ক্লার্ক দিয়ে মক্কেল সংগ্রহ ও ফি ভাগাভাগির অপরাধে বার কাউন্সিলে নালিশী দরখাস্ত – ২০১১

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষা ২০১১: প্রশ্ন ১৭ এর পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান

মূল প্রশ্ন:

১৭. মি. ক অধস্তন আদালতে জমজমাটভাবে ফৌজদারী মামলা করেন। তিনি তিনজন ক্লার্ক নিয়োগ করিয়াছেন। তাহাদের মধ্যে একজনকে রেলওয়ে স্টেশনে, একজনকে বাস স্ট্যাণ্ডে এবং অপরজনকে জেলার কোতয়ালী থানায় মক্কেল সংগ্রহের জন্য পাঠাইয়াছেন। এই আইনজীবী মামলা সংগ্রহের জন্য তিন জন ক্লার্কের সহিত তার ফি ভাগাভাগি করেন। তিনি প্রফেশনাল কনডাক্ট ও এটিকেটের অধীনে কি অপরাধ করেছেন? বার কাউন্সিলের সচিবকে সম্বোধন করিয়া একটি নালিশী দরখাস্ত মুসাবিদা করুন।

১. অপরাধ ও পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের স্বরূপ

মি. ক-এর উপরিউক্ত কার্যকলাপ আইন পেশার সুমহান মর্যাদাকে কলঙ্কিত করেছে। তিনি Canons of Professional Conduct and Etiquette এর সুস্পষ্ট দুটি অধ্যায় লঙ্ঘন করেছেন:

  1. বিজ্ঞাপন ও দালালি নিষিদ্ধকরণ (Chapter II, Rule 6 – Solicitation of Business): কোনো আইনজীবী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দালাল (Tout) বা মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করে মামলা সংগ্রহ (Solicit business) করতে পারেন না। রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও থানায় ক্লার্ক পাঠিয়ে মক্কেল শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ ‘দালালি’ বা ‘Touting’।
  2. অননুমোদিত ব্যক্তির সাথে ফি ভাগাভাগি নিষিদ্ধ (Chapter II, Rule 7 – Sharing of Fees with Unlicensed Persons): কোনো আইনজীবী তার পেশাগত পারিশ্রমিক বা ফি কোনো ক্লার্ক, কর্মচারী বা অননুমোদিত ব্যক্তির সাথে ভাগ করতে পারেন না। আইন পেশা কোনো বাণিজ্যিক কারবার নয়।

অতএব তিনি The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 32 অনুযায়ী চরম পেশাগত অসদাচরণের (Gross Professional Misconduct) দায়ে অপরাধী।

২. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবরে নালিশী দরখাস্ত মুসাবিদা

বরাবর
সচিব
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
বার কাউন্সিল ভবন, ঢাকা।

দরখাস্তকারী: অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, জেলা বার সমিতি, ময়মনসিংহ।
…………… অভিযোগকারী
—বনাম—
বিপক্ষ: অ্যাডভোকেট মি. ক, পিতা- অজ্ঞাত, জেলা বার সমিতি, ময়মনসিংহ।
…………… অভিযুক্ত আইনজীবী

অভিযোগের বিষয়: দালাল মারফত মক্কেল সংগ্রহ ও অননুমোদিত কর্মচারীর সাথে ফি ভাগাভাগি করার দায়ে Canons of Professional Conduct এর Chapter II, Rule 6 ও 7 এবং Legal Practitioners Order, 1972 এর Article 32 মোতাবেক পেশাগত অসদাচরণের নালিশ।

বিনীত নিবেদন এই যে:

  1. অভিযোগকারী ও বিপক্ষ আইনজীবী উভয়েই ময়মনসিংহ জেলা বার সমিতির নিয়মিত সদস্য এবং অধস্তন আদালতে আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।
  2. বিপক্ষ আইনজীবী মি. ক সম্প্রতি অধিক উপার্জনের অসৎ উদ্দেশ্যে তিনজন বেতনভুক্ত সহকারী/ক্লার্ক নিয়োগ করেছেন এবং তাদেরকে যথাক্রমে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন, মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড এবং কোতয়ালী থানার মুখে অবস্থান করিয়ে আগত অসহায় মক্কেলদের প্রলুব্ধ করে নিজ চেম্বারে নিয়ে আসার দায়িত্বে নিয়োজিত রেখেছেন।
  3. বিপক্ষ উক্ত তিন ক্লার্কের মাধ্যমে সংগ্রহকৃত মামলার মোট ফিস হতে নির্দিষ্ট শতকরা হারে কমিশন (দালালি) ভাগাভাগি করেন, যা প্রকাশ্য প্রমাণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
  4. উক্ত রূপ বাণিজ্যিক ও দালালিনির্ভর আচরণ আইন পেশার পবিত্রতাকে সাধারণ মানুষের নিকট চরমভাবে হেয়প্রতিপন্ন করছে এবং পেশাগত আচরণবিধির ৬ ও ৭ নম্বর বিধির প্রকাশ্য লঙ্ঘন।

অতএব বিনীত প্রার্থনা:
বার কাউন্সিল সদয় হয়ে উক্ত নালিশটি আমলে নিয়ে বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে প্রেরণপূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত আইনজীবী মি. ক-এর পেশাগত ওকালতি সনদ বাতিল বা উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে মর্জি হয়।

সত্যপাঠ: অত্র দরখাস্তের বিবরণ আমার প্রত্যক্ষ জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সত্য।
স্বাক্ষর: সাইফুল ইসলাম (আইনজীবী)

Related Articles

Back to top button