ভূমিকা
দেওয়ানি কার্যবিধির Section 151 CPC-এ আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে—
আদালত ন্যায়বিচারের স্বার্থে বা আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার (Abuse of process) রোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারে।
অর্থাৎ, আইন যেখানে নীরব, সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আদালত নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
অন্তর্নিহিত ক্ষমতার ধারণা
অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বলতে বোঝায় এমন একটি ক্ষমতা, যা আদালতের স্বাভাবিক ও অবিচ্ছেদ্য ক্ষমতা হিসেবে বিদ্যমান থাকে, যদিও তা আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না-ও থাকতে পারে।
এই ক্ষমতা আদালতের ন্যায়বিচার প্রদান করার মূল উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক।
অন্তর্নিহিত ক্ষমতার উদ্দেশ্য
- ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা
- আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার প্রতিরোধ করা
- আইনের শূন্যতা (Gap) পূরণ করা
- সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা
অন্তর্নিহিত ক্ষমতার ব্যবহার ক্ষেত্র
আদালত সাধারণত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে—
- মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখা (Stay of proceeding)
- আদেশ সংশোধন করা (Correction of errors)
- প্রতারণা বা অসৎ উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত মামলা বাতিল করা
- আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদান
সীমাবদ্ধতা (Limitations)
অন্তর্নিহিত ক্ষমতা অসীম নয়। এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে—
- এটি আইনের স্পষ্ট বিধানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না
- যেখানে আইনে নির্দিষ্ট প্রতিকার আছে, সেখানে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না
- এটি শুধুমাত্র ন্যায়বিচারের স্বার্থে ব্যবহার করতে হবে
- খামখেয়ালীভাবে ব্যবহার করা যাবে না
উদাহরণ
ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি প্রতারণামূলকভাবে একই বিষয় নিয়ে একাধিক মামলা দায়ের করে আদালতের সময় অপচয় করছে।
এ ক্ষেত্রে আদালত Section 151 CPC অনুযায়ী সেই মামলা খারিজ করতে পারে, যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ধারা না-ও থাকতে পারে।
উপসংহার
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আদালতের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা বিচার ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ, যা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। Section 151 CPC-এর মাধ্যমে আদালত এমন পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে, যেখানে আইন পর্যাপ্ত নির্দেশনা প্রদান করে না。
অতএব, বলা যায়—
অন্তর্নিহিত ক্ষমতা হলো আদালতের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় একটি স্বাভাবিক ও সহায়ক শক্তি।