জমিতে অবৈধ নির্মাণ রোধ ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৬
প্রশ্ন ১। (গ): ক দাবি করে যে খ, ক এর জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করছে যার ফলে ক এর অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ক মামলা চলাকালীন আদালতের নিকট নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার আবেদন করে। আদালত কি এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারেন? The Specific Relief Act, 1877 এর প্রাসঙ্গিক বিধান উল্লেখপূর্বক উত্তর দিন। [৫]
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
জমিতে অবৈধ নির্মাণ কাজ বন্ধে মামলা চলাকালীন আদালতের নিকট প্রার্থিত প্রতিকার হলো একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Temporary or Interlocutory Injunction)। প্রশ্নটিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর আলোকে আদালত এ জাতীয় প্রতিকার মঞ্জুর করতে পারেন কি না এবং কোন বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়ায় তা কার্যকর হয়—তা নির্ণয় করতে চাওয়া হয়েছে।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইনি বিধানাবলী (Statutory Provisions)
- The Specific Relief Act, 1877 (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন):
- ধারা ৫২ (Preventive Relief how granted): নিরোধমূলক প্রতিকার আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা বলে অস্থায়ী (Temporary) বা চিরস্থায়ী (Perpetual) নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
- ধারা ৫৩ (Temporary Injunctions): অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা এমন এক আদেশ যা মামলার যে কোনো পর্যায়ে প্রদান করা যায় এবং তা দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (Code of Civil Procedure) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
- The Code of Civil Procedure, 1908:
- Order XXXIX, Rules 1 & 2: বিরোধীয় সম্পত্তির কোনো ক্ষতিসাধন, অপচয় বা রূপান্তর রোধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের বিশদ নিয়ম।
৩. বিশদ আইনি বিশ্লেষণ ও প্রশ্নের উত্তর
আদালত কি এ ধরনের প্রতিকার প্রদান করতে পারেন?
হ্যাঁ, আদালত অবশ্যই এই প্রতিকার প্রদান করতে পারেন।
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫২ ও ৫৩ ধারা স্পষ্টভাবে বিধান করে যে, আদালত নিরোধমূলক প্রতিকার হিসেবে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করতে পারেন। তবে ৫৩ ধারা মতে এই আদেশের পদ্ধতিগত শর্তাবলি দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের ১ ও ২ বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়।
অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুরের ৩টি অপরিহার্য মূলনীতি (Golden Principles):
ক-এর প্রার্থিত আবেদনটি মঞ্জুর করতে আদালত নিম্নলিখিত ৩টি মূলনীতি যাচাই করবেন:
- প্রাথমিক গ্রহণযোগ্য মামলা (Prima Facie Case): বাদী ক-কে নথিপত্রের প্রাথমিক সাক্ষ্য দিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে জমিতে তার আইনসঙ্গত স্বত্ব বা বৈধ দখলি অধিকার রয়েছে এবং তার দাবিটি ভিত্তিহীন বা কাল্পনিক নয়।
- অপূরণীয় ক্ষতি (Irreparable Injury): ক-কে প্রমাণ করতে হবে যে মামলা চলাকালীন খ-কে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে দিলে এমন ক্ষতি হবে যা পরবর্তীতে কোনো অর্থ বা ক্ষতিপূরণ দ্বারা নিরাময় করা সম্ভব নয়। সম্পত্তিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে দখলের রূপান্তর ঘটানো সুস্পষ্টভাবে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’।
- সুবিধা-অসুবিধার ভারসাম্য (Balance of Convenience and Inconvenience): আদালত পর্যালোচনা করবেন যে নিষেধাজ্ঞা না দিলে বাদীর যে পরিমাণ ক্ষতি হবে, নিষেধাজ্ঞা দিলে বিবাদীর তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে কি না। অবৈধ দখলদার বা নির্মাতার চেয়ে স্বত্ববান ব্যক্তির নিরাপত্তা প্রাধান্য পাবে।
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. দেলোয়ার হোসেন বনাম বাংলাদেশ (53 DLR 456): সুপ্রিম কোর্ট অভিমত দেন যে, বিরোধীয় ভূমিতে যদি কোনো পক্ষ একতরফাভাবে স্থায়ী দালানকোঠা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, তবে বিচার চলাকালে স্থিতাবস্থা রক্ষার্থে আদালত কালক্ষেপণ না করে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবেন, অন্যথায় মূল মামলার উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে।
২. বেগম আয়েশা বনাম ডাঃ এম.এ. রাজ্জাক (43 DLR 210): নিষেধাজ্ঞা প্রদানের ক্ষেত্রে বাদীর স্বত্বের প্রশ্নে সুস্পষ্ট প্রামাণ্য দলিল এবং অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা প্রদর্শিত হলেই আদালত দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ মতে নির্মাণ কাজ স্থগিতের আদেশ দেবেন।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
সুতরাং, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫২ ও ৫৩ ধারার ক্ষমতাবলে এবং দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশের অধীনে আদালত ক-এর প্রার্থিত প্রতিকার মঞ্জুরপূর্বক খ-কে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করবেন।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।

