The Code of Civil Procedure, 1908–এর Order XVII অনুযায়ী, “the Court may at any stage adjourn the hearing of the suit” কথাটি বোঝায় যে, যদি যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখানো হয়, তবে মোকদ্দমার যেকোনো স্তরে আদালত পক্ষগণকে সময় দিতে পারে এবং মূলতবী রাখার/তারিখ বাড়ানোর (adjournment) আদেশ দিতে পারে, তবে এই ক্ষমতা সম্পূর্ণ বিচক্ষণতাসাপেক্ষ এবং অপব্যবহার–রোধে বিভিন্ন শর্ত ও সীমাবদ্ধতার অধীন। আদালতকে প্রতিটি স্থগিতাদেশের ক্ষেত্রে কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হয়, অযথা বারবার সময় না দিতে হয়, সাধারণত একাধিকবারের বেশি (সংশোধিত বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ তিনবার/নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত) একই পক্ষকে adjournment না দিতে হয় এবং প্রয়োজনে খরচ (costs) আরোপ করে “justice delayed is justice denied”–এর ঝুঁকি কমাতে হয়।
Order XVII এর মৌলিক বিধান: “Court may grant time and adjourn hearing”
Order XVII–এর Rule 1–এ বলা হয়েছে, আদালত যদি “sufficient cause” দেখতে পায়, তবে মোকদ্দমার যেকোনো পর্যায়ে পক্ষগণকে সময় দিতে এবং শুনানি মূলতবী রাখতে পারে; তবে এর কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করা বাধ্যতামূলক। সংশোধিত বিধানে আরও বলা হয়েছে, hearing চলাকালে কোনো পক্ষকে তিনবারের (বা জাতীয় আইনের সংশ্লিষ্ট সীমা–নির্ধারণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যার) বেশি adjournment দেওয়া যাবে সমাধা, যাতে মামলার অযৌক্তিক বিলম্ব রোধ হয়。
Order XVII, Rule 1(2) অনুযায়ী, প্রত্যেক adjournment–এর ক্ষেত্রে আদালতকে পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করতে হবে এবং adjournment–এর কারণে যে অতিরিক্ত খরচ হয়েছে তার বিষয়ে আদেশ দিতে হবে। অর্থাৎ, “the Court may at any stage adjourn”–এর পেছনে একটি দায়িত্বও আছে— আদালত যেন অনর্থক সময় না দিয়ে, নির্দিষ্ট কারণ–লিখন ও খরচ আরোপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিতভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।
“Sufficient cause” ও adjournment–এর শর্তাবলী
Order XVII–এর অধীনে মূল প্রশ্ন হলো—পক্ষগণ যে কারণে সময় চাইছে, তা কি যথেষ্ট এবং সত্যিই অপরিহার্য (beyond their control)? এ প্রসঙ্গে প্রাসঙ্গিক কিছু নীতি—
- শুনানি শুরু হয়ে গেলে মামলাটি সাধারণত day-to-day ভিত্তিতে চালানোর কথা; কেবল “exceptional reasons” থাকলে পরবর্তী দিনের পরেও স্থগিত রাখা যাবে, এবং সে কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করতে হবে।
- কোনো পক্ষের আইনজীবী অন্য কোর্টে ব্যস্ত—এ একা কোনো পর্যাপ্ত কারণ নয়; এটি CPC–এর proviso–তেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
- আইনজীবীর অসুস্থতা বা অন্য কোনো অক্ষমতা যদি দেখানো হয়, আদালতকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে, পক্ষটি চাইলেও সময়মতো অন্য আইনজীবী নিয়োগ করতে পারত না।
- সাক্ষী উপস্থিত, কিন্তু পক্ষ বা তার আইনজীবী অনুপস্থিত/তৈরি নয়—এ অবস্থায় আদালত চাইলে সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়ে, তার ক্রস–পরীক্ষা ছাড়াও, মামলায় এগিয়ে যেতে পারে; এভাবে অকারণে adjournment–এর সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।
এইসব শর্ত দেখায়, “may at any stage adjourn” মানে “ইচ্ছামতো” নয়; বরং “ন্যায়সঙ্গত যথেষ্ট কারণ থাকলে” আদালত ভেবে–চিন্তে এই ক্ষমতা ব্যবহার করবে।
পক্ষসমূহের অনুপস্থিতি ও Order XVII এর অন্যান্য বিধান
Order XVII শুধু সময় দেওয়ার কথা বলে না, অনুপস্থিতির বিভিন্ন পরিস্থিতি–ও সামলায়। যেমন—
- কোনো নির্দিষ্ট দিনে উভয় পক্ষ অনুপস্থিত থাকলে, আদালত suit dismiss করতে পারে অথবা আদালতের বিবেচনায় আবার তারিখ দিতে পারে।
- plaintiff অনুপস্থিত থাকলে suit dismiss for default; defendant অনুপস্থিত হলে ex parte proceed করার ক্ষমতা ইত্যাদি।
এভাবে Order XVII আদালতকে দুই দিকেই ভারসাম্য রাখার ক্ষমতা দেয়—একদিকে যথার্থ কারণ থাকলে সময় দেওয়া, অন্যদিকে অযৌক্তিক অনুপস্থিতি ও বিলম্বকে শাস্তিমূলকভাবে মোকাবিলা করা।
কতবার মামলা মুলতবি করা যায়
১. সাধারণ নিয়ম (Basic Rule)
👉 আদালত চাইলে যথেষ্ট কারণ (sufficient cause) দেখালে যেকোনো স্টেজে মামলা মুলতবি করতে পারে।
✔️ অর্থাৎ:
- অসুস্থতা
- আইনজীবীর অনুপস্থিতি
- গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট না পাওয়া
এগুলো থাকলে আদালত সময় দিতে পারে।
২. প্রমাণ গ্রহণ শুরু হলে (Evidence Stage)
👉 একবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে:
✅ মামলা দিন-দিন (day to day) চলবে
❌ অযথা মুলতবি দেওয়া যাবে না
✔️ ব্যতিক্রম:
- জরুরি কারণ থাকলে
- আদালত কারণ লিখে (recording reasons) মুলতবি দিতে পারে
৩. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – কয়বার মুলতবি দেওয়া যাবে?
👉 (A) Peremptory hearing এর আগে
✔️ এক পক্ষ সর্বোচ্চ ৪ বার মুলতবি নিতে পারবে
👉 ২০২৫ সালের সংশোধনী অনুযায়ী:
- আগে ছিল ৬ বার
- এখন কমিয়ে করা হয়েছে ৪ বার
👉 (B) ৪ বারের বেশি চাইলে কী হবে?
✔️ তখন আদালত দিতে পারে, কিন্তু—
- খরচ (cost) দিতে হবে:
👉 ২০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা
⚠️ শর্ত:
- টাকা না দিলে:
- বাদী → মামলা খারিজ
- বিবাদী → একতরফা (ex parte) সিদ্ধান্ত
👉 (C) Cost সহ সর্বোচ্চ সীমা
👉 আইন বলছে:
✔️ কোনো পক্ষ মোট ৩ বারের বেশি (cost দিয়েও) অতিরিক্ত মুলতবি নিতে পারবে না
🔹 ৪. Peremptory hearing স্টেজে (Final Stage)
👉 এই স্টেজে নিয়ম সবচেয়ে কঠোর:
❌ কোনো মুলতবি দেওয়া যাবে না
✔️ ব্যতিক্রম:
- ন্যায়বিচারের স্বার্থে (ends of justice)
- তখনও cost দিতে হবে
👉 এখানেও: ✔️ সর্বোচ্চ ৩ বার (cost সহ)
🔹 ৫. দুই পক্ষই মুলতবি চাইলে
👉 উভয় পক্ষ আবেদন করলে:
✔️ উভয় পক্ষকেই cost দিতে হবে
✔️ সেই টাকা রাষ্ট্রের রাজস্ব হিসেবে যাবে
🔹 ৬. আদালত নিজে থেকে (Suo Moto)
👉 আদালত নিজে থেকে:
❌ মুলতবি দিতে পারবে না
সারসংক্ষেপ (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ)
👉 এক নজরে:
| বিষয় | কতবার মুলতবি |
|---|---|
| সাধারণভাবে (peremptory hearing এর আগে) | ৪ বার |
| অতিরিক্ত (cost দিয়ে) | সর্বোচ্চ ৩ বার |
| Peremptory hearing এর পর | সাধারণত ০ বার |
| ব্যতিক্রম (ends of justice) | সর্বোচ্চ ৩ বার (cost সহ) |
নীতিগত ব্যাখ্যা: “may at any stage adjourn the hearing”
উক্ত মন্তব্যটি (the Court may at any stage adjourn the hearing of the suit)–এর আলোকে Order XVII–এর মূল উদ্দেশ্য ও নীতি হলো—
- আদালতের হাতে যথেষ্ট ফ্লেক্সিবিলিটি রেখে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী ন্যায্য সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রাখা (discretion), যাতে কোনো পক্ষ প্রকৃত অসুবিধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
- একই সঙ্গে সেই discretion–কে কড়া শর্ত, সীমিত বার, কারণ–লিখন (reasons to be recorded in writing), এবং খরচ আরোপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে পক্ষগণ এ–কে বিলম্বের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে।
- বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রিতা রোধ এবং day-to-day hearing–এর নীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা; কারণ অযথা adjournment–ই অনেক সময় “delay of civil suits”–এর প্রধান কারণ।
অতএব, মন্তব্যটির সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড়ায়—আদালত suit–এর যেকোনো পর্যায়ে শুনানি মূলতবী রাখার ক্ষমতা রাখলেও, সেটি “sufficient cause”–এর অস্তিত্ব, সীমিতবার adjournment, কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড, এবং প্রয়োজনে cost আরোপ–সহ CPC–এর Order XVII–এ উল্লিখিত নীতিমালা মেনে এবং “জাস্টিস ডিলে না হয়” এ শর্তে প্রয়োগ করতে বাধ্য।