ভূমি উন্নয়ন কর আইন ২০২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই আইনটি বাংলাদেশে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত বিধিবদ্ধ কাঠামো প্রদান করে। মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমির শ্রেণিবিন্যাস, কর হার নির্ধারণ, আদায় প্রক্রিয়া, এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করা। নিম্নে উল্লেখযোগ্য ধারা ও বিধানসমূহ উপস্থাপন করা হলো:
প্রধান ধারাসমূহ:
- আইনের নাম ও প্রয়োগ:
- আইনটি “ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩” নামে পরিচিত।
- এটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি) প্রয়োগযোগ্য নয়।
- সংজ্ঞাসমূহ:
- কৃষি ভূমি: চাষযোগ্য জমি, পতিত জমি, বা কৃষি-সম্পর্কিত কাজে ব্যবহৃত জমি।
- অকৃষি ভূমি: আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প বা অন্যান্য অকৃষি কাজে ব্যবহৃত জমি।
- পরিবার: একজন ব্যক্তি, তার স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, পিতামাতা এবং নির্ভরশীল আত্মীয়দের সমন্বয়ে গঠিত একক।
- কর হার ও শ্রেণিবিভাগ:
- কৃষি ভূমি: ৮.২৫ একর (বা ২৫ বিঘা) পর্যন্ত জমির কর মওকুফ। এর বেশি হলে সম্পূর্ণ জমির ওপর কর প্রযোজ্য।
- অকৃষি ভূমি: জমির ব্যবহার ও বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করে কর হার নির্ধারণ।
- বিশেষ শ্রেণি: সরকারি/বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাস্তা, পার্ক ইত্যাদির জন্য কর মওকুফ বা হ্রাসকৃত হার।
- কর আদায় প্রক্রিয়া:
- ডিজিটাল পদ্ধতি (বিজেক্ট): অনলাইনে কর পরিশোধের ব্যবস্থা।
- ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি: স্থানীয় কর অফিসে সরাসরি পরিশোধ।
- কর বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কর পরিশোধ বাধ্যতামূলক।
- জরিমানা ও মওকুফ:
- সময়মতো কর পরিশোধ না করলে বার্ষিক ৬.২৫% হারে জরিমানা প্রযোজ্য।
- মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ সরকারি নির্দেশনা থাকলে কর মওকুফ বা সময়সীমা বৃদ্ধির ব্যবস্থা।
- আপিল ও নিষ্পত্তি:
- কর নির্ধারণে আপত্তি থাকলে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করতে হবে।
- জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি।
- বিশেষ বিধান:
- মহামারী/দুর্যোগকালীন ছাড়: কোভিড-১৯ বা অনুরূপ পরিস্থিতিতে কর আদায়ের সময়সীমা বাড়ানো যাবে।
- রেকর্ড ব্যবস্থাপনা: ভূমি রেকর্ড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ ও প্রকাশ।
- প্রতিস্থাপন:
- এই আইন দ্বারা “ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ট্যাক্স অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬” রহিত করা হয়েছে।
উদ্দেশ্য:
এই আইনের মাধ্যমে ভূমি কর ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে ডিজিটাল পদ্ধতির একীভূতকরণ, কর আদায়ে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং ভূমি ব্যবহারের ভিত্তিতে ন্যায্য কর নিশ্চিত করা হয়েছে।