বিচারকের খাস কামরায় গোপনে আদেশ নেওয়া ও বার কাউন্সিলে নালিশী দরখাস্ত – বার কাউন্সিল ২০১১
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষা ২০১১: প্রশ্ন ১৬ এর পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান
১. পেশাগত আচরণবিধির লঙ্ঘন সংক্রান্ত আইনি বিশ্লেষণ
হ্যাঁ, উক্ত আইনজীবীর এই কার্যকলাপ Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর সরাসরি ও মারাত্মক পরিপন্থী এবং The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী পেশাগত অসদাচরণ (Professional Misconduct)।
লঙ্ঘিত আচরণবিধিসমূহ:
- ক্যাননস অধ্যায় ১, রুল ৪ (Conduct with regard to the Court): কোনো আইনজীবী বিচারকের সাথে ব্যক্তিগত যোগাযোগ স্থাপন করে কোনো মামলার রায় বা আদেশ প্রভাবিত করার চেষ্টা করতে পারবেন না। বিপরীত পক্ষের অনুপস্থিতিতে বিচারকের খাস কামরায় গোপনে প্রবেশ করে একতরফা সুবিধা গ্রহণ সম্পূর্ণ নীতিবিরুদ্ধ।
- ক্যাননস অধ্যায় ৩, রুল ১ (Duty to Colleagues): আইনজীবীদের উচিত একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌজন্য ও সততা প্রদর্শন করা। বিপক্ষ আইনজীবীর অগোচরে খাস কামরা থেকে গোপনে আদেশ নেওয়া সহকর্মীর সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
২. বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবর নালিশী দরখাস্ত মুসাবিদা
বরাবর
সচিব
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
বার কাউন্সিল ভবন, ঢাকা।
সচিব
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল
বার কাউন্সিল ভবন, ঢাকা।
দরখাস্তকারী: অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম, ঢাকা বার সমিতি, ঢাকা।
…………… অভিযোগকারী
—বনাম—
বিপক্ষ: অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, সদস্য, ঢাকা বার সমিতি, ঢাকা।
…………… অভিযুক্ত আইনজীবী
অভিযোগের বিষয়: The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর Article 32 এবং The Canons of Professional Conduct and Etiquette এর Chapter I, Rule 4 এর চরম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নালিশী দরখাস্ত।
বিনীত নিবেদন এই যে:
- অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত আইনজীবী উভয়ই বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক তালিকাভুক্ত ও ঢাকা বার সমিতির নিয়মিত সদস্য।
- বিজ্ঞ ৫ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকায় বিচারাধীন দেওয়ানী মোকদ্দমা নং ৭৮/২০১০ এ অভিযোগকারী বাদীর পক্ষে এবং অভিযুক্ত আইনজীবী বিবাদীর পক্ষে নিয়োজিত আছেন। গত ১৫/০৫/২০১১ ইং তারিখে উক্ত মোকদ্দমার চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল।
- ধার্য তারিখে প্রকাশ্য আদালত চলাকালীন শুনানির সময় অভিযুক্ত আইনজীবী কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে আদালত বিরতির সময়ে (Lunch break) গোপনে বিজ্ঞ বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি বিপরীত পক্ষের অজ্ঞাতে ও অনুপস্থিতিতে বিচারকের সাথে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা করে একটি মুলতবি আদেশ গ্রহণ করেন।
- অভিযুক্ত আইনজীবী প্রায়শই আদালতের খাস কামরায় যাতায়াত করে বিপরীত পক্ষের অনুপস্থিতিতে গোপন সুবিধা গ্রহণের এরূপ অপচেষ্টা চালান, যা আদালত প্রাঙ্গণে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও আইনজীবীদের পেশাগত সম্মান ভূলুণ্ঠিত করছে।
- উক্ত কার্যকলাপ বার কাউন্সিলের পেশাগত নৈতিকতা এবং সুপ্রিম কোর্টের আচরণবিধির চরম পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য পেশাগত অসদাচরণ (Gross Professional Misconduct)।
অতএব বিনীত প্রার্থনা:
অতএব বার কাউন্সিল সদয় হয়ে উক্ত অভিযোগটি আমলে নিয়ে Bar Council Tribunal গঠনপূর্বক অভিযুক্ত আইনজীবীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত তদন্তের নির্দেশ প্রদান এবং তার সনদ বাতিল বা সাময়িক স্থগিতাদেশ প্রদানে সুবিচার করতে মর্জি হয়।
সত্যপাঠ (Verification):
আমি মমিনুল ইসলাম ঘোষণা করছি যে উপরিউক্ত ১ হতে ৫ নং অনুচ্ছেদের বর্ণনা আমার প্রত্যক্ষ জ্ঞানমতে সত্য। অদ্য ২০/০৫/২০১১ ইং তারিখে ঢাকা বার লাইব্রেরিতে নিজ নাম স্বাক্ষর করলাম।
আমি মমিনুল ইসলাম ঘোষণা করছি যে উপরিউক্ত ১ হতে ৫ নং অনুচ্ছেদের বর্ণনা আমার প্রত্যক্ষ জ্ঞানমতে সত্য। অদ্য ২০/০৫/২০১১ ইং তারিখে ঢাকা বার লাইব্রেরিতে নিজ নাম স্বাক্ষর করলাম।
স্বাক্ষর: মমিনুল ইসলাম (অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট)
📌 সম্পর্কিত আইনি প্রস্তুতি ও সহায়িকা লিংক:
- ২০১১ সালের বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার সকল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান দেখুন
- বার কাউন্সিল রুলস ও প্রফেশনাল এথিক্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা ও আইনি আলোচনা
- বার কাউন্সিল ও জুডিশিয়ারি বার কাউন্সিল রুলস ও প্রফেশনাল এথিক্স অনলাইন মডেল টেস্ট দিন
- বার কাউন্সিল বিগত সকল লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নব্যাংক ও ১০০% পূর্ণাঙ্গ সমাধান ব্যাংক

