শিশু অপহরণের মামলায় একজনের দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এক শিশু অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলায় প্রধান অভিযুক্তকে দুইবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই মামলায় তার এক সহযোগীকেও ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ের বিস্তারিত

সোমবার (১৭ মার্চ) ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফেরদৌস আরা এই রায় ঘোষণা করেন। সরকারি কৌঁসুলি শফিউল মোরশেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রধান আসামি শাখাওয়াত হোসেনকে দুবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার সহযোগী কমলা বেগমকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অপহরণের পটভূমি

২০১৮ সালের ১৩ জুন চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানার খেজুরতলা এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। চার বছর বয়সী এক শিশুকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান শাখাওয়াত হোসেন। এরপর শিশুটিকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

জানা যায়, শাখাওয়াত হোসেন নগরের ইপিজেড এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত ছিলেন এবং শিশুটির পরিবারে সাবলেট ভাড়াটিয়া হিসেবে ছিলেন। পরে বাসায় বেড়াতে এসে তিনি এই অপহরণের ঘটনা ঘটান।

বিচার ও শাস্তি

শিশুটির বাবা পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলার বিচারকালে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের নির্দেশনা

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দিন।

সতর্কতা ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি

এই রায় শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিভাবকদেরও আরও সতর্ক হতে হবে, যেন শিশুরা অপরিচিত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ না করে।