দণ্ডবিধিতে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বনাম মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন (Sections 191 vs 192 Penal Code) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
প্রশ্ন ৬। (ক): দণ্ডবিধিতে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বনাম মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন (Sections 191 vs 192 Penal Code) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম স্তম্ভ হলো সাক্ষীর সততা এবং নথিপত্রের প্রামাণিকতা। আদালতে মিথ্যা বক্তব্য দেওয়া কিংবা বিচারকের নিকট বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে বানোয়াট সাক্ষ্য-প্রমাণ প্রস্তুত করা বিচার ব্যবস্থার প্রতি মারাত্মক আঘাত। দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর একাদশ অধ্যায়ে বিচারিক প্রক্রিয়া সুরক্ষায় এই অপরাধসমূহকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। অত্র প্রশ্নে দণ্ডবিধির ১৯১ ধারা অনুযায়ী ‘মিথ্যা সাক্ষ্যদান’ (Giving False Evidence) এবং ১৯২ ধারা অনুযায়ী ‘মিথ্যা সাক্ষ্য সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করা’ (Fabricating False Evidence)-এর উপাদান ও পার্থক্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ আলোচনা করা হয়েছে।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইন ও আইনি বিধানাবলী
The Penal Code, 1860 এর একাদশ অধ্যায়ের সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ বিধানসমূহ:
- Section 191: মিথ্যা সাক্ষ্যদান (Giving false evidence):
“Whoever being legally bound by an oath or by an express provision of law to state the truth, or being bound by law to make a declaration upon any subject, makes any statement which is false, and which he either knows or believes to be false or does not believe to be true, is said to give false evidence.”
- Section 192: মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন বা সৃষ্টি করা (Fabricating false evidence):
“Whoever causes any circumstance to exist or makes any false entry in any book or record, or makes any document containing a false statement, intending that such circumstance, false entry or false document may appear in evidence in a judicial proceeding… and that such circumstance, false entry or false document may cause any person who in such proceeding is to form an opinion upon the evidence, to entertain an erroneous opinion touching any point material to the result of such proceeding, is said ‘to fabricate false evidence’.”
- Section 193: মিথ্যা সাক্ষ্যের শাস্তি (Punishment): বিচারিক কার্যধারায় মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা উদ্ভাবনের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড; বিচারিক কার্যধারা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
৩. বাস্তব বিশ্লেষণ ও গভীর আইনি ব্যাখ্যা
মিথ্যা সাক্ষ্যদান বনাম মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন: তুলনামূলক পার্থক্য ছক
| পার্থক্যসূচক বিষয় | মিথ্যা সাক্ষ্যদান (ধারা ১৯১) | মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন (ধারা ১৯২) |
|---|---|---|
| ১. প্রকৃতির ভিন্নতা | এটি মূলত মৌখিক বা লিখিত জবানবন্দির মাধ্যমে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অপরাধ। | এটি কোনো কৃত্রিম পরিস্থিতি তৈরি, জাল রেজিস্ট্রি এন্ট্রি বা বানোয়াট দলিল প্রস্তুতের অপরাধ। |
| ২. শপথের বাধ্যবাধকতা | অপরাধীকে শপথে বা আইনের স্পষ্ট বিধানে সত্য বলতে বাধ্য থাকতে হবে। | শপথের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; যে কোনো ব্যক্তি এই অপরাধ করতে পারে। |
| ৩. বিচারকের ধারণাকে বিভ্রান্ত করা | মিথ্যা সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না হলেও অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। | উদ্দেশ্য হতে হবে যাতে বিচারক বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তি কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল ধারণা (Erroneous opinion) পোষণ করেন। |
| ৪. সংঘটনের উপায় | আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিথ্যা বলা, মিথ্যা হলফনামা দাখিল করা। | অন্যের ঘরে গোপনে চোরাই মাল বা অস্ত্র রেখে দিয়ে তাকে ফাঁসানোর আয়োজন করা। |
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. সম্রাট বনাম রবীন্দ্র নারায়ণ (AIR 1928 Cal 462): আদালত ব্যাখ্যা করেন যে, ১৯২ ধারায় মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হলো অপরাধীর অসৎ মানসিক উদ্দেশ্য (Mens Rea), যার লক্ষ্য বিচারিক কর্তৃত্বকে বিভ্রান্ত করা।
২. বশীর আহমেদ বনাম রাষ্ট্র (1998 2 SCC 493): হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রদান সাক্ষ্য আইনের নিরিখে ১৯১ ধারার আওতায় সরাসরি মিথ্যা সাক্ষ্যদানের শামিল।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
মিথ্যা সাক্ষ্যদান এবং মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন উভয়ই বিচার বিভাগের পবিত্রতা ও ন্যায়বিচারের মৌলিক ভিত্তিকে ধ্বংস করে। দণ্ডবিধির ১৯৩ ধারা উভয় অপরাধের ক্ষেত্রেই কঠোর দণ্ডের বিধান করে আদালতের কার্যধারার বিশুদ্ধতা রক্ষা করেছে।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৫-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।
