গোপন আপস ডিক্রি (Compromise Decree) ও আগের বাটোয়ারা ডিক্রি গোপন: পঞ্চগড়ের ১৪.৬৪ একর জমির আপিলে হাইকোর্টের রিমান্ড

📌 সংক্ষিপ্ত আইনি সারসংক্ষেপ (Legal Summary)

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে ঘোষণা করেছেন যে, দেওয়ানী মোকদ্দমায় কতিপয় পক্ষের মধ্যকার আপস বা সমঝোতা (Compromise between some of the parties) কখনোই অন্যান্য অসম্মত বা অনুপস্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগণের (Non-consenting parties) বৈধ ও স্বাধীন স্বত্বকে ক্ষুণ্ণ বা বিলুপ্ত করতে পারে না। পূর্বের কোনো চূড়ান্ত বাটোয়ারা মোকদ্দমার রায় ও ডিক্রি (Partition Decree) সম্পূর্ণ গোপন রেখে যদি কিছু পক্ষ নিজেদের মধ্যে গোপনে আপসনামা সম্পাদন করে সমগ্র জমির মালিকানা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়, তবে সেই আপস ডিক্রি আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ ও বাতিলযোগ্য। একইসঙ্গে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সুস্পষ্ট আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, বিচারিক আদালতে নিয়োজিত আইনজীবীর অসাবধানতা বা অনুপস্থিতির কারণে লিখিত জবাব গ্রহণের আবেদন খারিজ হলেও, প্রকৃত স্বত্বাধিকারীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা আপস ডিক্রি চাপিয়ে দেওয়া গুরুতর অবিচার। দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের ২৩ বিধিমতে ১০,০০০/- টাকা খরচা সাপেক্ষে পঞ্চগড়ের ১৪.৬৪ একর জমির আপস ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনঃবিচারের (Remand for fresh retrial) জন্য প্রেরণ করা হলো।

১. বিরোধের পটভূমি ও সম্পত্তির ধারাবাহিকতা (Background & Title Chain)

আলোচ্য দেওয়ানী ১ম আপিল মোকদ্দমাটির সূচনা পঞ্চগড় জেলার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০১১ সালে দায়েরকৃত ২৫ নম্বর স্বত্ব মোকদ্দমা (Title Suit No. 25 of 2011) থেকে। মোকদ্দমাটি দায়ের করেছিলেন আব্দুল জব্বার ওরফে ভাতেশ এবং অন্যান্য বাদিগণ (১-৫ নং রেসপনডেন্টগণ) পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থানার সি.এস. ২৮০৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত মোট ১৪.৬৪ একর জমির মধ্য হতে ৫.৮৬৫০ একর নালিশি জমিতে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনায়।

বাদিগণের আরজির বক্তব্য ছিল, নালিশি ১৪.৬৪ একর জমির মূল মালিক অনিবুল্লাহ নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলে তাঁর ভাই নসিবুল্লাহ ওয়ারিশ হন। পরবর্তীতে নসিবুল্লাহর পুত্র ইমারত আলী এবং তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র শায়খুদ্দিন ৫.৮৬ একর এবং তিন কন্যা জুমরুন নেসা, জমিলা খাতুন ও ইশারন নেসা প্রত্যেকে ২.৯৩ একর করে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। বাদিগণ দাবি করেন যে, তাঁরা জমিলা খাতুন ও ইশারন নেসার ওয়ারিশ হিসেবে ৫.৮৬ একর জমির বৈধ মালিক। কিন্তু এস.এ. ৯০ নম্বর খতিয়ানে ভুলবশত নজির উদ্দিন, অগ্রিম উদ্দিন, মহির উদ্দিন ও তৌফিজ উদ্দিনের নামে জমি রেকর্ড হওয়ায় বিবাদীগণ বাদিদের স্বত্ব অস্বীকার করছেন।

মোকদ্দমায় ১ হতে ৪ নম্বর বিবাদীগণ বাদিদের দাবির সাথে যোগসাজশ করে বাদিদের পক্ষে ডিক্রি প্রদানের প্রার্থনা জানিয়ে যৌথ জবাব দাখিল করেন। অপরদিকে ১১ হতে ২২ নম্বর বিবাদীগণ (বর্তমান আপিলকারীগণ) ১৯৬৪ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিলের মাধ্যমে ইমারত আলীর ওয়ারিশদের নিকট হতে ৬.২৭ একর জমি খরিদসূত্রে মালিক হয়ে এস.এ. ৯০ নম্বর খতিয়ান মূলে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে ছিলেন।

২. পূর্ববর্তী বাটোয়ারা ডিক্রি ও ষড়যন্ত্রমূলক আপস (Prior Decree & Clandestine Compromise)

বর্তমান আপিলকারীগণ ইতিপূর্বে তেঁতুলিয়া সহকারী জজ আদালতে বাটোয়ারা মোকদ্দমা নং ০৫/২০০৪ (Partition Suit No. 5 of 2004) দায়ের করেছিলেন, যেখানে বর্তমান বাদিগণ সমন পেয়েও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। উক্ত বাটোয়ারা মোকদ্দমায় বিগত ১৭ এপ্রিল ২০০৭ তারিখে আপিলকারীগণের অনুকূলে ৬.২১৫০ একর জমির প্রাথমিক ডিক্রি এবং পরবর্তীতে চূড়ান্ত ডিক্রি হয়। বিবাদীপক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বাটোয়ারা আপিল নং ৫১/২০০৭ দায়ের করলে জেলা জজ আদালত বিগত ০৬ নভেম্বর ২০০৮ তারিখে আপিল খারিজ করে আপিলকারীগণের পক্ষে ডিক্রি বহাল রাখেন।

কিন্তু বর্তমান ২০১১ সালের মোকদ্দমায় বাদিপক্ষ সেই চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রির কথা সম্পূর্ণ গোপন করেন! বিবাদী ১১-২২ পক্ষ নিয়োজিত আইনজীবীর মাধ্যমে বিগত ২৭ মে ২০১৪ তারিখে লিখিত জবাব দাখিল করেন। কিন্তু বিগত ১৪ জুলাই ২০১৪ তারিখে ইস্যু গঠনের দিন বিজ্ঞ আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় আদালত বিবাদীদের লিখিত জবাব গ্রহণের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। আর ঠিক এই সুযোগে বাদিপক্ষ এবং ১-৪ নং বিবাদীপক্ষ আদালতের চোখ ফাঁকি দিয়ে একটি গোপন আপসনামা (Compromise petition) দাখিল করেন এবং সম্পূর্ণ ১৪.৬৪ একর জমি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেন (বাদিরা ৫.৮৬ একর এবং বিবাদী ১-৪ পক্ষ ৮.৭৮ একর)! বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ বিগত ১৪ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে উক্ত আপসের ভিত্তিতে ডিক্রি প্রদান করেন।

🏛️ আপিলকারী-বিবাদীপক্ষের বক্তব্য ও আইনি দাবি

  • ১৯৬৪ সালের রেজিস্ট্রি কবলা: আপিলকারীগণ ১৯৬৪ সাল থেকে একাধিক রেজিস্ট্রি কবলা মূলে ৬.২৭ একর জমি কিনে এস.এ. ৯০ খতিয়ানে বৈধ দখলে আছেন।
  • পূর্বের চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি: বাটোয়ারা মোকদ্দমা ৫/২০০৪ এবং বাটোয়ারা আপিল ৫১/২০০৭-এ আপিলকারীদের ৬.২১৫০ একরের স্বত্ব চূড়ান্তভাবে সাব্যস্ত হয়েছে।
  • প্রতারণামূলক আপস ডিক্রি: বাদিপক্ষ পূর্ববর্তী ডিক্রি সম্পূর্ণ গোপন করে আপিলকারীদের অনুপস্থিতিতে সমগ্র জমি নিজেদের মধ্যে আপস ডিক্রি করিয়ে নিয়েছে।
  • আইনজীবীর ত্রুটিতে অবিচার: বিবাদীগণ যথাসময়ে জবাব দিয়েছিলেন; আইনজীবী শুনানিতে উপস্থিত না থাকায় লিখিত জবাব বাদ দেওয়া চরম অবিচার।
  • রিমান্ডের আবেদন (Order 41 Rule 23): আপস ডিক্রি বাতিল করে লিখিত জবাব গ্রহণপূর্বক মামলাটি বিচারিক আদালতে পুনঃবিচারের জন্য পাঠানো হোক।

🛡️ বাদি-রেসপনডেন্টপক্ষের জবাব ও প্রতিরক্ষা যুক্তি

  • উত্তরাধিকার সূত্রে ৫.৮৬ একর: বাদিগণ মূল সি.এস. প্রজার কন্যার ওয়ারিশ হিসেবে ৫.৮৬ একর জমির বৈধ উত্তরাধিকারী ও স্বত্ববান।
  • বিবাদীদের চরম গাফিলতি: সমন পাওয়ার পর একাধিকবার সময় নিয়েও বিবাদীগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত জবাব দাখিল করেননি।
  • লিখিত জবাব নামঞ্জুর সঠিক: তামাদি পেরিয়ে যাওয়ার পর দাখিলকৃত জবাব শুনানির দিনে বিজ্ঞ আইনজীবী প্রেস না করায় আদালত তা সঠিকভাবেই বাতিল করেছে।
  • বৈধ আপসনামা: মূল প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগণের মধ্যে স্বেচ্ছায় সম্পাদিত আপসনামার ভিত্তিতে বিচারিক আদালত বৈধভাবে আপস ডিক্রি প্রদান করেছে।
  • রিমান্ডের নিয়ম লঙ্ঘন: নিজের গাফিলতি বা ত্রুটি ঢাকার জন্য আপিল স্তরে রিমান্ড পাওয়ার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।

৩. মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে পর্যালোচিত আইনি প্রশ্নসমূহ (Core Legal Issues)

হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চের শুনানিতে নিম্নলিখিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির জন্য চিহ্নিত হয়:

  1. অনুপস্থিত পক্ষের স্বার্থের ওপর আপস ডিক্রির প্রভাব: দেওয়ানী কার্যবিধির ২৩ আদেশের ৩ বিধির আওতায় কিছু পক্ষের মধ্যকার আপসনামা কি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের অর্জিত স্বত্বকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খর্ব বা বাতিল করতে পারে?
  2. পূর্ববর্তী বাটোয়ারা ডিক্রি গোপন রাখার পরিণতি (Doctrine of Res Judicata & Suppression): একই সম্পত্তিতে পূর্বে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক প্রদত্ত চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি গোপন করে পরবর্তী মামলায় ভিন্নরূপ আপস ডিক্রি অর্জন করা আইনের দৃষ্টিতে টেকসই কি না?
  3. আইনজীবীর গাফিলতিতে লিখিত জবাব বাতিল ও রিমান্ড মঞ্জুর: মোকদ্দমায় পক্ষ হাজির হয়ে জবাব দাখিল করা সত্ত্বেও বিজ্ঞ আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে জবাব বাদ পড়লে এবং তার ফলে মূল স্বত্ব নষ্ট হওয়ার উপক্রম হলে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের ২৩ বিধিমতে খরচা সাপেক্ষে রিমান্ড প্রদান সংগত কি না?

৪. আদালতে বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দের বক্তব্য ও আইনি তর্ক (Submissions & Arguments)

আপিলকারী পক্ষে বিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জনাব এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান এবং জনাব তানভীর প্রধান শুনানিতে যুক্তি দেন যে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আদালতের বাটোয়ারা মোকদ্দমা নং ০৫/২০০৪-এ আপিলকারীগণের ৬.২১৫০ একর জমির স্বত্ব ঘোষিত হয়ে ডিক্রি চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমান মামলার বাদিরা সেই মামলার পক্ষ ছিলেন। কিন্তু বর্তমান মামলায় বাদিপক্ষ এবং ১-৪ নং বিবাদীপক্ষ যোগসাজশ করে আপিলকারীগণের সেই ৬.২১ একর জমিসহ সম্পূর্ণ ১৪.৬৪ একর জমি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে আপস ডিক্রি করিয়ে নিয়েছেন! বিবাদীগণ লিখিত জবাব দিয়েছিলেন, কিন্তু আইনজীবীর অসাবধানতায় জবাবটি নামঞ্জুর হয়। বিজ্ঞ কৌঁসুলি নিবেদন করেন যে, আইনজীবীর ভুলের জন্য কোনো পক্ষকে তার মূল্যবান ৬.২৭ একর জমি থেকে চিরতরে বঞ্চিত করা চরম অবিচার। সুতরাং ৪১ আদেশের ২৩ বিধিমতে মামলাটি রিমান্ডে পাঠানো অপরিহার্য।

বিপরীতে বাদি-রেসপনডেন্ট পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব মো: তাহেরুল ইসলাম নিবেদন করেন যে, বিবাদীগণকে সমন জারির পর পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা নির্ধারিত সময়ে জবাব দেননি এবং পরবর্তীতে যে জবাব দেন তা শুনানির দিনে প্রেস করেননি। আদালত দেওয়ানী কার্যবিধির বিধান অনুসারেই জবাব নাকচ করেছে এবং উপস্থিত পক্ষগণের আপসের ভিত্তিতে ডিক্রি দিয়েছে। কোনো পক্ষ নিজের গাফিলতির ফাঁকফোকর পূরণের জন্য আপিল আদালতে রিমান্ডের সুবিধা পেতে পারে না।

৫. সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক পর্যবেক্ষণ ও আইনগত অনুসিদ্ধান্ত (Judicial Analysis & Ratio)

মাননীয় বিচারপতি মো: বদরুজ্জামান এবং মাননীয় বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত যুগান্তকারী আইনগত অনুসিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ করেন:

(এক) কতিপয় পক্ষের আপসনামা অন্য পক্ষের স্বত্ব নষ্ট করতে পারে না:
আইনশাস্ত্রের সার্বজনীন নীতি হলো—A compromise between some of the parties cannot, in law, operate to extinguish or adversely affect the independent rights claimed by non-consenting parties। বাদিপক্ষ এবং ১-৪ নং বিবাদীপক্ষ আপসনামা করে সমগ্র ১৪.৬৪ একর জমি ভাগ করে নিয়েছেন, অথচ ১১-২২ নং বিবাদীগণ উক্ত আপসের পক্ষ ছিলেন না। অনুপস্থিত বা অসম্মত পক্ষের দাবি বিচার ছাড়া কতিপয় পক্ষের গোপন সমঝোতায় অন্যের সম্পত্তি গ্রাস করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও বাতিলযোগ্য।

(দুই) আগের চূড়ান্ত বাটোয়ারা ডিক্রি গোপন করার মারাত্মক পরিণতি:
নথিতে প্রমাণিত যে আপিলকারীগণের অনুকূলে তেঁতুলিয়া আদালতের বাটোয়ারা মোকদ্দমা ৫/২০০৪ এবং জেলা জজের বাটোয়ারা আপিল ৫১/২০০৭-এ ৬.২১৫০ একর জমির চূড়ান্ত ডিক্রি হয়েছিল। বর্তমান মামলার জমি এবং পূর্বের বাটোয়ারা মামলার জমি হুবহু এক ও অভিন্ন। বাদিপক্ষ এই চূড়ান্ত ডিক্রির অস্তিত্ব বিচারিক আদালতের নিকট সম্পূর্ণ গোপন করে আপস ডিক্রি নিয়েছেন। উপযুক্ত আদালতের একটি কার্যকর ডিক্রিকে লঙ্ঘন করে গোপনে ভিন্ন ডিক্রি হাসিল করা আইনের শাসনের চরম পরিপন্থী।

(তিন) রিমান্ডের মূলনীতি ও আইনজীবীর ভুলের প্রতিকার (Order XLI Rule 23):
সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো যে রিমান্ড কোনো স্বাভাবিক বা নিয়মিত প্রতিকার নয়; কেবল নিজের গাফিলতি ঢাকার জন্য রিমান্ড দেওয়া যায় না। কিন্তু যেখানে আদালত সন্তুষ্ট হয় যে কোনো পক্ষ স্বেচ্ছাকৃত অবহেলা ছাড়া তার নিযুক্ত আইনজীবীর ভুলের কারণে আত্মপক্ষ সমর্থন থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং এর ফলে তার অর্জিত মূল স্বত্ব নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, সেখানে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আদালত উপযুক্ত খরচা সাপেক্ষে রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারে।

৬. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী নির্দেশ (Final Order & Directions)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ সার্বিক পর্যালোচনায় পঞ্চগড়ের ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের আপস ডিক্রি সম্পূর্ণ বাতিলযোগ্য বলে সাব্যস্ত করেন এবং নিম্নোক্ত ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করেন:

  • আপিল মঞ্জুর ও ডিক্রি বাতিল: ১ম আপিল নং ৩৩৯/২০১৮ মঞ্জুর করা হলো এবং ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, পঞ্চগড় কর্তৃক স্বত্ব মোকদ্দমা নং ২৫/২০১১-এ বিগত ১৪.০১.২০১৫ তারিখে প্রদত্ত আপস রায় ও ডিক্রি সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও রদ করা হলো।
  • পুনঃবিচারের জন্য রিমান্ড: মোকদ্দমাটি আইন অনুযায়ী নতুনভাবে পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতে ফেরত (Remanded to trial court) পাঠানো হলো।
  • লিখিত জবাব গ্রহণের শর্ত: বিবাদী ১১-২২ পক্ষের দাখিলকৃত লিখিত জবাবটি ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা খরচা বাদিপক্ষকে প্রদানের শর্তে রেকর্ডে গ্রহণ করা হবে।
  • নতুন ক্রেতাগণের পক্ষভুক্তি: আপিল স্তরে পক্ষভুক্ত ৯-১৮ নম্বর ক্রেতা/হেবাগ্রহীতাগণকে বিচারিক আদালতে মূল বিবাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে তাঁদেরকে জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে হবে।
  • পূর্বের বাটোয়ারা ডিক্রি বিবেচনার বাধ্যবাধকতা: বিচারিক আদালত মোকদ্দমা নিষ্পত্তিকালে তেঁতুলিয়া আদালতের বাটোয়ারা মোকদ্দমা নং ০৫/২০০৪-এর চূড়ান্ত ডিক্রি যথাযথভাবে আমলে নিয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিচার নিষ্পত্তি করবেন।
  • ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ: বিচারিক আদালতের নথি অনতিবিলম্বে প্রেরণ করতে হবে এবং বিচারিক আদালত নথি প্রাপ্তির তারিখ হতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করবেন।

৭. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যাদি (Case Summary Table)

আইনি গবেষক ও বিজ্ঞ আইনজীবীদের সুবিধার্থে এই ঐতিহাসিক রায়ের সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও বিচারিক রেফারেন্স নিচে সন্নিবেশিত হলো:

বিষয়বস্তু মামলার বিস্তারিত তথ্য
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী আপিল এখতিয়ার)
মাননীয় বিচারপতি মো: বদরুজ্জামান এবং মাননীয় বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা
মামলা নম্বর ও শ্রেণি ১ম আপিল নং ৩৩৯ / ২০১৮ (First Appeal No. 339 of 2018)
পক্ষগণের নাম মোহাম্মদ আলী এবং অন্যান্য (বিবাদী-আপিলকারী) বনাম আব্দুল জব্বার ওরফে ভাতেশ এবং অন্যান্য (বাদী-রেসপনডেন্ট)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ আপিলকারী পক্ষে: জনাব এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান, মিস শামীমা সুলতানা দীপ্তি, জনাব তানভীর প্রধান, মিস আনিকা তাবাসসুম এবং জনাব জুনায়েদ হোসেন খান, অ্যাডভোকেট
রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব মো: তাহেরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট
উৎস ও বিচারিক আদালত ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, পঞ্চগড় (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ২৫/২০১১, আপস ডিক্রি: ১৪.০১.২০১৫)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি: ২০ আগস্ট ২০২৬
চূড়ান্ত রায়: ২৫ আগস্ট ২০২৬
মূল আইনি আলোচ্য ধারা ও বিষয় Code of Civil Procedure, 1908 (Order XXIII Rule 3, Order XLI Rule 23, Section 151, Section 11 – Res Judicata), Compromise Inter Alios Acta
অফিসিয়াল রায় ও পোর্টাল লিংক 📥 অফিসিয়াল জাজমেন্ট PDF ডাউনলোড
🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button