রিটে অধিগ্রহণ বাতিলের পর আর.এস রেকর্ড মূল্যহীন: ‘দখল স্বত্বকে অনুসরণ করে’ নীতিতে হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক ঐতিহাসিক দেওয়ানী রায়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, উচ্চ আদালতের রিট মামলার চূড়ান্ত রায়ে ভূমি অধিগ্রহণ (Land Acquisition) প্রক্রিয়া বাতিল ও অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট জমিতে সরকার বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) নামে পরবর্তীতে আর.এস বা বি.এস খতিয়ান প্রস্তুত হলেও তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং কোনো স্বত্ব সৃষ্টি করতে পারে না (Section 144A SAT Act)। হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে নীতি নির্ধারণ করেছেন যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ আদেশের ৯ ও ১০ বিধি অনুযায়ী আদালতে দাখিলকৃত অ্যাডভোকেট কমিশনারের তদন্ত রিপোর্ট যদি কোনো পক্ষ কর্তৃক অপ্রমাণিত বা অ-জেরাকৃত (Unchallenged) অবস্থায় থাকে, তবে তা আদালতের জন্য অকাট্য প্রামাণ্য উপাদান। অধিকন্তু পতিত বা শূন্য ভূমির ক্ষেত্রে আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি— “দখল স্বত্বকে অনুসরণ করে (Possession follows title)”; ফলে মূল বৈধ স্বত্বাধিকারীই জমিতে দখলে আছেন বলে গণ্য হবেন। আপিলে স্বত্বের বিরুদ্ধে ক্রস-অবজেকশন (Cross-objection under Order 41 Rule 22 CPC) দাখিল না করায় স্বত্বাধিকার নিয়ে সরকারের দাবি চিরতরে বারিত।
মামলাটি নাটোর জেলার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ২০০৬ সালে দায়েরকৃত স্বত্ব মোকদ্দমা Other Class Suit No. 33 of 2006 থেকে উদ্ভূত। নালিশি সম্পত্তির পরিমাণ নাটোর সদরের সি.এস ও এস.এ ১৭৫৬ ও ১৭৫৭ দাগের (আর.এস ২৬০৪ দাগ) মোট ০.১৫৪৪ একর জমি।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও ঘটনাবলী নিম্নরূপ:
- সি.এস/এস.এ স্বত্ব ও ঐতিহাসিক রিট রায়: নালিশি জমি মূলত শের মাহমুদ খানের নামে সি.এস ১০২১ খতিয়ানে রেকর্ড ছিল। পরবর্তীতে উত্তরাধিকারসূত্রে এস.এ ১০৭৭ নম্বর খতিয়ান বাদীদের পূর্বসূরীদের নামে শুদ্ধভাবে চূড়ান্ত প্রচারিত হয়। ১৯৬০-৬১ সালে সরকার নালিশি জমি এল.এ কেস নং ১৪৭/১৯৬০-৬১ মূলে অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিলে বাদীদের পূর্বসূরী হাইকোর্টে Writ Petition No. 274 of 1967 দায়ের করেন। ১৯৬৯ সালের ৮ অক্টোবর হাইকোর্ট বিভাগ রায় প্রদান করে নালিশি জমির অধিগ্রহণ সম্পূর্ণ বাতিল করে দেন (Exhibit-2 Ka)।
- ২৫ বছর পর ভুল আর.এস রেকর্ড ও স্বত্ব মামলা: রিট রায়ের দীর্ঘ ২৫ বছর পর ১৯৯৪ সালের ২৬ অক্টোবর সরকারি জরিপে ভুলবশত নালিশি ২৬০৪ দাগের জমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (WAPDA/BWDB) নামে আর.এস ৫ নম্বর খতিয়ানে রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সেখানে রেস্ট হাউজের সীমানা দাবি করলে ২০০৫ সালের ২১ আগস্ট বাদীরা বিষয়টি জানতে পারেন এবং ২০০৬ সালে স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে মামলা দায়ের করেন।
- সরকার ও পাউবোর পরস্পরবিরোধী জবাব: ১ নম্বর বিবাদী (সরকার) লিখিত জবাবে দাবি করে জমি এল.এ কেস ১৪৭/১৯৬০-৬১ দ্বারা অধিগ্রহণ হয়েছে। অথচ ২ নম্বর বিবাদী (পানি উন্নয়ন বোর্ড) দাবি করে যে এল.এ ১৪৭ কেস সঠিক নয়; বরং এল.এ কেস ১৫৭/১৯৬২-৬৩ এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জবাবে এল.এ কেস ১০০/১৯৫৯-৬০ মূলে জমি অধিগ্রহণ হয়েছে! তবে কোনো পক্ষই কোনো অধিগ্রহণের নথি আদালতে দাখিল করতে পারেনি।
- সহকারী জজের খারিজাদেশ ও জেলা জজের ডিক্রি: ২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর নাটোর সদর সহকারী জজ আদালত এক স্ববিরোধী রায়ে বলেন— বাদীরা জমিতে স্বত্ব প্রমাণ করেছে, কিন্তু যেহেতু পাউবোর রেস্ট হাউজ আছে এবং আর.এস রেকর্ড পাউবোর নামে, তাই দখলের অভাবে মামলা খারিজ। বাদীরা এর বিরুদ্ধে জেলা জজ আদালতে Title Appeal No. 160 of 2017 দায়ের করেন। ২০২২ সালের ২৩ মার্চ নাটোর জেলা জজ আদালত অ্যাডভোকেট কমিশনারের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সহকারী জজের রায় বাতিল করে বাদীদের পক্ষে স্বত্ব ডিক্রি প্রদান করেন।
- হাইকোর্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের রিভিশন: জেলা জজের রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB) হাইকোর্টে Civil Revision No. 3171 of 2022 দায়ের করে।
🏛️ বাদী পারভেজ মাহমুদ খান গং-এর যুক্তি
- ১৯৬৭ সালের রিট রায়ের অলঙ্ঘনীয় প্রাধান্য: হাইকোর্ট ১৯৬৯ সালেই রিট পিটিশন ২৭৪/১৯৬৭-এ উক্ত অধিগ্রহণ চূড়ান্তভাবে বাতিল করেছে। ৫০ বছর পর সেই রায়ের ওপর কেউ হাত দিতে পারে না।
- কমিশনারের রিপোর্টে জমি শূন্য ও পতিত: অ্যাডভোকেট কমিশনার সরেজমিনে তদন্ত করে দেখেছেন বিরোধীয় ০.১৫৪৪ একরে কোনো ভবন বা রেস্ট হাউজ নেই; রেস্ট হাউজ পশ্চিমে আলাদা জমিতে অবস্থিত।
- দখল স্বত্বকে অনুসরণ করে: শূন্য ও পতিত জমির ক্ষেত্রে “Possession follows title” নীতি প্রযোজ্য। যেহেতু স্বত্ব বাদীদের, দখলও আইনত তাদের।
- ক্রস-অবজেকশন না করায় স্বত্ব চূড়ান্ত: সহকারী জজ বাদীদের পক্ষে স্বত্ব পাওয়ার রায় দিয়েছিল; বিবাদীপক্ষ জেলা জজে ৪১ আদেশ ২২ বিধিতে ক্রস-অবজেকশন না দেওয়ায় স্বত্বের প্রশ্ন চূড়ান্ত।
🛡️ দরখাস্তকারী পাউবো ও সরকারের যুক্তি
- আর.এস ৫ নম্বর খতিয়ান ও খাজনা দাখিলা: আর.এস রেকর্ডে জমি সরকারের পক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে প্রকাশিত এবং পাউবো সরকারি খাজনা পরিশোধ করছে।
- দখলের অভাবে ৪২ ধারার বাধা: বাদীরা জমিতে দখলে নেই; জমিতে পাউবোর কর্মচারীদের আবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউজ বিদ্যমান। দখল ছাড়া শুধু স্বত্ব ঘোষণার মামলা অচল (৬৬ ডিএলআর এডি ১৭৬)।
- কমিশনারের রিপোর্টের একক ভিত্তি অবৈধ: শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট কমিশনারের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করে জেলা জজ দখল নির্ধারণ করে মারাত্মক ভুল করেছে।
মামলার বিচারে সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবির চরম স্ববিরোধিতা হাইকোর্টে উন্মোচিত হয়:
- তিনটি ভিন্ন ভিন্ন এল.এ কেসের দাবি: সরকার (১ নম্বর বিবাদী) দাবি করেছে এল.এ কেস নং ১৪৭/১৯৬০-৬১। পানি উন্নয়ন বোর্ড (২ নম্বর বিবাদী) জবাবে বলেছে এল.এ ১৪৭ ভুল, জমি এসেছে এল.এ কেস নং ১৫৭/১৯৬২-৬৩ দ্বারা। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে পাউবো অতিরিক্ত জবাব দিয়ে তৃতীয় আরেকটি এল.এ কেস নং ১০০/১৯৫৯-৬০-এর দাবি তোলে! কিন্তু কোনো একটি এল.এ কেসের মূল নথি তারা আদালতে দাখিল করতে পারেনি।
- জেরায় পাউবোর সাক্ষীর (DW-2) স্বীকারোক্তি: জেরার মুখে পাউবোর নিজস্ব সাক্ষী (DW-2) নিজেই স্বীকার করেন যে— পাউবো এল.এ কেস নং ১৫৭/১৯৬২-৬৩ এর ভিত্তিতে কোনো জমি দাবি করছে না!
- খাজনা রসিদের অসারতা: পাউবোর দাখিলকৃত খাজনা রসিদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাতে নালিশি আর.এস ২৬০৪ দাগের কোনো উল্লেখই নেই। অর্থাৎ পাউবো নালিশি দাগের কোনো খাজনাই কোনোদিন পরিশোধ করেনি।
মাননীয় বিচারপতি মো: আলী রেজা রিট রায়ের অলঙ্ঘনীয়তা এবং দেওয়ানী কার্যবিধির প্রামাণ্য নীতিসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত দেন:
ক. রিভিশন আদালত ৫০ বছর পূর্বের রিট রায়ের ওপর আপিল আদালত নয়:
হাইকোর্ট রায়ে দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন: “This Court is exercising revisional jurisdiction under Section 115 CPC. It is not sitting in a Civil Appeal over a judgment passed by the High Court Division in exercise of its special original jurisdiction. Therefore after the lapse of more than five decades it would be totally inappropriate and legally impermissible to arrive at a finding which would in substance nullify or override the effect of the judgment passed in Writ Petition Number 274 of 1967.” রিটে অধিগ্রহণ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সেই বাতিল কার্যক্রমের ওপর আর.এস রেকর্ড ভিত্তিহীন।
খ. ক্রস-অবজেকশন না করায় স্বত্বের বিরুদ্ধ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত (Order 41 Rule 22 CPC):
ট্রায়াল কোর্ট বাদীদের পক্ষে স্বত্বের স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। বিবাদীপক্ষ জেলা জজে আপিলের সময় দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের ২২ বিধি অনুযায়ী কোনো বিপরীত আপত্তি বা ক্রস-অবজেকশন দাখিল করেনি। ফলে বাদীদের স্বত্ব উভয় আদালত কর্তৃক সমবর্তীভাবে (Concurrently) প্রতিষ্ঠিত ও চূড়ান্ত হয়ে গেছে।
গ. অ-জেরাকৃত অ্যাডভোকেট কমিশনারের রিপোর্ট অকাট্য সাক্ষ্য (Order 26 Rule 10 CPC):
দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ আদেশ ৯ ও ১০ বিধি অনুযায়ী অ্যাডভোকেট কমিশনার শ্যামল কুমার সাহার রিপোর্ট ও সাক্ষ্য আদালতের নথির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কমিশনারকে আদালতে হাজির করা হলেও বিবাদীপক্ষ তাকে কোনো জেরা করেনি এবং রিপোর্টে কোনো আপত্তিও দেয়নি। সাক্ষ্য আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, অ-জেরাকৃত ও অপ্রত্যাহ্বানকৃত সাক্ষ্য সত্য হিসেবে স্বীকৃত। কমিশনারের রিপোর্টে দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে নালিশি ২৬০৪ দাগে কোনো রেস্ট হাউজ বা স্থাপনা নেই, জমি সম্পূর্ণ খালি ও পতিত।
ঘ. দখল স্বত্বকে অনুসরণ করে (Possession Follows Title):
যেহেতু নালিশি জমিটি একটি উন্মুক্ত ও পতিত ভূমি এবং সেখানে সরকারের বা পাউবোর কোনো দখলদারিত্ব বা স্থাপনা নেই, সেহেতু দেওয়ানী আইনের সর্বজনবিদিত ডকট্রিন “Possession follows title” প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ আইন অনুযায়ী সর্বোত্তম স্বত্ব যার, পতিত জমির দখলও তার অনুকূলেই অনুমিত হয়। ফলে ৪২ ধারার কোনো বাধা বর্তমান মামলায় প্রযোজ্য নয়।
- রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged): বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়েরকৃত দেওয়ানী রিভিশন আবেদনটি সরাসরি খারিজ (Discharged) করা হলো।
- জেলা জজের স্বত্ব ডিক্রি চূড়ান্ত বহাল: নাটোর জেলা জজ আদালত কর্তৃক Title Appeal No. 160 of 2017 মঞ্জুর করে বাদীদের পক্ষে প্রদত্ত স্বত্ব ঘোষণার রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল রাখা হলো।
- সহকারী জজের খারিজাদেশ বাতিল ও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার: সহকারী জজের ২০১৭ সালের খারিজাদেশ রদ করা হলো এবং ইতিপূর্বে প্রদত্ত সকল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।
১. রিটে বাতিল অধিগ্রহণ চিরতরে অকার্যকর
হাইকোর্টের রিট রায়ে অধিগ্রহণ বাতিল হয়ে যাওয়ার পর সেই বাতিল কার্যক্রমের ওপর তৈরি আর.এস রেকর্ড স্বত্ব তৈরি করে না।
২. ক্রস-অবজেকশন ছাড়া প্রতিকার নেই
ট্রায়াল কোর্টের স্বত্বের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে ৪১ আদেশ ২২ বিধিতে ক্রস-অবজেকশন না দিলে তা পরবর্তীতে আর চ্যালেঞ্জ করা যায় না।
৩. কমিশনারের অ-জেরাকৃত রিপোর্ট চূড়ান্ত
২৬ আদেশ ১০ বিধি অনুযায়ী অ্যাডভোকেট কমিশনারকে জেরা না করলে এবং আপত্তি না দিলে তার প্রতিবেদন দখলের প্রামাণ্য ভিত্তি হিসেবে গণ্য।
৪. দখল স্বত্বকে অনুসরণ করে
পতিত বা শূন্য জমির ক্ষেত্রে Possession follows title নীতিতে মূল স্বত্বাধিকারীর অনুকূলেই দখলের আইনি অনুমান কার্যকর হয়।
পরিবারের পূর্বসূরী কোনো অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রিট করে জয়ী হয়ে থাকলে সেই রিটের রায় ও আদেশ দেওয়ানী আদালতের আরজির সাথে Exhibit হিসেবে দাখিল করুন।
সরকার যদি দাবি করে তাদের অফিস বা রেস্ট হাউজ আছে, তবে অবিলম্বে ২৬ আদেশ ৯ বিধিতে স্থানীয় তদন্ত করিয়ে প্রমাণ করুন ভবনটি আপনার দাগে নয়, বাইরে।
কমিশনারের সাক্ষ্য গ্রহণের সময় নিশ্চিত করুন যে তিনি আপনার অনুকূল তথ্যগুলো কাঠগড়ায় বলেছেন; প্রতিপক্ষ জেরা না করলে সেই রিপোর্ট অকাট্য হয়ে যায়।
সরকারের নামে আর.এস খতিয়ান থাকলেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই; প্রমাণ করুন যে মূল অধিগ্রহণ বাতিল হয়েছিল, ফলে খতিয়ানের আইনি ভিত্তি ধসে পড়বে।
ট্রায়াল কোর্ট যদি মামলার একটি অংশ আপনার বিরুদ্ধে দেয়, তবে প্রতিপক্ষের আপিলে ৪১ আদেশ ২২ বিধিতে অবশ্যই ক্রস-অবজেকশন দাখিল করে তা ঠিক করিয়ে নিন।

