দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় অভিযুক্ত আসামির দায়রা আদালতে জামিনের দরখাস্ত মুসাবিদা – বার কাউন্সিল ২০১১
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষা ২০১১: প্রশ্ন ৯ (ক) এর পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান
১. আইনি পটভূমি ও জামিনের প্রাসঙ্গিক বিধান
দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০৪ ধারা অনুযায়ী অপরাধজনক নরহত্যার (Culpable homicide not amounting to murder) শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড।
ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর দ্বিতীয় তফসিল অনুযায়ী ৩০4 ধারা একটি আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য (Cognizable & Non-bailable) অপরাধ। জামিন-অযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত যুক্তিসঙ্গত কারণে আসামির জামিন মঞ্জুর করতে পারেন। বিশেষত যেখানে আসামির অপরাধ সংঘটনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল না, বা তিনি বৃদ্ধ, অসুস্থ বা তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে।
২. বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিনের পূর্ণাঙ্গ দরখাস্ত মুসাবিদা
মহানগর ফৌজদারি মিস কেস নং …………. / ২০১১
(উদ্ভবে: ধানমন্ডি থানা মামলা নং ১২, তারিখ: ১৫/০৩/২০১১ ইং; জি.আর নং ১৫২/২০১১)
জনাব রফিকুল ইসলাম, পিতা- আব্দুল জলিল, সাং- শুক্রাবাদ, থানা- ধানমন্ডি, জেলা- ঢাকা। (বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক)
…………… হাজতি আসামি-দরখাস্তকারী
—বনাম—
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পক্ষে বিজ্ঞ পাবলিক প্রসিকিউটর (PP), ঢাকা।
…………… রাষ্ট্রপক্ষ
আসামি-দরখাস্তকারীর পক্ষে বিনীত প্রার্থনা এই যে:
- আসামি-দরখাস্তকারী সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং এলাকার একজন সম্মানিত ও নিরীহ ব্যবসায়ী। স্থানীয় শত্রুতা ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অসৎ উদ্দেশ্যে এজাহারে আসামির নাম জড়ানো হয়েছে।
- এজাহারে আসামির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো মারাত্মক আঘাতের বিবরণ নেই। এজাহার মতেই এটি একটি আকস্মিক ঝগড়ার ঘটনা এবং আসামির কোনো হত্যার উদ্দেশ্য বা পূর্বপরিকল্পনা (Premeditation) ছিল না।
- তদন্তকারী কর্মকর্তা অদ্যবধি তদন্ত শেষ করতে পারেননি এবং চিকিৎসা সনদে ভিকটিমের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া উল্লেখ থাকায় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারার উপাদানসমূহ আসামির বিরুদ্ধে প্রাথমিক দৃষ্টিতেই সন্দেহাতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
- আসামি-দরখাস্তকারী বিগত তিন মাস যাবৎ জেলহাজতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত এবং তার নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার প্রয়োজন।
- আসামি স্থানীয় স্থায়ী বাসিন্দা, তার সমাজে স্থায়ী সহায়-সম্পত্তি রয়েছে। জামিন লাভ করলে তিনি কোনোভাবেই পলাতক হবেন না বা মামলার সাক্ষীদের প্রভাবিত বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করবেন না। বিজ্ঞ আদালতের যেকোনো শর্তে স্থানীয় জামিনদার প্রদানপূর্বক জামিন নামা সম্পাদন করতে তিনি সদা প্রস্তুত আছেন।
অতএব বিনীত প্রার্থনা:
বিজ্ঞ আদালত সদয় হয়ে উপরিউক্ত পারিপার্শ্বিক ও আইনি দিক বিবেচনায় বিচার নিষ্পত্তির পূর্ব পর্যন্ত আসামি-দরখাস্তকারীকে সন্তোষজনক জামানতে জামিনে মুক্তির আদেশ দানে সুবিচার করতে মর্জি হয়।
আমি, আব্দুল জলিল (আসামির পিতা), বয়স ৬০ বছর, ধর্ম ইসলাম, পেশা অবসরপ্রাপ্ত চাকুরিজীবী, সাং- শুক্রাবাদ, ধানমন্ডি, ঢাকা, অত্র আদালতে হাজির হয়ে সজ্ঞানে ঘোষণা করছি যে, উপরোক্ত দরখাস্তের ১ হতে ৫ নং অনুচ্ছেদের তথ্যসমূহ আমার জ্ঞান ও বিশ্বাসমতে সত্য।
স্বাক্ষর: আব্দুল জলিল (তদবিরকারক)
৩. উচ্চ আদালতের নজির (Case Law)
- State vs. Belayet Hossain (41 DLR 352): দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারায় যেখানে আকস্মিক ঝগড়া বা হত্যার অভিপ্রায়হীন মৃত্যুর বিষয় জড়িত এবং আসামি দীর্ঘদিন হাজতবাস করছেন, সেখানে দায়রা আদালত জামিন প্রদান করতে পারেন।
