[t4b-ticker]

আইনজীবির বিরুদ্ধে কিভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায়? – পদ্ধতি ও আলোচনা।

ভূমিকা

যখনই কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করে, তখন তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হয় । অভিযোগ দেওয়া এই ধরনের একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নেওয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা।

একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার অনেক কারণ থাকতে পারে। তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি একটি মামলায় তাদের ক্লায়েন্টের প্রতিনিধিত্ব করেন। একজন আইনজীবিও অন্য যেকোনো মানুষের মতো আইন লঙ্ঘন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তারা যে সাধারণ অপরাধ করে থাকে তার মধ্যে একটি হল পেশাদার অসদাচরণ। একজন পেশাদার ব্যক্তির পেশার প্রতি সৎ হতে হয়। একজন আইনজীবী একটি মামলার জন্য ফি গ্রহণ করার পরে এবং শুনানীতে বা প্রতিদিনের কার্যধারায় উপস্থিত না হলে মামলার ক্ষতি হতে পারে। এটি পেশাদার অসদাচরণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। অসদাচরণের আরও কিছু উদাহরণের মধ্যে রয়েছে অবহেলা বা হেলাফেলা, ফি সংক্রান্ত বিরোধ এবং অর্থের অপব্যবহার ইত্যাদি। একজন ক্লায়েন্ট এই ভিত্তিতে তাদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারেন।

অভিযোগ কোথায় করতে হয়?

আইনজীবীর অসদাচরণের কারণে যেকোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিনি জেলা বার কাউন্সিলের সচিপ বরাবর অভিযোগ দায়ের করতে পারেবেন। জেলা বার কাউন্সিল এক্ষেত্রে অল্প সময়ে সংক্ষিপ্ত শুনানিতে অভিযোগ নিষ্পত্তি করে থাকেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির মতো বিষয়গুলো দুই পক্ষের উপস্থিতিতে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হয়। যদি জেলা বার কাউন্সিল বরাবর অভিযোগ করে কোন কাজ না হয় তবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল বরাবর অভিযোগ করতে পারেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অভিযোগ আমলে নিলে বা অভিযোগ গুরুতর হলে বা সমাধান না করা গেলে তা বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেবেন।

ঠিকানা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলঃ বার কাউন্সিল ভবন, ৩৩ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণী, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০
Website: https://www.barcouncil.gov.bd/
Email:info@barcouncil.gov.bd

আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার পদ্ধতি

The Bangladesh Legal Practitioner’s and Bar Council Order, 1972 এ ৩২(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন আইনজীবীর পেশাগত অসদাচরণ বা অন্যকোন অসদাচরণের অভিযোগ যেকোনো ব্যক্তি বা আদালত প্রথমে বার কাউন্সিলের নিকট দায়ের করবে।  কোনও অ্যাডভোকেট যদি কোনও পেশাদার অসদাচরণ করেন তবে তিনি শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কেউ নির্দিষ্ট জেলার বার কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করতে পারে এবং কাউন্সিলের শৃঙ্খলা কমিটি যদি অভিযোগটি সত্য বলে মনে করে তবে সেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুতরাং এই প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য, অভিযোগ হল প্রথম পদক্ষেপ। অভিযোগ  পিটিশন আকারে দাখিল করতে হবে।

অন্যদিকে ৭৫খ বিধি অনুসারে প্রত্যেকটি অভিযোগ Complain and Vigilance Committee করাবে। অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান এবং যাচাই বাছাই-এর পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অভিযোগটি নির্বাহী কমিটি (Executive Committee) এর নিকট প্রেরণ করবে।

অভিযোগে যে সকল বিষয় উল্লেখ করতে হয়, অভিযোগের সাথে যে সকল কাগজপত্র দাখিল করতে হয় ইত্যাদি ৪১ বিধিতে বিধান করা হয়েছে। বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাক্টিশনারস এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪১ বিধি অনুযায়ী অভিযোগে নিম্নলিখিত বিষয় যুক্ত করতে হবে;

১. অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণ;

২. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

৩. যদি অভিযোগকারী আদালত না হয় বা সরকারী কর্মকর্তা তার অফিসিয়াল দায়িত্বে অভিযোগ দায়ের না করে, তাহলে অভিযোগের সাথে এফিডেভিট জমা দিতে হবে। তবে বার কাউন্সিল, চাইলে হলফনামা দাখিল করা হতে অব্যাহতি দিতে পারে। ৪. বার কাউন্সিলে কোন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করতে হলে ১০০০ টাকা ফি জমা দিতে হয় । [বিধি ৪১ক)

মামলা সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ

(ক) বার কাউন্সিলের নিকট কোন আদালত বা ব্যক্তি কোন অ্যাডভোকেটের অসদাচরণের অভিযোগ দিসে, ৩২ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যার কাউন্সিল তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করতে পারে বা

খ) বার কাউন্সিল এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান না করে, ৩০ অনুচ্ছেদের অধীন গঠিত বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের নিকট নিষ্পতির জন্য পাঠাতে পারে (অনু ৩২(২)। বা গ) বার কাউন্সিল নিজ উদ্যোগে, কোন আইনজীবীর বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকলে ট্রাইব্যুনালে পাঠাতে পারে (৩২ (২)]।

 যিনি অভিযোগ দায়ের করতে পারেঃ

আইনজীবীর অসদাচরণ সম্পর্কে অভিযোগ করতে পারে.

১.আদালত

২. বার কাউন্সিল বা

৩. অন্য যেকোনো ব্যক্তি

 

অভিযোগ যাচাই

অভিযোগে যে আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তার বিবরণের পাশাপাশি আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বিবরণ থাকতে হবে। আইনজীবীর নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, নথিভুক্তি নম্বর সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ সেখানে থাকতে হবে। সিভিল প্রসিডিউর কোড (CPC), 1908 -এর অধীনে প্রয়োজন অনুসারে অভিযোগটি যথাযথভাবে স্বাক্ষর করতে হবে এবং যাচাই করতে হবে ।

অভিযোগের ফি আদায় এবং ত্রুটি অপসারণ

অভিযোগের সাথে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাক্টিশনারস এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪১ বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফি সহ হতে হবে (অর্থাৎ ১০০০ টাকা )। এই নিয়মগুলি বাংলাদেশ লিগ্যাল প্রাক্টিশনারস এবং বার কাউন্সিল রুলস, ১৯৭২ এর ৪১ বিধি -এর অধীনে স্থাপন করা হয়েছে । বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি অভিযোগকারীকে নির্ধারিত ফি প্রদানের জন্য বলতে পারেন। সচিব অভিযোগকারীকে প্রয়োজন মনে করলে ত্রুটিগুলি দূর করতেও বলতে পারেন।

আইনজীবীকে নোটিশ

উপরোক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, অভিযোগটি বার অ্যাসোসিয়েশনের ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠানো হয়। তারপর রেজিস্ট্রার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে নোটিশ পাঠাবেন।

নোটিশে আইনজীবীকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাজির হতে বলবেন। নোটিশে আইনজীবীকে তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনে  বিবৃতি, নথি এবং হলফনামা জমা দিতে বলে। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পরও যদি অ্যাডভোকেট বা তার প্রতিনিধি আদালতে হাজির না হন, তাহলে তার অনুপস্থিতিতে বিষয়টি শুনানি ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অনুসন্ধানের তারিখ

নোটিশ পাঠানোর পর, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগটি সত্য কিনা তা নিয়ে আলোচনা করে এবং বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কি না সেটি নির্ধারন করে। যদি ট্রাইব্যুনাল মনে করে যে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী দায়বদ্ধ, তাহলে বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনাল বিষয়টির শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারন করে।

তদন্তের তারিখ, ঘন্টা এবং স্থান ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান দ্বারা নির্ধারিত হয়। ট্রাইব্যুনাল মামলার শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেট এবং অভিযোগকারীকে নোটিশ প্রদান করবে।

রায়

ট্রাইব্যুনালের বিষয়টি শুনবে এবং নির্ধারণ করবে। ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধানগুলিকে সমর্থন করার কারণ সহ সেই অনুসন্ধানটি রায় আকারে দেওয়া যেতে পারে। রেজিস্ট্রার চূড়ান্ত আদেশের একটি প্রত্যয়িত অনুলিপি কার্যধারায় প্রতিটি পক্ষকে বিনামূল্যে পাঠাবেন। আদেশটি কমিটির সকল সদস্যের স্বাক্ষর করে বার কাউন্সিলের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। যদি ট্রাইব্যুনাল বিশ্বাস করে যে বিষয়টিকে জেরা করা উচিত এবং অবশ্যই ন্যায়বিচারের স্বার্থে, দেওয়ানী মামলার বিচারের পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।

যে ভিত্তিতে অনুসন্ধান বাদ দেওয়া হয়

ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধান প্রক্রিয়া বাদ দিবে না যতক্ষন পর্যন্ত এটি প্রত্যাহার করা হয়, নিষ্পত্তি করা হয়েছে বা অন্যথায় আপস করা হয়েছে বা অভিযোগকারী আর এটি নিয়ে এগিয়ে যেতে চান না। নীচে উল্লিখিত কারনে অনুসন্ধান বাদ দেওয়া যায়-

  1. তদন্ত চলাকালীন অভিযোগকারীর মৃত্যু হলে এবং মামলা পরিচালনার জন্য কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকলে। যদি ট্রাইব্যুনালের সামনে প্রতীয়মান হয় যে  অভিযোগটি সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবার কোন কারন নেই তখন কার্যক্রম বাদ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত আদেশ দেবে।
  2. যখন তদন্ত শুধুমাত্র একজন অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে হয় এবং তিনি মারা যান।
  3. যখন তদন্ত একাধিক অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে হয় এবং তাদের মধ্যে একজন মারা যায়, তখন ট্রাইব্যুনাল অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না দিলে অন্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে।

অভিযোগ দায়েরের পরিণতি

১. সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান রেখে ট্রাইব্যুনাল তাকে বরখাস্ত করতে পারবে এবং এমন বরখাস্তের আদেশ পরিবর্তন বা রদ করতে পারে [বিধি ৫১]। বা

২. অনুসন্ধান সমাপ্তি হলে,

ক) ৩৪ (৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে অভিযোগটি খারিজ করতে পারে বা

খ) পেশাগত অসদাচরণ বা অন্য কোন অসদাচরণ প্রমাণিত হলে ৩২(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে

i. একজন অ্যাডভোকেটকে কঠোর তিরস্কার করতে পারে বা

ii. তাকে আইন পেশা হতে সাময়িক বরখাস্ত বা অপসারণ করতে পারে

যদি ট্রাইব্যুনাল উক্ত অ্যাডভোকেট-কে তার আইন পেশা করতে সাময়িক বরখাস্ত করে, তাহলে উক্ত বরখাস্তের মেয়াদ উল্লেখ করবে। যদি ট্রাইব্যুনাল মনে করে, অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, সে ক্ষেত্রে অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা জরিমানা করতে পারে ।

উপসংহার

সমাজ আইন পেশাকে একটি মহৎ পেশা হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যান্য পেশার মতোই আইনে পেশাগত নৈতিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পেশার আভিজাত্য বজায় রাখার জন্য, কিছু পেশাদার নিয়ম রয়েছে যা একজন ব্যক্তিকে পালন করতে হবে। যখন একজন ব্যক্তি এই নিয়মগুলি মেনে চলে না, তখন এটি অসদাচরণের দিকে পরিচালিত করে।

একজন আইনজীবীর একটি মামলা হেরে যাওয়া বা তার মক্কেলের সাথে মতবিরোধ থাকার একটি সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শুধুমাত্র একজন ক্লায়েন্টের সাথে ক্ষতি বা মতানৈক্য উভয়ই একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার জন্য যথেষ্ট কারণ নয়। তবে, অসদাচরণ বা অসদাচরণে দোষী একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে। একজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা একটি গুরুতর বিষয় এবং একজনকে অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে যে একজন আইনজীবীর সাথে তাদের উদ্বেগের সাথে পেশাদার অসদাচরণ জড়িত।

কিছু সাধারন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর (FAQs)

একজন ক্লায়েন্ট কি বাংলাদেশে তাদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে?

হ্যাঁ, একজন ক্লায়েন্ট বাংলাদেশে তাদের আইনজীবীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন, যদি তারা বিশ্বাস করেন যে আইনজীবী পেশাদার অসদাচরণের জন্য দোষী বা পেশাদার নীতিমালা লঙ্ঘন করছেন।

আমার আইনজীবী আমার আইনগত বিষয়ে বিপরীত পক্ষের সাথে যোগসাজশ করেছেন, আমি তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিতে পারি?

একজন উকিল বাধ্য ক্লায়েন্টের স্পষ্ট সম্মতি ব্যতীত নিজের এবং তার ক্লায়েন্টের মধ্যে যোগাযোগগুলি কোনও তৃতীয় পক্ষের কাছে প্রকাশ করবেন না। অ্যাডভোকেটেরও দায়িত্ব রয়েছে ক্লায়েন্টের খোলামেলা কথা বলা, যে বিষয়ে তার আগ্রহ রয়েছে বা যে সমস্যার জন্য ক্লায়েন্ট তাকে নিযুক্ত করতে চায়। একজন উকিলকে তার মক্কেলের আস্থার অপব্যবহার বা সুবিধা নেওয়া উচিত নয়।

বাংলাদেশে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার লঙ্ঘন এবং আইনগত অসদাচরণকে কোন আইনগুলি কভার করে?

বর্তমানে, The Bangladesh Legal Practitioner’s and Bar Council Order, 1972 বিশেষভাবে বাংলাদেশে আইন পেশাজীবিদের দ্বারা পেশাদার অসদাচরণ এবং পদ্ধতি এবং শাস্তি নিয়ন্ত্রন করে।

প্রয়োজনীয় আইনঃ