তামাদি আইন, ১৯০৮-এর মূল উদ্দেশ্য হল আইনগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং বিলম্বিত দাবি থেকে বিরত রাখা। তবে, এটি কোনো ব্যক্তির দাবির সত্যতা বা ন্যায়সংগততা বাতিল করে না, বরং নির্দিষ্ট সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে সেই দাবি আদালতে গ্রহণযোগ্য হয় না।
🔹 এই নীতির ভিত্তি:
তামাদি আইন প্রতিকারকে সীমাবদ্ধ করে, অধিকারকে নয়। অর্থাৎ, কারো যদি কোনো আইনি অধিকার থেকে থাকে, তবে সময়সীমার কারণে সে অধিকার হারাবে না, তবে আইনি পথে সে অধিকার পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে যাবে।
উদাহরণস্বরূপ:
- ঋণ আদায়ের মামলা:
- কোনো ব্যক্তি তার বন্ধুকে ২০১৫ সালে ঋণ দিয়েছে, যা ফেরতের শেষ সময় ছিল ২০১৭।
- সে যদি ২০২৩ সালে আদালতে মামলা করে, তাহলে আদালত সেটি গ্রহণ করবে না, কারণ এটি তামাদি হয়ে গেছে।
- কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, বন্ধুর ঋণের দায় লোপ পেয়েছে। যদি বন্ধুটি স্বেচ্ছায় ঋণ পরিশোধ করতে চায়, তাহলে তা বৈধ হবে।
- সম্পত্তির মালিকানা:
- কোনো ব্যক্তি তার জমিতে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছে, এবং প্রকৃত মালিক ১৬তম বছরে মামলা করতে চায়।
- তামাদি আইন অনুযায়ী, ১২ বছর পর মালিকের মামলা করার অধিকার নষ্ট হয়ে যায়।
- কিন্তু তাতে প্রকৃত মালিকের মালিকানার ন্যায়সংগততা অস্বীকার করা হয় না, শুধু আদালতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ হারায়।
🔹 তামাদি আইন কেন প্রতিকারকে সীমিত করে?
✅ আইনি স্থিতিশীলতা: দীর্ঘদিন পর মামলা দায়ের করলে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
✅ সঠিক বিচার নিশ্চিতকরণ: বিলম্বিত দাবি বিচার ব্যবস্থাকে জটিল করে তোলে।
✅ অন্যায্য হয়রানি রোধ: কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা বিলম্বিত করে প্রতিপক্ষকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে।
🔹 উপসংহার
তামাদি আইন ব্যক্তির দাবির সত্যতা বা ন্যায়সংগততা অস্বীকার করে না; বরং এটি আইনি প্রতিকার পাওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয়। ফলে, সময়মতো মামলা না করলে আদালত সেটিকে গ্রহণ করবে না, যদিও দাবির ন্যায়সংগততা বজায় থাকে।
এটি বিচারিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।