত হলো।
- স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার: হাইকোর্ট কর্তৃক রিভিশন জারির সময় প্রদত্ত দীর্ঘদিনের স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও বাতিল করা হলো।
- ৮ মাসের মধ্যে মূল মামলা নিষ্পত্তির কঠোর নির্দেশ: যেহেতু ১৯৯৪ সালের মূল মামলাটি প্রায় ৩ দশক ধরে আটকে আছে, তাই ট্রায়াল কোর্টকে (ডুমুরিয়া সহকারী জজ আদালত) রায়ের কপি পৌঁছানোর তারিখ হতে পরবর্তী ৮ (আট) মাসের মধ্যে মূল স্বত্ব মোকদ্দমাটি আবশ্যিকভাবে নিষ্পত্তি করার কড়া নির্দেশ প্রদান করা হলো।
১. ১০:১০ মিনিটে খারিজ বিচারিক বিকৃতি
আদালত খোলার মাত্র দশ মিনিটের মাথায় বিচারপ্রার্থীদের অনুপস্থিতে মামলা খারিজ করা ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার এবং সুবিচারের পরিপন্থী।
২. খরচ সাপেক্ষে শুনানির সুযোগ
সামান্য বিলম্বে হাজিরার ক্ষেত্রে আদালতের দরজা বন্ধ না করে উপযুক্ত খরচ বা ক্ষতিপূরণ ধার্য করে ৯ আদেশ ৯ বিধিতে মামলা চালু করাই আইনসঙ্গত।
৩. তথ্যের প্রশ্নে আপিল আদালতই শেষ কথা
দেরির কারণ বিশ্বাসযোগ্য কিনা তা আপিল আদালত নির্ধারণ করলে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারায় রিভিশনাল কোর্ট তার ওপর দ্বিতীয় আপিল আদালত হতে পারে না।
৪. গুণাগুণের ভিত্তিতে বিচার অগ্রাধিকার
আইনের টেকনিক্যাল নিয়ম বিচারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য, বিচারপ্রার্থীকে আদালতের চৌকাঠ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হাতিয়ার নয়।
দূরদূরান্ত থেকে আদালতে আসতে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে স্থানীয় আইনজীবী বা মুহুরি মারফত প্রাতঃকালে আদালত বসার সাথে সাথেই “Pass Over” চেয়ে দরখাস্ত বা হাজিরা দিয়ে রাখুন।
সকালে মামলা ভুলবশত খারিজ হয়ে গেলে আদালত কক্ষ ত্যাগ না করে ওই দিনই এজলাস চলাকালীন সময়ে আইনজীবীসহ উপস্থিত হয়ে তাৎক্ষণিক দরখাস্ত দাখিল করুন।
যানবাহন নষ্ট হওয়া বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাস্তব কারণ থাকলে তা স্পষ্ট করে হলফনামা (Affidavit) সহকারে পেশ করুন যেন আদালত সেটিকে নিছক অবহেলা মনে না করে।
দরখাস্তে সবসময় এই বিকল্প প্রার্থনা রাখুন যে, আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার ক্ষতিপূরণ বাবদ যুক্তিসঙ্গত খরচ বহন করতে বাদী প্রস্তুত রয়েছে।
আপিল আদালত যদি কোনো মিস আপিল তথ্যের ভিত্তিতে মঞ্জুর করে, তবে উচ্চ আদালতে রিভিশন দায়ের করে অযথা কালক্ষেপণ করবেন না; কারণ আপিল আদালতের তথ্যের রায় প্রায় অলঙ্ঘনীয়।

