আপিল বিভাগের নির্দেশ উপেক্ষা ও তথ্য গোপন করে আরজি খারিজের অপচেষ্টায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা: হাইকোর্ট
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বিচারিক অবাধ্যতা, তথ্য গোপন এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ১১ বিধির (Order VII Rule 11 CPC) অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এক কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ (Article 111 of Constitution) অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন ও প্রদত্ত আদেশ হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের সকল অধস্তন আদালতের জন্য চূড়ান্ত ও অলঙ্ঘনীয়ভাবে বাধ্যতামূলক। আপিল বিভাগ একবার কোনো দেওয়ানী মামলা আইন অনুযায়ী বিচার চালিয়ে যাওয়ার (Proceed with trial) দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ প্রদান করলে, বিচারিক আদালত উক্ত মামলার কার্যকারিতা বা আরজি খারিজ করার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ‘ফাঙ্কটাস অফিসিও’ (Functus Officio)। ক্ষুদ্র কারণিক আদালত (SCC Suit) থেকে ভাড়াটিয়া উচ্ছেদের ডিক্রি হলেও তা চুক্তি প্রবলের (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমাকে কোনোভাবেই আইনত বারিত করে না। আপিল বিভাগের রায় গোপন করে প্রতারণামূলকভাবে ট্রায়াল কোর্ট থেকে আরজি খারিজের আদেশ হাসিল করায় হাইকোর্ট বিবাদী-দরখাস্তকারীদের ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা করেছেন।
মামলাটি ঢাকা ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০১২ সালে দায়েরকৃত চুক্তি প্রবল ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা Title Suit No. 400 of 2012 থেকে উদ্ভূত।
মামলার মূল ঘটনা ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ক্রম নিম্নরূপ:
- চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা দায়ের: বাদীপক্ষ (১-১৩ নম্বর প্রতিপক্ষ) বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ১৯৮০ সালের ৫ এপ্রিল সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance of Contract) এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রি চেয়ে ২০১২ সালে Title Suit No. 400 of 2012 দায়ের করেন।
- সহকারী জজ কর্তৃক স্বপ্রণোদিত মামলা খারিজ: মোকদ্দমা দায়েরের পর ঢাকা ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ২০১২ সালের ১৫ অক্টোবর ২ নম্বর আদেশে স্বপ্রণোদিতভাবে (Suo-motu) মামলাটি অচল (Maintainable নয়) মর্মে সরাসরি খারিজ করে দেন।
- জেলা জজ ও হাইকোর্টে প্রাথমিক ব্যর্থতা: উক্ত খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ জেলা জজ আদালতে Civil Revision No. 244 of 2012 দায়ের করলে তা ২০১৩ সালের ৪ জুন খারিজ হয়। এরপর হাইকোর্ট বিভাগে Civil Revision No. 2675 of 2013 দায়ের করা হলে ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ করে অধস্তন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন।
- আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ: অবিচল থেকে বাদীপক্ষ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে Civil Petition for Leave to Appeal No. 2931 of 2016 দায়ের করেন। মাননীয় আপিল বিভাগ ২০১৭ সালের ২ মার্চ তারিখের রায়ে হাইকোর্ট বিভাগের রায় বাতিল করে দেন এবং সহকারী জজ আদালতকে আইন অনুযায়ী মূল দেওয়ানী মামলার বিচার সম্পন্ন করার (Proceed with the suit) চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদান করেন।
- বিবাদীদের তথ্য গোপন ও ৭ আদেশ ১১ বিধির দরখাস্ত: আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট আদেশের পর মামলা যখন বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে ফিরে আসে, তখন বিবাদী-দরখাস্তকারীগণ আপিল বিভাগের ২০১৭ সালের সেই আদেশের কথা সম্পূর্ণ গোপন করে দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ১১(ক) ও (ঘ) বিধিতে আরজি সরাসরি খারিজের (Rejection of Plaint) এক কুটিল দরখাস্ত দাখিল করেন।
- সহকারী জজের ভুল আদেশ ও জেলা জজের হস্তক্ষেপ: ঢাকা ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর আপিল বিভাগের নির্দেশনা সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গিয়ে আরজি খারিজ করে দেন। কিন্তু জেলা জজ আদালত আপিলে (Title Appeal No. 78 of 2020) ২০২২ সালের ৬ জুলাই ট্রায়াল কোর্টের আদেশ বাতিল করে মামলা পুনরুজ্জীবিত করেন।
- বিবাদীদের রিভিশন ও হাইকোর্টের রুল: জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদী মাসুদুর রহমান গং হাইকোর্টে Civil Revision No. 3118 of 2022 দায়ের করেন।
🛡️ দরখাস্তকারী বিবাদীদের যুক্তি (Petitioners)
- উচ্ছেদ ডিক্রির পর মামলা অচল: বিবাদীগণ এসসিসি মোকদ্দমা নং ২১/২০০৪-এ বাদীদের বিরুদ্ধে দোকানঘর উচ্ছেদের ডিক্রি পেয়ে জারি মামলার মাধ্যমে তাদের দখলচ্যুত করেছেন; তাই একই বিষয়ে নতুন মামলা অচল।
- আপিল বিভাগের আদেশ বাধ্যকর নয়: লিভ টু আপিল নিষ্পত্তির আদেশ আরজি খারিজের দরখাস্ত শুনানিতে ট্রায়াল কোর্টের এখতিয়ার সংকুচিত করে না।
- মামলার কারণে ত্রুটি: আরজিতে কোনো বৈধ কজ অব অ্যাকশন নেই এবং মামলাটি তামাদি ও আইনে বারিত হওয়ায় ৭ আদেশ ১১ বিধিতে খারিজযোগ্য।
🏛️ প্রতিপক্ষ বাদীপক্ষের জোরালো যুক্তি (Opposite Parties)
- আপিল বিভাগের আদেশ চূড়ান্ত: সিপি নং ২৯৩১/২০১৬-এ দেশের সর্বোচ্চ আদালত স্বয়ং মামলা ট্রায়ালে নেওয়ার দ্ব্যর্থহীন আদেশ দিয়েছেন; এর অবাধ্য হওয়া আদালত অবমাননাকর।
- উচ্ছেদের সাথে চুক্তি প্রবলের সম্পর্ক নেই: আপিল বিভাগ পরিষ্কার বলে দিয়েছেন যে ভাড়াটিয়া হিসেবে উচ্ছেদ হলেও চুক্তির স্বত্বে বায়নাকৃত জমি পাওয়ার মামলা আইনে বারিত নয়।
- প্রতারণামূলক তথ্য গোপন: বিবাদীগণ আপিল বিভাগের রায় ট্রায়াল কোর্টের নিকট সচেতনভাবে লুকিয়ে রেখে অসদুপায়ে আরজি খারিজের আদেশ হাসিল করেছিলেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ দেশের বিচারিক কাঠামোর শীর্ষবিন্দু। সংবিধানের দ্ব্যর্থহীন নির্দেশনায় আপিল বিভাগের বিচারিক আদেশের আধিপত্য ও বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১১:
“আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধস্তন সকল আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে।”
আইনি অনুশাসন: আপিল বিভাগ কোনো নির্দিষ্ট মামলায় যে আইনি অনুশাসন জারি করেন এবং যে বিচারিক নির্দেশ প্রদান করেন, তা কোনো ট্রায়াল কোর্ট বা জজ আদালত তো বটেই, এমনকি হাইকোর্ট বিভাগও অমান্য বা পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না। যদি কোনো বিচারক বা পক্ষ আপিল বিভাগের নির্দেশকে অগ্রাহ্য করে ভিন্ন আদেশ দেয় বা চায়, তা সরাসরি সংবিধান লঙ্ঘন এবং চরম বিচারিক বিশৃঙ্খলা (Judicial Anarchy) হিসেবে গণ্য হবে।
মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী নিম্ন আদালতের নথিপত্র এবং আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশ গভীর অভিনিবেশ সহকারে পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন:
ক. ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ বনাম চুক্তি প্রবল— আপিল বিভাগের নীতি:
হাইকোর্ট আপিল বিভাগের ২ মার্চ ২০১৭ তারিখের রায়ের মূল অংশ হুবহু উদ্ধৃত করেন:
“We add that because of the filing of a suit for eviction and decree passed pursuant thereto, a suit at the instance of the tenant for specific performance will not be barred by any provisions of law.”
অর্থাৎ, একজন ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে বাড়িওয়ালা এসসিসি কোর্টে উচ্ছেদ মামলা করে ডিক্রি পেলেও, উক্ত ভাড়াটিয়া যদি বাড়িওয়ালার সাথে জমি বা দোকান ক্রয়ের বৈধ চুক্তি করে থাকেন, তবে চুক্তি বাস্তবায়নের (Specific Performance) দেওয়ানী মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে উচ্ছেদ ডিক্রি কোনো আইনগত বাধা সৃষ্টি করে না। দুটি মামলার কারণ ও প্রতিকার সম্পূর্ণ ভিন্ন।
খ. ট্রায়াল কোর্টের ফাঙ্কটাস অফিসিও (Functus Officio) হওয়া:
হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে ব্যক্ত করেন— আপিল বিভাগ যখন স্বয়ং মামলাটি মেইনটেইনেবল ঘোষণা করে বিচারিক আদালতকে মূল সাক্ষ্য-প্রমাণ নিয়ে মোকদ্দমার বিচার করার নির্দেশ দিয়েছেন, তখন সেই প্রশ্নটির ওপর বিচারিক আদালত সম্পূর্ণ ‘ফাঙ্কটাস অফিসিও’ (Functus Officio) হয়ে গেছে। একই আদালত নতুন করে ৭ আদেশ ১১ বিধিতে ‘মামলা অচল বা আইনে বারিত’ বলে আরজি খারিজ করার বিন্দুমাত্র আইনগত এখতিয়ার বা অধিকার রাখে না।
গ. বিবাদী কর্তৃক সচেতন তথ্য গোপন ও জালিয়াতি (Fraud on Court):
হাইকোর্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে লক্ষ্য করেন যে, বিবাদীগণ ট্রায়াল কোর্টে ৭ আদেশ ১১ বিধির যে দরখাস্তটি দিয়েছিলেন, তার কোথাও আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক আদেশের একটি কথাও উল্লেখ করেননি। বিবাদীগণ জেনেশুনে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ গোপন করে নিম্ন আদালতের ওপর এক জঘন্য প্রতারণা (Fraudulent suppression of fact) চালিয়েছেন এবং বিচারককে বিভ্রান্ত করে আরজি খারিজের অবৈধ আদেশ হাসিল করেছেন।
ঘ. দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা ধার্য (Imposition of Heavy Costs):
আদালতের পবিত্র প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করা এবং সুপ্রিম কোর্টের রায় গোপন করে বিচার বিলম্বিত করার এই অসৎ অপচেষ্টাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হাইকোর্ট বিভাগ বিবাদী-দরখাস্তকারীদের ওপর নগদ ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা খরচ বা জরিমানা আরোপ করেন।
- রুল খারিজ ও ২৫,০০০ টাকা জরিমানা: বিবাদী-দরখাস্তকারীদের রিভিশন রুল ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা খরচসহ সরাসরি খারিজ (Rule Discharged with costs of Tk. 25,000) করা হলো।
- ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানা জমার নির্দেশ: দরখাস্তকারীগণকে এই রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত ২৫,০০০ টাকা বিচারিক আদালতে জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলো।
- জেলা জজের আদেশ বহাল: ঢাকা জেলা জজের আদেশ বহাল রেখে সহকারী জজ আদালতকে অবিলম্বে মূল মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
- ৬ মাসের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তির তাগিদ: বিচারিক আদালতকে রায় প্রাপ্তির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে নিশ্চিতভাবে মূল স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৪০০/২০১২-এর পূর্ণাঙ্গ ট্রায়াল সম্পন্ন করে রায় ঘোষণার নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):
- সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা: আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অধস্তন আদালতের জন্য পরম অনুশাসন। আপিল বিভাগ কোনো মামলাকে বিচারযোগ্য ঘোষণা করার পর কোনো অধস্তন আদালত তা পুনরায় আইনত বারিত বা আরজি খারিজ বলে আদেশ দিতে পারে না।
- ফাঙ্কটাস অফিসিও নীতির প্রয়োগ: একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ঊর্ধ্বতন আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর বিচারিক আদালত সেই একই বিষয়ে পুনরায় বিচারিক মনের প্রয়োগ করার এখতিয়ার হারিয়ে ফেলে।
- উচ্ছেদ ডিক্রি বনাম চুক্তি প্রবল: উচ্ছেদ মামলার ডিক্রি ভাড়াটিয়া সত্ত্বের বিলুপ্তি ঘটায়, কিন্তু চুক্তির পক্ষ হিসেবে তার স্বত্ব অর্জনের অধিকারকে নস্যাৎ করে না।
- তথ্য গোপনের মাধ্যমে বিচারিক প্রতারণা: বিচারিক নথিতে উচ্চ আদালতের আদেশ গোপন করে কোনো আদেশ হাসিল করা হলে আদালত কেবল সেই আদেশ বাতিলই করবে না, বরং দৃষ্টান্তমূলক জরিমানা আরোপের মাধ্যমে অপব্যবহার দমন করবে।
আপিল বিভাগ বা হাইকোর্ট বিভাগের কোনো প্রতিকূল আদেশ আরজি বা জবাবে গোপন রাখা পেশাগত অসদাচরণ এবং এর ফলে মক্কেলকে ভারী আর্থিক জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়।
যেখানে আপিল বিভাগ মামলা পূর্ণাঙ্গ বিচারে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে, সেখানে ৭ আদেশ ১১ বিধিতে আরজি খারিজ চাওয়া আইনি নির্বুদ্ধিতা।
ভাড়াটিয়া উচ্ছেদ হলেও তার যদি বৈধ বায়নানামা থাকে, তবে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারায় অবিলম্বে চুক্তি প্রবলের মামলা দায়ের করে প্রতিকার দাবি করুন।
প্রতিপক্ষ উচ্চ আদালতের রায় অমান্য করে অহেতুক স্থগিতাদেশ চাইলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৫ক ধারা ও অন্তর্নিহিত ক্ষমতায় দৃষ্টান্তমূলক খরচের প্রার্থনা করুন।
অধস্তন আদালতে মামলা পরিচালনার সময় আপিল বিভাগের রায় কার্যকর করতে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে আদালতকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিন।
| মামলার শিরোনাম ও নম্বর | দেওয়ানী রিভিশন নং ৩১১৮ / ২০২২ (Civil Revision No. 3118 of 2022) |
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (মাননীয় বিচারপতি মো: সোহরাওয়ার্দী / Mr. Justice Md. Shohrowardi) |
| পক্ষসমূহ | মাসুদুর রহমান ও অন্যান্য (দরখাস্তকারী/বিবাদীগণ) বনাম মো: আনোয়ার হোসেন ও অন্যান্য (প্রতিপক্ষ/বাদীগণ) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মো: হারুন অর রশীদ, অ্যাডভোকেট | প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব মো: আহিয়া, অ্যাডভোকেট |
| অধস্তন ও আপিল আদালতের ইতিহাস | ১. আপিল বিভাগ: CP No. 2931/2016 (আদেশ: 02.03.2017 – বিচার সম্পন্নের নির্দেশ) ২. ৩য় সিনিয়র সহকারী জজ আদালত, ঢাকা: স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৪০০/২০১২ (আদেশ: ২১.১১.২০১৯ – আরজি খারিজ) ৩. জেলা জজ আদালত, ঢাকা: স্বত্ব আপিল নং ৭৮/২০২০ (রায়: ০৬.০৭.২০২২ – আপিল মঞ্জুর ও আরজি খারিজ বাতিল) |
| মূল আইনি বিষয়বস্তু ও নীতি | সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ; আপিল বিভাগের আদেশের চূড়ান্ত বাধ্যবাধকতা; উচ্ছেদ ডিক্রির পর চুক্তি প্রবলের মামলার গ্রহণযোগ্যতা; দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ১১ বিধি ও Functus Officio নীতি; তথ্য গোপনের প্রতারণামূলক পরিণাম। |
| হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রায় | রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged with Costs); দরখাস্তকারীদের ওপর ২৫,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ; জেলা জজের আদেশ বহাল এবং ৬ মাসের মধ্যে মূল মামলা নিষ্পত্তির কঠোর নির্দেশ। |
| শুনানি ও রায়ের তারিখ | শুনানি: ১০ ও ১৬ জুন ২০২৬ | চূড়ান্ত রায় প্রদান: ২৩ জুন ২০২৬ | আপলোড: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF |
📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড 🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজমেন্ট পোর্টাল |

