[t4b-ticker]

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ কী বলে এবং এটি কীভাবে মামলার তামাদি সময় গণনায় প্রভাব ফেলে?

🔹 ভূমিকা

তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ (Section 19) ঋণ বা দায় সংক্রান্ত মামলার তামাদি সময় গণনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ধারা নির্ধারণ করে যে, যদি কোনো ঋণ বা দায় স্বীকার করা হয়, তাহলে তামাদি সময় পুনরায় শুরু হবে।

অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি তার ঋণের দায় স্বীকার করে, তাহলে তামাদি সময়ের গণনা নতুনভাবে শুরু হবে, যা ঋণদাতার পক্ষে সুবিধাজনক।


🔹 ধারা ১৯-এর মূল বক্তব্য

(১) ধারা ১৯-এর আইনি সংজ্ঞা

🔍 আইনি বিধান:

“যদি কোনো দায় বা ঋণ লিখিতভাবে স্বীকার করা হয় এবং তা স্বাক্ষরিত হয়, তাহলে তামাদি সময় নতুনভাবে গণনা শুরু হবে।”

ঋণ বা দায়ের লিখিত স্বীকৃতি থাকলে তামাদি সময় নতুনভাবে শুরু হবে।
তামাদি সময় গণনায় এটি নতুন সময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।
এটি ঋণদাতাকে আইনি সুবিধা দেয় এবং ঋণগ্রহীতাকে স্বচ্ছতার সঙ্গে দায় মেটাতে বাধ্য করে।


(২) ধারা ১৯-এর শর্তাবলী

  • (ক) দায় বা ঋণের লিখিত স্বীকারোক্তি থাকতে হবে।
  • (খ) এই স্বীকারোক্তি অবশ্যই স্বাক্ষরিত হতে হবে।
  • (গ) শুধুমাত্র মৌখিক স্বীকারোক্তি তামাদি সময় পুনরায় গণনার জন্য যথেষ্ট নয়।
  • (ঘ) যদি স্বীকারোক্তি বৈধভাবে প্রমাণ করা না যায়, তাহলে তামাদি সময় গণনায় কোনো প্রভাব পড়বে না।

(৩) ধারা ১৯ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

(ক) ব্যাংক ঋণ বা অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত মামলা
যদি কোনো ব্যক্তি ব্যাংক ঋণগ্রহণের পর লিখিতভাবে স্বীকার করেন যে, তিনি এই ঋণ পরিশোধ করবেন, তবে তামাদি সময় নতুনভাবে শুরু হবে।

(খ) বন্ধকি ঋণ (mortgage) সংক্রান্ত মামলা
যদি কোনো ঋণগ্রহীতা বন্ধকি ঋণের দায় লিখিতভাবে স্বীকার করেন, তবে নতুন তামাদি সময় শুরু হবে।

(গ) পারিবারিক বা ব্যক্তিগত ঋণ সংক্রান্ত মামলা
যদি কোনো ব্যক্তি বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়ের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ লিখিতভাবে স্বীকার করেন, তবে নতুন তামাদি সময় শুরু হবে।

এই ধারা প্রযোজ্য হবে না যদি দায় স্বীকার করা না হয় বা শুধুমাত্র মৌখিকভাবে বলা হয়।
যদি দায় স্বীকারের কোনো লিখিত প্রমাণ না থাকে, তবে তামাদি সময় নতুনভাবে গণনা হবে না।


📌 উদাহরণ:
একজন ব্যক্তি যদি ২০১৫ সালে একটি ঋণ গ্রহণ করেন এবং ২০১৮ সালে তিনি লিখিতভাবে স্বীকার করেন যে তিনি এই ঋণ পরিশোধ করবেন, তবে নতুন তামাদি সময় ২০১৮ থেকে শুরু হবে, এবং পুরোনো তামাদি সময় বাতিল হবে।

একটি ব্যাংক যদি তার গ্রাহকের কাছ থেকে একটি লিখিত চিঠি পায় যেখানে বলা আছে, “আমি আমার ব্যাংকের ঋণের দায় স্বীকার করছি এবং শীঘ্রই পরিশোধ করবো”, তাহলে নতুন তামাদি সময় শুরু হবে।

যদি কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে লিখিতভাবে দায় স্বীকার করেন, তবে নতুন তামাদি সময় গণনা শুরু হবে এবং পুরনো সময় বাতিল হবে।


🔹 ধারা ১৯-এর প্রভাব

(১) ঋণদাতার জন্য আইনি সুরক্ষা তৈরি করে
এটি নিশ্চিত করে যে ঋণগ্রহীতা দায় স্বীকার করলে নতুন তামাদি সময় শুরু হবে, যা ঋণদাতার পক্ষে সুবিধাজনক।

(২) ঋণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বাড়ায়
ঋণদাতারা এই ধারার মাধ্যমে তাদের পাওনা অর্থ পুনরুদ্ধার করার জন্য অতিরিক্ত সময় পান।

(৩) আইনি স্বচ্ছতা ও সুবিচার নিশ্চিত করে
এই ধারা নিশ্চিত করে যে ঋণগ্রহীতা দায় স্বীকার করার পর তার ওপর আরোপিত দায় অস্বীকার করতে পারবেন না।

(৪) তামাদি সময় পুনরায় শুরু করার ব্যবস্থা তৈরি করে
যদি কোনো ঋণগ্রহীতা দায় স্বীকার করেন, তবে নতুন তামাদি সময় গণনা শুরু হবে, যা ঋণগ্রহীতাকে দায় পরিশোধে বাধ্য করবে।


🔹 উপসংহার

🔹 ধারা ১৯-এর মূল বক্তব্য:

যদি কোনো ব্যক্তি তার ঋণের দায় লিখিতভাবে স্বীকার করেন, তবে নতুন তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।
এটি ঋণদাতাকে আইনগত সুবিধা দেয় এবং ঋণগ্রহীতাকে দায় পরিশোধে বাধ্য করে।
এই ধারা ঋণ সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।