পরোয়ানা দেখিয়ে অর্থ দাবি ও গ্রেফতারের হুমকি: Extortion-এর দায় | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৬

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষা ২০২৬
প্রশ্ন ৭। (খ): ক নামক একজন পুলিশ অফিসার খ-কে খ এর নামে আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখিয়ে ১০,০০০ টাকা দাবি করে, অন্যথায় তাকে গ্রেফতারের হুমকি দেয়। গ্রেফতার এড়াতে খ, ক-কে দাবিকৃত অর্থ প্রদান করে। ক কি extortion এর জন্য দায়ী হবে? [৭]

১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য যখন তার সরকারি ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত কোনো আইনি প্রক্রিয়া (গ্রেফতারি পরোয়ানা) প্রদর্শন করে অর্থ আদায় করে, তখন তা নিছক ঘুষ গ্রহণ (Bribery under Section 161) নাকি ভীতি প্রদর্শনপূর্বক বলপূর্বক আদায় বা চাঁদাবাজি (Extortion under Section 383) গঠন করে—তা নির্ণয় করা অত্র ব্যবহারিক আইনি সমস্যার মূল বিচার্য বিষয়।

২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনি বিধানাবলী (Statutory Provisions)

  • The Penal Code, 1860:
    • Section 383 (Extortion): “Whoever intentionally puts any person in fear of any injury to that person, or to any other, and thereby dishonestly induces the person so put in fear to deliver to any person any property or valuable security… commits extortion.”
    • Section 384: বলপূর্বক আদায় বা চাঁদাবাজির শাস্তি (অনধিক ৩ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ড)।
    • Section 44 (Injury): ক্ষতি বা ক্ষতির ভয়ের সংজ্ঞা (Harm to mind, body, reputation or property)।

৩. বিশদ আইনি বিশ্লেষণ ও সমস্যার সমাধান

(১) চাঁদাবাজি বা Extortion-এর অপরিহার্য উপাদানসমূহ:

দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারা অনুযায়ী কোনো কার্যকে Extortion হিসেবে সাব্যস্ত করতে ৪টি উপাদান প্রমাণ করতে হয়:

  1. অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতির ভীতি প্রদর্শন (Intentionally putting in fear of injury);
  2. উক্ত ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অসদুপায়ে তাকে কোনো সম্পত্তি বা অর্থ প্রদানে প্ররোচিত করা (Dishonestly inducing delivery of property);
  3. ভীত সন্ত্রস্ত ব্যক্তির সম্মতিটি ভয়ের কারণে ত্রুটিযুক্ত হওয়া (Consent vitiated by fear); এবং
  4. অর্থ বা সম্পত্তি প্রকৃতপক্ষে হস্তান্তর হওয়া।

(২) ক-এর কৃতকর্মের আইনি মূল্যায়ন:

  • ক্ষতির ভয় (Fear of Injury): পুলিশ অফিসার ক খ-কে আদালত কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ ওয়ারেন্ট দেখিয়ে গ্রেফতারের হুমকি দিয়েছে। গ্রেফতার একজন সাধারণ নাগরিকের জন্য সম্মানহানি, মানসিক যন্ত্রণা এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতার হরণ—যা দণ্ডবিধির ৪৪ ধারা মোতাবেক সুস্পষ্ট ‘Injury’।
  • আইনি ক্ষমতার অপব্যবহার: ওয়ারেন্টটি বৈধ হওয়া সত্ত্বেও ক তার সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ওয়ারেন্ট কার্যকর করার হুমকি দিয়ে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে অর্থ আদায়ের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
  • ভীতি প্রদর্শনপূর্বক আদায়: খ স্বেচ্ছায় বা উপহার হিসেবে টাকা দেয়নি; গ্রেফতার ও সামাজিক সম্মানহানির চরম ভীতি এড়াতেই সে দাবিকৃত ১০,০০০ টাকা ক-কে প্রদান করতে বাধ্য হয়েছে।
ঘুষ (Bribery) বনাম চাঁদাবাজি (Extortion): ঘুষের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ লাভবান হওয়ার সমঝোতা থাকতে পারে। কিন্তু যেখানে কর্মকর্তা সরকারি ক্ষমতার ভয় দেখিয়ে শিকারকে আতঙ্কগ্রস্ত করে অর্থ আদায় করে, সেখানে অপরাধটি নির্ভেজালভাবে Extortion বা বলপূর্বক আদায়-এ রূপ নেয়।

আইনি সিদ্ধান্ত:

হ্যাঁ, পুলিশ অফিসার ক নিঃসন্দেহে The Penal Code, 1860 এর ৩৮৩ ধারা অনুসারে Extortion (বলপূর্বক আদায়)-এর অপরাধের জন্য দায়ী হবে এবং ধারা ৩৮৪ মোতাবেক শাস্তিযোগ্য হবে।

৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স

১. কবির আহমেদ বনাম রাষ্ট্র (48 DLR 180): আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রেফতার বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে, তবে তা দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার সংজ্ঞায় পূর্ণাঙ্গ Extortion হিসেবে গণ্য হবে।

২. আর.এস. নায়েক বনাম এ.আর. আন্তুলে (AIR 1986 SC 2045): সর্বোচ্চ আদালত অভিমত দেন যে, সরকারি ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ দাবি করা সাধারণ উৎকোচ গ্রহণের চেয়ে মারাত্মক অপরাধ এবং তা Extortion-এর পর্যায়ভুক্ত।

৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত

পরিশেষে, পুলিশ অফিসার ক গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে খ-এর নিকট থেকে ১০,০০০ টাকা আদায় করায় দণ্ডবিধির ৩৮৩ ধারার সকল উপাদান বিদ্যমান এবং ক ধারা ৩৮৪ অনুসারে Extortion-এর অপরাধে দায়ী ও দণ্ডনীয় হবে।

Related Articles

Back to top button