সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে নিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) ও নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
প্রশ্ন ৩। (খ): সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে নিরোধমূলক প্রতিকার (Preventive Relief) ও নিষেধাজ্ঞার প্রকারভেদ | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে যেসকল উপায়ে প্রতিকার প্রদান করা হয় তার মধ্যে অন্যতম মৌলিক শ্রেণি হলো ‘নিরোধমূলক প্রতিকার’ (Preventive Relief)। কাউকে কোনো অবৈধ বা ক্ষতিকর কাজ করা হতে বিরত রাখার মাধ্যমে এই প্রতিকার প্রদান করা হয়। অত্র প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর তৃতীয় খণ্ড (Part III) অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার প্রদানের সংবিধিবদ্ধ পদ্ধতিসমূহ ও তাদের প্রকারভেদ বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইন ও আইনি বিধানাবলী
The Specific Relief Act, 1877 এর Section 52 ও 53 এ নিরোধমূলক প্রতিকার মঞ্জুরের পদ্ধতি বিবৃত রয়েছে:
“Section 52: Preventive relief is granted at the discretion of the Court by injunction, temporary or perpetual.”
“Section 53: Temporary injunctions are such as are to continue until a specified time, or until the further order of the Court. They may be granted at any stage of a suit, and are regulated by the Code of Civil Procedure, 1908.
A perpetual injunction can only be granted by the decree made at the hearing and upon the merits of the suit; the defendant is thereby perpetually enjoined from the assertion of a right, or from the commission of an act, which would be contrary to the rights of the plaintiff.”
এছাড়া Section 54 (চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা), Section 55 (বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা), Section 56 (নিষেধাজ্ঞা নামঞ্জুরের ক্ষেত্রসমূহ) এবং Section 57 (নেতিবাচক চুক্তি পালনে নিষেধাজ্ঞা) অত্র অধ্যায়ের অংশ।
৩. বাস্তব বিশ্লেষণ ও গভীর আইনি ব্যাখ্যা
নিরোধমূলক প্রতিকার প্রদানের পদ্ধতি ও শ্রেণিবিভাগ
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ধারা অনুযায়ী নিরোধমূলক প্রতিকার মূলত নিষেধাজ্ঞা (Injunction) জারির মাধ্যমে আদালতের সুবিবেচনামূলক ক্ষমতায় প্রদান করা হয়। এটি প্রধানত তিন পদ্ধতিতে কার্যকরী হয়:
- ১. অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary Injunction – Section 53(1)):
- মামলার যেকোনো পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বা আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় সম্পত্তির স্থিতাবস্থা বজায় রাখার জন্য এটি দেওয়া হয়।
- এটি দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ বিধি (Order XXXIX, Rules 1-2) দ্বারা পরিচালিত হয়।
- এর জন্য ৩টি শর্ত আবশ্যক: (ক) প্রাইমা ফেসি মামলা (Prima facie case), (খ) অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable loss), এবং (গ) সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য (Balance of convenience and inconvenience)।
- ২. চিরস্থায়ী বা স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual Injunction – Section 53(2) ও Section 54):
- মামলার শুনানী শেষে মেধার ভিত্তিতে ডিক্রির মাধ্যমে বিবাদীর বিরুদ্ধে চিরতরে কোনো ক্ষতিকর কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- ধারা ৫৪ অনুযায়ী এটি দেওয়া যায় যখন: (ক) বিবাদী বাদীর সম্পত্তির ট্রাস্টি, (খ) অধিকার লঙ্ঘনের ফলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কোনো মাপকাঠি নেই, (গ) আর্থিক ক্ষতিপূরণ পর্যাপ্ত প্রতিকার নয়, অথবা (ঘ) বিচারিক কার্যধারার বহুত্ব রোধ করার প্রয়োজন হয়।
- ৩. বাধ্যতামূলক নিষেধাজ্ঞা (Mandatory Injunction – Section 55):
- যখন কোনো বাধ্যবাধকতা ভঙ্গ রোধ করার জন্য এমন কোনো কাজ সম্পাদন করা প্রয়োজন যা আদালত কার্যকর করতে পারেন, তখন আদালত বিবাদীকে ইতিবাচকভাবে কাজটি করার নির্দেশ দেন (যেমন অবৈধভাবে নির্মিত দেয়াল ভেঙে ফেলা)।
- ৪. নেতিবাচক চুক্তি পালনে নিষেধাজ্ঞা (Injunction to perform Negative Agreement – Section 57):
- যেখানে ইতিবাচক চুক্তি কার্যকর করা যায় না, কিন্তু চুক্তির মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট কাজ ‘না করার’ নেতিবাচক অঙ্গীকার থাকে, আদালত সেই নেতিবাচক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারেন।
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স বনাম মজিবুর রহমান (54 DLR 362): আদালত স্পষ্ট করেন যে, নিরোধমূলক প্রতিকার ইকুইটির নীতি দ্বারা পরিচালিত এবং আদালত সুবিচারের উদ্দেশ্যে পক্ষগণের অধিকার সংরক্ষণের জন্য এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
২. জিন্নাত আলী বনাম আব্দুল জলিল (40 DLR 283): চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কেবল ডিক্রির মাধ্যমেই দেওয়া সম্ভব, কোনো অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের মাধ্যমে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায় না।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
নিরোধমূলক প্রতিকার কোনো ব্যক্তির আইনি অধিকার রক্ষা এবং অপূরণীয় ক্ষতি থেকে পক্ষগণকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি অত্যন্ত কার্যকর ইকুইটিমূলক আইনি হাতিয়ার, যা সম্পত্তি ও অধিকার রক্ষায় দেওয়ানী আদালতের অনন্য ক্ষমতার প্রকাশ ঘটায়।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৫-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।
