দলিল ছাড়া মালিকানা ও ব্যবহারস্বত্ব অর্জন এবং স্বত্ব বিলোপ (Sections 26, 27, 28 Limitation Act) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
প্রশ্ন ১১। (ক): দলিল ছাড়া মালিকানা ও ব্যবহারস্বত্ব অর্জন এবং স্বত্ব বিলোপ (Sections 26, 27, 28 Limitation Act) | বার কাউন্সিল লিখিত ২০২৫
১. প্রশ্নের মূল চাহিদা ও আইনি প্রেক্ষাপট
সাধারণ ধারণায় সম্পত্তিতে কোনো অধিকার বা মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে হলে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল, খতিয়ান বা উত্তরাধিকারের প্রমাণ আবশ্যক। কিন্তু তামাদি আইনের দর্শন হলো—আইন অলস ব্যক্তিকে নয় বরং সজাগ ও সতর্ক ব্যক্তিকে সহায়তা করে (Vigilantibus non dormientibus jura subveniunt)। দীর্ঘদিন ধরে কোনো ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যভাবে অন্যের সম্পত্তিতে কোনো সুবিধা ভোগ করে বা দখল বজায় রাখে এবং প্রকৃত মালিক নীরব থাকে, তবে তামাদি আইন স্বয়ং দলিল ছাড়াই নতুন অধিকার ও মালিকানা সৃষ্টি করে। অত্র প্রশ্নে তামাদি আইনের ধারা ২৬, ২৭ ও ২৮-এর আলোকে দলিল ছাড়া অধিকার ও স্বত্ব সৃষ্টির আইনি বিধানাবলী আলোচনা করা হয়েছে।
২. সংশ্লিষ্ট বিধিবদ্ধ আইন ও আইনি বিধানাবলী
The Limitation Act, 1908 এর ৪র্থ খণ্ডে স্বত্ব অর্জন সংক্রান্ত সংবিধিবদ্ধ বিধানাবলী:
- Section 26: ব্যবহারের মাধ্যমে সুখাধিকার অর্জন (Acquisition of right to easements):
“Where the access and use of light or air to and for any building have been peaceably enjoyed therewith, as an easement, and as of right, without interruption, and for twenty years… the right to such access and use of light or air shall be absolute and indefeasible.
And where any way or watercourse… has been peaceably and openly enjoyed by any person claiming title thereto as an easement and as of right, without interruption, and for twenty years… the right thereto shall be absolute and indefeasible.
Provided that where the property belongs to the Government, the period shall be sixty years.” - Section 28: সম্পত্তিতে অধিকারের বিলোপ (Extinguishment of right to property):
“At the determination of the period hereby limited to any person for instituting a suit for possession of any property, his right to such property shall be extinguished.”
৩. বাস্তব বিশ্লেষণ ও গভীর আইনি ব্যাখ্যা
দলিল ছাড়া অধিকার ও মালিকানা সৃষ্টির দুটি প্রধান ক্ষেত্র
১. সুখাধিকার অর্জন (Acquisition of Easement – Section 26):
কোনো রেজিস্ট্রিকৃত দলিল বা চুক্তি ছাড়াই কোনো ব্যক্তি অপর ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে চলাচলের পথ (Right of way), আলো-বাতাস বা পানি নিষ্কাশনের অধিকার স্থায়ীভাবে অর্জন করতে পারে যদি নিম্নোক্ত শর্তসমূহ পূরণ হয়:
- ভোগদখল হতে হবে শান্তিপূর্ণভাবে (Peaceably);
- দখল হতে হবে প্রকাশ্যে (Openly);
- অধিকার হিসেবে ভোগ করতে হবে (As of right);
- কোনো বাধা বা বিঘ্ন ছাড়া (Without interruption);
- ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে টানা ২০ বছর এবং সরকারি সম্পত্তির ক্ষেত্রে টানা ৬০ বছর ধরে ভোগ করতে হবে;
- এই ২০ বছরের ভোগদখল সমাপ্ত হওয়ার পরবর্তী ২ বছরের মধ্যে আদালতে মামলা দায়েরের মাধ্যমে অধিকারটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
২. প্রতিকূল দখলে মালিকানা অর্জন ও স্বত্ব বিলোপ (Adverse Possession – Section 28):
তামাদি আইনের ২৮ ধারা একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী বিধান। এটি কেবল পুরনো অধিকার ধ্বংস করে না, পরোক্ষভাবে নতুন মালিকানা সৃষ্টি করে:
- যদি কোনো ব্যক্তি অন্যের স্থাবর সম্পত্তি জবরদখল করে একটানা ১২ বছর (Article 142 ও 144) প্রতিকূল দখলে (Adverse, open, peaceful and continuous possession) বসবাস করে;
- এবং প্রকৃত মালিক যদি ১২ বছরের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের জন্য কোনো মামলা দায়ের না করে;
- তবে ধারা ২৮ অনুযায়ী ১২ বছর অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে প্রকৃত মালিকের উক্ত সম্পত্তিতে মালিকানা স্বত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত (Extinguished) হয়ে যায়।
- প্রকৃত মালিকের স্বত্ব বিলুপ্ত হওয়ার ফলে আইনের দৃষ্টিতে জবরদখলকারী কোনো দলিল ছাড়াই উক্ত সম্পত্তির বৈধ ও অবিচ্ছেদ্য মালিকানাস্বত্ব (Possessory Title turning into absolute ownership) লাভ করে।
৪. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রামাণ্য নজির ও কেস রেফারেন্স
১. পেরি বনাম ক্লিয়ারিং (1907 AC 73): প্রিভি কাউন্সিল ঐতিহাসিক রায় দেন যে, জমিতে দখল নিজেই একটি স্বত্ব (Possession is a good title against all the world except the true owner) এবং ১২ বছর পর প্রকৃত মালিকের দাবি তামাদিতে বারিত হলে দখলকারীই পূর্ণ মালিক হয়ে যায়।
২. সরকার বনাম মোঃ হোসেন (36 DLR AD 121): সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, সুখাধিকারের ক্ষেত্রে ২০ বছরের অবিচ্ছিন্ন ব্যবহার কোনো দলিল ছাড়াই সংবিধিবদ্ধ অধিকার সৃষ্টি করে।
৫. উপসংহার ও সুনির্দিষ্ট আইনি অভিমত
অতএব উক্তিটি সম্পূর্ণ সত্য ও নির্ভুল। The Limitation Act, 1908 এর ধারা ২৬ অনুযায়ী সুখাধিকার (Easement) এবং ধারা ২৮ এর সাথে পঠিতব্য আর্টিকেল ১৪৪ অনুযায়ী প্রতিকূল দখল (Adverse Possession)—উভয় ক্ষেত্রেই কোনো রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ছাড়াই ব্যক্তি সম্পত্তিতে নতুন আইনগত অধিকার ও অবিসংবাদিত মালিকানা অর্জন করে।
🏛️ সম্পর্কিত প্রশ্নপত্র: এই প্রশ্নটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির লিখিত পরীক্ষা ২০২৫-এর প্রশ্নপত্রে অন্তর্ভুক্ত। সম্পূর্ণ বিগত বছরের প্রশ্নব্যাংক দেখতে আমাদের মূল আর্কাইভে প্রবেশ করুন।
