আপিল খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন নয়: হাইকোর্টের রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানী আপিল শুনানিকালে আপিলকারীর অনুপস্থিতির কারণে আপিল তদ্বিরহীনতায় খারিজ (Dismissal of Appeal for Default), দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৯ ও ১৯ক বিধির নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার এবং ১১৫(১) ধারায় রিভিশন মোকদ্দমার সম্পূর্ণ অসারতা ও অকার্যকারিতা প্রসঙ্গে এক অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট, সুদূরপ্রসারী ও দিকনির্দেশনামূলক রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৭ বিধির অলঙ্ঘনীয় বিধান অনুযায়ী, শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনে কার্যতালিকাভুক্ত আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হলে এবং বারবার পুকার বা তলব সত্ত্বেও আপিলকারী বা তার নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী উপস্থিত না থাকলে বিজ্ঞ আপিল আদালত উক্ত আপিল তদ্বিরহীনতায় খারিজ (Dismissed for default) করতে আইনত সম্পূর্ণ বাধ্য; (২) তদ্বিরহীনতায় আপিল খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৯ ও ১৯ক বিধিতে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতেই আপিল পুনঃবহাল বা সরাসরি গ্রহণের (Re-admission of Appeal / Direct Admission) অত্যন্ত দ্রুত, সহজলভ্য ও নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইনি ফোরাম ও প্রতিকার বিদ্যমান রয়েছে; (৩) আইনে যেখানে অধস্তন মূল আদালতেই স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিকার সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, সেই আইনি পথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীন রিভিশন মোকদ্দমা দায়ের করা সম্পূর্ণ আইনগত ভুল, এখতিয়ারবহির্ভূত এবং চরম বিভ্রান্তিকর পদক্ষেপ; এবং (৪) পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতের আদেশে কোনো ধরনের এখতিয়ারগত বা আইনগত ব্যত্যয় না থাকায় হাইকোর্ট কর্তৃক ইতিপূর্বে জারিকৃত রুল ও স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারপূর্বক রুলটি সরাসরি খারিজ (Rule Discharged) করা হলো।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর তদ্বিরহীনতায় খারিজ হওয়া দেওয়ানী আপিল Title Appeal No. 64 of 2013 এবং পটুয়াখালীর ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০১০ সালে দায়েরকৃত Title Suit No. 88 of 2010 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল ঘটনা, পক্ষগণের বিবাদ ও বিচারিক গতিপ্রকৃতি নিম্নরূপভাবে পর্যালোচনা করা হলো:

  • খালাস ও প্রত্যার্পণের মূল মোকদ্দমা: বাদি-দরখাস্তকারী মোছা: আয়েশা বিবি ও অন্যান্যরা তিনটি পৃথক কবলা দলিলের মাধ্যমে ১.০৫ একর জমি হস্তান্তর করেন এবং একই সাথে পৃথক তিনটি পুনঃহস্তান্তর চুক্তিনামা (Deeds of Re-conveyance) সম্পাদন করেন। পরবর্তীতে উক্ত চুক্তিনামার শর্তানুযায়ী অর্থ ফেরত দিয়ে নালিশী জমি দায়মুক্ত ও প্রত্যার্পণ (Redemption of Mortgaged/Conditional Sale Land) পাওয়ার দাবিতে ২০১০ সালে পটুয়াখালী ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে Title Suit No. 88 of 2010 দায়ের করেন।
  • ট্রায়াল কোর্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মামলা খারিজ: মামলার ২২ নম্বর বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল করে মোকদ্দমায় জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি দাবি করেন যে উক্ত দলিলগুলো শর্তহীন ও চূড়ান্ত বিক্রয় দলিল ছিল এবং পুনঃহস্তান্তরের কোনো বৈধ বাধ্যবাধকতা নেই। উভয় পক্ষের সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে বিজ্ঞ ৩য় যুগ্ম জেলা জজ ২০১৩ সালের ৩১ মার্চ বাদীদের মোকদ্দমাটি দোতরফাসূত্রে সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দেন।
  • জেলা জজে আপিল ও অতিরিক্ত জেলা জজে স্থানান্তর: ট্রায়াল কোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদিপক্ষ ২০১৩ সালে পটুয়াখালী জেলা জজ আদালতে Title Appeal No. 64 of 2013 দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বদলি করা হয়।
  • সরকারি ছুটি পরবর্তী তারিখে তদ্বিরহীনতায় খারিজ: অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিলটি শুনানির জন্য নির্ধারিত দিনে সরকারি সাধারণ ছুটি থাকায় পরবর্তী কার্যদিবসে মামলাটি দৈনন্দিন কার্যতালিকাভুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর আপিলকারী পক্ষ এবং রেসপনডেন্ট ২-৫ পক্ষ পৃথক হাজিরা দাখিল করেন। কিন্তু কার্যতালিকা অনুযায়ী যখন আপিলটি শুনানির জন্য এজলাসে তোলা হয়, তখন আপিলকারী বা তার নিযুক্ত কোনো বিজ্ঞ আইনজীবী এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না। বিচারক দফায় দফায় পুকার দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৭ বিধির আওতায় আপিলটি তদ্বিরহীনতায় খারিজ (Dismissed for default) করে আদেশ দেন।
  • আইনজীবীর ভুলের কারণে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের: আইনের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৪১ আদেশ ১৯ বা ১৯ক বিধিতে আপিল পুনঃবহালের আবেদন দাখিল না করে, আপিলকারী পক্ষ ভুল আইনি পরামর্শে সরাসরি হাইকোর্ট বিভাগে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীন Civil Revision No. 6412 of 2023 দায়ের করেন এবং রুল নিশি ও স্থগিতাদেশ লাভ করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🛡️ দরখাস্তকারী আপিলকারীর যুক্তি (Petitioners)

  1. হাজিরা দাখিল ও অন্য আদালতে ব্যস্ততা: আপিল শুনানির তারিখে আইনজীবী সকালে হাজিরা দাখিল করেছিলেন; কিন্তু অন্য একটি আদালতে জরুরি শুনানিতে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিক উপস্থিত হতে পারেননি।
  2. আইনজীবীর অনিচ্ছাকৃত প্রক্রিয়ার ভুল: ৪১ আদেশ ১৯ক বিধির আবেদন না করে হাইকোর্টে রিভিশন করা হয়েছে আইনজীবীর অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে; এতে বিচারপ্রার্থী মক্কেলের কোনো ব্যক্তিগত অসততা বা গাফিলতি ছিল না।
  3. আপিল আদালতে পুনঃবহালের সুযোগ প্রার্থনা: হাইকোর্ট যেন দরখাস্তকারীদের অধস্তন আপিল আদালতে ৪১ আদেশ ১৯ক বিধিতে উপযুক্ত খরচা প্রদান সাপেক্ষে আপিল পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ দিয়ে আদেশ প্রদান করেন।

🏛️ প্রতিপক্ষ বিবাদীপক্ষের যুক্তি (Opposite Parties)

  1. ৪১ আদেশে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রতিকারের বিদ্যমানতা: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৭, ১৯ ও ১৯ক বিধিতে আপিল পুনঃবহালের সুস্পষ্ট বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও রিভিশন করা আইনত অচল ও বাতিলযোগ্য।
  2. অধস্তন আদালতের পূর্ণ আইনগত এখতিয়ার: বিচারিক আপিল আদালত বারবার ডাকার পরও অনুপস্থিত থাকায় আইনানুগভাবেই আপিল খারিজ করেছে; আদেশে কোনো এখতিয়ার লঙ্ঘন বা বেআইনি পদক্ষেপ নেই।
  3. রিভিশনাল এখতিয়ারের অপব্যবহার: দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার কোনো শর্তই বর্তমান ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; ভুল ফোরামে এসে বছরের পর বছর মামলা ঝুলিয়ে রাখা উদ্দেশ্যমূলক।

৩. দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের সংবিধিবদ্ধ কাঠামো ও পুনঃবহালের বিধান

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশে আপিল শুনানি, তদ্বিরহীনতায় খারিজ এবং পুনঃবহালের সুনির্দিষ্ট ধাপসমূহ আইনপ্রণেতাগণ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সন্নিবেশিত করেছেন:

৪১ আদেশ ১৭ বিধি (Order XLI Rule 17 CPC – Dismissal of Appeal for Appellant’s Default):

বিধান অনুযায়ী— যে তারিখে আপিল শুনানির জন্য ধার্য থাকে, সেই তারিখে যখন আপিলটি শুনানির জন্য আহবান করা হয়, তখন যদি আপিলকারী উপস্থিত না থাকেন, তবে আদালত আপিলটি তদ্বিরহীনতায় খারিজ করার আদেশ প্রদান করবে (The Court shall make an order that the appeal be dismissed)। আইনপ্রণেতাগণ এখানে বিচারককে নিজস্ব বিবেচনায় গুণাগুণের ওপর একতরফা রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেননি; বরং আপিলকারীর অনুপস্থিতিতে একমাত্র বৈধ আদেশ হলো খারিজের আদেশ দেওয়া।

৪১ আদেশ ১৯ ও ১৯ক বিধি (Order XLI Rules 19 & 19A CPC – Re-admission of Appeal):

১৯ বিধি: আপিল ১৭ বিধিমতে খারিজ হলে, আপিলকারী উক্ত একই আপিল আদালতে দরখাস্ত দাখিল করে প্রমাণ করতে পারেন যে তিনি কোনো অনিবার্য কারণে যথাসময়ে উপস্থিত হতে পারেননি। আদালত সন্তুষ্ট হলে আপিলটি শুনানির জন্য পুনরুজ্জীবিত করবে।

১৯ক বিধি (সরাসরি আপিল গ্রহণ): বিচারিক বিলম্ব হ্রাস করতে কার্যবিধিতে ১৯ক বিধি সন্নিবেশ করা হয়েছে, যার আওতায় নির্ধারিত শর্ত ও নির্দিষ্ট আর্থিক খরচা (Cost) পরিশোধ সাপেক্ষে আপিলকারী কোনো দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়াই সরাসরি আপিল পুনঃবহালের সুযোগ লাভ করেন।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের আইনি ব্যবচ্ছেদ ও বিচারিক পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান নথিপত্র এবং উভয় পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পরীক্ষা করে নিম্নোক্ত সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ প্রদান করেন:

ক. অতিরিক্ত জেলা জজের আদেশে কোনো এখতিয়ারগত বা আইনগত ত্রুটি নেই:

হাইকোর্ট রায়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন যে, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের নথিতে দেখা যায় শুনানির জন্য ডাকার পর আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ বিধি আদালতকে স্পষ্ট নির্দেশ দেয় অনুপস্থিতির কারণে আপিল খারিজ করার জন্য। ফলে অতিরিক্ত জেলা জজ আইন অনুযায়ী তার বিধিবদ্ধ এখতিয়ার প্রয়োগ করেছেন। আদেশে কোনো বেআইনি বা এখতিয়ারবহির্ভূত পদক্ষেপ ছিল না।

খ. নির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ বিকল্প ফোরাম এড়িয়ে রিভিশন অচল:

দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫(১) ধারার অধীন রিভিশনাল এখতিয়ার হলো একটি বিশেষ ও ব্যতিক্রমী এখতিয়ার। যেখানে দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশেই খারিজ আপিল সরাসরি পুনঃবহালের সুনির্দিষ্ট বিধান (Specific Remedy) দেওয়া হয়েছে, সেখানে সেই সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার না চেয়ে সরাসরি হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার।

গ. আইনজীবীর ভুলের দায় ও উপযুক্ত ফোরামে প্রতিকারের স্বাধীনতা:

আপিলকারী পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবী শুনানিকালে স্বীকার করেন যে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করা তাদের একটি অনিচ্ছাকৃত কৌশলগত ভুল ছিল এবং তারা সংশ্লিষ্ট জেলা জজ আদালতে যথানিয়মে দরখাস্ত দাখিল করবেন। হাইকোর্ট বিভাগ স্পষ্ট করেন যে রিভিশনটি আইনত অচল হওয়ায় রুল বহাল রাখার কোনো ভিত্তি নেই; তবে আপিলকারীরা আইন অনুযায়ী অধস্তন আদালতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

৫. হাইকোর্ট বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আদেশ (Final Order)
  • রুল ডিসচার্জ (Rule Discharged): দেওয়ানী রিভিশন মোকদ্দমায় ইতিপূর্বে জারিকৃত রুল নিশি আইনত অচল ও ভিত্তিহীন হওয়ায় সরাসরি ডিসচার্জ করা হলো।
  • স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থা বাতিল: রুল জারির সময় প্রদত্ত যাবতীয় স্থগিতাদেশ ও স্থিতাবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিল ঘোষণা করা হলো।
  • খরচবিহীন নিষ্পত্তি: পক্ষগণের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় মোকদ্দমায় কোনো খরচার আদেশ দেওয়া হলো না।
  • নথিপত্র দ্রুত প্রেরণের নির্দেশ: অধস্তন আদালতের মূল নথিপত্র অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে প্রেরণ করার নির্দেশ প্রদান করা হলো।

৬. আইনি মূলনীতি ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি সিদ্ধান্তসমূহ:

  1. আপিল খারিজের একমাত্র ফোরাম: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ১৭ বিধিমতে তদ্বিরহীনতায় আপিল খারিজ হলে তার একমাত্র আইনসঙ্গত সমাধান সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে ৪১ আদেশ ১৯ ও ১৯ক বিধিমতে আবেদন করা।
  2. রিভিশনের অপ্রযোজ্যতা: নির্দিষ্ট বিকল্প ফোরাম বিদ্যমান থাকতে অধস্তন আদালতের বৈধ খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে ১১৫(১) ধারায় রিভিশন দায়ের আইনত অচল।
  3. অনুপস্থিতিতে খারিজের বৈধতা: শুনানির সময় পক্ষগণ অনুপস্থিত থাকলে আদালত কর্তৃক আপিল খারিজ করা কোনো এখতিয়ারগত ত্রুটি নয়; বরং এটি বিধিবদ্ধ বাধ্যবাধকতা পালন।
  4. মামলার কৃত্রিম দীর্ঘসূত্রতা রোধ: ভুল ফোরামে রিভিশন করে বছরের পর বছর আপিল ঝুলিয়ে রাখার অপকৌশল উচ্চ আদালত অনুমোদন করে না।

৭. দেওয়ানী প্র্যাকটিসে আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা
১. জেলা জজে আপিল খারিজ হলে হাইকোর্টে রিভিশন করবেন না:

আপিল তদ্বিরহীনতায় খারিজ হলে অযথা হাইকোর্টে না এসে সংশ্লিষ্ট জেলা জজ বা অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে ৪১ আদেশ ১৯ক বিধিতে খরচা দিয়ে আপিল পুনঃবহালের আবেদন করুন।

২. ৩০ দিনের তামাদি সময়সীমা মেনে চলুন:

তামাদি আইনের ১৬৮ অনুচ্ছেদ অনুসারে আপিল খারিজের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে পুনঃবহালের আবেদন পেশ করতে হবে; বিলম্ব ঘটলে ৫ ধারার তামাদি মার্জনার দরখাস্ত সংযুক্ত করুন।

৩. অন্য আদালতে শুনানিতে থাকার সুনির্দিষ্ট এফিডেভিট দিন:

শুনানিকালে বিজ্ঞ আইনজীবী অন্য কোনো এজলাসে ব্যস্ত থাকার কারণে হাজির হতে না পারলে সেই আদালতের দৈনিক কজ-লিস্ট ও দরখাস্তের সত্যায়িত কপি যুক্ত করুন।

৪. রেসপনডেন্ট পক্ষে রিভিশন মেইনটেইনেবিলিটি চ্যালেঞ্জ করুন:

বিপরীত পক্ষ যদি জেলা জজের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন করে, তবে প্রথম শুনানিতেই ৪১ আদেশের বিকল্প প্রতিকার প্রদর্শন করে রুল ডিসচার্জের আবেদন জানান।

৫. ভুল ফোরামের সময় বাদ পেতে ১৪ ধারা ব্যবহার করুন:

হাইকোর্টে রিভিশন ডিসচার্জের পর জেলা জজে ফিরে গেলে আইনজীবীর ভুল উপদেশের কারণে হাইকোর্টে কাটানো সময় তামাদি আইনের ১৪ ধারার আওতায় বাদ চেয়ে আবেদন করুন।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর দেওয়ানী রিভিশন নং ৬৪১২ / ২০২৩ (Civil Revision No. 6412 of 2023)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান)
পক্ষসমূহ মোছা: আয়েশা বিবি ও অন্যান্য (বাদী-আপিলকারী-দরখাস্তকারীগণ) বনাম মো: সেলিম শিকদার ও অন্যান্য (বিবাদী-রেসপনডেন্ট-প্রতিপক্ষগণ)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব কাজী ইলিয়াস-উর-রহমান, অ্যাডভোকেট | ১-২ ও ৪ নম্বর প্রতিপক্ষ পক্ষে: জনাব মোহাম্মদ ইউনুস, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও আদেশ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, পটুয়াখালী (স্বত্ব আপিল নং ৬৪/২০১৩, আদেশ: ১১.১১.২০১৯ – তদ্বিরহীনতায় আপিল খারিজ); মূল মামলা: ৩য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, পটুয়াখালী (স্বত্ব মোকদ্দমা নং ৮৮/২০১০, রায়: ৩১.০৩.২০১৩)
শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ শুনানি ও রায় ঘোষণা: ০৬ আগস্ট ২০২৬ (আপলোড: ২৪ আগস্ট ২০২৬)
আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮-এর ৪১ আদেশ ১৭, ১৯ ও ১৯ক বিধি; ১১৫(১) ধারা; তদ্বিরহীনতায় আপিল খারিজ (Dismissal of Appeal for Default); আপিল পুনঃবহাল (Readmission of Appeal); তামাদি আইন ১৯০৮-এর ১৪ ও ৫ ধারা
অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড


🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল

Related Articles

Back to top button