স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাদ দিয়ে ডিক্রি জারির তামাদি গণনা (Section 15(1) Limitation Act) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৩
প্রশ্ন ১১। (খ): স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাদ দিয়ে ডিক্রি জারির তামাদি গণনা (Section 15(1) Limitation Act) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৩
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
দেওয়ানি মোকদ্দমায় ডিক্রি লাভের পর আসল সুফল পাওয়া যায় ডিক্রি জারির (Execution of Decree) মাধ্যমে। কিন্তু অনেক সময় পরাজিত পক্ষ পৃথক মামলা করে বা রিভিশন করে ডিক্রির কার্যকারিতার ওপর আদালতের স্থগিতাদেশ (Stay Order বা Injunction) নিয়ে আসে। এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকাকালীন ডিক্রিদার কোনো জারি মামলা দায়ের করতে পারে না। তামাদি আইনের ১৫(১) ধারা অনুযায়ী কোনো বিচারিক আদেশে ডিক্রি জারি স্থগিত থাকলে সেই স্থগিতাদেশের পুরো মেয়াদ তামাদি গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অত্র সমস্যাভিত্তিক প্রশ্নে ডিক্রি স্থগিতাদেশের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ২২/১১/২০২৩ তারিখে ডিক্রি জারির দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে X-কে তামাদি আইনের আইনি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইন ও আইনি বিধানাবলী
The Limitation Act, 1908 এবং দেওয়ানি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ বিধানাবলী:
- Section 15(1): স্থগিতাদেশের সময় বাদ দেওয়া (Exclusion of time during which proceedings are suspended):
“In computing the period of limitation prescribed for any suit or application for the execution of a decree, the institution or execution of which has been instituted or stayed by injunction or order, the time of the continuance of the injunction or order, the day on which it was issued or made, and the day on which it was withdrawn, shall be excluded.”
- The Code of Civil Procedure, 1908, Section 48: ডিক্রি জারির সর্বশেষ সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২ বছর (From the date of the decree)।
- Limitation Act, Article 182: প্রথম জারি মামলার তামাদির সাধারণ মেয়াদ ৩ বছর।
৩. বাস্তব বিশ্লেষণ ও গভীর আইনি ব্যাখ্যা
সমস্যাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ গাণিতিক ও আইনি বিশ্লেষণ
১. ঘটনাপঞ্জি (Timeline of Facts):
- ২০/০২/২০২০: X খাস দখলের মোকদ্দমায় মূল ডিক্রি লাভ করেন (Date of Decree)।
- ২৫/০১/২০২৩: Y-এর পৃথক মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ডিক্রির কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন।
- ২৫/০৭/২০২৩: স্থগিতাদেশের ৬ মাস মেয়াদ সমাপ্ত হয় (Stay order expires)।
- ২২/১১/২০২৩: X ডিক্রি জারির জন্য দরখাস্ত দাখিল করতে চান (Date of filing execution application)।
২. ধারা ১৫(১) অনুযায়ী সময় গণনার বিশ্লেষণ:
- ডিক্রির তারিখ ২০/০২/২০২০ হতে সাধারণ ৩ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০/০২/২০২৩ তারিখে।
- কিন্তু উক্ত ৩ বছর শেষ হওয়ার পূর্বেই অর্থাৎ ২৫/০১/২০২৩ তারিখে আদালত ডিক্রির কার্যকারিতা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন।
- তামাদি আইনের ধারা ১৫(১) অনুযায়ী, আদালতের স্থগিতাদেশ যেদিন কার্যকর ছিল সেই দিন হতে স্থগিতাদেশ অবসানের দিন পর্যন্ত পুরো সময়টি (২৫ জানুয়ারি ২০২৩ হতে ২৫ জুলাই ২০২৩ = মোট ৬ মাস) তামাদির গণনা হতে সম্পূর্ণ বাদ (Excluded) যাবে।
- ২৫/০১/২০২৩ তারিখে সাধারণ ৩ বছরের মেয়াদ শেষ হতে আর অবশিষ্ট ছিল: (২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ – ২৫ জানুয়ারি ২০২৩) = ২৬ দিন।
- স্থগিতাদেশ সমাপ্ত হওয়ার পর (২৫/০৭/২০২৩) ডিক্রিদার X উক্ত অবশিষ্ট ২৬ দিন সময় পাবে, অর্থাৎ ২০ আগস্ট ২০২৩ পর্যন্ত সময় অবশিষ্ট ছিল।
- তবে সিপিসির ৪৮ ধারা অনুযায়ী: কোনো ডিক্রি জারির চূড়ান্ত সর্বোচ্চ সংবিধিবদ্ধ তামাদি হলো ডিক্রির তারিখ হতে ১২ বছর (অর্থাৎ ২০/০২/২০৩২ পর্যন্ত)। আর ১ম জারি দরখাস্তের সাধারণ তামাদি ৩ বছর হলেও ধারা ১৫(১) এর রেয়াত অনুযায়ী আবেদনকারী উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে বিলম্ব মওকুফ সহ জারি আবেদন দাখিল করতে পারেন।
৩. X-কে প্রদত্ত আইনি পরামর্শ:
- X-কে অবিলম্বে বিজ্ঞ আদালতে দেওয়ানি কার্যবিধির Order XXI, Rule 11 অনুযায়ী ডিক্রি জারির দরখাস্ত দাখিল করতে হবে।
- দরখাস্তের সাথে The Limitation Act, 1908 এর Section 15(1) উল্লেখ করে আদালতের ৬ মাসের স্থগিতাদেশের প্রত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে যাতে উক্ত সময় গণনা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
- দেরি হলেও যেহেতু মূল ডিক্রি জারির ১২ বছরের চরম মেয়াদ (Section 48 CPC) ২০৩২ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে, সেহেতু X-এর ডিক্রি জারির আবেদনটি সম্পূর্ণ আইনসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য হবে।
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. নারায়ণ বনাম কৃষ্ণা (AIR 1965 SC 1718): আদালত রায় দেন যে, ধারা ১৫(১) এর বিধান বাধ্যতামূলক; স্থগিতাদেশের সময়কাল জারি মামলার তামাদি গণনা থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ যাবে।
২. মহিউদ্দিন বনাম সোনালী ব্যাংক (46 DLR 212): স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার বা মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অবশিষ্ট সময় নিয়ে জারি মামলা দায়ের করা সম্পূর্ণ বৈধ।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
অতএব X-কে প্রদত্ত সুস্পষ্ট আইনি পরামর্শ হলো: The Limitation Act, 1908 এর Section 15(1) অনুযায়ী ৬ মাসের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাদ পাওয়ার কারণে এবং সিপিসির ৪৮ ধারার ১২ বছরের চরম মেয়াদের মধ্যে থাকায় ২২/১১/২০২৩ তারিখে ডিক্রি জারির দরখাস্তটি আইনত সম্পূর্ণরূপে দায়েরযোগ্য ও কার্যকর হবে।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৩-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।
৪. ডিক্রি জারিতে স্থগিতাদেশের সময় বাদ দেওয়ার পদ্ধতিগত হিসেব (ধারা ১৫)
তামাদি আইনের ১৫(১) ধারা ডিক্রিদারের স্বার্থ সুরক্ষায় এক অনন্য সংবিধিবদ্ধ রক্ষাকবচ। উক্ত ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত আইনি নিয়মাবলী প্রযোজ্য:
- স্থগিতাদেশের সূচনা ও সমাপ্তি: উচ্চ আদালত কর্তৃক জারির ওপর নিষেধাজ্ঞা বা স্থগিতাদেশ জারির দিন থেকে উক্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত সম্পূর্ণ সময়কাল বাদ যাবে;
- ডিক্রি জারির চূড়ান্ত তামাদি: দেওয়ানি কার্যবিধির ৪৮ ধারা অনুযায়ী ডিক্রি প্রচারের তারিখ হতে সর্বোচ্চ ১২ বছর সময় পাওয়া যায়; ১৫(১) ধারা প্রয়োগের ফলে স্থগিতাদেশের কাল উক্ত ১২ বছরের গণনায় যোগ হয়;
- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নজির: (মেসার্স উত্তরা মোটরস বনাম বাংলাদেশ, 47 DLR (AD) 115) মামলায় রায় দেওয়া হয় যে, আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ডিক্রিদার যদি জারি কার্যক্রমে বিরত থাকে, তবে সেই সময়ের জন্য তাকে অধিকারবঞ্চিত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
📌 সম্পর্কিত আইনি প্রস্তুতি ও সহায়িকা লিংক:
- ২০২৩ সালের বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান দেখুন
- দেওয়ানী কার্যবিধি (CPC) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও আইনি আলোচনা
- বার কাউন্সিল ও জুডিশিয়ারি দেওয়ানী কার্যবিধি (CPC) অনলাইন মডেল টেস্ট দিন
- বার কাউন্সিল বিগত সকল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও ১০০% পূর্ণাঙ্গ সমাধান ব্যাংক
