বই পরিচিতি:
-
নাম: জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব
-
লেখক: বিবেকানন্দ সরকার
-
প্রকাশনী: কামরুল বুক হাউস
-
প্রকাশের বছর: সংস্করণ, ২০২০
-
পৃষ্ঠা সংখ্যা: [পৃষ্ঠা সংখ্যা অনুপস্থিত]
-
মূল্য:
TK. 900TK. 522 -
কেনার লিংক: Rokomari
বই রিভিউ: জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব (হার্ডকভার) – বিবেকানন্দ সরকার
বিবেকানন্দ সরকারের লেখা জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব একটি তথ্যবহুল এবং ব্যবহারিক গ্রন্থ, যা বাংলাদেশের ভূমি-সংক্রান্ত আইনি বিষয়, বিশেষ করে খতিয়ান এবং কবলা দলিলের স্বত্বের বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে। এই হার্ডকভার বইটি ভূমি মালিক, আইনজীবী, শিক্ষার্থী এবং জমি-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে আগ্রহী সাধারণ পাঠকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রহ। লেখক বিবেকানন্দ সরকার তাঁর গভীর গবেষণা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই বইটিকে একটি নির্ভরযোগ্য গাইডে পরিণত করেছেন।
বইয়ের বিষয়বস্তু
জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব বইটি মূলত জমির রেকর্ড (খতিয়ান) এবং কবলা দলিলের মাধ্যমে মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে। এটি বাংলাদেশের ভূমি আইনের প্রেক্ষাপটে লেখা, যেখানে খতিয়ান তৈরি, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং জমির স্বত্ব সংক্রান্ত বিষয়গুলো বিশদভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বইটির প্রধান বিষয়গুলো হলো:
- খতিয়ান: জমির মালিকানার হিসাব বা রেকর্ড হিসেবে খতিয়ান কীভাবে তৈরি হয়, এর প্রকারভেদ (যেমন, সিএস, এসএ, আরএস, বিএস), এবং এর আইনি গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা। লেখক খতিয়ানের ঐতিহাসিক পটভূমি এবং বাংলাদেশে এর প্রয়োগ ব্যাখ্যা করেছেন।
- কবলা স্বত্ত্ব: কবলা দলিল কীভাবে জমির মালিকানা হস্তান্তর করে, এর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, এবং এর মাধ্যমে স্বত্ব প্রতিষ্ঠার আইনি দিক। এছাড়া, কবলা দলিলের বিভিন্ন প্রকার (যেমন, সাফ কবলা, হেবা, দানপত্র) সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে।
- ব্যবহারিক দিক: জমি-সংক্রান্ত দলিলপত্রে ভুল, মালিকানা বিরোধ, এবং সেগুলোর সমাধানের উপায়। লেখক বাস্তব উদাহরণ ও কেস স্টাডির মাধ্যমে বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছেন।
বইটিতে বাংলাদেশের ভূমি আইন, যেমন রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এবং রেজিস্ট্রেশন আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাগুলোর উল্লেখ রয়েছে, যা পাঠককে আইনি কাঠামো বুঝতে সাহায্য করে।
লেখার শৈলী
বিবেকানন্দ সরকারের লেখার ধরন সহজ, সুসংগঠিত এবং পাঠকবান্ধব। তিনি জটিল আইনি বিষয়গুলোকে সাধারণ ভাষায় উপস্থাপন করেছেন, যাতে আইনের পূর্বজ্ঞান ছাড়া পাঠকও বুঝতে পারেন। তবে, বিষয়ের গভীরতা বজায় رাখতে তিনি প্রয়োজনীয় আইনি পরিভাষা ব্যবহার করেছেন, যা বইটির পেশাদার মান বাড়িয়েছে। বইটির ভূমিকায় লেখক উল্লেখ করেছেন যে, জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে জনগণের অজ্ঞতার কারণে যে সমস্যা হয়, তা দূর করার উদ্দেশ্যে এই বইটি রচিত।
কেন পড়বেন?
এই বইটি জমি ক্রয়-বিক্রয়, মালিকানা স্বত্ব প্রতিষ্ঠা, বা ভূমি-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা সমাধানে আগ্রহী যে কারও জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এটি বিশেষ করে:
- জমির মালিকদের জন্য, যারা তাদের সম্পত্তির আইনি অবস্থান বুঝতে চান।
- আইনজীবী ও শিক্ষার্থীদের জন্য, যারা ভূমি আইনের ব্যবহারিক দিক শিখতে চান।
- সাধারণ মানুষের জন্য, যারা জমি-সংক্রান্ত প্রতারণা বা ভুল থেকে বাঁচতে চান।
বাংলাদেশে জমি নিয়ে বিরোধ ও আইনি জটিলতা প্রায়ই দেখা যায়। এই বই সেই বিষয়ে সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করে।
শেষ কথা
জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর গ্রন্থ, যা ভূমি-সংক্রান্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার। বিবেকানন্দ সরকার তাঁর গবেষণা ও ব্যাখ্যার মাধ্যমে এটিকে একটি ব্যবহারিক এবং নির্ভরযোগ্য গাইডে রূপান্তরিত করেছেন। মূল্য সাধারণত ৪৫০-৫০০ টাকার মধ্যে হলেও, এর বিষয়বস্তু ও উপযোগিতার তুলনায় এটি যথাযথ। জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহী প্রত্যেকের জন্য এটি একটি অবশ্যপাঠ্য বই।
একটি তথ্যবহুল, স্পষ্ট এবং ব্যবহারিক গ্রন্থ, যা জমির খতিয়ান ও স্বত্ব সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেয়।
বই রিভিউ: জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব
বই পরিচিতি:
URL: https://www.rokomari.com/book/114372/jomijomar-khotiyan-ebong-kobla-sotto
Author: বিবেকানন্দ সরকার
4.5