ব্যাংক শেয়ার ও ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিরোধে নিষেধাজ্ঞা: হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ব্যাংকের শেয়ারের মালিকানা, নগদ লভ্যাংশ (Cash Dividend) এবং দেওয়ানী মোকদ্দমায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে এক অতীব তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ বা নিষেধাজ্ঞার রূপান্তরকে কোনো পক্ষ বা অধস্তন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে অকার্যকর করতে পারে না; বিচারিক আদেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য আইনের শাসনের মৌলিক শর্ত; (২) আপিল বিভাগ কর্তৃক যেখানে বিবাদীকে শেয়ারের নগদ লভ্যাংশ গ্রহণের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে ব্যাংক বা অন্য কোনো পক্ষ পত্র দিয়ে সেই নগদ লভ্যাংশ আটকে রাখতে পারে না; এবং অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া ডিভিডেন্ড হিসাব করে ৩০ দিনের মধ্যে হলফনামাসহ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে; এবং (৩) ‘ম্যানুয়াল অব প্র্যাকটিক্যাল ইনস্ট্রাকশনস ফর দ্য কন্ডাক্ট অব সিভিল কেসেস’-এর ২০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন দরখাস্তসমূহ মামলার প্রথম ধার্য তারিখেই বা বিলম্ব না করে অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে; বিচারিক আদালত কর্তৃক শুনানি দুই মাস পিছিয়ে দেওয়া বিধিবহির্ভূত হওয়ায় আদেশ প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার মূল আবেদন নিষ্পত্তির কঠোর নির্দেশ দেওয়া হলো।
মামলাটি ঢাকা ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক লিমিটেডের শেয়ার ও ডিভিডেন্ড নিয়ে দায়েরকৃত স্বত্ব মোকদ্দমা Title Suit No. 899 of 2023 থেকে উদ্ভূত।
মামলার মূল ঘটনা, পক্ষগণের পারিবারিক ও কর্পোরেট সম্পর্ক এবং বিচারিক পরিক্রমা নিম্নরূপ:
- বিবাহ, শেয়ার হস্তান্তর ও দাম্পত্য কলহ: বাদী আজিজ আল কায়সার এবং ১ নম্বর বিবাদী মিসেস তাবাসসুম কায়সার ১৯৯৩ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বাদীর দাবি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে ১ নম্বর বিবাদীর নামে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের বিপুল পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তর ও বরাদ্দ করা হয়। বাদীর দাবি, এই শেয়ার ক্রয়ের সমুদয় অর্থ তিনি নিজে পরিশোধ করেছিলেন এবং বিবাদীর নিজস্ব কোনো আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কে চরম অবনতি ঘটে এবং ১ নম্বর বিবাদী দাম্পত্য নিবাস ত্যাগ করেন।
- স্বত্ব মোকদ্দমা ও নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা: বাদী দাবি করেন যে ১ নম্বর বিবাদী উক্ত শেয়ারসমূহ অপ্রত্যক্ষভাবে সন্তানদের (১১ ও ১২ নম্বর বিবাদী) কল্যাণের জন্য ধারণ করছিলেন এবং তার এতে কোনো ব্যক্তিগত স্বত্ব নেই। বিবাদী সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডে রক্ষিত বিও একাউন্ট থেকে লভ্যাংশের টাকা উত্তোলন শুরু করলে বাদী ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে Title Suit No. 899 of 2023 দায়ের করেন। আরজিতে শেয়ার ও লভ্যাংশের ওপর বিবাদীর কোনো স্বত্ব নেই মর্মে ঘোষণার পাশাপাশি দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ ১ ও ২ বিধি এবং ১৫১ ধারার অধীন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হয়।
- বিচারিক আদালতের বিলম্ব ও আদেশ নং ২ ও ৩: ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর মামলা দায়েরের দিন আদালত বিবাদীকে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি (সুদীর্ঘ দুই মাস পর)। এরপর বাদী ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে ১৫১ ধারায় পুনরায় জরুরি নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে আদালত তা নথিজাত করে ১১ জানুয়ারির জন্য রেখে দেন (আদেশ নং ৩)।
- হাইকোর্টে রিভিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা: বিচারিক আদালতের এই দীর্ঘসূত্রতার বিরুদ্ধে বাদী হাইকোর্টে Civil Revision No. 6619 of 2023 দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল নিশি জারি করে সিটি ব্যাংক ও সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেডকে শেয়ার হস্তান্তর এবং ব্যাংক একাউন্টে থাকা ক্যাশ ডিভিডেন্ড হস্তান্তরে ৮ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন।
- আপিল বিভাগের হস্তক্ষেপ ও ডিভিডেন্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ১ নম্বর বিবাদী উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে Civil Petition for Leave to Appeal No. 82 of 2024 দায়ের করেন। চেম্বার আদালত ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি আদেশ সংশোধন করে নগদ লভ্যাংশ (Cash Dividend)-এর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ চেম্বার আদালতের উক্ত আদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টকে মূল রিভিশন রুলটি অবিলম্বে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।
- ব্যাংকের দ্বিচারিতা ও আদালত অবমাননা: আপিল বিভাগের স্পষ্ট আদেশ সত্ত্বেও বাদী সিটি ব্যাংককে চিঠি দিয়ে লভ্যাংশ আটকে রাখতে বলেন এবং সিটি ব্যাংক লভ্যাংশ প্রদান স্থগিত রাখে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নম্বর বিবাদী আদালত অবমাননার মামলা (Contempt Petition No. 63 of 2025) দায়ের করলে আপিল বিভাগ পুনরায় তিন সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে মূল রুল নিষ্পত্তির তাগিদ দেন।
🛡️ দরখাস্তকারী বাদীর যুক্তি (Petitioner)
- বেনামী ট্রাস্টের সম্পর্ক (Trust Act Sec 82): ট্রাস্ট আইনের ৮২ ধারা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অস্থাবর সম্পত্তি হওয়ায় এতে বেনামী নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়; বিবাদী বাদীর অর্থে অর্জিত শেয়ারগুলো ট্রাস্টি হিসেবে নিজের নামে রেখেছেন।
- সম্পত্তি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা: ১ নম্বর বিবাদী যদি কোটি কোটি টাকার শেয়ার ও ডিভিডেন্ড উত্তোলন বা স্থানান্তর করে ফেলেন, তবে মূল মামলার ডিক্রি নিষ্ফল (Infructuous) হয়ে পড়বে এবং অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
- সুবিধার ভারসাম্য ও প্রাইমা ফেসি কেস: বাদীর অনুকূলে শক্তিশালী প্রাথমিক মামলা (Prima Facie Case) রয়েছে এবং সুবিধার ভারসাম্য বাদীর দিকে থাকায় অবিলম্বে স্থিতাবস্থা বজায় রাখা জরুরি।
🏛️ প্রতিপক্ষ বিবাদীর যুক্তি (Opposite Parties)
- ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪ক ধারার লঙ্ঘন: ব্যাংক-কোম্পানী আইন ১৯৯১-এর ১৪ক(২) ও (৩) ধারা অনুযায়ী অন্যের নামে বেনামী শেয়ার ধারণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও ফৌজদারি অপরাধ; ফলে বাদীর মামলা শুরুতেই আইনত অচল।
- আপিল বিভাগের আদেশের অবমাননা: আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা রাখেনি। তা সত্ত্বেও ব্যাংকের মাধ্যমে ডিভিডেন্ড আটকে রাখা বিচার ব্যবস্থার প্রতি অবমাননাকর।
- কোনো ট্রাস্ট দলিল নেই: কোনো লিখিত ট্রাস্ট দলিল ছাড়া কাল্পনিক ‘কনস্ট্রাক্টিভ ট্রাস্ট’ বাংলাদেশে আইনসিদ্ধ নয়; বিধায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
দেওয়ানী মোকদ্দমা পরিচালনায় অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনসমূহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগ Manual of Practical Instructions for the Conduct of Civil Cases-এর বিধান স্মরণ করিয়ে দেন:
প্র্যাকটিক্যাল ম্যানুয়ালের অনুচ্ছেদ ২০ (Article 20 of Practical Instructions Manual):
ম্যানুয়ালের ২০ অনুচ্ছেদে অধস্তন দেওয়ানী আদালতসমূহকে কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে— অন্তর্বর্তীকালীন দরখাস্তসমূহ (Interlocutory Applications, বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার আবেদন) স্বভাবগতভাবেই অত্যন্ত জরুরি ও সংবেদনশীল। এসব আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ঘটলে পক্ষগণের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয় এবং অনেক সময় মূল মোকদ্দমাটিই নিষ্ফল হয়ে পড়ে। বিধিমতে, হাজিরার প্রথম ধার্য তারিখেই এই ধরনের আবেদনের শুনানি গ্রহণ করতে হবে; একান্ত ব্যতিক্রমী কারণে যদি মুলতবি দিতেই হয়, তবে অবিলম্বে পরবর্তী নিকটতম কার্যদিবসে শুনানি সমাপ্ত করতে হবে।
বিচারিক ত্রুটি: বর্তমান মামলায় ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর মামলা দায়েরের দিন আদালত সরাসরি দুই মাস পর ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করে এবং পরবর্তী জরুরি দরখাস্তটিও ঝুলিয়ে রেখে উক্ত সংবিধিবদ্ধ নির্দেশিকার মূল চেতনা সম্পূর্ণ পদদলিত করেছে।
মাননীয় বিচারপতি মো: আলী রেজা উভয় পক্ষের বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শ্রবণ এবং আপিল বিভাগের আদেশ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে নিম্নলিখিত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণসমূহ প্রদান করেন:
ক. আপিল বিভাগের আদেশের পবিত্রতা ও আইনের শাসন:
হাইকোর্ট দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ কার্যকর করা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় বা বিবেচনার বিষয় নয়; এটি আইনের শাসনের অলঙ্ঘনীয় ভিত্তি। আপিল বিভাগের বিজ্ঞ চেম্বার আদালত ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি যে সংশোধিত আদেশ দিয়েছিলেন, তাতে নগদ লভ্যাংশের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল না এবং পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সেই আদেশ অব্যাহত রেখেছেন। সুতরাং কোনো পক্ষ বা সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই আদেশের কোনো বিকৃত বা নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়ে ডিভিডেন্ড আটকে রাখতে পারে না।
খ. সিটি ব্যাংকের ভূমিকা ও ডিভিডেন্ড বিতরণের আইনি দায়:
আদালত লক্ষ্য করেন যে সিটি ব্যাংক লিমিটেড বাদী আজিজ আল কায়সারের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ১ নম্বর বিবাদী তাবাসসুম কায়সারের ক্যাশ ডিভিডেন্ড ছাড় না করে অন্যায্য কালক্ষেপণ করেছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দেন যে, ১৪.০১.২০২৪ তারিখ থেকে এই রায় ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত অর্জিত সকল নগদ লভ্যাংশ ১ নম্বর বিবাদী পাওয়ার অধিকারী এবং ব্যাংক কোনো রূপ হয়রানি ছাড়া তা বুঝিয়ে দিতে আইনত বাধ্য।
গ. নিম্ন আদালতের দায় ও প্র্যাকটিক্যাল ম্যানুয়াল অগ্রাহ্য করার কুফল:
ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত যদি ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসেই প্র্যাকটিক্যাল ম্যানুয়ালের অনুচ্ছেদ ২০ মেনে দ্রুত নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তটির নিষ্পত্তি করত, তবে পক্ষগণকে হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগ পর্যন্ত একাধিক রিভিশন, লিভ টু আপিল এবং আদালত অবমাননার মামলা নিয়ে ঘুরতে হতো না। অধস্তন আদালতের উচিত অন্তর্বর্তীকালীন বিষয়ে কালবিলম্ব না করে গুণাগুণের ভিত্তিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
- রুল নিষ্পত্তি (Rule Disposed of): দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমার রুলটি আপিল বিভাগের আদেশ ও হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাসহ নিষ্পত্তি করা হলো।
- সিটি ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ হিসাব বিবরণী প্রস্তুতের নির্দেশ: সিটি ব্যাংক লিমিটেড (৭ নম্বর বিবাদী)-কে ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে এই রায় ঘোষণার তারিখ পর্যন্ত ১ নম্বর বিবাদী তাবাসসুম কায়সার প্রাপ্য মোট নগদ লভ্যাংশের স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসাব বিবরণী প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হলো।
- বকেয়া ডিভিডেন্ড নিঃশর্ত পরিশোধ: ইতিপূর্বে প্রদত্ত অর্থ সমন্বয় করে অবশিষ্ট সমুদয় নগদ লভ্যাংশ ১ নম্বর বিবাদীকে কোনো প্রকার বাধা, হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দাখিলের বাধ্যবাধকতা: সিটি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত হিসাব ও অর্থ পরিশোধের স্বপক্ষে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে ‘এফিডেভিট-ইন-কমপ্লায়েন্স’ (Affidavit-in-compliance) প্রস্তুত করে রায়ের তারিখ থেকে ৩০ (ত্রিশ) কার্যদিবসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সমীপে দাখিল করবে।
- ১০ কার্যদিবসে বিচারিক আদালতকে নিষেধাজ্ঞার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ: ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতকে রায়ের অনুলিপি প্রাপ্তির ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে Title Suit No. 899 of 2023-এ দায়েরকৃত মূল অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি কোনো পক্ষের কালক্ষেপণ ছাড়া স্বাধীনভাবে আইনানুযায়ী নিষ্পত্তি করার কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এই রায়ের প্রধান আইনি মূলনীতিসমূহ:
- আপিল বিভাগের আদেশের অলঙ্ঘনীয়তা: সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক; কোনো অধস্তন আদালত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা মোকদ্দমার পক্ষ আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ পাশ কাটিয়ে নিজস্ব ব্যাখ্যা চাপাতে পারে না।
- ডিভিডেন্ড প্রাপ্তির স্বত্ব: মূল শেয়ার হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আপিল বিভাগ যদি নগদ লভ্যাংশ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত করে দেয়, তবে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তা আটকে রাখতে সম্পূর্ণ এখতিয়ারহীন।
- ম্যানুয়ালের অনুচ্ছেদ ২০-এর বাধ্যবাধকতা: নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তে দীর্ঘ তারিখ ফেলে রাখা আইনি নির্দেশিকার সুস্পষ্ট লংঘন; বিচারিক আদালতকে নির্ধারিত প্রাথমিক তারিখেই শুনানি শেষ করতে হবে।
- সময়াবদ্ধ বিচার নিষ্পত্তি: বিচারিক অচলাবস্থা দূর করতে হাইকোর্ট বিভাগ অধস্তন আদালতকে সময়সীমা (যেমন ১০ কার্যদিবস) বেঁধে দিয়ে দ্রুত আদেশ প্রদানের আদেশ দিতে পারে।
বিচারিক আদালত নিষেধাজ্ঞার আবেদনে দীর্ঘ তারিখ দিলে ম্যানুয়ালের ২০ অনুচ্ছেদ আদালতের নজরে এনে নিকটবর্তী তারিখে শুনানির জন্য পিটিশন দিন।
শেয়ার টাইটেল সংক্রান্ত মামলায় শেয়ার হস্তান্তর বন্ধ করার আর্জি থাকলেও লভ্যাংশ (Dividend) আটকানো সবসময় আবশ্যক নয়; আংশিক নিষেধাজ্ঞা চেয়ে স্বস্তি নেওয়া যায়।
ব্যাংক শেয়ারে বেনামী ট্রাস্ট দাবি করার ক্ষেত্রে ব্যাংক-কোম্পানী আইনের ১৪ক(২) ও (৩) ধারার বিধিনিষেধ ও ফৌজদারি পরিণতির দিকটি গুরুত্বসহকারে বিশ্লেষণ করুন।
উচ্চ আদালতের আদেশ সত্ত্বেও ব্যাংক বা প্রতিপক্ষ আর্থিক সুবিধা আটকে রাখলে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করুন।
উচ্চ আদালত কোনো সংস্থাকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর এফিডেভিট-ইন-কমপ্লায়েন্স জমা পড়েছে কিনা তা নজরদারিতে রাখুন।
| মামলার শিরোনাম ও নম্বর | দেওয়ানী রিভিশন নং ৬৬১৯ / ২০২৩ (Civil Revision No. 6619 of 2023 – Against Order) |
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি মো: আলী রেজা) |
| পক্ষসমূহ | আজিজ আল কায়সার (বাদী-দরখাস্তকারী) বনাম মিসেস তাবাসসুম কায়সার ও অন্যান্য (বিবাদী-প্রতিপক্ষগণ; সিটি ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্রোকারেজ লি:) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মোস্তাফিজুর রহমান খান, সিনিয়র অ্যাডভোকেট (সঙ্গে কাজী এরশাদুল আলম, আসিফ হাসান ও শাম্মী আহসান) | ১ নম্বর প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব প্রবীর নিয়োগী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট (সঙ্গে মো: আনিসুল হাসান, হোসেন মোহাম্মদ শহিদুল ও রুবাইয়াত জোহা) | ৭ নম্বর প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব খায়রুল আলম চৌধুরী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট | ৮ নম্বর প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব কাজী আখতার হোসেন, অ্যাডভোকেট |
| অধস্তন আদালতের মামলা ও আদেশ | ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালত, ঢাকা (টাইটেল স্যুট নং ৮৯৯/২০২৩; আদেশ নং ২ তারিখ ১২.১১.২০২৩ ও আদেশ নং ৩ তারিখ ১৯.১১.২০২৩) |
| শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ | শুনানি অনুষ্ঠিত: ০৬.০৮.২০২৬, ২৫.০৮.২০২৬ ও ৩০.০৮.২০২৬ | রায় ঘোষণা: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (আপলোড: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) |
| আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা | দেওয়ানী কার্যবিধির ৩৯ আদেশ ১ ও ২ বিধি, ১৫১ ধারা, ১১৫(১) ধারা; প্র্যাকটিক্যাল ম্যানুয়ালের অনুচ্ছেদ ২০; ব্যাংক-কোম্পানী আইন ১৯৯১-এর ১৪ক(২)(৩) ধারা; ট্রাস্ট আইন ১৮৮২-এর ৮২ ধারা |
| অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক |
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড 🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল |

