ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ও ২০৪(৩) ধারায় নালিশ খারিজের পার্থক্য | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৬
প্রশ্ন ৫। (খ): The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ২০৩ এবং ২০৪(৩) ধারায় নালিশ খারিজের মধ্যে পার্থক্য কী? [৫]
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নালিশী মামলা (CR Case) দায়েরের পর প্রক্রিয়া জারির পূর্বে অথবা প্রক্রিয়া জারির প্রাক্কালে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক নালিশ খারিজের দুটি স্বতন্ত্র আইনি বিধান রয়েছে—ধারা ২০৩ এবং ধারা ২০৪(৩)। যদিও উভয় ধারার চূড়ান্ত ফলাফল ‘নালিশ খারিজ’ (Dismissal of Complaint), তথাপি এদের কারণ, প্রেক্ষাপট এবং আইনি পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অত্র প্রশ্নে এই দুই ধারার পার্থক্য বিশদ পর্যালোচনা করা হলো।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনি বিধানাবলী (Statutory Provisions)
- The Code of Criminal Procedure, 1898:
- Section 203: নালিশ খারিজ (Dismissal of Complaint) — যখন মামলা অগ্রসর হওয়ার পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকে না।
- Section 204(3): প্রসেস ফি বা সাক্ষীর তালিকা দাখিল না করার কারণে নালিশ খারিজ (Dismissal for failure to pay process-fees, etc.)।
- Section 403: নালিশ খারিজ খালাস নয়; ডাবল জিওপার্ডি নীতি প্রযোজ্য হয় না।
৩. বিশদ আইনি বিশ্লেষণ ও প্রশ্নের উত্তর
২০৩ বনাম ২০৪(৩) ধারায় নালিশ খারিজের তুলনামূলক পার্থক্য:
| পার্থক্যসূচক বিষয় | ধারা ২০৩ CrPC অনুযায়ী নালিশ খারিজ | ধারা ২০৪(৩) CrPC অনুযায়ী নালিশ খারিজ |
|---|---|---|
| ১. খারিজের মূল ভিত্তি | গুণাগুণগত বা বাস্তব ভিত্তি: নালিশকারীর জবানবন্দি (২০০ ধারা) ও অনুসন্ধান/তদন্তের (২০২ ধারা) পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি দেখেন যে মামলা অগ্রসর হওয়ার মতো কোনো পর্যাপ্ত কারণ বা ভিত্তি নেই (No sufficient ground for proceeding)। | পদ্ধতিগত বা কারিগরি খেলাফ: ম্যাজিস্ট্রেট মামলা অগ্রসর হওয়ার ভিত্তি পেয়েছেন এবং সমন/ওয়ারেন্ট জারির আদেশ দিয়েছেন, কিন্তু নালিশকারী নির্ধারিত সময়ে প্রসেস ফি প্রদান করেনি বা সাক্ষীদের তালিকা জমা দেয়নি। |
| ২. আদেশের পর্যায় | প্রসেস বা সমন/ওয়ারেন্ট জারির পূর্বে (Before issue of process)। | প্রসেস ইস্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পরে, ফি বা তালিকা দাখিলে ব্যর্থ হলে। |
| ৩. কারণ লিপিবোধের বাধ্যবাধকতা | ম্যাজিস্ট্রেটকে সংক্ষিপ্তভাবে খারিজের বিচারিক কারণ লিপিবদ্ধ করতে হবে (Shall briefly record reasons)। | নিছক প্রসেস ফি বা তালিকা দাখিল না করার খেলাপের কারণে খারিজ হয়। |
| ৪. নতুন নালিশের সুযোগ | একই তথ্যের ওপর নতুন নালিশ সাধারণত বারণ, যদি না পূর্বের আদেশ ভুল তথ্যে বা প্রতারণামূলকভাবে নেওয়া হয়ে থাকে। | যেহেতু গুণাগুণের ভিত্তিতে খারিজ হয়নি, তাই প্রসেস ফি দিয়ে নতুন নালিশ দায়ের বা একই নালিশ পুনরুজ্জীবনে কোনো আইনি বাধা থাকে না। |
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. চিত্তরঞ্জন বনাম রাষ্ট্র (31 DLR 80): হাইকোর্ট বিভাগ পর্যবেক্ষণ করেন যে, ২০৩ ধারার খারিজ আদেশে ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক মনের প্রয়োগ থাকতে হবে এবং কারণ লিপিবদ্ধ থাকতে হবে। কারণহীন খারিজ আদেশ বেআইনি।
২. আবদুল মান্নান বনাম ফজলুল হক (40 DLR 310): ২০৪(৩) ধারার খারিজ একটি নিছক পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে ঘটে। এটি আসামীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্য-মিথ্যা প্রমাণ করে না; ফলে নালিশকারীর আইনি প্রতিকার বন্ধ হয় না।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
সারসংক্ষেপে, ২০৩ ধারায় নালিশ খারিজ হয় মামলার তথ্যগত ভিত্তিহীনতার কারণে বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে; আর ২০৪(৩) ধারায় নালিশ খারিজ হয় প্রসেস ফি বা তালিকা দাখিলে নালিশকারীর অবহেলার ফলে পদ্ধতিগত কারণে।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।
