[গেজেট] গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪ (০৩ নং আইন): বিচারিক এখতিয়ার ৩ লাখ টাকায় বৃদ্ধি, জমি সীমানা বিরোধ ও নারীর বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি

📜 বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা | আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ

গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ০৩ নং আইন)

আইন নম্বর:
২০২৪ সনের ০৩ নং আইন
গেজেট প্রকাশের তারিখ:
১৪ মে, ২০২৪ (৩১ বৈশাখ, ১৪৩১)
মূল সংশোধিত আইন:
গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ১৯ নং আইন)
নতুন আর্থিক এখতিয়ার:
৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকা

📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট PDF ডাউনলোড ও সরাসরি পাঠাগার

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) কর্তৃক ১৪ মে ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪ (২০২৪ সনের ০৩ নং আইন)-এর প্রামাণ্য গেজেট নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও পাঠের জন্য সংযুক্ত করা হলো:

📜 সংসদীয় মূল গেজেট: ২০২৪ সনের ০৩ নং আইন
প্রকাশের তারিখ: ১৪ মে, ২০২৪ | পৃষ্ঠা: ৪ | আকার: ৩৫৫ কিলোবাইট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)

📄 এই পেজেই সরাসরি মূল আইনের অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)


১. আইন সংশোধনের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামীণ জনগণের ছোটখাটো বিরোধ, জমিজমার সীমানা সংক্রান্ত কলহ, শস্যহানি এবং পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পূর্বে গ্রাম আদালতের আর্থিক এখতিয়ার ছিল মাত্র ৭৫,০০০ (পঁচাত্তর হাজার) টাকা। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই স্বল্প এখতিয়ারের কারণে সামান্য সীমানা বিরোধ বা অর্থ আদায়ের জন্যও মানুষকে জেলা সদরের জজ আদালতে গিয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হতো। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রণীত হয়েছে গ্রাম আদালত (সংশোধন) আইন, ২০২৪।

২. ২০২৪ সালের সংশোধনীতে প্রধান প্রধান পরিবর্তনসমূহ

বিষয়বস্তু পূর্ববর্তী বিধান (২০০৬) নতুন সংশোধিত বিধান (২০২৪)
আর্থিক এখতিয়ার (Pecuniary Limit) সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বা দাবি। একলাফে ৩,০০,০০০ (তিন লক্ষ) টাকায় উন্নীত। ফলে অধিকাংশ গ্রামীণ বিরোধ এখন গ্রাম আদালতেই মীমাংসা হবে।
নারীর বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্তি গ্রাম আদালত বেঞ্চে নারীর অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ব্যতীত মনোনীত ৪ জন সদস্যের মধ্যে কমপক্ষে একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক।
জমিজমার সীমানা ও ক্ষতিপূরণ জমির ছোট বিরোধে সীমিত এখতিয়ার ছিল। ৩ লাখ টাকা মূল্যের সীমানা নির্ধারণ, জমিতে অনধিকার প্রবেশ (Trespass), এবং গবাদিপশু দিয়ে ফসলের ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুস্পষ্ট ক্ষমতা প্রদান।
আদালতের অবমাননা ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানা। আদালতের অবমাননা বা সমন অমান্যের জন্য ১,০০০ টাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক জরিমানা করার ক্ষমতা।
⚖️ জমি সংক্রান্ত বিরোধে গ্রাম আদালতের ক্ষমতা

সংশোধিত আইনের তফসিল অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি প্রতিবেশী কৃষকের জমির আইল কেটে দখল করে বা গবাদিপশু নামিয়ে ফসল নষ্ট করে, যার ক্ষতির পরিমাণ ৩ লাখ টাকার মধ্যে—তবে ভুক্তভোগী দেওয়ানি আদালতে যাওয়ার পরিবর্তে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা ফি দিয়ে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে আবেদন করতে পারবেন।

৩. গ্রাম আদালতে আবেদন ও বিচার পাওয়ার ধাপসমূহ

১
আবেদন দাখিল

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট সাদা কাগজে বা নির্দিষ্ট ফরমে দরখাস্ত দাখিল করতে হবে (দেওয়ানি বিরোধের ক্ষেত্রে ২০ টাকা এবং ফৌজদারি বিরোধের ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি)।

২
৫ সদস্যের গ্রাম আদালত গঠন

ইউপি চেয়ারম্যান (সভাপতি), আবেদনকারীর পক্ষে ২ জন সদস্য (১ জন ইউপি সদস্য + ১ জন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, যার মধ্যে একজন নারী হতে হবে) এবং বিবাদীর পক্ষে ২ জন সদস্য নিয়ে আদালত গঠিত হবে।

৩
রায় ও আপিল

আদালতের সিদ্ধান্ত ৪:১ বা সর্বসম্মত হলে কোনো আপিল চলে না (চূড়ান্ত)। তবে ৩:২ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সিদ্ধান্ত হলে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালতে আপিল দায়ের করতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button