🔹 ভূমিকা
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১০ (Section 10) বিশ্বাসভঙ্গ (Breach of Trust) সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে তামাদির বিধান নির্ধারণ করে।
এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো সম্পত্তি বিশ্বাসভঙ্গের (Breach of Trust) মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়, তাহলে তার জন্য কোনো তামাদি সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না, যতক্ষণ না বিশ্বাসভঙ্গকারী প্রকৃত মালিককে তার সম্পত্তি ফেরত দেয়।
এটি ট্রাস্টি বা বিশ্বস্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য প্রণীত হয়েছে।
🔹 ধারা ১০-এর মূল বক্তব্য
(১) ধারা ১০-এর আইনি সংজ্ঞা
🔍 আইনি বিধান:
“যদি কোনো ট্রাস্টি বা বিশ্বস্ত ব্যক্তি (Trustee) ট্রাস্ট সম্পর্কিত সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যত্র হস্তান্তর করে, তবে যতক্ষণ না সে প্রকৃত মালিককে সম্পত্তি ফেরত দেয়, ততক্ষণ মামলা দায়েরের জন্য কোনো তামাদি সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।”
✅ বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা সম্পত্তির ক্ষেত্রে তামাদি প্রযোজ্য নয়।
✅ এটি ট্রাস্টি ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের দ্বারা প্রতারণা প্রতিরোধের জন্য তৈরি।
✅ সম্পত্তি যতদিন বিশ্বাসভঙ্গকারীর কাছে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত তামাদি গণনা শুরু হবে না।
(২) ধারা ১০-এর শর্তাবলী
- (ক) ট্রাস্ট সম্পর্কিত সম্পত্তি হতে হবে।
- (খ) সম্পত্তি ট্রাস্টি বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির হাতে থাকতে হবে।
- (গ) সম্পত্তি প্রকৃত মালিককে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তামাদি সময়সীমা শুরু হবে না।
- (ঘ) এটি সাধারণ বিশ্বাসভঙ্গ (Breach of Contract)-এর জন্য প্রযোজ্য নয়, শুধুমাত্র ট্রাস্ট সম্পর্কিত বিষয়ে প্রযোজ্য।
(৩) ধারা ১০ কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
✅ (ক) ট্রাস্ট সম্পত্তি আত্মসাৎ করা হলে
➡ যদি কোনো ট্রাস্টি তার দায়িত্ব লঙ্ঘন করে এবং ট্রাস্টের অর্থ বা সম্পত্তি আত্মসাৎ করে, তবে তামাদির সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
✅ (খ) বিশ্বস্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রতারণা হলে
➡ যদি কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তি (যেমন- ব্যবস্থাপক, ওয়ারিশ, তত্ত্বাবধায়ক) সম্পত্তি আত্মসাৎ করে, তবে প্রকৃত মালিক যেকোনো সময় মামলা করতে পারবে।
❌ এই ধারা সাধারণ ঋণ, সম্পত্তির মালিকানা বিরোধ বা সাধারণ চুক্তি ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
📌 উদাহরণ:
➡ একটি মসজিদের জন্য একটি জমি ট্রাস্টের অধীনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ট্রাস্টি ওই জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। যতদিন সে জমি ফেরত না দেবে, ততদিন মামলা দায়েরের জন্য তামাদি চলবে না।
➡ একজন আইনজীবী তার ক্লায়েন্টের অর্থ বিশ্বাসভঙ্গ করে আত্মসাৎ করে। ক্লায়েন্ট যদি ২০ বছর পরও অর্থ ফেরত চায়, তবে আইনজীবীকে তা ফেরত দিতে হবে, এবং তামাদির কোনো সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।
🔹 ধারা ১০-এর প্রভাব
✅ (১) ট্রাস্ট সম্পর্কিত প্রতারণা প্রতিরোধ করে
➡ বিশ্বাসভঙ্গের কারণে কেউ সহজে আইনি দায় এড়াতে পারবে না।
✅ (২) প্রকৃত মালিকের অধিকার রক্ষা করে
➡ যতদিন পর্যন্ত আত্মসাৎকৃত সম্পত্তি ফেরত না দেওয়া হবে, ততদিন মালিক তার মামলা দায়েরের অধিকার পাবে।
✅ (৩) ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে
➡ ধনীরা বা ক্ষমতাশালী ট্রাস্টিরা সাধারণ মানুষের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে পারবে না।
✅ (৪) আইনি কঠোরতা বজায় রাখে
➡ এই ধারা আদালতকে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে, যাতে কোনো ট্রাস্টি প্রতারণার আশ্রয় নিতে না পারে।
🔹 উপসংহার
🔹 ধারা ১০-এর মূল বক্তব্য:
✅ বিশ্বাসভঙ্গ সংক্রান্ত ট্রাস্টি বা বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তামাদি প্রযোজ্য নয়।
✅ যতদিন সম্পত্তি আত্মসাৎকারীর কাছে থাকবে, ততদিন পর্যন্ত প্রকৃত মালিক মামলা করতে পারবে।
✅ এটি ট্রাস্ট সংক্রান্ত প্রতারণা রোধ করে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে।
✅ এটি সাধারণ চুক্তিভঙ্গ বা ব্যক্তিগত দেনা-পাওনার জন্য প্রযোজ্য নয়।