সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ (The Specific Relief Act, 1877) অনুযায়ী, আদালত দুটি প্রধান ধরণের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে:
- Mandatory Injunction (আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা)
- Prohibitory Injunction (নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ)
এখানে এই দুই ধরনের নিষেধাজ্ঞার পার্থক্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হলো—
Mandatory Injunction ও Prohibitory Injunction-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ
বিষয় | Mandatory Injunction (আদেশমূলক নিষেধাজ্ঞা) | Prohibitory Injunction (নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ) |
---|---|---|
সংজ্ঞা | যখন আদালত কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করতে আদেশ দেয়, তখন তাকে Mandatory Injunction বলা হয়। | যখন আদালত কাউকে কোনো কাজ করা থেকে বিরত থাকতে বলে, তখন তাকে Prohibitory Injunction বলা হয়। |
উদ্দেশ্য | ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া অন্যায় বা বেআইনি কাজ সংশোধন করতে বাধ্য করা। | কোনো বেআইনি বা ক্ষতিকর কাজ ঘটতে না দেওয়ার জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। |
কার্যকারিতা | এটি সক্রিয় আদেশ, যার মাধ্যমে কারো বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সম্পন্নকৃত কাজ সংশোধনের আদেশ দেওয়া হয়। | এটি নিষেধাজ্ঞামূলক আদেশ, যা কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধা দেয়। |
প্রভাব | এটি বৈধ অবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে এবং অন্যায় কাজ সংশোধন করতে বাধ্য করে। | এটি বৈধ অবস্থার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তা প্রতিরোধ করে। |
আইনগত ভিত্তি | সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৫ ধারা অনুযায়ী এই আদেশ প্রদান করা হয়। | সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ৫৩ ও ৫৪ ধারা অনুযায়ী এই আদেশ প্রদান করা হয়। |
যখন দেওয়া হয় | ✅ যখন অন্যায় বা বেআইনি কাজ ইতোমধ্যে ঘটেছে এবং এটি সংশোধন করা প্রয়োজন।✅ যখন কোনো ব্যক্তি অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে এবং তা শুধরানো প্রয়োজন। | ✅ যখন কোনো ব্যক্তির কোনো বেআইনি বা ক্ষতিকর কাজ করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।✅ যখন কোনো অবৈধ কাজ ভবিষ্যতে ঘটার আশঙ্কা থাকে এবং তা প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। |
প্রয়োগ ক্ষেত্র | ✅ জমি দখলমুক্ত করা✅ বেআইনি নির্মাণ অপসারণ✅ প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বাতিল করা✅ চুক্তিভঙ্গ সংশোধন করা | ✅ সম্পত্তির অনধিকার প্রবেশ প্রতিরোধ✅ শব্দ দূষণ রোধ✅ অবৈধ বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ করা✅ বাণিজ্যিক প্রতারণা প্রতিরোধ করা |
উদাহরণ | 🔹 অবৈধ দখল অপসারণ: কেউ বেআইনিভাবে অন্যের জমি দখল করে থাকলে, আদালত তাকে জমি ছাড়তে বাধ্য করতে পারে।🔹 বেআইনি নির্মাণ অপসারণ: কেউ সরকারি বা অন্যের সম্পত্তিতে বেআইনি ভবন নির্মাণ করলে, আদালত তাকে তা ভেঙে ফেলতে বাধ্য করতে পারে।🔹 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত পেটেন্ট লঙ্ঘন: কেউ অবৈধভাবে অন্যের পেটেন্টকৃত আবিষ্কার ব্যবহার করলে, আদালত তাকে তা বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারে। | 🔹 সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ প্রতিরোধ: কেউ যদি বেআইনিভাবে অন্যের জমিতে প্রবেশ করে, আদালত তাকে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।🔹 শব্দ দূষণ রোধ: কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠান যদি অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি করে, আদালত তাকে তা বন্ধ করতে আদেশ দিতে পারে।🔹 নিষিদ্ধ বর্জ্য ফেলা প্রতিরোধ: কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বর্জ্য ফেলে, আদালত তাদের তা বন্ধ করতে আদেশ দিতে পারে। |
মূল পার্থক্য সংক্ষেপে:
✅ Mandatory Injunction কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করে, যেখানে Prohibitory Injunction কাউকে নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত রাখে।
✅ Mandatory Injunction তখন দেওয়া হয়, যখন অবৈধ কাজ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে এবং তা সংশোধন করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, Prohibitory Injunction তখন দেওয়া হয়, যখন ভবিষ্যতে কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং তা প্রতিরোধ করা দরকার।
✅ Mandatory Injunction বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করে, যেখানে Prohibitory Injunction বর্তমান অবস্থা বজায় রাখে।
✅ Mandatory Injunction সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে বলে, আর Prohibitory Injunction নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে।
উপসংহার
👉 Mandatory Injunction ও Prohibitory Injunction উভয়ই আইনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার।
👉 Mandatory Injunction মূলত অন্যায় সংশোধনের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর Prohibitory Injunction ভবিষ্যতে অন্যায় প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয়।
👉 আদালত কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভিত্তিতে এই দুটি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যেকোনোটি বা উভয়টি প্রদান করতে পারে।