বাটোয়ারা মামলায় স্বত্ব ঘোষণার আলাদা মামলা অনাবশ্যক: খতিয়ানের চেয়ে দলিলের প্রাধান্যে হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক প্রথম আপিল রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বাটোয়ারা মোকদ্দমায় (Partition Suit) স্বত্বের প্রশ্ন জড়িত থাকলে তার জন্য পৃথকভাবে স্বত্ব ঘোষণার (Declaration of Title) মোকদ্দমা দায়ের করার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত নজির ৫৫ ডিএলআর (এডি) ১১৫ অনুযায়ী— বাটোয়ারা মামলায় পক্ষগণের স্বত্ব সংক্রান্ত যে কোনো জটিল প্রশ্ন আদালত প্রাসঙ্গিক বিষয় (Incidental Question) হিসেবে একই কার্যধারায় চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার রাখে। হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, এস.এ বা আর.এস খতিয়ান কোনো স্বত্ব সৃষ্টি বা বিলোপ করে না (Record of Rights neither creates nor extinguishes title); খতিয়ান কেবল রাজস্ব আদায়ের প্রশাসনিক হিসাব মাত্র। পক্ষান্তরে, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ বা ৩৯ ধারায় দেওয়ানী আদালত কর্তৃক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত একটি প্রাচীন রেজিস্ট্রি দলিল (১৯৩৯ সালের কবুলিয়ত) ভুল খতিয়ানের ওপর স্বত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত প্রাধান্য পাবে (১৮ বিএলডি এডি ৪৪ ও ১৩ এমএলআর এডি ৬)।
মামলাটি বরিশাল জেলার সদর কোতোয়ালী থানাধীন বগুড়া আলেকান্দা মৌজার মূল্যবান ১.৩১ একর জমি নিয়ে উদ্ভূত। বাদী আজাহার উদ্দিন ভূঁইয়া গং বরিশাল ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০০৭ সালে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে বাটোয়ারা ডিক্রি প্রার্থনা করে Title Suit No. 51 of 2007 দায়ের করেন।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও অধস্তন আদালতের ঘটনাবলী নিম্নরূপ:
- সি.এস খতিয়ান ও ১৯৩৯ সালের কবুলিয়ত দলিল: আরজির তফসিলে বর্ণিত ১.৩১ একর জমি মূলত সি.এস খতিয়ান নং ৭১৪-এর মোট ২.৬২ একর জমির ৮ আনা অংশ (১.৩১ একর), যার মূল মালিক ছিলেন আরজু বিবি। আরজু বিবির মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র রমজান হাওলাদার উত্তরাধিকারী হন। রমজান হাওলাদারের ওয়ারিশগণ জমি হস্তান্তর করলে বাদীদের পূর্বসূরী আব্দুল হামিদ ভূঁইয়া ১৯৩৯ সালের ১৩ জুন ১৯99 নম্বর রেজিস্ট্রি কবুলিয়ত দলিলের মাধ্যমে ১.৩১ একর বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন (Exhibit-5)।
- এস.এ খতিয়ানে ভুল ও বাদীদের ভোগদখল: আব্দুল হামিদ ভূঁইয়ার মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশদের নামে এস.এ ৩৫৬ নম্বর খতিয়ানে ১.০৫ একর জমি সঠিকভাবে রেকর্ড হয়। কিন্তু অবশিষ্ট ০.২৬ একর জমি ভুলবশত বিবাদীগণের নামে এস.এ ৫৯১ নম্বর খতিয়ানে এন্ট্রি হয়। বাদীপক্ষ সম্পূর্ণ জমিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ, পুকুরে মাছ চাষ ও গাছপালা রোপণ করে অবিচ্ছিন্ন ও শান্তিপূর্ণ এজমালি ভোগদখলে বহাল থাকেন।
- বিবাদীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সাফাই: বিবাদী ১-৭ নম্বর যৌথ লিখিত জবাব দাখিল করে দাবি করেন যে, সি.এস রেকর্ডের আরেক মালিক আয়েজউদ্দিনের সূত্রে তারা জমির মালিক এবং এস.এ ৫৯১ নম্বর খতিয়ান তাদের নামে সঠিকভাবেই প্রস্তুত হয়েছে। বাদীদের স্বত্ব ও দখল অস্বীকার করে তারা মামলা খারিজের প্রার্থনা জানান।
- যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আংশিক ডিক্রি ও ভুল সিদ্ধান্ত: বরিশাল ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর এক বিতর্কিত রায়ে বাদীদের অনুকূলে শুধুমাত্র এস.এ ৩৫৬ খতিয়ানের ১.০৫ একর জমিতে প্রাথমিক বাটোয়ারা ডিক্রি প্রদান করেন। কিন্তু ভুলবশত বিবাদীদের নামে রেকর্ড হওয়া ০.২৬ একর জমি সম্পর্কে ট্রায়াল কোর্ট বলেন— যেহেতু ০.২৬ একর বিবাদীদের নামে রেকর্ড আছে, সেহেতু সুনির্দিষ্টভাবে আলাদা ‘স্বত্ব ঘোষণার’ (Declaration of Title) প্রতিকার না চেয়ে শুধুমাত্র বাটোয়ারা মামলায় ওই ০.২৬ একর বণ্টন করা যাবে না।
- হাইকোর্টে বাদীদের প্রথম আপিল: বিচারিক আদালতের এই আংশিক আদেশের বিরুদ্ধে বাদীরা (আজাহার উদ্দিন ভূঁইয়ার ওয়ারিশগণ) সংক্ষুব্ধ হয়ে হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 312 of 2018 দায়ের করেন।
🏛️ বাদী আজাহার উদ্দিন ভূঁইয়া গং-এর যুক্তি
- বাটোয়ারা মামলায় স্বত্ব নিষ্পত্তি আবশ্যক: আপিল বিভাগের নজির (৫৫ ডিএলআর এডি ১১৫) অনুযায়ী বাটোয়ারা মামলায় স্বত্বের সমস্ত আনুষঙ্গিক প্রশ্ন নিষ্পত্তি করা যায়; আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা অপ্রয়োজনীয়।
- ১৯৩৯ সালের দলিলের প্রাধান্য: ১৯৩৯ সালের রেজিস্ট্রি কবুলিয়ত দলিলটি আদালত খাঁটি হিসেবে গ্রহণ করেছে। সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে তা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এস.এ রেকর্ডের ওপর দলিলই বহাল থাকবে।
- বিবাদীর সাক্ষীর স্বীকারোক্তি: জেরায় বিবাদী নিজেই স্বীকার করেছে যে তারা ১৯৩৯ সালের দলিলের বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করেনি এবং বাদীরা জমিতে দখলে রয়েছে (সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা)।
- ৭ আদেশ ৩ বিধির বাধা নেই: মূল তফসিলে সি.এস দাগ ও চৌহদ্দি সুনির্দিষ্ট। অবিভক্ত জমির ০.২৬ একর দাগের মধ্যে পৃথক চৌহদ্দি কমিশনার মেপে নির্ধারণ করবেন।
🛡️ বিবাদী চন্দ্রবান বিবি গং-এর যুক্তি
- স্বত্ব ঘোষণা ছাড়া ০.২৬ একর বণ্টন অসম্ভব: যেহেতু এস.এ ৫৯১ খতিয়ান বিবাদীদের নামে রয়েছে, সেহেতু সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৪২ ধারায় স্বত্ব ঘোষণা ছাড়া কেবল বাটোয়ারা মামলায় এটি বণ্টনযোগ্য নয়।
- চৌহদ্দির অস্পষ্টতা (Order VII Rule 3 CPC): আরজিতে বিরোধীয় ০.২৬ একর জমির পৃথক চতুর্সীমা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, যা ৭ আদেশ ৩ বিধির মারাত্মক লঙ্ঘন।
- একতরফা কবুলিয়তের দুর্বলতা: কেবল একতরফা কবুলিয়ত দিয়ে স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না; জমিদার কর্তৃক দাখিলা বা পাট্টা দাখিল করতে বাদীপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।
- ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত নির্ভুল: ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত প্রমাণের সঠিক মূল্যায়নে ০.২৬ একর জমি বাদ দিয়ে বাদীদের আপিল আংশিক ডিক্রি দিয়েছেন।
উভয় পক্ষের শুনানির পর মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ নিষ্পত্তির জন্য ৩টি মৌলিক আইনি প্রশ্ন নির্ধারণ করেন:
- ১ নম্বর প্রশ্ন: বাটোয়ারা মোকদ্দমায় কোনো জমির রেকর্ড প্রতিপক্ষের নামে থাকলে আলাদা স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়া ওই অংশ বণ্টন করা যাবে না মর্মে ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত কি না?
- ২ নম্বর প্রশ্ন: সি.এস প্লট ও বহিঃসীমানা আরজিতে সম্পূর্ণ উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও যৌথ এজমালি জমির অবিভক্ত ০.২৬ একরের পৃথক চৌহদ্দি না থাকায় দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ৩ বিধি অনুযায়ী ডিক্রি প্রদানে কোনো বাধা আছে কি না?
- ৩ নম্বর প্রশ্ন: ১৯৩৯ সালের রেজিস্ট্রি কবুলিয়তের সমর্থনে বাদীপক্ষ পূর্ণ ১.৩১ একর জমিতে স্বত্ব ও বণ্টন ডিক্রি পাওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করতে পেরেছে কি না?
মাননীয় বিচারপতি এ. কে. এম. রবিউল হাসান (যিনি রায় রচনা করেন) এবং মাননীয় বিচারপতি শেখ আব্দুল আউয়াল নিম্ন আদালতের প্রতিটি যুক্তি খণ্ডন করে সুদূরপ্রসারী আইনি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন:
ক. বাটোয়ারা মামলায় স্বত্ব নিষ্পত্তি চূড়ান্ত— আলাদা মামলার প্রয়োজন নেই:
হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্ত সরাসরি বাতিল করে বলেন, বাটোয়ারা মামলায় স্বত্ব নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে আদালত সেই স্বত্বের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করতে বাধ্য। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ল্যান্ডমার্ক নজির Cinmoy Chowdhury vs. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115 উদ্ধৃত করে হাইকোর্ট স্পষ্ট করেন যে— “In a suit for partition, all incidental questions of title, however complicated, can be decided and finally disposed of.” বাটোয়ারা আদালতের কাছে সব এখতিয়ার ন্যস্ত থাকে; বিচারপ্রার্থীকে আবার আলাদা টাইটেল সুট করার জন্য ঠেলে দেওয়া বিচারিক অবিচার।
খ. খতিয়ানের চেয়ে দলিলের শ্রেষ্ঠত্ব ও ৩০ বছরের প্রাচীন দলিলের অনুমান:
আদালত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান— “A Khatian (Record of Rights) is merely an administrative record prepared for revenue purposes; it neither creates nor extinguishes title.” অর্থাৎ খতিয়ান স্বত্ব তৈরিও করে না, খর্বও করে না। ১৯৩৯ সালের রেজিস্ট্রি কবুলিয়ত দলিলটি ৩০ বছরের চেয়েও প্রাচীন দলিল। সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা (Section 90 Evidence Act) অনুযায়ী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নজির 5 BLC (AD) 76 অনুযায়ী প্রাচীন রেজিস্ট্রি দলিলের সম্পাদন ও বৈধতা আইনের দৃষ্টিতে প্রশ্নাতীত ও অনুমেয়। বিবাদীপক্ষ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ বা ৩৯ ধারায় এই দলিল বাতিল করায়নি, তাই মুখের কথায় এই দলিল অগ্রাহ্য করা যায় না।
গ. ৭ আদেশ ৩ বিধির বিভ্রান্তি নিরসন— অবিভক্ত জমিতে আলাদা চৌহদ্দি অপ্রযোজ্য:
দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ৩ বিধি মূলত স্থাবর সম্পত্তি সনাক্তকরণের জন্য। হাইকোর্ট ব্যাখ্যা করেন, একটি বৃহত্তর যৌথ প্লটের (১.৩১ একর) অবিভক্ত ০.২৬ একর জমির পৃথক চৌহদ্দি দেওয়া মামলার শুরুতে অসম্ভব। কারণ তখনও জমিতে কোনো ভাগাভাগিই হয়নি! যৌথ জমির ক্ষেত্রে মূল তফসিলে দাগ ও সামগ্রিক চৌহদ্দি থাকলেই ৭ আদেশ ৩ বিধি সম্পূর্ণ পালিত হয়। প্রাথমিক ডিক্রির পর অ্যাডভোকেট কমিশনার (Advocate Commissioner) জমিতে সরেজমিনে ফিতা টেনে পরিমাপ করে সুনির্দিষ্ট সাহামের সীমানা নির্ধারণ করবেন।
ঘ. সহ-শরিকের দখল নীতি (Possession of One is Possession of All):
আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো— এজমালি বা যৌথ সম্পত্তিতে একজন সহ-শরিকের দখল মানেই সকল শরিকের দখল, যতক্ষণ না অপরপক্ষ সুনির্দিষ্টভাবে ‘উচ্ছেদ’ (Ouster) দাবি ও প্রমাণ করতে পারে। তদুপরি, জেরার মুখে বিবাদীর ১ নম্বর সাক্ষী (DW-1) নিজেই বাদীদের ভোগদখলের কথা স্বীকার করেছেন। সাক্ষ্য আইনের ৫৮ ধারা মতে, আদালতে স্বীকৃত সত্য প্রমাণের আর কোনো প্রয়োজন থাকে না।
📚 হাইকোর্ট কর্তৃক অনুসৃত আপিল বিভাগের প্রামাণ্য নজিরসমূহ
- Cinmoy Chowdhury v. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115: বাটোয়ারা মামলায় স্বত্বের সমস্ত জটিল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিচার করা আদালতের বাধ্যবাধকতা।
- Guru Charan Mondol v. Bhaba Sindhu Sarkar, 13 MLR (AD) 6: খতিয়ানের চেয়ে কবলা বা কবুলিয়ত দলিল প্রাধান্য পাবে। পরবর্তী এস.এ বা আর.এস রেকর্ড দলিলের স্বত্ব খর্ব করতে পারে না।
- Abdul Mannan Bhuiyan v. Md. Nasir Hossain, 18 BLD (AD) 44: রেজিস্ট্রি দলিলের বিপরীতে খতিয়ানের এন্ট্রি স্বত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। দেওয়ানী আদালত কর্তৃক বাতিল না হওয়া পর্যন্ত দলিল কার্যকর থাকে।
- Hachina Begum v. Abdul Mannan, 30 BLD 628: সুনির্দিষ্ট প্রতারণার প্রমাণে উপযুক্ত দেওয়ানী আদালতে বাতিল না হওয়া পর্যন্ত রেজিস্ট্রি দলিলের আইনগত প্রাধান্য অলঙ্ঘনীয়।
- ADC (Revenue) v. Md. Reazuddin Pk, 5 BLC (AD) 76: ৩০ বছরের প্রাচীন দলিল যথাযথ হেফাজত থেকে আদালতে দাখিল হলে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা মোতাবেক তার খাঁটি হওয়ার আইনগত অনুমান কার্যকর হয়।
- প্রথম আপিল মঞ্জুর (Appeal Allowed): বাদীদের দায়েরকৃত First Appeal No. 312 of 2018 প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মঞ্জুর করা হলো।
- নিম্ন আদালতের রায় সংশোধন ও পূর্ণ ১.৩১ একরের ডিক্রি: ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ০.২৬ একর জমি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সম্পূর্ণ ১.৩১ একর নালিশি জমির ওপর বাদীদের পক্ষে প্রাথমিক বাটোয়ারা ডিক্রি প্রদান করা হলো।
- ৪৫ দিনের মধ্যে আপস বণ্টনের সুযোগ: পক্ষগণকে আগামী ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আপস বাটোয়ারা সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
- অ্যাডভোকেট কমিশনার মারফত চূড়ান্ত ডিক্রি: ৪৫ দিনের মধ্যে আপস না হলে যে কোনো পক্ষ ট্রায়াল কোর্টে দরখাস্ত করে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করিয়ে জমিতে সরেজমিনে মেপে পৃথক সাহামের সীমানা নির্ধারণপূর্বক চূড়ান্ত ডিক্রি গ্রহণ করতে পারবে।
১. বাটোয়ারায় স্বত্ব নিষ্পত্তি পূর্ণাঙ্গ
বাটোয়ারা মামলায় স্বত্বের সমস্ত প্রাসঙ্গিক বিরোধ আদালত সমাধান করবে; আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা করার বাধ্যবাধকতা নেই (৫৫ ডিএলআর এডি ১১৫)।
২. খতিয়ান স্বত্ব তৈরি করে না
এস.এ বা আর.এস খতিয়ান রাজস্ব আদায়ের হিসাব মাত্র। মূল রেজিস্ট্রি দলিলের স্বত্ব ভুল খতিয়ানের এন্ট্রির কারণে কখনোই বাতিল বা ক্ষুণ্ন হয় না।
৩. প্রাচীন দলিলের আইনগত অনুমান
সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারা মোতাবেক ৩০ বছরের প্রাচীন রেজিস্ট্রি দলিলের সঠিকতা অনুমেয়। দেওয়ানী আদালতে বাতিল ছাড়া মৌখিক অস্বীকৃতিতে দলিল বাতিল হয় না।
৪. কমিশনারের কাজ চৌহদ্দি নির্ধারণ
যৌথ অবিভক্ত সম্পত্তিতে আরজির শুরুতে প্রতিটি ছোট খণ্ডের আলাদা চৌহদ্দি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; চূড়ান্ত ডিক্রির সময় কমিশনার তা নির্ধারণ করবেন।
এস.এ বা আর.এস রেকর্ডে ভুলবশত প্রতিপক্ষের নাম লিপিবদ্ধ থাকলেও যদি আপনার মূল দলিল ও দখল থাকে, তবে সরাসরি বাটোয়ারা মামলায় ওই জমি অন্তর্ভুক্ত করুন।
বাটোয়ারা মামলার মধ্যেই স্বত্বের ধারাবাহিক চেইন (Chain of Title) প্রমাণ করুন; ৫৫ ডিএলআর এডি ১১৫ নজির আদালতে দাখিল করে একই মামলায় স্বত্ব নির্ধারণের ওপর জোর দিন।
পুরোনো রেজিস্ট্রি দলিল আদালতে উপস্থাপনের সময় তা যে উপযুক্ত পারিবারিক হেফাজত থেকে এসেছে তা সাক্ষ্যে প্রমাণ করুন, যাতে সাক্ষ্য আইনের ৯০ ধারার অনুমান লাভ করা যায়।
অবিভক্ত অংশের অভ্যন্তরীণ চৌহদ্দি না থাকলেও সম্পূর্ণ যৌথ প্লটটির দাগ ও বহিঃসীমানা নিখুঁতভাবে আরজিতে উল্লেখ করুন যাতে ৭ আদেশ ৩ বিধির অজুহাত না ওঠে।
প্রতিপক্ষ দলিলের বৈধতা অস্বীকার করলে জেরায় স্পষ্ট করে আনুন যে তারা সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৩১ বা ৩৯ ধারায় দলিল বাতিলের মামলা করেনি; ফলে তাদের মৌখিক দাবি আইনত অচল।

