[t4b-ticker]

ধারা ২৮ অনুযায়ী আদালত কখন চুক্তির কার্যকরতা বাতিল করতে পারে?

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ২৮ (Section 28 of the Specific Relief Act, 1877) অনুযায়ী, আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যকরতার আদেশ প্রদানের পরেও কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চুক্তির কার্যকরতা বাতিল করতে পারে। অর্থাৎ, যদি কোনো পক্ষ আদালতের আদেশ অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে চুক্তির শর্ত বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যকরতা আদেশ বাতিল করতে পারে এবং বিকল্প প্রতিকার দিতে পারে


ধারা ২৮-এর মূল বক্তব্য

এই ধারা অনুযায়ী, যদি সুনির্দিষ্ট কার্যকরতার আদেশপ্রাপ্ত পক্ষ আদালতের আদেশ অনুসারে চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে পারে—

১. চুক্তির কার্যকরতা বাতিল (Rescission of Contract)

  • যদি আদালতের আদেশ পাওয়ার পরেও পক্ষটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার দায় পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত চুক্তি বাতিল করতে পারে
  • উদাহরণ: আদালত যদি কোনো সম্পত্তির ক্রেতাকে নির্দিষ্ট মূল্যে জমি কেনার জন্য আদেশ দেয় এবং তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ না করেন, তবে আদালত চুক্তি বাতিল করতে পারেন।

২. ক্ষতিপূরণ প্রদান (Compensation for Breach of Decree)

  • যদি চুক্তির কার্যকরতা বাতিল করা হয়, তবে আদালত ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে আদেশ দিতে পারে।
  • উদাহরণ: যদি বিক্রেতা আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমি হস্তান্তর না করেন, তবে ক্রেতা জমির বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন।

৩. বিকল্প প্রতিকার প্রদান (Alternative Relief)

  • আদালত প্রয়োজনে চুক্তি কার্যকর করার পরিবর্তে বিকল্প প্রতিকার দিতে পারে, যা উভয় পক্ষের জন্য ন্যায্য।
  • উদাহরণ: যদি জমির মালিক নির্ধারিত জমি দিতে অস্বীকৃতি জানান, তবে বিকল্প হিসেবে ক্ষতিপূরণ বা অন্য জমি বরাদ্দ করা হতে পারে।

৪. আদালতের পূর্ব নির্দেশ বাস্তবায়নে জোরপূর্বক আদেশ (Execution of Decree)

  • আদালত প্রয়োজনে চুক্তির কার্যকরতা বাস্তবায়নে বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিতে পারে।
  • উদাহরণ: যদি বিক্রেতা আদালতের আদেশের পরেও জমি হস্তান্তর না করেন, তবে আদালত জবরদস্তিমূলক সম্পত্তি হস্তান্তরের আদেশ দিতে পারেন

ধারা ২৮-এর প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ শর্তসমূহ

✅ আদালতের আদেশে চুক্তির বাস্তবায়নের জন্য নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ থাকতে হবে
✅ আদেশ লঙ্ঘন করলে বিপরীত পক্ষ আদালতে আবেদন করতে পারে।
✅ আদালত চুক্তি বাতিল করতে পারে, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না—কোনো পক্ষকে আদালতে আবেদন করতে হবে।
✅ যদি আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে চুক্তি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে আদালত তাকে বেআইনি কাজের জন্য দোষী সাব্যস্ত করতে পারেন


গুরুত্বপূর্ণ মামলার রেফারেন্স

১️⃣ Ardeshir Mama v. Flora Sassoon (1928) – এই মামলায় বলা হয়েছে, যদি চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যকরতার আদেশ অনুসারে কোনো পক্ষ সময়মতো দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত চুক্তি বাতিল করতে পারে।
২️⃣ Jamshed Khodaram Irani v. Burjorji Dhunjibhai (1915) – এখানে উল্লেখ করা হয় যে, চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে আদালত বিকল্প প্রতিকার দিতে পারে।
৩️⃣ Bangladesh vs. Md. Abdul Hakim (2005) – এই মামলায় আদালত বলেছে যে, সুনির্দিষ্ট কার্যকরতা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে চুক্তির কার্যকারিতা বাতিল হতে পারে এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।


উপসংহার

ধারা ২৮ অনুসারে, যদি আদালত সুনির্দিষ্ট কার্যকরতার আদেশ দেয়ার পরেও কোনো পক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন না করে, তবে আদালত—
✔ চুক্তি বাতিল করতে পারে,
ক্ষতিপূরণ আদেশ দিতে পারে,
বিকল্প প্রতিকার দিতে পারে,
জোরপূর্বক আদেশ বাস্তবায়ন করতে পারে