তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908)-এর অধীনে Computation of Limitation Period (তামাদির সময় গণনা) করার জন্য নির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। এই সময় গণনার নিয়মগুলো বিচারিক কার্যক্রমকে সুসংগঠিত রাখে এবং আইনি পক্ষগুলোর জন্য সঠিক সময়সীমা নির্ধারণ করে।
🔸 Computation of Limitation Period এর মূল নিয়মসমূহ:
১️⃣ ধারা ৩ (Bar of Limitation) – নির্ধারিত সময় অতিক্রম হলে মামলা গ্রহণযোগ্য নয়
👉 কোনো মামলা, আপিল বা আবেদন যদি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দায়ের না করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
📌 উদাহরণ:
একটি ঋণের টাকা ফেরত চাওয়ার মামলা দায়েরের তিন (৩) বছরের সময়সীমা রয়েছে। যদি পাওনাদার ৩ বছর পর মামলা করে, তাহলে আদালত সেটি খারিজ করতে পারে।
২️⃣ ধারা ১২ – মামলা দায়েরের সময় গণনার পদ্ধতি
👉 মামলা, আপিল বা আবেদনের ক্ষেত্রে যে দিন থেকে সময়সীমা গণনা শুরু হবে, সেই দিনটি বাদ যাবে।
📌 উদাহরণ:
কোনো চুক্তিভিত্তিক ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১ জানুয়ারি ২০২0 ছিল। এর জন্য মামলা করার সময়সীমা ৩ বছর।
- সময় গণনা শুরু হবে ২ জানুয়ারি ২০২০ থেকে
- শেষ হবে ১ জানুয়ারি ২০২৩-এ
- যদি ২ জানুয়ারি ২০২৩-এ মামলা করা হয়, তাহলে তা তামাদি (time-barred) বলে গণ্য হবে।
৩️⃣ ধারা ১৩ – আদালতের ছুটি থাকলে সময় গণনা
👉 যদি নির্ধারিত শেষ তারিখে আদালত বন্ধ থাকে, তবে পরবর্তী কার্যদিবস পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে।
📌 উদাহরণ:
- আপিল করার শেষ তারিখ ২৫ ডিসেম্বর, কিন্তু আদালত ক্রিসমাসের জন্য বন্ধ।
- তাহলে পরবর্তী কার্যদিবস (২৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত আপিল করা যাবে।
৪️⃣ ধারা ১৪ – ভুল আদালতে মামলা হলে সময় গণনা
👉 যদি কোনো ব্যক্তি ভুল আদালতে মামলা করে এবং পরে জানতে পারে যে আদালতের এখতিয়ার নেই, তবে সেই ভুল আদালতে অতিবাহিত সময় বাদ দিয়ে পুনরায় সঠিক আদালতে মামলা করতে পারবে।
📌 উদাহরণ:
- কোনো ব্যক্তি দেওয়ানি আদালতে ফৌজদারি মামলা করে, কিন্তু পরে জানতে পারে এটি দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ারের বাইরে।
- ভুল আদালতে ব্যয়িত সময় বাদ দিয়ে নতুন আদালতে মামলা দায়েরের সুযোগ থাকবে।
৫️⃣ ধারা ১৫ – বাধার কারণে মামলা দেরি হলে সময় গণনা
👉 যদি কোনো ব্যক্তি আইনগত বাধার কারণে মামলা করতে না পারে, তবে সেই বাধা দূর হলে সময় গণনা শুরু হবে।
📌 উদাহরণ:
- সরকারের জারি করা জরুরি অবস্থা বা কারফিউ চলাকালীন কেউ মামলা করতে পারেনি।
- এই সময়সীমা Computation of Limitation Period থেকে বাদ যাবে এবং কারফিউ শেষে সময় গণনা শুরু হবে।
৬️⃣ ধারা ১৬ – মৃত্যুর কারণে সময় গণনা
👉 যদি কোনো ব্যক্তি মামলা করার আগেই মারা যায়, তবে তার উত্তরাধিকারী মামলার সময় গণনা শুরু করতে পারবে তার আইনগত প্রতিনিধি নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে।
📌 উদাহরণ:
- কোনো জমি দখল সংক্রান্ত মামলার সময়সীমা ছিল ৫ বছর।
- জমির মালিক ৩ বছর পর মারা যান।
- তার উত্তরাধিকারীর পক্ষে মামলা করার সময় গণনা শুরু হবে তার আইনগত প্রতিনিধিত্ব স্থাপনের দিন থেকে।
৭️⃣ ধারা ১৭ – প্রতারণা বা জালিয়াতির কারণে সময় গণনা
👉 যদি কোনো প্রতারণা বা জালিয়াতির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে মামলা করা থেকে বিরত রাখা হয়, তাহলে প্রতারণা প্রকাশ পাওয়ার দিন থেকে সময় গণনা শুরু হবে।
📌 উদাহরণ:
- কোনো জমির দলিল গোপন করে দখলদার জমি নিজের বলে দাবি করল।
- জমির প্রকৃত মালিক পরে জানতে পারল যে দলিল জালিয়াতি হয়েছে।
- প্রতারণা প্রকাশ পাওয়ার দিন থেকে নতুন করে সময় গণনা শুরু হবে।
🔸 উপসংহার
Computation of Limitation Period তামাদি আইন অনুযায়ী বিভিন্ন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে গণনা করা হয়। এটি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে এবং নিশ্চিত করে যে অযথা বিলম্বের কারণে কোনো পক্ষ অন্য পক্ষের প্রতি অন্যায় করতে না পারে।
✅ প্রতিটি আইনি দাবির নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে।
✅ সময় গণনায় নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয়।
✅ বাধা, প্রতারণা বা ভুল আদালতে মামলা হলে কিছু বিশেষ শর্তে সময় গণনা নতুন করে শুরু হতে পারে।
এভাবে তামাদি আইন বিচারিক কার্যক্রমকে কার্যকর ও সুশৃঙ্খল রাখে এবং অযাচিত আইনি বিলম্ব প্রতিরোধ করে।