একাধিক মৌজায় অভিন্ন স্বার্থহীন যৌথ বাটোয়ারা ও বংশলতিকা প্রমাণের নীতি: হাইকোর্ট

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বাটোয়ারা মোকদ্দমায় (Partition Suit) পক্ষগণের অভিন্ন স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest), আরজিতে সর্বশেষ জরিপ খতিয়ান বর্ণনার বাধ্যবাধকতা এবং বংশলতিকা (Genealogy) প্রমাণের কঠোর মানদণ্ড নিয়ে এক সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, (১) পক্ষগণের মধ্যে স্বার্থের পারস্পরিক সম্মিলন ব্যতিরেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন মৌজা এবং ভিন্ন ভিন্ন সি.এস. ও এস.এ. খতিয়ানের জমি একত্রিত করে আলাদা আলাদা বিবাদীদের বিরুদ্ধে একটিমাত্র বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করা আইনত অচল; (২) সি.এস. খতিয়ানে স্বত্বের উৎপত্তি হলেও দেওয়ানী আদালত থেকে কার্যকর বাটোয়ারা ডিক্রি পাওয়ার জন্য আরজির তফশিলে সংশ্লিষ্ট জমিনের সর্বশেষ প্রস্তুতকৃত এস.এ. বা আর.এস. খতিয়ান ও দাগ নম্বর সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় অ্যাডভোকেট কমিশনার কর্তৃক সাহাম বণ্টনে জটিলতা ও ডিক্রি অকার্যকর হয়ে পড়বে; এবং (৩) ওয়ারিশ হিসেবে স্বত্ব দাবিদার মূল পক্ষ নিজে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শপথপূর্বক সাক্ষ্য না দিয়ে নিছক আমমোক্তার বা আপসরত বিবাদীদের জেরার ওপর ভর করে উত্তরাধিকার বা বংশলতিকা প্রমাণ করতে পারে না। ট্রায়াল কোর্টের অপরিপক্ক বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল করে হাইকোর্ট উভয়পক্ষকে আরজি সংশোধন ও সাক্ষ্য প্রমাণের সুযোগ দিয়ে মামলা রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি টাঙ্গাইল ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০০৬ সালে দায়েরকৃত বাটোয়ারা মোকদ্দমা Partition Suit No. 8 of 2006 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা ও বিচারিক ঘটনাবলী নিম্নরূপ:

  • ৭২ জন বাদীর যৌথ বাটোয়ারা মামলা: ১-১০ নম্বর রেসপনডেন্টসহ মোট ৭২ জন ব্যক্তি যৌথ বাদী হয়ে ৩টি পৃথক মৌজার (এগার কাহনিয়া, বাকরিয়া ও হলদিয়া) মোট ২৫.২৬ একর জমি বাটোয়ারার দাবিতে মামলা দায়ের করেন এবং ১১.৫৫ একর জমির সাহাম প্রার্থনা করেন।
  • ৩ নম্বর তফশিলের বিরোধ ও পক্ষগণের দাবি: ৩ নম্বর তফশিলে হলদিয়া মৌজার সি.এস. ৮৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ৬.০৪ একর জমি নিয়ে মূল বিরোধ সৃষ্টি হয়। ১০ ও ১১ নম্বর বাদী দাবি করেন যে এই জমি কাদার আলী, ভোমর আলী ও গোমর আলী— তিন ভাইয়ের সমান অংশ ছিল। ভোমর আলী শেখ এক পুত্র গাবু শেখ ও এক কন্যা সুন্দরী রেখে মারা যান এবং বাদী ১০ ও ১১ নম্বর তাদের ওয়ারিশ হিসেবে ২.০১ একর জমি পাওয়ার হকদার।
  • প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীদের জবাব ও নিঃস্বন্তানের দাবি: ৪৫-৪৯ ও ৫৯ নম্বর বিবাদী (শুকুর আলী মাস্টার গং) লিখিত জবাব দাখিল করে জানান যে ভোমর আলী শেখের স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হয়ে অন্যত্র চলে যান এবং ভোমর আলী নিঃসন্তান (Issueless) ছিলেন। গাবু শেখ ও সুন্দরী তার ঔরসজাত সন্তান নয়। ভোমর আলী জীবদ্দশায় তার পুরো জমি অপর দুই ভাইকে মৌখিক দান (Oral Gift) করে যান এবং বিবাদীগণ তাদের ওয়ারিশ হিসেবে এস.এ. খতিয়ানে নাম রেকর্ড করিয়ে ঘরবাড়ি তুলে ভোগদখলে আছেন।
  • আপসরত বিবাদীদের সাথে সোলেমানা: মামলার অধিকাংশ বিবাদী (৭-১২, ১৪-২৭ ও ২৯-৩৩ নম্বর) ১ ও ২ নম্বর তফশিলের জমি নিয়ে বাদীপক্ষের সাথে সোলেমানা (আপসনামা) সম্পাদন করে।
  • যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ডিক্রি: ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীদের বিরুদ্ধে ৩ নম্বর তফশিলসহ পুরো মোকদ্দমা ডিক্রি করেন। আদালত সোলেমানাকারী বিবাদীদের সাক্ষীদের (ডিডব্লিউ ৬ ও ৭) জেরার কথার ওপর ভিত্তি করে ১০ ও ১১ নম্বর বাদীর অনুকূলে ভোমর আলীর ওয়ারিশান স্বত্ব মঞ্জুর করেন।
  • হাইকোর্টে প্রথম আপিল (First Appeal): যুগ্ম জেলা জজের এই রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদী শুকুর আলী মাস্টার গং হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 209 of 2011 দায়ের করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🛡️ আপিলকারী বিবাদীগণের যুক্তি (Appellants)

  1. স্বার্থের সম্মিলন সম্পূর্ণ অনুপস্থিত: ভিন্ন ভিন্ন মৌজার ভিন্ন ভিন্ন খতিয়ানভুক্ত জমিতে আলাদা আলাদা বিবাদীদের বিরুদ্ধে ৭২ জন বাদী মিলে এক মামলা করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
  2. বাদিগণ কাঠগড়ায় সাক্ষ্য দেননি: ১০ ও ১১ নম্বর বাদী নিজেরা আদালতে উপস্থিত হয়ে শপথপূর্বক সাক্ষ্য দেননি; একজন আমমোক্তারের সাক্ষ্যে বংশলতিকা প্রমাণ করা যায় না।
  3. আপসকারী সাক্ষীর কথায় ডিক্রি ভুল: যে বিবাদীগণ বাদীর সাথে গোপনে আপস করেছে, তাদের জেরার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীদের বিরুদ্ধে ডিক্রি দেওয়া চরম বিচারিক ভুল।

🏛️ রেসপনডেন্ট বাদিগণের যুক্তি (Respondents)

  1. পরিবারের নিকটাত্মীয়দের সাক্ষ্য: ডিডব্লিউ ৬ গোমর আলীর নাতি এবং ডিডব্লিউ ৭ কাদার আলীর মেয়ে; পরিবারের রক্তসম্পর্কের সদস্য হিসেবে তারা স্বীকার করেছেন ভোমর আলীর সন্তান ছিল।
  2. মৌখিক হেবার কোনো প্রমাণ নেই: বিবাদীগণ দাবি করেছিল ভোমর আলী নিঃসন্তান অবস্থায় ভাইদের মৌখিক দান করেছিলেন, কিন্তু সেই দানের কোনো দালিলিক সাক্ষ্য বিবাদীগণ দিতে পারেনি।
  3. সিএস রেকর্ডের তিন ভাইয়ের অংশ: সিএস খতিয়ানে তিন ভাইয়ের সমান অংশ স্বীকৃত; ফলে ভোমর আলীর উত্তরাধিকারী হিসেবে বাদীদের সাহাম ডিক্রি সম্পূর্ণ আইনসম্মত।

৩. বাটোয়ারার আইনি কাঠামো: স্বার্থের ঐক্য ও সর্বশেষ রেকর্ডের অনিবার্যতা

দেওয়ানী বিচারে বাটোয়ারা মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে পক্ষগণের মধ্যে পারস্পরিক আইনি সংযোগ এবং আরজির তফশিলের স্পষ্টতা আদালতের জন্য অপরিহার্য পূর্বশর্ত।

১. বাটোয়ারায় স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest):

বাটোয়ারা মামলায় সকল বাদীর সাথে সকল বিবাদীর নালিশি সম্পত্তির প্রতি খণ্ডে স্বার্থের অবিচ্ছেদ্য সম্মিলন থাকতে হবে। যদি ‘ক’ মৌজার জমিতে একদল বিবাদীর কোনো স্বত্ব না থাকে এবং ‘খ’ মৌজার জমিতে অপর বিবাদীদের কোনো সংযোগ না থাকে, তবে তাদের সবাইকে এক মামলায় বিবাদী করে একটি আরজিতে বাটোয়ারা চাওয়া মিসজয়েন্ডার অব পার্টিজ ও কজেস অব অ্যাকশনের (Misjoinder of Parties and Causes of Action) কারণে মারাত্মকভাবে ত্রুটিপূর্ণ।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের সূক্ষ্ম আইনি বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলার মূল আরজি, সাক্ষ্য ও নথি পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেন:

ক. আরজিতে সর্বশেষ এস.এ. রেকর্ড উল্লেখ না করার চরম ত্রুটি:

হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন যে মামলাটি ২০০৬ সালে দায়ের করা হলেও বাদীগণ আরজির তফশিলে কেবল সি.এস. এবং পূর্ববর্তী আর.এস. খতিয়ান উল্লেখ করেছেন। মামলা দায়েরকালে তৎকালীন সর্বশেষ বলবৎ এস.এ. খতিয়ান ও এস.এ. দাগ নম্বরের কোনো বিবরণ আরজিতে দেওয়া হয়নি। রায়ে বলা হয়— সিএস খতিয়ানে স্বত্বের উৎপত্তি হলেও দেওয়ানী আদালত থেকে রায় ও ডিক্রি পেতে হলে সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ খতিয়ান উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে আদালত প্রয়োজনীয় পক্ষগণকে চিহ্নিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে অ্যাডভোকেট কমিশনারের মাধ্যমে ডিক্রি জারিতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

খ. বংশলতিকা প্রমাণের প্রাথমিক দায়ভার বাদীর (Burden of Proving Genealogy):

১০ ও ১১ নম্বর বাদী দাবি করেছিলেন যে তারা ভোমর আলীর উত্তরাধিকারী। বিবাদীপক্ষ দাবি করেছিল ভোমর আলী নিঃসন্তান মারা গেছেন। সাক্ষ্য আইনের মূলনীতি অনুযায়ী, এই বিরোধপূর্ণ বংশলতিকা প্রমাণের প্রাথমিক দায়ভার (Initial Onus of Proof) সম্পূর্ণ বাদীদের ওপরই বর্তায়। ১০ ও ১১ নম্বর বাদিনী স্বয়ং আদালতে এসে শপথ নিয়ে জবানবন্দি দিয়ে বিবাদীদের জেরার মুখোমুখি হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তারা নিজেরা কাঠগড়ায় না দাঁড়িয়ে একজন আমমোক্তার দিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ান, যা বংশলতিকা প্রমাণে কোনো উপযুক্ত বা গ্রহণযোগ্য সাক্ষ্য হতে পারে না।

গ. আপসকারী বিবাদীদের বক্তব্যের ওপর নির্ভরতার অবৈধতা:

যুগ্ম জেলা জজ ডিডব্লিউ ৬ ও ৭-এর জেরার কথার ভিত্তিতে বাটোয়ারা ডিক্রি দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্ট উন্মোচন করেন যে এই ডিডব্লিউ ৬ ও ৭ মূলত ৫০ ও ৫৩ নম্বর বিবাদী, যারা ইতিপূর্বেই বাদীদের সাথে সোলেমানা করে আপস করে নিয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীদের বিরুদ্ধে আপসকারী কোনো পক্ষের অসংলগ্ন কথার ওপর নির্ভর করে স্বত্বের রায় দেওয়া মারাত্মক বেআইনি।

ঘ. উভয়পক্ষের সুযোগ নিশ্চিত করতে রিমান্ড:

যেহেতু বিবাদীপক্ষও তাদের দাবিকৃত মৌখিক হেবার পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ করতে পারেনি এবং বাদীপক্ষও তাদের বংশলতিকা ও সর্বশেষ রেকর্ডের বিবরণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেহেতু বাটোয়ারা বিরোধের সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তির স্বার্থে উভয়পক্ষকে আরজি সংশোধন ও নতুন সাক্ষ্য দাখিলের সুযোগ দিয়ে মামলাটি ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে প্রেরণ করাই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত আদেশ ও দিকনির্দেশনা (Final Decision & Directions)
  • প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed): শুকুর আলী মাস্টার ও অন্যান্য আপিলকারী বিবাদীদের দায়েরকৃত First Appeal No. 209 of 2011 সম্পূর্ণ মঞ্জুর করা হলো।
  • যুগ্ম জেলা জজের বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল: টাঙ্গাইল ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক ২৩.০২.২০১১ তারিখে Partition Suit No. 8 of 2006-এ প্রদত্ত বাটোয়ারা রায় ও ডিক্রি বাতিল ও রদ করা হলো।
  • আরজি ও জবাব সংশোধনের সুযোগসহ রিমান্ড: মামলাটি ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পুনঃবিচারের জন্য রিমান্ডে পাঠানো হলো। উভয়পক্ষকে আরজি ও জবাব সংশোধন এবং প্রয়োজনীয় মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য উপস্থাপনের পূর্ণ সুযোগ প্রদান করা হলো।
  • অহেতুক মুলতবি ছাড়া দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ: ট্রায়াল কোর্টকে কোনো বিলম্ব না করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মামলাটির পুনঃবিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো এবং অবিলম্বে নথি প্রেরণের আদেশ দেওয়া হলো।

৬. আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):

  1. কমিউনিটি অব ইন্টারেস্ট বাটোয়ারার প্রাণ: একাধিক ভিন্ন মৌজার পৃথক পৃথক জমি নিয়ে যদি সকল পক্ষের মধ্যে যৌথ স্বার্থ না থাকে, তবে একটিমাত্র বাটোয়ারা মামলা পরিচালনা করা যায় না।
  2. সর্বশেষ জরিপ খতিয়ান আরজিতে বাধ্যতামূলক: বাটোয়ারা ডিক্রিকে বাস্তবে কার্যকর করতে হলে সি.এস.-এর পাশাপাশি সর্বশেষ এস.এ., আর.এস. বা বি.এস. খতিয়ান ও দাগ আরজির তফশিলে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা অপরিহার্য।
  3. আমমোক্তার দিয়ে বংশলতিকা প্রমাণ নিষিদ্ধ: উত্তরাধিকারসূত্রে স্বত্বের দাবিদারকে স্বয়ং আদালতে দাঁড়িয়ে বংশলতিকা প্রমাণের সাক্ষ্য দিতে হবে; রক্তের সম্পর্কহীন পাওয়ার অব অ্যাটর্নির বক্তব্যে স্বত্ব সাব্যস্ত হয় না।
  4. সোলেমানাকারী বিবাদীর বক্তব্যের মূল্যহীনতা: যে পক্ষ ইতোমধ্যে আপস করে ফেলেছে, তাদের জেরার বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবাদীদের জমি কেড়ে নেওয়া আইনের চোখে অগ্রহণযোগ্য।

৭. প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সতর্কতা
১. ভিন্ন মৌজার জমি পৃথক বাটোয়ারা মামলায় রাখুন:

যদি ভিন্ন ভিন্ন মৌজায় বিবাদীগণ ভিন্ন হয় এবং কোনো যৌথ স্বার্থ না থাকে, তবে পৃথক পৃথক বাটোয়ারা মামলা দায়ের করুন; মিসজয়েন্ডারের ঝুঁকিমুক্ত থাকুন।

২. আরজির তফশিলে সকল জরিপ খতিয়ানের ধারাবাহিকতা দিন:

শুধু সি.এস. দাগ দেবেন না; সি.এস., এস.এ., আর.এস. ও হাল বি.এস. দাগ ও খতিয়ানের ধারাবাহিক টেবিল আরজিতে যুক্ত করলে ডিক্রি কার্যকরে কোনো বাধা থাকে না।

৩. বংশলতিকার ক্ষেত্রে মূল উত্তরাধিকারীকে সাক্ষীর কাঠগড়ায় তুলুন:

আমমোক্তারনামাধারীর ওপর নির্ভর না করে মূল ওয়ারিশকে আদালতে এনে কে কার সন্তান এবং কে কখন মারা গেছেন তা জবানবন্দিতে বিশদভাবে উপস্থাপন করান।

৪. ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ারিশান সনদ প্রদর্শনী করান:

বংশলতিকার সপক্ষে চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পারিবারিক রেজিস্ট্রি রেকর্ড আদালতে দাখিল করে একজিবিট করানো অত্যন্ত নিরাপদ কৌশল।

৫. আপস ডিক্রির পর অবশিষ্ট অংশের শুনানিতে সতর্কতা:

কিছু বিবাদীর সাথে সোলেমানা হলে অবশিষ্ট বিবাদীদের অংশের বিরোধে আপসকারীদের সাক্ষ্যকে একমাত্র প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ না করে স্বাধীন সাক্ষ্য উপস্থাপন করুন।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর প্রথম আপিল নং ২০৯ / ২০১১ (First Appeal No. 209 of 2011)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (ডিভিশন বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী)
পক্ষসমূহ শুকুর আলী মাস্টার ও অন্যান্য (বিবাদী-আপিলকারীগণ) বনাম দরাজ কাজী ও অন্যান্য (বাদী-রেসপনডেন্টগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ আপিলকারী পক্ষে: জনাব মো: কায়সারুজ্জামান ও জনাব সৈয়দ আরিফুর রহমান, অ্যাডভোকেট | রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব মো: শাহাদাত তানভীর আমিন, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, টাঙ্গাইল (বাটোয়ারা মোকদ্দমা নং ০৮/২০০৬, রায় ও ডিক্রি: ২৩.০২.২০১১ – বাটোয়ারা ডিক্রি)
মূল আইনি বিষয়বস্তু ও নীতি বাটোয়ারা মোকদ্দমায় স্বার্থের সম্মিলন (Community of Interest); আরজিতে সর্বশেষ এস.এ. জরিপ খতিয়ান বর্ণনার বাধ্যবাধকতা; বংশলতিকা ও উত্তরাধিকার প্রমাণের দায়ভার (Onus of Proof); আমমোক্তারের সাক্ষ্যের সীমাবদ্ধতা।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রথম আপিল মঞ্জুর (First Appeal Allowed); যুগ্ম জেলা জজের বাটোয়ারা ডিক্রি বাতিল; আরজি ও জবাব সংশোধন এবং পুনঃবিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড।
শুনানি ও রায়ের তারিখ শুনানি ও চূড়ান্ত রায় প্রদান: ০৭ জুলাই ২০২৬ | আপলোড: ৩০ আগস্ট ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজメント পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button