[গেজেট] হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ (১০ নং আইন): অবৈধ দখল উচ্ছেদ, খাজনা চার্ট ও ইজারা সংক্রান্ত নতুন বিধান
হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১০ নং আইন)
📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট PDF ডাউনলোড ও সরাসরি পাঠাগার
বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) কর্তৃক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১০ নং আইন)-এর প্রামাণ্য গেজেট নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও পড়ার জন্য দেওয়া হলো:
প্রকাশের তারিখ: ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ | পৃষ্ঠা: ৭ | আকার: ১৬২ কিলোবাইট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)
📄 এই পেজেই সরাসরি মূল আইনের অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)
বিজি প্রেস (dpp.gov.bd) |
বাংলাদেশ লজ (bdlaws.minlaw.gov.bd) |
ভূমি মন্ত্রণালয় (minland.gov.bd)
১. আইন প্রণয়নের প্রেক্ষাপট ও নতুনত্ব
১৯৫৯ সালের ঔপনিবেশিক আমলের ‘East Bengal Hats and Bazars (Establishment and Acquisition) Ordinance’ রহিত করে যুগোপযোগী বিধানসহ প্রণীত হয়েছে হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩। এতদিন হাট-বাজারে খাস জমি দখল করে স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণ, অতিরিক্ত টোল বা খাজনা আদায়, চাঁদাবাজি এবং ইজারার নামে অনিয়ম নিত্যদিনের ঘটনা ছিল। নতুন আইনে হাট-বাজারের জমি দীর্ঘমেয়াদি বা স্থায়ী বন্দোবস্ত প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং অবৈধ দখলদারকে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়ার আইনি ক্ষমতা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।
২. আইনের প্রধান প্রধান বিধানসমূহ (ধারাভিত্তিক বিবরণ)
| ধারা | আইনের বিষয়বস্তু | আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা |
|---|---|---|
| ধারা ৪ | হাট ও বাজার স্থাপন ও বিলুপ্তি | সরকার বা সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক জনস্বার্থে যে কোনো স্থানে হাট বা বাজার স্থাপন, স্থানান্তর বা অবলুপ্ত করতে পারবেন। অননুমোদিত বেসরকারি হাট স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। |
| ধারা ৬ | স্থায়ী বন্দোবস্ত নিষিদ্ধকরণ | হাট-বাজারের কোনো জমি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত (Permanent Settlement) দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র একসালা (এক বছরের জন্য) অস্থায়ী ইজারা বা লাইসেন্স দেওয়া যাবে। |
| ধারা ৯ | খাজনা ও টোল চার্ট প্রদর্শন | হাট-বাজারে প্রবেশমুখে সরকার নির্ধারিত টোল ও খাজনার তালিকা সাধারণের দৃষ্টিগোচর স্থানে টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। তালিকার অতিরিক্ত অর্থ বা চাঁদা আদায় ফৌজদারি অপরাধ। |
| ধারা ১১ | অবৈধ দখল উচ্ছেদ পদ্ধতি | হাট-বাজারের জমিতে অবৈধ দোকান বা পাকা স্থাপনা নির্মাণকারীকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৪ ঘণ্টার নোটিশে উচ্ছেদ করতে পারবেন। কোনো দেওয়ানি আদালতের স্থগিতাদেশ ছাড়াই তাৎক্ষণিক ভেঙে ফেলা যাবে। |
| ধারা ১২ | জব্দকৃত মালামাল নিলাম | উচ্ছেদ অভিযানের সময় উদ্ধারকৃত অবৈধ মালামাল তাৎক্ষণিক প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হবে। |
| ধারা ১৪ | দণ্ড ও জরিমানা | আইনের বিধান লঙ্ঘন করে অবৈধ দখল বা অতিরিক্ত টোল আদায়ের অপরাধে দোষী ব্যক্তি অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা ১ বছর কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। |
💡 ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
পূর্বে হাট-বাজারের চান্দিনা ভিটি লিজ নিয়ে অনেকে স্থায়ী পাকা বাড়ি বা মার্কেট তৈরি করেছিলেন। ধারা ৬ ও ধারা ১১ অনুযায়ী, এখন কোনো চান্দিনা ভিটিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অধিকার নেই। সরকার যে কোনো মুহূর্তে কোনো ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তা উচ্ছেদ করতে পারবে।
৩. উচ্ছেদ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী, এই আইনের অধীন অপরাধসমূহ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (Mobile Court Act)-এর তফসিলভুক্ত করা হয়েছে। ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জরিমানা ও সাজার আদেশ দিতে পারবেন।
২৪ ঘণ্টার উচ্ছেদ নোটিশ
অবৈধ দখলদারকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়ে লাল নোটিশ জারি করবেন।
তাৎক্ষণিক অভিযান ও অপসারণ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরে না গেলে পুলিশ ও বুলডোজারের সহায়তায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে এবং উচ্ছেদ খরচ দখলদারের কাছ থেকে ভূমি রাজস্বের মতো আদায় করা হবে।


