চুক্তি প্রবলে সময় বৃদ্ধির পর প্রত্যাখ্যানের তারিখ থেকে তামাদি গণনা: ৭ আদেশ ১১ বিধিতে হাইকোর্টের রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ চুক্তি প্রবল (Specific Performance of Contract) মোকদ্দমায় তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ১১ বিধিতে আরজি খারিজের এখতিয়ার প্রসঙ্গে এক তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, রেজিস্ট্রিকৃত বায়নাপত্রে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা (যেমন ৯ মাস) নির্ধারিত থাকলেও, পরবর্তীতে পক্ষগণের লিখিত চিঠি বা আচরণের মাধ্যমে সেই সময়সীমা বর্ধিত বা মওকুফ (Waiver/Extension) করা হলে তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশ (Second Limb of Article 113) সক্রিয় হয়। ফলে চুক্তি সম্পাদনের নির্ধারিত তারিখ থেকে নয়, বরং বিবাদীপক্ষ কর্তৃক চুক্তি সম্পাদনে চূড়ান্ত অস্বীকৃতি বা প্রত্যাখ্যানের (Notice of Refusal) তারিখ থেকেই ১ বছরের তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে। তদুপরি, বাদী যদি দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ৬ বিধি (Order VII Rule 6 CPC) অনুযায়ী আরজিতে তামাদি অব্যাহতির কারণ ও পক্ষগণের লিখিত পত্রাবলি উল্লেখ করেন, তবে তামাদির প্রশ্নটি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্নে (Mixed question of law and facts) পরিণত হয়; এমন পরিস্থিতিতে বিচারিক আদালত ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধিতে স্বপ্রণোদিতভাবে আরজি খারিজ করতে পারে না।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি ঢাকা ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০২৫ সালে দায়েরকৃত চুক্তি প্রবল ও স্বত্ব মোকদ্দমা Title Suit No. 931 of 2025 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা ও বিচারিক প্রেক্ষাপট নিম্নরূপ:

  • রেজিস্ট্রিকৃত বায়নাপত্র ও শর্তাবলী: বাদীপক্ষ লাক্সমি বিল্ডার্স লিমিটেড ১-৫ নম্বর বিবাদী মেসন্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের নিকট থেকে ৩৫ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা মোট মূল্যে জমি ক্রয়ের চুক্তি করে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ ১১৭৬ নম্বর রেজিস্ট্রি বায়নাপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি ৮ লক্ষ টাকা বায়না বাবদ পরিশোধ করা হয়। বায়নাপত্রে শর্ত ছিল যে পরবর্তী ৯ মাসের মধ্যে অবশিষ্ট পণ পরিশোধ সাপেক্ষে বিক্রয় কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।
  • চেয়ারম্যানের মৃত্যু ও সময় বৃদ্ধির পত্রাবলি: চুক্তি সম্পাদনের পর বিবাদী কোম্পানির চেয়ারম্যান ও একজন পরিচালক মৃত্যুবরণ করায় ওয়ারিশানদের সাকসেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ ও নামজারির জটিলতা দেখা দেয়। বিবাদীপক্ষ ২০২৩ সালের ১৩ মে, ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর এবং ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পৃথক ৩টি লিখিত চিঠির মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রির সময় বাড়ানোর জন্য বাদীর নিকট অনুরোধ জানায়।
  • পণ পরিশোধ ও চূড়ান্ত অস্বীকৃতি: ইতিমধ্যে বিবাদীদের চাহিদামতো বাদী মোট ৩৫ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু জটিলতা কাটিয়ে ওঠার পর ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিবাদীপক্ষ হঠাৎ করে সাফ-কবলা দলিল রেজিস্ট্রি করে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে।
  • চুক্তি প্রবলের মামলা দায়ের: বিবাদীদের এই চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের পর বাদী লাক্সমি বিল্ডার্স লিমিটেড ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চুক্তি প্রবলের মোকদ্দমা (Title Suit No. 931 of 2025) দায়ের করে।
  • যুগ্ম জেলা জজ কর্তৃক স্বপ্রণোদিত আরজি খারিজ: বিবাদীপক্ষ ২০২৬ সালের ১১ মার্চ আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দাখিলের জন্য সময় প্রার্থনা করে। কিন্তু ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত কোনো দরখাস্ত ছাড়াই স্বপ্রণোদিতভাবে (Suo-motu) তামাদির প্রশ্ন তুলে ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধিতে আরজি সরাসরি খারিজ (Rejection of Plaint) করে দেন। জজ আদালতের যুক্তি ছিল ২০২২ সালের বায়নাপত্রের ৯ মাসের হিসাব অনুযায়ী মামলা তামাদিতে বারিত।
  • হাইকোর্টে প্রথম আপিল (First Appeal): যুগ্ম জেলা জজের এই বিতর্কিত রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী লাক্সমি বিল্ডার্স লিমিটেড হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 31 of 2026 দায়ের করে।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🏛️ আপিলকারী ক্রেতা কোম্পানির যুক্তি (Appellant)

  1. ৭ আদেশ ৬ বিধিতে তামাদি মওকুফ দর্শানো: আরজিতে বিবাদীদের ৩টি সময় বৃদ্ধির চিঠি উল্লেখ করে তামাদি মওকুফের বৈধ কারণ দেখানো হয়েছে; ফলে নির্ধারিত ৯ মাসের তামাদি বাধা দূর হয়েছে।
  2. প্রত্যাখ্যানের তারিখ থেকে গণনা: বিবাদীপক্ষ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অস্বীকার করায় ১১৩ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশ মতে উক্ত তারিখ থেকে ১ বছরের মধ্যে মামলা সম্পূর্ণ তামাদিমুক্ত।
  3. স্বপ্রণোদিত আরজি খারিজ বেআইনি: তামাদি যেখানে আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন, সেখানে সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে আরজি খারিজ করা বিচারিক ক্ষমতার মারাত্মক অপব্যবহার।

🛡️ রেসপনডেন্ট বিক্রেতা কোম্পানির যুক্তি (Respondents)

  1. তামাদি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন: রেসপনডেন্ট আইনজীবী অকপটে স্বীকার করেন যে ১১৩ অনুচ্ছেদ মূল্যায়নে ট্রায়াল কোর্ট ভুল করেছে এবং আরজি সরাসরি খারিজ আইনসম্মত ছিল না।
  2. টাকা প্রাপ্তির রসিদ নিয়ে ফৌজদারি মামলা: বিবাদীপক্ষ অভিযোগ তোলে যে বাদীপক্ষ ভুয়া মানি রিসিট তৈরি করে টাকা পরিশোধ দেখিয়েছে এবং সিআইডি তদন্তে চার্জশিট হয়েছে।
  3. দ্বিতীয় মোকদ্দমা দায়েরের বিতর্ক: পূর্ববর্তী একটি মামলা প্রত্যাহার করে নতুন মামলা করায় আরজি খারিজ হওয়া উচিত ছিল বলে বিকল্প যুক্তি দেওয়া হয়।

৩. সংবিধিবদ্ধ আইনি বিধান: তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদ ও ৭ আদেশ ৬ বিধি

চুক্তি প্রবল মামলার তামাদি এবং দেওয়ানী আরজিতে তামাদি অব্যাহতির সুযোগ দেওয়ানী কার্যবিধি ও তামাদি আইনে সুস্পষ্টভাবে বিন্যস্ত রয়েছে।

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১১৩:

মামলার বিবরণ তামাদির মেয়াদ তামাদি শুরুর সময়বিন্দু
চুক্তি বাস্তবায়নের মোকদ্দমা (Specific Performance) ১ (এক) বছর (১) চুক্তিতে নির্ধারিত তারিখ; অথবা (২) যদি কোনো তারিখ নির্ধারিত না থাকে, তবে যে তারিখে বাদী অবগত হন যে বিবাদী চুক্তি পালনে অস্বীকার (Refused) করেছে।

দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ৬ বিধি (Order VII Rule 6 CPC):

“Where the suit is instituted after the expiration of the period prescribed by the law of limitation, the plaint shall show the ground upon which exemption from such law is claimed.”
অর্থাৎ, তামাদির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বাদী যদি আরজিতে কোনো বৈধ কারণ (যেমন পক্ষগণের সম্মতি, সময় বৃদ্ধি বা আইনি প্রতিবন্ধকতা) সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে পারে, তবে আদালত আরজি খারিজ না করে পূর্ণাঙ্গ বিচারে যেতে বাধ্য।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম আইনি বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর ডিভিশন বেঞ্চ নথিপত্র এবং আইনজীবীদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেন:

ক. সময় বৃদ্ধি ও মওকুফের আইনি ফলাফল (Waiver & Extension of Time):

হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন যে বিবাদী কোম্পানি চেয়ারম্যান ও পরিচালকের মৃত্যুর কারণে ওয়ারিশ কায়েম ও উত্তরাধিকার সনদ সংগ্রহের অসুবিধার কথা জানিয়ে পরপর তিনটি চিঠিতে (১৩.০৫.২০২৩, ২৫.১১.২০২৩ ও ২২.০৮.২০২৪) সময় বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছিল। মৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। বিবাদীপক্ষ এই চিঠিগুলোর সত্যতা অস্বীকার করেনি। সুতরাং পক্ষগণের এই লিখিত সম্মতি ও আচরণের দ্বারা প্রাথমিক বায়নাপত্রের ৯ মাসের সময়সীমা বিলুপ্ত হয়ে তা অনির্দিষ্ট সময়ে বর্ধিত হয়েছিল।

খ. ১১৩ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশের কার্যকর প্রয়োগ:

যেহেতু সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল, সেহেতু তামাদি গণনার শুরুর দিনটি মূল চুক্তির দিন থেকে পরিবর্তিত হয়ে বিবাদীর অস্বীকৃতি বা প্রত্যাখ্যানের তারিখ (Date of Refusal) হিসেবে পরিগণিত হবে। বিবাদীপক্ষ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে লিগ্যাল নোটিশের জবাবে সাফ জানিয়ে দেয় যে তারা জমি রেজিস্ট্রি করবে না। সুতরাং ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকেই তামাদির ১ বছরের ঘড়ি চালু হয়েছে এবং বাদী ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর (মাত্র ৭ মাসের মাথায়) মামলা করায় তা সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত ও তামাদিমুক্ত।

গ. তামাদি আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন (Mixed Question of Law and Fact):

হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীনভাবে স্মরণ করিয়ে দেন— তামাদির প্রশ্ন নিছক আইনের বিমূর্ত বিষয় নয়; এটি বহুলাংশে তথ্য ও ঘটনার ওপর নির্ভরশীল। যেখানে সময় বৃদ্ধি, চিঠি চালাচালি বা আংশিক পণ গ্রহণের বিতর্কিত তথ্য রয়েছে, তা কেবল আরজি পড়ে একপাক্ষিকভাবে নির্ধারণ করা যায় না। এর জন্য উভয়পক্ষের মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্যের পূর্ণাঙ্গ বিচারিক মূল্যায়ন আবশ্যক। বিতর্কিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ৭ আদেশ ১১ বিধিতে আরজি খারিজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।

ঘ. ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধির শর্ত: সুনির্দিষ্ট আইন উল্লেখ বাধ্যতামূলক:

হাইকোর্ট অভিমত দেন যে, কোনো আদালত যদি ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধিতে মামলা কোনো আইনের দ্বারা বারিত বলে আরজি খারিজ করতে চায়, তবে বিচারককে সুনির্দিষ্টভাবে সেই বিধিবদ্ধ আইন ও ধারা রায়ে উল্লেখ করতে হবে যা মামলাটি দায়ের করতে সরাসরি নিষেধ করেছে। নিছক তামাদির বিতর্কিত তথ্যে আরজি খারিজের কোনো সুযোগ নেই।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও রায় (Final Judgment & Decree)
  • প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed): বাদী লাক্সমি বিল্ডার্স লিমিটেডের দায়েরকৃত First Appeal No. 31 of 2026 সম্পূর্ণ মঞ্জুর করা হলো।
  • আরজি খারিজের রায় বাতিল: ঢাকা ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ তারিখে Title Suit No. 931 of 2025-এ প্রদত্ত আরজি খারিজের রায় ও ডিক্রি সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও রদ করা হলো।
  • মূল মামলা পুনরুজ্জীবিত ও দ্রুত বিচারের নির্দেশ: মোকদ্দমাটি তার মূল নম্বরে পুনরুজ্জীবিত করা হলো এবং যুগ্ম জেলা জজকে আইন অনুযায়ী দ্রুততার সাথে পূর্ণাঙ্গ বিচারিক ট্রায়াল পরিচালনা করে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হলো।
  • খরচবিহীন আদেশ: কোনো পক্ষকেই খরচের কোনো আদেশ প্রদান করা হলো না এবং অবিলম্বে নিম্ন আদালতের নথি প্রেরণের নির্দেশ দেওয়া হলো।

৬. আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):

  1. ১১৩ অনুচ্ছেদের নমনীয়তা: চুক্তি প্রবলের মামলায় প্রাথমিক চুক্তিপত্রে উল্লিখিত সময়সীমা পক্ষগণের পারস্পরিক সম্মতিতে বা চিঠিপত্রের মাধ্যমে বাড়ানো হলে মূল সময়সীমা অকার্যকর হয়ে যায় এবং চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের নোটিশের তারিখ থেকে নতুন তামাদি শুরু হয়।
  2. ৭ আদেশ ৬ বিধির সুরক্ষা: আরজিতে যদি তামাদি উত্তীর্ণের পরও বিশেষ কারণ বা সময় বৃদ্ধির বৈধ ভিত্তি দেখানো থাকে, তবে আদালত আরজি খারিজের প্রাথমিক পর্যায়ে মামলাটি খারিজ করতে পারে না।
  3. আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন: যে মামলায় তামাদির বিষয় নির্ধারণ করতে উভয়পক্ষের মৌখিক সাক্ষ্য বা চিঠিপত্র পরীক্ষা করা প্রয়োজন, তা কখনো ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধির সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করা যায় না।
  4. স্বপ্রণোদিত আরজি খারিজের সীমাবদ্ধতা: বিবাদী যেখানে জবাবের জন্য সময় প্রার্থনা করেছে, সেখানে বিচারক অহেতুক অতি-উৎসাহী হয়ে কোনো পক্ষ কর্তৃক উত্থাপিত না হওয়া বিতর্কিত তথ্যে স্বপ্রণোদিত আরজি খারিজ করতে পারেন না।

৭. প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সতর্কতা
১. সময় বৃদ্ধির চিঠিগুলো যত্নের সাথে সংরক্ষণ করুন:

বায়নাপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকলে বিক্রেতার নিকট থেকে লিখিত সময় বৃদ্ধির চিঠি নিন; এই চিঠিগুলো তামাদি আইনের ১১৩ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অংশ সক্রিয় করতে প্রধান অস্ত্র।

২. আরজিতে ৭ আদেশ ৬ বিধির সুনির্দিষ্ট প্যারাগ্রাফ রাখুন:

মূল বায়নাপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে আরজিতে একটি পৃথক অনুচ্ছেদে ‘তামাদি মওকুফ ও অব্যাহতির কারণ’ শিরোনামে প্রতিপক্ষের চিঠি ও চূড়ান্ত প্রত্যাখ্যানের তারিখ উল্লেখ করুন।

৩. রেজিস্ট্রি লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে প্রত্যাখ্যান প্রমাণ করুন:

মোকদ্দমা দায়েরের পূর্বে আইনজীবীর মাধ্যমে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে দলিল সম্পাদনের তারিখ নির্ধারণ করে নোটিশ পাঠান; তাদের উত্তর বা নীরবতাকে প্রত্যাখ্যান হিসেবে মামলায় প্রদর্শন করুন।

৪. মিশ্র প্রশ্নের ক্ষেত্রে ৭ আদেশ ১১-র তীব্র বিরোধিতা করুন:

প্রতিপক্ষ ৭ আদেশ ১১ বিধিতে আরজি খারিজ চাইলে আদালতে জোর দিয়ে বলুন যে বিষয়টি ‘আইন ও ঘটনার মিশ্র প্রশ্ন’ যা ট্রায়াল ও সাক্ষ্যগ্রহণ ছাড়া নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।

৫. আরজি খারিজের বিরুদ্ধে প্রথম আপিল (First Appeal) দায়ের করুন:

যুগ্ম জেলা জজ আদালত আরজি খারিজ করলে সেটি ডিক্রি হিসেবে গণ্য হয় (Section 2(2) CPC); ফলে হাইকোর্টে রিভিশন নয়, সুনির্দিষ্টভাবে ৯৬ ধারায় First Appeal দায়ের করাই সঠিক আইনি পথ।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর প্রথম আপিল নং ৩১ / ২০২৬ (First Appeal No. 31 of 2026)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (ডিভিশন বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী)
পক্ষসমূহ লাক্সমি বিল্ডার্স লিমিটেড (আপিলকারী/বাদী) বনাম মেসন্স এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ও অন্যান্য (রেসপনডেন্টগণ/বিবাদীগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ আপিলকারী পক্ষে: জনাব গরিব নেওয়াজ, জনাব মোহাম্মদ মাশরুফুল আলম ও মোছা: মাকসুদা আক্তার, অ্যাডভোকেট | রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব মোহাম্মদ আহসান ও জনাব মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৯৩১/২০২৫, আদেশ ও রায়: ১৬.০৩.২০২৬ – তামাদির অজুহাতে ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধিতে আরজি সরাসরি খারিজ)
মূল আইনি বিষয়বস্তু ও আইন চুক্তি প্রবল (Specific Performance of Contract); তামাদি আইন ১৯০৮-এর অনুচ্ছেদ ১১৩-এর ১ম ও ২য় অংশ; দেওয়ানী কার্যবিধির ৭ আদেশ ৬ বিধি ও ৭ আদেশ ১১(ঘ) বিধি; চুক্তি সম্পাদন সময় বৃদ্ধি (Extension of time) ও চূড়ান্ত অস্বীকৃতি (Refusal)।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed); ১ম যুগ্ম জেলা জজের আরজি খারিজের রায় ও ডিক্রি বাতিল; মূল মামলা পুনরুজ্জীবিত করে দ্রুত নিষ্পত্তির কঠোর নির্দেশ।
শুনানি ও রায়ের তারিখ শুনানি: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | চূড়ান্ত রায় প্রদান: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | আপলোড: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজমেন্ট পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button