[গেজেট] পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (২৬ নং আইন): ৮.৫ লাখ টাকার এখতিয়ার, দ্রুত দেনমোহর-ভরণপোষণ ও আপিল সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ২৬ নং আইন)
📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট PDF ডাউনলোড ও সরাসরি পাঠাগার
বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) কর্তৃক ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ২৬ নং আইন)-এর পূর্ণাঙ্গ প্রামাণ্য গেজেট নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে:
প্রকাশের তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | পৃষ্ঠা: ১৬ | আকার: ১.৩২ মেগাবাইট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)
📄 এই পেজেই সরাসরি মূল আইনের অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)
বিজি প্রেস (dpp.gov.bd) |
বাংলাদেশ লজ (bdlaws.minlaw.gov.bd) |
আইন ও বিচার বিভাগ (minlaw.gov.bd)
১. আইন প্রণয়নের পটভূমি
সামরিক শাসনামলের ‘Family Courts Ordinance, 1985’ উচ্চ আদালতের রায়ের আলোকে বাতিল করে বাংলা ভাষায় সময়োপযোগী বিধানসহ প্রণীত হয়েছে পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩। দাম্পত্য জীবনের কলহ, নারীদের দেনমোহর ও ভরণপোষণ আদায় এবং সন্তানদের নিরাপদ হেফাজত নিশ্চিতকরণে পারিবারিক আদালত দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান আইনি আশ্রয়স্থল। নতুন আইনে আর্থিক এখতিয়ার বৃদ্ধিসহ মধ্যস্থতা (Mediation) ও দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কঠোর সময়সীমা আরোপ করা হয়েছে।
২. পারিবারিক আদালতের ৫টি মূল বিচার্য বিষয় (ধারা ৫)
আইনের ৫ ধারা মোতাবেক পারিবারিক আদালত কেবলমাত্র নিচের ৫টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করতে পারে:
| নং | বিষয়বস্তু | আইনি ব্যাখ্যা ও অধিকার |
|---|---|---|
| ১ | বিবাহ বিচ্ছেদ (Dissolution of Marriage) | মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ বা প্রচলিত পারিবারিক বিধিমতে স্ত্রীর তালাক দাবি অথবা স্বামীর পক্ষ হতে আইনানুগ বিচ্ছেদ স্বীকৃতি। |
| ২ | দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার (Restitution of Conjugal Rights) | স্বামী বা স্ত্রী কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া পৃথক বসবাস করলে পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার আবেদন। |
| ৩ | দেনমোহর আদায় (Dower) | নিকাহনামায় উল্লিখিত আশু (Prompt) বা বিলম্বিত (Deferred) দেনমোহরের দাবি আদায়। নতুন আইনে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি পারিবারিক আদালতে করা যাবে। |
| ৪ | ভরণপোষণ (Maintenance) | স্ত্রী ও নাবালক সন্তানদের বৈধ মাসিক খোরপোশ ও বিগত দিনগুলোর বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মামলা। |
| ৫ | সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত (Guardianship & Custody) | মাতা বা পিতার নিকট থেকে সন্তানের শারীরিক হেফাজত (Custody) ও আইনি অভিভাবকত্ব নির্ধারণ (Guardians and Wards Act, 1890-এর মূল নীতি অনুসরণ করে সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ বিবেচনায়)। |
⚖️ প্রাক-বিচার আপস বৈঠক (Pre-Trial Reconciliation) বাধ্যতামূলক
আইনের ১০ ধারা মোতাবেক বিবাদী সমন পেয়ে লিখিত জবাব দাখিল করার পর আদালত উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি গোপন আপস বৈঠক করবেন। সেখানে বিরোধটি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হলে আদালত সরাসরি আপস ডিক্রি জারি করবেন, যার বিরুদ্ধে কোনো উচ্চ আদালতে আপিল চলে না।
৩. বিচার পদ্ধতি ও আপিল বিধান
আরজি দাখিল ও নির্ধারিত কোর্ট ফি
সহকারী জজ আদালতে নির্ধারিত ৫০ টাকার কোর্ট ফি দিয়ে আরজি দাখিল করতে হয়। নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত বিলম্ব গ্রহণযোগ্য নয়।
জেলা জজ আদালতে আপিল
আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী, পারিবারিক আদালতের ডিক্রি বা আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ৩০ দিনের মধ্যে জেলা জজ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
ডিক্রি জারি ও অর্থ আদায়
ডিক্রিকৃত দেনমোহর বা ভরণপোষণের টাকা প্রদান না করলে আদালত দেওয়ানি জেল এবং পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট অনুযায়ী জমি ও সম্পত্তি ক্রোক করে অর্থ আদায়ের নির্দেশ দেন।

