সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ‘Court of Equity’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

‘Court of Equity’ বা ইক্যুইটি আদালত হলো এমন একটি আদালত, যা আইনগত সমাধান ছাড়াও ন্যায় এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিকার প্রদান করার জন্য তৈরি। এটি সাধারণত আইনজীবী বা আদালতের পক্ষ থেকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং নৈতিক এবং ন্যায়পরায়ণতা দিয়ে বিচার করে থাকে।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর অধীনে ‘Court of Equity’ বলতে এমন একটি আদালত বোঝানো হয় যা ন্যায়ের ভিত্তিতে এবং প্রতিকার প্রদান করার ক্ষেত্রে আইনের শুষ্ক বিধানগুলির পরিবর্তে যৌক্তিকতা এবং ইনসাফের প্রতি গুরুত্ব দেয়। অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষের আইনি অধিকার পুরোপুরি পূর্ণ না হয়, তবে তারা আদালতে অভিযোগ করে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রতিকার বা সমাধান পেতে পারে।

Court of Equity-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  1. প্রতিকার সুনির্দিষ্ট: ইক্যুইটি আদালত মূলত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার প্রদান করতে সক্ষম হয়। যেমন, চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরী বাস্তবায়ন বা সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার ইত্যাদি।
  2. নির্দেশনা এবং নিষেধাজ্ঞা: আদালত আইনগত নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা দিতে পারে, যা আইনগতভাবে অন্যথা হলে পক্ষটি প্রতিকার পেতে পারে।
  3. ক্ষতিপূরণ ছাড়াই সমাধান: ইক্যুইটি আদালত কখনো কখনো ক্ষতিপূরণ প্রদান ছাড়াও আদেশ দিতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার বা চুক্তি বাস্তবায়ন।
  4. ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত: যেখানে প্রচলিত আইনে আইনগত সমাধান সম্ভব না, সেখানে ইক্যুইটি আদালত ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেয়।

উদাহরণ:

  • নিষেধাজ্ঞা আদেশ: একজন ব্যক্তি যদি অন্যের সম্পত্তির উপরে অবৈধ কাজ করতে থাকে, তবে ইক্যুইটি আদালত তাকে সেই কাজ থেকে বিরত থাকতে আদেশ দিতে পারে।
  • চুক্তির বাস্তবায়ন: কোনো পক্ষ যদি চুক্তি অনুযায়ী কাজ করতে না চায়, তবে আদালত সুনির্দিষ্টভাবে সেই কাজটি সম্পাদন করার জন্য আদেশ দিতে পারে, যেখানে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়।

উপসংহার: সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অধীনে ‘Court of Equity’ হলো সেই আদালত যা আইনের খুঁটিনাটি না খুঁজে ন্যায় ও যুক্তির ভিত্তিতে বিচার এবং সমাধান প্রদান করে, বিশেষত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার সম্পর্কিত মামলায়।