[গেজেট] ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল আইন: State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 (২৪ নং আইন): ৩ লাখ মামলার জট নিরসনে যুগান্তকারী পরিবর্তন

📜 বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা | আইন ও বিচার বিভাগ

State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 (২০২৩ সনের ২৪ নং আইন)

আইন নম্বর:
২০২৩ সনের ২৪ নং আইন
গেজেট প্রকাশের তারিখ:
১১ জুলাই, ২০২৩ (২৬ আষাঢ়, ১৪৩০)
মূল সংশোধিত আইন:
State Acquisition and Tenancy Act, 1950 (Section 145A, 145B)
প্রধান পরিবর্তন:
প্রতিটি জেলায় জেলা জজকে ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা

📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট PDF ডাউনলোড ও সরাসরি পাঠাগার

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) কর্তৃক ১১ জুলাই ২০২৩ তারিখে প্রকাশিত State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 (২০২৩ সনের ২৪ নং আইন)-এর প্রামাণ্য গেজেট নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও পাঠের জন্য দেওয়া হলো:

📜 সংসদীয় মূল গেজেট: ২০২৩ সনের ২৪ নং আইন
প্রকাশের তারিখ: ১১ জুলাই, ২০২৩ | পৃষ্ঠা: ৩ | আকার: ১৪০ কিলোবাইট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)

📄 এই পেজেই সরাসরি মূল আইনের অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)


১. দুই দশকের অচলাবস্থা ও ঐতিহাসিক পটভূমি

বিএস (বাংলাদেশ সার্ভে) বা সিটি জরিপে ভুল খতিয়ান সংশোধনের জন্য ২০০৪ সালে প্রজাস্বত্ব আইনের ১৪৫ক ধারা সংযোজনের মাধ্যমে ‘ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান করা হয়। কিন্তু মারাত্মক আইনি ত্রুটি ছিল যে, সারা দেশে মাত্র একজন বিচারক দিয়ে একটিমাত্র আপিল ট্রাইব্যুনাল রাখার বিধান করা হয়েছিল। ফলে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোনো সক্রিয় আদালত না থাকায় সারাদেশে ৩ লক্ষাধিক মামলা জটে আটকা পড়ে এবং সংক্ষুব্ধ নাগরিকরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা নিরসনে প্রণীত হয়েছে State Acquisition and Tenancy (Amendment) Act, 2023 (২০২৩ সনের ২৪ নং আইন)।

২. আইনের যুগান্তকারী পরিবর্তনসমূহ (ধারা ১৪৫ক ও ১৪৫খ)

বিধান ও আদালত পূর্ববর্তী স্থবির অবস্থা ২০২৩ সালের গেজেট অনুযায়ী নতুন ব্যবস্থা
ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল (LST) শুধুমাত্র যুগ্ম জেলা জজ এককভাবে দায়িত্ব পালন করতেন, যার ফলে প্রতি জেলায় হাজার হাজার মামলা অনিষ্পন্ন থাকত। যুগ্ম জেলা জজের পাশাপাশি সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজদের ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে মামলা নিষ্পত্তির পূর্ণ এখতিয়ার প্রদান।
ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল (LSAT) সমগ্র দেশের জন্য ঢাকায় মাত্র একটি নিষ্ক্রিয় আপিল ট্রাইব্যুনাল ছিল, যা কার্যত বন্ধ ছিল। প্রতিটি জেলার জেলা জজ (District Judge) এবং অতিরিক্ত জেলা জজগণ স্ব স্ব জেলায় কার্যকর ‘ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল’ হিসেবে বিচার করবেন।
আপিল দায়েরের সময়সীমা আপিলের কোনো সুনির্দিষ্ট সক্রিয় ফোরাম ছিল না। ট্রাইব্যুনালের চূড়ান্ত আদেশ বা ডিক্রির তারিখ হতে ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে বিজ্ঞ জেলা জজ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করতে হবে।
বিচারাধীন আপিল স্থানান্তর পূর্ববর্তী ট্রাইব্যুনালে জমে থাকা ফাইল স্থবির ছিল। পূর্বের আপিল ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন সকল আপিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।
📜 সাধারণ ভূমির মালিকের জন্য বড় সুসংবাদ

যাদের বিএস বা সিটি জরিপে অন্যের নামে ভুল খতিয়ান হয়েছে বা সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত হয়েছে, তারা পূর্বে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতেন। এখন যুগ্ম জেলা জজ ছাড়াও সিনিয়র সহকারী জজ আদালত দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণ করবেন এবং জেলা জজ আদালতে স্থানীয়ভাবেই আপিল নিষ্পত্তি সম্ভব হবে।

৩. খতিয়ান সংশোধনের মামলার ধাপসমূহ

১
আরজি দাখিল ও কোর্ট ফি

চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত জরিপ খতিয়ানের ভুলের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে নির্ধারিত দেওয়ানি কোর্ট ফি দিয়ে আরজি দাখিল করতে হবে।

২
মূল দলিল ও স্বত্বের প্রমাণপত্র উপস্থাপন

সিএস, এসএ, আরএস খতিয়ানের ধারাবাহিক চেইন, সাফ-কবলা দলিল, দাখিলা ও দখল প্রমাণ করে সাক্ষ্য দিতে হবে।

৩
ডিক্রি ও খতিয়ান সংশোধন

ট্রাইব্যুনালের ডিক্রির ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজ্ঞ আদালতের রায় অনুযায়ী নতুন শুদ্ধ খতিয়ান সৃজন ও দাখিলা কাটার আদেশ প্রদান করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button