[গেজেট] ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ (৩৭ নং আইন): ৬০ বিঘা কৃষি জমির সর্বোচ্চ সীমা, বেনামী স্বত্ব নিষিদ্ধকরণ ও বর্গাদারের অধিকার সুরক্ষা
📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট PDF ডাউনলোড ও পাঠাগার
ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৭ নং আইন)-এর বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) কর্তৃক প্রকাশিত প্রামাণ্য গেজেট নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও পাঠের জন্য সংযুক্ত করা হলো:
প্রকাশের তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | পৃষ্ঠা: ১২ | আকার: ১৮৮ কিলোবাইট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস)
📄 এই পেজেই সরাসরি অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)
বিজি প্রেস (dpp.gov.bd) |
বাংলাদেশ লজ (bdlaws.minlaw.gov.bd) |
ভূমি মন্ত্রণালয় (minland.gov.bd)
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ৯৮/১৯৭২ এর মাধ্যমে পরিবারপ্রতি কৃষিজমির সর্বোচ্চ সীমা ১০০ বিঘা নির্ধারণ করেছিলেন। পরবর্তীতে সামরিক শাসনামলে প্রণীত ‘The Land Reforms Ordinance, 1984’ দ্বারা এই সীমা কমিয়ে ৬০ বিঘায় আনা হয়। তবে সংবিধানের সপ্তম ও অষ্টম সংশোধনীর আলোকে সামরিক ফরমানসমূহ বাতিল ঘোষণা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের প্রেক্ষিতে ১৯৮৪ সালের অধ্যাদেশটি রহিত করে যুগোপযোগী বাংলা ভাষায় প্রণীত হয়েছে “ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩” (২০২৩ সনের ৩৭ নং আইন)।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এই ঐতিহাসিক আইনটি প্রকাশিত হয়। এই আইনের মাধ্যমে পরিবারপ্রতি ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি ধারণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা, বেনামী জমি ক্রয়ের অপরাধে খাস খতিয়ানভুক্তকরণ এবং বর্গাচাষীদের ফসলের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতকরণে সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়েছে।
১. পরিবারপ্রতি ৬০ বিঘার সিলিং ও অতিরিক্ত জমি বাজেয়াপ্তকরণ (ধারা ৪)
আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এককভাবে বা যৌথভাবে ৬০ (ষাট) বিঘার অধিক কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না।
- পরিবারের সংজ্ঞা: আইনের ২(ঘ) ধারা মোতাবেক পরিবার বলতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, তাহার স্ত্রী বা স্বামী এবং তাহাদের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল অবিবাহিত সন্তান-সন্ততিকে বুঝাইবে।
- উত্তরাধিকার সূত্রে ৬০ বিঘার বেশি পেলে: যদি কোনো ব্যক্তি বা পরিবার উত্তরাধিকার, হেবা বা অছিয়তমূলে ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি প্রাপ্ত হন, তবে অতিরিক্ত জমি সরকারের অনুকূলে সমর্পণ করিতে হইবে। অতিরিক্ত জমি চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাহার পছন্দমতো ৬০ বিঘা জমি নিজের অনুকূলে রাখিয়া বাকি জমি সরকারের নিকট হস্তান্তর করিতে পারিবেন।
- ব্যতিক্রমসমূহ: চা বাগান, কফি বাগান, রাবার বাগান, ফলের বাগান, রপ্তানিমুখী কৃষিশিল্প, চিনিকলের আওতাধীন ইক্ষু চাষ এবং ওয়াকফ বা দেবোত্তর ট্রাস্টের ধর্মীয়/দাতব্য ভূমির ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে ৬০ বিঘার শর্ত শিথিলযোগ্য।
২. বেনামী সম্পত্তি ক্রয়ের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ও শাস্তি (ধারা ৫)
বাংলাদেশে কালো টাকা সাদা করা বা সরকারি চোখ ফাঁকি দিতে অন্যের নামে (বেনামীতে) জমি ক্রয়ের বহু পুরোনো অপসংস্কৃতি রয়েছে। আইনের ৫ ধারা এই বেনামী ক্রয়কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও অকার্যকর ঘোষণা করেছে:
🚨 বেনামী মালিকানা সম্পূর্ণ বাজেয়াপ্ত:
যদি প্রমাণিত হয় যে কোনো ব্যক্তি নিজের স্বার্থে বা অর্থের বিনিময়ে অন্যের নামে বেনামী দলিল সম্পাদন করিয়াছেন, তবে সেই দলিল বাতিল হইবে এবং উক্ত ভূমি সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইয়া ১ নং খাস খতিয়ানভুক্ত হইবে। প্রকৃত অর্থপ্রদানকারী কখনোই সেই ভূমির স্বত্ব বা দখল দাবি করিতে পারিবেন না।
৩. বর্গাদারের আইনি অধিকার ও ৫ বছরের নিরাপত্তা (ধারা ৯–১২)
বাংলাদেশে লাখ লাখ বর্গাচাষী বছরের পর বছর অন্যের জমি আবাদ করলেও জমির মালিকদের খেয়ালখুশিমতো যেকোনো সময় উচ্ছেদের শিকার হতেন। ভূমি সংস্কার আইন ২০২৩ বর্গাদারদের অধিকারকে সংবিধিবদ্ধ করেছে:
| অধিকারের ক্ষেত্র | আইনের সুনির্দিষ্ট সংবিধিবদ্ধ বিধান |
|---|---|
| বর্গা চুক্তির মেয়াদ (ধারা ১০) | মালিক ও বর্গাদারের মধ্যে সম্পাদিত বর্গা চুক্তি একটানা ৫ (পাঁচ) বৎসরের জন্য বলবৎ থাকিবে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে কোনো বর্গাদারকে উচ্ছেদ করা যাইবে না। |
| বর্গাদারের মৃত্যুর পরিণতি | চুক্তি চলাকালে বর্গাদার মারা গেলে তাহার জীবিত উত্তরাধিকারীগণ অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য জমি চাষাবাদের অধিকার অব্যাহত রাখিবেন। |
| ফসলের তিন ভাগের বণ্টন (ধারা ১২) | উৎপাদিত ফসল তিন ভাগে বণ্টিত হইবে: ১. এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাইবেন জমির মালিক; ২. এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাইবেন আবাদকারী বর্গাদার; ৩. অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাইবেন সেই পক্ষ, যিনি বীজ, সার, সেচ ও শ্রমের সমুদয় খরচ বহন করিয়াছেন। |
৪. বসতবাড়ির জমি থেকে উচ্ছেদ প্রতিরোধ (ধারা ৭)
আইনের ৭ ধারায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বসতভিটা সুরক্ষায় বড় বিধান রাখা হয়েছে। কোনো গ্রামীণ ভূমির মালিক বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত জমি থেকে কোনো ভূমিহীন বা খেতমজুরকে বলপূর্বক উচ্ছেদ করতে পারবেন না। যদি উচ্ছেদ করার মতো আইনানুগ পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত না করে কোনো দখলচ্যুতি ঘটানো যাবে না।
৫. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. অকৃষি জমির ক্ষেত্রেও কি ৬০ বিঘার সিলিং প্রযোজ্য?
২. অতিরিক্ত জমি সমর্পণ না করলে শাস্তি কী?
📌 প্রামাণিক সরকারি সূত্র ও আইন রেফারেন্স:
- বাংলাদেশ গেজেট (অতিরিক্ত সংখ্যা), প্রকাশনা তারিখ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ।
- ভূমি সংস্কার আইন, ২০২৩ (আইন নং ৩৭)।
- আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ (bdlaws.minlaw.gov.bd)।
- ভূমি মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও সংস্কার উইং (minland.gov.bd)।


